০৯:৪৭ পি.এম
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর পশ্চিম চেঁচরীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৫০ কেজি পুরোনো রড বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিক্ষক কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো ঘটনাটি তাদের বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের সময় পুরোনো সিঁড়িকক্ষ ভেঙে বিপুল পরিমাণ রড বের করা হয় এবং তা স্কুলেই সংরক্ষিত রাখা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার এবং পরিচালনা কমিটির কতিপয় সদস্য যোগসাজশ করে এই ৯৫০ কেজি রড বিক্রি করে দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুটি ভ্যানগাড়িতে করে পুরোনো রড নিয়ে যেতে দেখা যায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলে ব্যবসায়ী দাবি করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তার কাছে এই রড বিক্রি করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত জানান, রডগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানগাড়িতে তোলার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে রাতে কিছু রড এনে পুনরায় বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রেখে দেওয়া হয়। সিফাতের অভিযোগ, বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান তাকে অনুরোধও করেছিলেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার। তিনি বলেন, “বিদ্যালয় থেকে কোনো রড বিক্রি করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বহিরাগত কিছু ছেলে রাতে অনধিকার চর্চা করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করত। তাদের প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত করা হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পূর্ববর্তী শিক্ষকের চার্জ লিস্টে (দায়িত্ব হস্তান্তর তালিকা) উল্লেখ থাকা ৬৫ কেজি রডের সাথে এই ৯৫০ কেজি রডের কোনো সম্পর্ক নেই। তালিকাভুক্ত ৬৫ কেজি রড ছিল ঠিকাদারের রেখে যাওয়া অতিরিক্ত টুকরা রড।
এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল জানান, “গত ৭ অক্টোবর রড বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে ৮ অক্টোবর বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করি। তখন স্টোররুমে কিছু রড পাওয়া যায়। তবে চার্জ লিস্টের রড এবং বিক্রির অভিযোগ ওঠা রড এক নয়—এমন নতুন তথ্য এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পুনরায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে অনুদানের চেক হস্তান্তর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন