সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৬ পি.এম
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জয়শঙ্কর ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে ভারতের জাতীয় বক্তব্য দেবেন এবং সফরের সময় একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।
স্থানীয় সময় ২০ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জয়শঙ্কর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। গত বছরও মোদি সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না এবং সে সময়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন জয়শঙ্কর।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে; ২৮ সেপ্টেম্বরও সাধারণ বিতর্কের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবারের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও পরদিন অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। সাধারণ বিতর্কে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।
৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো, ‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কাজ করে এমন জাতিসংঘ’। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বৈশ্বিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
জয়শঙ্করের সফরে জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। ভারতের জন্য জাতিসংঘের সংস্কার, বৈশ্বিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় দেশটির অগ্রাধিকার তুলে ধরাও এবারের কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
আগস্টে প্রকাশিত প্রাথমিক সূচিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ২৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। পরে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব ও বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব জয়শঙ্করের হাতে দেওয়া হয়। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে হারানো এবং বিভিন্ন সময়ে জিডিভুক্ত আইফোনসহ মোট ৪১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলোর আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।
রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে জেলা পুলিশের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুলিশের প্রেস রিলিজে আরও জানানো হয়েছে, আগস্ট ২০২৬ মাসে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কার্যক্রমের মাধ্যমে নবজাতক শিশুসহ মোট ১৪ জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে, হত্যার মামলায় ২ জন, অপহরণ মামলায় ১ জন, ক্লুলেস চুরির মামলায় নগদ ১ লাখ ১০ হাজার ৫৩০ টাকাসহ ২ জন এবং পরোয়ানামূলে ১ জনসহ মোট ৬ জন আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ১টি মোটরসাইকেল ও ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রযুক্তির সহায়তায় হারানো সম্পদ উদ্ধার ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সফর করার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য। সফরের পর তিনি মেক্সিকোতে যাবেন। এই তথ্য সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় প্রকাশ করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় লি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লি জে মিয়ংয়ের সম্ভাব্য বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্যাকেজ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে।
আরো পড়ুন
২০৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিনিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। তবে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদে এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ প্যাকেজের বিস্তারিত বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায়, যদি লি ও ট্রাম্পের বৈঠক হয়, তবে এটি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মঙ্গলবার লি জে মিয়ং প্রধান বক্তব্য দেবেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বক্তব্যে তিনি জাতিসংঘের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহাবস্থান নিয়ে তার পরিকল্পনাও তুলে ধরবেন। লির জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বুধবার মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছাবেন। পরদিন তিনি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময়ও লি ও শেইনবাউম উপস্থিত থাকবেন।
আরো পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল।
দক্ষিণ কোরিয়া মেক্সিকোর সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বাণিজ্য, জ্বালানি, মহাকাশ এবং সংস্কৃতির মতো খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংস্কৃতির জন্য মেক্সিকো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বিশেষ করে কে-পপের ক্ষেত্রে, মেক্সিকো দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, মেক্সিকো তাদের সামরিক বাহিনী আধুনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছে পুতিন-সমর্থিত ইউনাইটেড রাশিয়া। ২০ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পথে রয়েছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া দলীয় তালিকার ভোটে ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কমিউনিস্ট পার্টি ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট অর্জন করেছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং নিউ পিপল ৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
স্টেট দুমায় মোট ৪৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ২২৫টি আসন দলীয় তালিকার ভোটের মাধ্যমে এবং বাকি ২২৫টি একক আসনের নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, একক আসনের ২২৫টির মধ্যে ১৬১টিতে ইউনাইটেড রাশিয়ার প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। ফলে, দলটি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পথে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন ধরে রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভোটকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের একটি পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
ভোট গ্রহণের শেষ দিনে ইউক্রেন মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত রাশিয়া ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি মস্কোর দিকে আসছিল। রুশ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মস্কো অঞ্চলে কয়েকজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগার ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নির্বাচনের শেষ দিনে চালানো এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ভোট গ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী হামলার কারণ ও উদ্দেশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এবারের নির্বাচনে বিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী অনেক প্রার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। বিশেষ করে ইয়াব্লোকো দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সমালোচকেরা রাশিয়ার নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচন আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনাইটেড রাশিয়া রাশিয়ার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। দলটির আনুষ্ঠানিক চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন দীর্ঘদিন ধরে দলটির প্রধান রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং নির্বাচনেও দলটি তাঁর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেট দুমা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। ফলে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ইউনাইটেড রাশিয়া এগিয়ে থাকলেও আসনসংখ্যার চূড়ান্ত চিত্র পেতে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা রোববার দেশটির দীর্ঘকালীন সশস্ত্র সংঘাতের গুরুতর অপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য গঠিত বিশেষ শান্তি ট্রাইব্যুনাল জেইপি-এর বিরুদ্ধে ‘প্রতিহিংসার নীতি’ অনুসরণের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বৃহস্পতিবার, সরকারের সমর্থক এক সিনেটর ট্রাইব্যুনালের জন্য বরাদ্দ রাষ্ট্রীয় বাজেট প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার কমানোর একটি বিল উত্থাপন করেন।
প্রেসিডেন্ট দে লা এস্প্রিয়েলা ওই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন এবং পূর্বে অভিযোগ করেছেন যে ট্রাইব্যুনালটি বিদ্রোহীদের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় আচরণ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দে লা এস্প্রিয়েলা জানান, ‘জেইপের বিরুদ্ধে আমার কোনো প্রতিহিংসার নীতি নেই।’
জেইপি হলো ‘স্পেশাল জুরিসডিকশন ফর পিস’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ২০১৬ সালে তৎকালীন বিদ্রোহী সংগঠন ফার্ক-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির আওতায় ট্রাইব্যুনালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনা, ফলাফল নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদ এমন একটি বিচারব্যবস্থায় বরাদ্দ করা আমার দায়িত্ব, যা সবার জন্য কাজ করে— এমন কোনো ট্রাইব্যুনালে নয়, যেটিকে দেশের একটি অংশ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে মনে করে।’
প্রস্তাবিত বিলটি পাস হলে ট্রাইব্যুনালের বাজেট ২৩ কোটি ডলার থেকে কমিয়ে ১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার করা হবে। এতে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো রামেল্লি শুক্রবার বাজেট কমানোর প্রস্তাবকে ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
গত বছর প্রথমবারের মতো রায় দেওয়া শুরু করে জেইপি। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনালটি কারাদণ্ডের পরিবর্তে বিকল্প শাস্তি দিয়ে থাকে।
দেশটির কয়েক দশকের সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।
একটি মামলায় ফার্কের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আট বছরের কমিউনিটি সার্ভিস বা জনসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ওই নেতাদের বিরুদ্ধে ২১ হাজারের বেশি মানুষকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
এ ছাড়া বেসামরিক নাগরিকদের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় দায়ী অবসরপ্রাপ্ত ১২ জন সামরিক কর্মকর্তাকেও একই ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ