বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৪ পি.এম
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-র ট্রাস্টি বোর্ড সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যে কোনো ব্যক্তি বা তার আইনগত ওয়ারিশ এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন, যার মধ্যে চালকও অন্তর্ভুক্ত।
বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যে ‘ফরম-৩২’ পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদনটি সরাসরি চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড বরাবর অথবা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার বিআরটিএর ফেসবুক পেজে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা অনুযায়ী দুর্ঘটনার ৯০ দিন পেরিয়ে গেলে আবেদন করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
আর্থিক সহায়তার পরিমাণ
মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিহতের পরিবার পাবে অন্যূন পাঁচ লাখ টাকা। দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি হলে বিআরটিএ অন্যূন তিন লাখ টাকা প্রদান করবে। গুরুতর আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা না থাকলে অন্যূন ৩ লাখ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা থাকলে অন্যূন এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।
আবেদন যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন শেষে সহায়তার অর্থ আবেদনকারীর স্ব-নামীয় ব্যাংক হিসাবে সরাসরি চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি আর্থিক সংকট কাটাতে ও পুনর্বাসনে বিআরটিএ-র এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছে যাওয়ার জন্য আসা সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রোগীদের দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সময় ও সিরিয়াল নিয়ে আসলেও।
বিশেষ করে নবজাতক ও শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে গেছে। চিকিৎসকদের সহকারীদের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থতলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। বিকাল ৩টা থেকে শত শত রোগী চিকিৎসকদের অপেক্ষায় বসে আছেন।
পঞ্চমতলায় গিয়ে দেখা যায়, শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আজিজুল হোসাইনকে দেখানোর জন্য শতাধিক রোগী অপেক্ষা করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করলেও চিকিৎসকের দেখা মিলছে না। পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের উপস্থিত না হওয়া এবং দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তার সহযোগী আব্দুল মান্নান রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া থেকে আসা এক নবজাতকের মা আয়েশা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাকে বিকাল ৪টায় আসার সময় দেওয়া হয়েছিল। অথচ রাত ৯টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও সিরিয়াল পাইনি। একটি নবজাতককে নিয়ে ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা যে কত কষ্টের, তা তারা বোঝে না।" তিনি আরও জানান, সহকারী আব্দুল মান্নান তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।
অন্য এক অভিভাবক এমদাদুল হক জানান, তিনি জ্বর ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে ৮ মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে এসেছিলেন; কিন্তু ৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ডাক্তার দেখাতে পারেননি। সিরিয়ালের বাইরে অর্থের বিনিময়ে বা বিশেষ বিবেচনায় রোগী ঢুকানোর অভিযোগও করেন তিনি।
ডা. জেবুন্নাহারের চেম্বারের সামনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ৮০-৯০ জন রোগী অপেক্ষা করছিলেন। এক সপ্তাহ আগে সিরিয়াল নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
জাহানারা বেগম নামের এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, "ডা. জেবুন্নাহারকে দেখাতে এক সপ্তাহ আগে সিরিয়াল নিয়েছিলাম। আমাকে সাড়ে ৫টায় আসতে বলা হয়েছিল, অথচ রাত ১০টা বাজলেও সিরিয়াল পাইনি। রোগীদের সঙ্গে তারা অমানবিক আচরণ করেন।" অপর রোগী ইয়াসমিন আক্তার জানান, ৩ ঘণ্টা পর সিরিয়াল মিললেও চিকিৎসক মাত্র দুই মিনিট সময় দিয়েছেন এবং তার মধ্যেই ৬-৭টি পরীক্ষা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালটির অধিকাংশ চিকিৎসকের চেম্বারেই এমন দুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের খামখেয়ালিপনা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে চিকিৎসকদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এমনকি গণমাধ্যমের পরিচয় পাওয়ার পর চিকিৎসকদের চেম্বারে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি।
অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা ইবনে সিনা হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন অপু বলেন, "চিকিৎসকদের কিছুটা গাফিলতির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।" তিনি আরও বলেন, "কোনো চিকিৎসক রোগীদের অপ্রয়োজনে বসিয়ে রেখে দুর্ভোগ সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "কিছু চিকিৎসক ঢাকা থেকে যাতায়াত করায় মহাসড়কের যানজটে অনেক সময় কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে যারা স্থানীয়ভাবে কুমিল্লায় অবস্থান করছেন, তাদের যথাসময়ে উপস্থিত হওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর দশমিনায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদারের কাছে ঘুসের ৩ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার মাধ্যমে।
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাকে রক্ষা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বিভিন্ন মহল তদবির চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের ৫৫নং দক্ষিণ খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র স্থান পরিবর্তন করে একই ওয়ার্ডের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনঃস্থাপনের জন্য এমএ সজীব আহমেদ নামে একজন ব্যক্তি আবেদন করেন।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হারুন ব্যাপারী বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রবেশ করেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদারের সামনে দাবি করেন যে, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদনের পর তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পূর্বের জায়গায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবি জানান।
দাবি জানানোর পর নির্বাচন কর্মকর্তা পূর্বের জায়গায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার আশ্বাস দেন এবং একদিন ফোন করে তার কাছে ভোটকেন্দ্র বহালের জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
ভাইরাল ভিডিওতে ওই গণঅধিকার পরিষদ নেতার দাবি, তিনি কালাম পাঞ্চায়েত নামে অন্য এক গণঅধিকার পরিষদ নেতার মাধ্যমে নির্বাচন কর্মকর্তাকে কিছু টাকা ঘুস দেন এবং বাকি টাকা তিনি নিজেই অফিসে গিয়ে দিয়ে আসেন। পরে ৮ অক্টোবরের খসড়া ও ২৭ অক্টোবরের চূড়ান্ত তালিকায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা হয়; কিন্তু এমএ সজীব আহমেদ নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ২ নভেম্বর ভোটকেন্দ্র বাতিল করে সজীবের পছন্দের স্থানে পুনঃস্থাপন করা হয়।
এতে গণঅধিকার পরিষদ নেতা মো. হারুন ব্যাপারী ক্ষুব্ধ হয়ে নেতাদের নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চান এবং সেই সময় ভিডিওতে নির্বাচন কর্মকর্তাকে চুপ থাকতে দেখা যায়।
ভাইরাল ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কালাম পঞ্চায়েত নামে এক গণঅধিকার পরিষদ নেতা নির্বাচন কর্মকর্তার সামনে বলছেন, তিনি নির্বাচন কর্মকর্তাকে তার হাত দিয়ে যে ঘুস দিয়েছেন তা তিনি আগেই ফেরত নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা বা না রাখা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাজ, আমার নয়। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের দাবি অসত্য। তিনি কারও থেকে কোনো টাকা নেননি এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী বৃহস্পতিবার সকালে দশমিনা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান।
জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সত্য হলে তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন। নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলের কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের যুবাদের কাছে বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ১১৩ রান।
আল আমেরাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ ২৩১ রানের লক্ষ্য পূরণের জন্য ব্যাটিং শুরু করে, কিন্তু তারা ১১৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের পতন ঘটে, যখন তারা দলীয় ২৭ রানে ৫ উইকেট হারায়।
এই ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরবর্তীতে তারা শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার জারিফ সিয়াম।
সিয়াম ছাড়া, আর মাত্র দুইজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে সক্ষম হন। নয়ে নামা রুবায় ইসলাম রিজনের ২১ রানের বিপরীতে আটে নামা রবিউল হাসান অনিক ৩৩ রান করেন। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে নুর আলি নিয়াজি, আমির হামজা ও সামি মুবারেজ প্রত্যেকে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না। তারা দলীয় ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারায়। তবে, শাহ ফয়সাল রাহিমি অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে দলের জন্য ২৩১ রানের পুঁজি গড়েন। পাঁচে নেমে তিনি ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ৮টি চার ও ১টি ছক্কার মাধ্যমে তার ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও লাভ করেন। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন তাফিউল আলম তামিম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে অবস্থিত জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেটবাহী পাইপলাইন থেকে ছিদ্র করে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ইসলাম উদ্দিন নামে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্যসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার দায়ের করেছে।
মামলাটি বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে জিটিসিএলের উপব্যবস্থাপক মো. জায়েদ হোসেন মাধবপুর থানায় দায়ের করেন। পুলিশ ও জিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ৪ নভেম্বর রাত ১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উত্তর নোয়াপাড়া এলাকার রতনপুর ডাক্তার বাড়ির গেটসংলগ্ন স্থানে পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনা উদঘাটন করেন জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় পাইপলাইনের পাশে পাঁচ-ছয়জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পান তারা।
নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে গেলে সন্দেহভাজনরা সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অনুসন্ধানে পাইপলাইনে ছিদ্র করে অতিরিক্ত হোসপাইপের মাধ্যমে কনডেনসেট বের করার বিষয়টি ধরা পড়ে। জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীদের সুপারভাইজার দুলাল মিয়া জানান, ঘটনার সময় সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনকে (৫০) ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা পাইপলাইনের কাছে যেতে চাইলে তিনি বাধা দেন। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে।
জানা যায়, জব্দকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ছয় ইঞ্চি ব্যাসের একটি ক্ল্যাম্প, এক ইঞ্চি জিআই পাইপ ও দুটি বলভালভ। এ ছাড়া ইসলাম উদ্দিনের বাড়ির পুকুর ও আশপাশ থেকে তেল মজুদের কাজে ব্যবহৃত দুটি বড় পানির ট্যাংক উদ্ধার করা হয়। তার বাড়িতে মাটির নিচে তেল সংরক্ষণের জন্য তৈরি দুটি গোপন গর্ত বা ট্যাংকের সন্ধানও পাওয়া যায়।
জিটিসিএলের আশুগঞ্জ অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্মে জড়িত বলে তাদের ধারণা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জিটিসিএলের উপব্যবস্থাপক মো. জায়েদ হোসেন জানান, গত দুই দিনে পাইপলাইন থেকে ৪ হাজার ২৯২ লিটার কনডেনসেট চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯২০ টাকা। পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জিটিসিএলের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম হাসান বলেন, পাইপলাইনে ছিদ্র করে বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে কনডেনসেট বের করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হতো। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, জিটিসিএল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এসআই সামসু উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত জব্দ করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ