বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১০ পি.এম
চলন্ত গাড়িতে বসে বই পড়া কিংবা মোবাইল ফোনে স্ক্রল করার সময় অনেকের মাথা ঘোরানো এবং বমি বমি ভাবের অভিজ্ঞতা ঘটে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাম, মাথাব্যথা এমনকি বমির ঘটনাও ঘটে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাটিকে মোশন সিকনেস বা গতিজনিত অসুস্থতা বলা হয়। চোখ ও মস্তিষ্কে পৌঁছানো চলাচলসংক্রান্ত সংকেতের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে চিকিৎসক চাইথান্য রবি কুমার জানিয়েছেন, যখন চলন্ত গাড়িতে বই পড়া হয় বা ফোন দেখা হয়, তখন চোখ একটি স্থির বস্তুর দিকে নিবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, কানের ভেতরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অংশ শরীরের নড়াচড়া ও গতির পরিবর্তন শনাক্ত করে। চোখ ও অন্তঃকর্ণ থেকে পাওয়া এই দুই ধরনের সংকেতের মধ্যে অমিল তৈরি হলে মস্তিষ্কে মোশন সিকনেসের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কেন সবার এমন সমস্যা হয় না?
সকলের শরীরের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। বয়স, বংশগত প্রবণতা, মাইগ্রেনের ইতিহাস এবং চলাচলজনিত অস্বস্তির প্রতি সংবেদনশীলতার ওপর মোশন সিকনেসের তীব্রতা নির্ভর করে। বিশেষ করে দুই থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে।
গাড়ি বারবার গতি বাড়ালে, হঠাৎ ব্রেক করলে বা দিক পরিবর্তন করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পেছনের আসনে বসে রাস্তার সামনের দৃশ্য দেখতে না পাওয়াও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। এ ছাড়া বদ্ধ পরিবেশ, তীব্র গন্ধ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও পানিশূন্যতা উপসর্গকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
গাড়িতে বমি ভাব কমানোর উপায়
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, মোশন সিকনেস এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো চলন্ত গাড়িতে বই পড়া বা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলা। এর পরিবর্তে বাইরের দৃশ্য বা দিগন্তের দিকে তাকালে চোখ ও অন্তঃকর্ণ থেকে পাওয়া সংকেতের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে মস্তিষ্কের সুবিধা হতে পারে।
এ ছাড়া কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন—
সম্ভব হলে সামনের যাত্রীর আসনে বসুন, যাতে বাইরের দৃশ্য সহজে দেখা যায়।
মাথা যথাসম্ভব স্থির রাখুন এবং বারবার নিচের দিকে তাকানো এড়িয়ে চলুন।
গাড়ির ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
দীর্ঘ যাত্রায় নিরাপদ স্থানে বিরতি নিন।
পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলুন এবং যাত্রার আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
যাঁদের নিয়মিত তীব্র সমস্যা হয়, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ নিতে পারেন। তবে মোশন সিকনেসের কিছু ওষুধে ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে এবং সেগুলো সবার জন্য উপযুক্ত নয়। তাই নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
চলন্ত গাড়িতে বই পড়া বা ফোন দেখার কারণে মোশন সিকনেস সাধারণত গুরুতর সমস্যা নয়। তবে গাড়িতে না থাকলেও যদি বারবার মাথা ঘোরে বা বমি বমি ভাব হয়, যাত্রা শেষ হওয়ার পরও উপসর্গ থেকে যায় কিংবা এর সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তির পরিবর্তন, হাঁটতে অসুবিধা বা অন্য কোনো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সুতরাং, গাড়িতে যাত্রার সময় বই পড়া বা ফোন দেখার অভ্যাস থাকলে শরীরের প্রতিক্রিয়ার দিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজন হলে স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন এবং বাইরের স্থির দৃশ্যের দিকে তাকান। এতে অনেকের মোশন সিকনেসের অস্বস্তি কমতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাঁ চোখের ওপরের অংশে দাঁত গজানোর একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথমবারের মতো ঘটেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিশোরটি বাঁ চোখের ওপর ব্যথাহীন ফোলা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল। কিছুদিন পর তার ভ্রু ও ওপরের চোখের পাতার মাঝামাঝি থেকে শক্ত, সাদা দুটি অংশ বেরিয়ে আসে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, কিশোরটির চোখের কোটরের ওপরের অংশে একটি পূর্ণাঙ্গ দাঁত রয়েছে।
মুখের বাইরে দাঁত গজানোর বিরল অবস্থা
মেডিকেল টার্মিনোলজিতে মুখের বাইরে দাঁত গজানোর এই অবস্থাকে একটোপিক টুথ বলা হয়। এর আগে নাকের ভেতরের অংশে এবং মুখের তালুতে এ ধরনের দাঁত গজানোর ঘটনা দেখা গেছে। তবে চোখের কোটরে দাঁত গজানোর ঘটনা এটিই প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, কিশোরটির মুখে বা মাথায় আঘাত পাওয়ার কোন ইতিহাস নেই। এছাড়া তার কোন জিনগত রোগের তথ্যও পাওয়া যায়নি। সিটি স্ক্যানে মাথার খুলির অন্য কোথাও দাঁতের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, অস্বাভাবিক এ অবস্থার কারণ জানতে চিকিৎসকেরা এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা সফলভাবে দাঁতটি অপসারণ করেছেন। অস্ত্রোপচারের পর ফোলাভাব কমে এসেছে এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকিও কমেছে বলে জানা গেছে চিকিৎসকদের।
ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ আমেরিকান অ্যাকাডেমিক অব অপথ্যালমোলজির একটি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি ও সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার মনপুরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে তারা এ কর্মসূচি আয়োজন করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১২টায় ডাকবাংলো মোড় এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর কার্যালয়ের সামনে তিন শতাধিক ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষে তারা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) কে এম ফরিদুল ইসলামের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা ও তাদের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, দিনে-রাতে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও তারা ২৪ ঘণ্টায় মাত্র এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এই অবস্থায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় চরম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তারা দাবি করেছেন যে, প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। অন্যথায়, বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
জানা গেছে, মনপুরায় পাওয়ার হাউজের জেনারেটরের মাধ্যমে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওজোপাডিকো। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে মেশিন নষ্ট থাকার অজুহাতে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এর আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ওই কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
হাজীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন ও হাজী বেলায়াত হোসেন বলেন, "দিনে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, রাতে মেলে মাত্র এক ঘণ্টা। এতে প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।" তারা জানান, এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না করে, তবে তারা পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) কে এম ফরিদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের তিনটি জেনারেটরের মধ্যে দুটি নষ্ট থাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে জেনারেটরগুলো সচল করা সম্ভব হলে হাজীরহাট বাজারে টানা তিন ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আলজেরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সার রপ্তানিতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতি আগ্রহী। আলজেরিয়া বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা এবং ওষুধ ও চামড়াশিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজিয়ার্সে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী। বিশেষভাবে জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই সমঝোতার আওতায় সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশে তেল শোধনাগার ও এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে আলজেরিয়ার পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতা স্মারকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সই করার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে সার আমদানির বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এর জবাবে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলজেরিয়া বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। পাশাপাশি, ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্রশিল্পে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের আলোচনা বা ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের গুরুত্বও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন দুই মন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকটি আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সাঁথিয়া পৌর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব মুজাহিদ ফকিরের ফেসবুক স্টোরিতে ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ফলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ভিডিওটি আপলোড করার প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই নেতা তা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে মুছে ফেলেন।
তবে এর আগেই অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি ডাউনলোড ও স্কিনশট করে নেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করে নেটিজেনরা ওই এনসিপি নেতার শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের কিছু অংশ দৃশ্যমান। এদের মধ্যে একজন একটি আগ্নেয়াস্ত্র ফ্লোরে রাখার পর অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে প্রদর্শন করছেন। তবে পুরো ভিডিওতে দুজনের কারোরই মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশ স্পষ্ট দেখা যায়নি।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনীতিবিদরাও উদ্বেগ জানিয়েছেন।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, "যে ধরণের অস্ত্রই হোক, এভাবে প্রদর্শন করার উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা বলে আমরা মনে করছি।"
তিনি আরও বলেন, "কিছুদিন আগে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী ভালো কাজে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করলেও তাকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক নেতা হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মাঝেই এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করছেন মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজন। দ্রুতই এদের ব্যাপারে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এগুলো এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।"
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, "মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এবার যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি আসল কোনো আগ্নেয়াস্ত্র কিনা- তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।"
ওসি আরও বলেন, "এটি যদি আসল আগ্নেয়াস্ত্র হয়ে থাকে, তবে তা প্রদর্শনের কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কিনা-তা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া একজন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশে এই পোস্ট দেওয়া হয়েছে কিনা- সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।"
এদিকে সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, "কয়েকদিন ধরেই মুজাহিদের মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না, ভিডিওটি দেখিনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনতে পেয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারব।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুজাহিদ ফকিরের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ