ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আর্জেন্টিনার নতুন কোচের দৌড়ে শীর্ষে যেসব নাম


আর্জেন্টিনার নতুন কোচের দৌড়ে শীর্ষে যেসব নাম

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম সফল কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার অধীনে ২০২২ বিশ্বকাপ, টানা দুইবার কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার আলবিসেলেস্তেরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর স্কালোনি তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ফাইনালের পর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত স্কালোনি জানান, তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন। এর পরে তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে কিছুদিন কোচিং থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

স্কালোনি বলেন, "আমি ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে থাকব। এরপর সম্ভবত দায়িত্ব ছেড়ে দেব। এখন আমার নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করা এবং কিছুটা বিরতি নেওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আর্জেন্টিনা দল ও দেশের মানুষের মধ্যে এই ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখা। এ নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।"

আরও পড়ুন: এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত

স্কালোনির সম্ভাব্য বিদায়ের ইঙ্গিত দেওয়ার পর আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে নতুন কোচ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজন কোচকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাবলো আইমার

বর্তমান কোচিং স্টাফে স্কালোনির সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পাবলো আইমার। সাম্প্রতিক সব বড় সাফল্যের পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দলের বর্তমান কাঠামো ও দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

মার্সেলো গালিয়ার্দো

আরও পড়ুন: আজ দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অফিস ও ব্যাংক খোলা

রিভার প্লেটের কিংবদন্তি কোচ মার্সেলো গালিয়ার্দো দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের সম্ভাব্য কোচ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলে তার সাফল্য এবং শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

দিয়েগো সিমিওনে

অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের কোচ দিয়েগো সিমিওনে একাধিকবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দক্ষতা তাকে অন্যতম আলোচিত প্রার্থী করে তুলেছে।

মাউরিসিও পোচেত্তিনো

আরও পড়ুন: রাউজানে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করছে আলম-আজিজ বাহিনী

বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট থাকা মাউরিসিও পোচেত্তিনোরও নাম রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়। টটেনহ্যাম, পিএসজি ও চেলসির মতো ক্লাব পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তরুণ ফুটবলার গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কাজ করার দক্ষতার কারণে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে তিনি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারেন।

স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যদি তিনি সত্যিই দায়িত্ব ছাড়েন, তাহলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নতুন কোচ নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড্রেসিংরুম বিতর্ক নিয়ে স্কালোনির মন্তব্য, ‘এসব সম্পর্কে কিছুই জানি না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


ড্রেসিংরুম বিতর্ক নিয়ে স্কালোনির মন্তব্য, ‘এসব সম্পর্কে কিছুই জানি না’

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের হতাশা এখনও আর্জেন্টিনার কাটেনি। কিন্তু নিজ শহর পুজাতোতে ফিরে স্কালোনি জানিয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন ও বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, লিওনেল স্কালোনি ড্রেসিংরুমে লিওনেল মেসির কথিত অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য বা দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে বলেছেন, "আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নেই। আপনারা কী বলছেন, সেটাই আমি জানি না।"

দলের মধ্যে বিভাজন বা অভ্যন্তরীণ সমস্যার গুঞ্জনও তিনি নাকচ করেছেন। স্কালোনি বলেছেন, "আপনারা এমন প্রশ্ন করছেন, বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দিক নিয়ে ভাবছি।"

তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বকাপে তার খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের জার্সির প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন। ভবিষ্যতেও যারা আর্জেন্টিনার হয়ে খেলবেন, তাদের কাছ থেকেও একই মানসিকতা প্রত্যাশা করেন স্কালোনি।

বিশ্বকাপ শেষে বুয়েনস আইরেসে সমর্থকদের অভ্যর্থনায় মুগ্ধ স্কালোনি বলেছেন, "হার মেনে নেওয়া কঠিন হলেও পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।" তার মতে, সম্মানের সঙ্গে হার গ্রহণ করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। আর্জেন্টাইন কোচ জানিয়েছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত তার চুক্তি রয়েছে। এরপর কী হবে, তা সময়ই বলবে। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এবং সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা।

২০২৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে স্কালোনি হাস্যরসের সুরে বলেছেন, "আবারও একই প্রশ্ন!" এরপর যোগ করেন, "প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াটাই ছিল তার জন্য স্বপ্নের মতো এবং এই সময়ে দলের অর্জন কল্পনারও বাইরে।"

এদিকে, ইংল্যান্ডকে হারানোর পর সেমিফাইনালে কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের "The Falklands Are Argentine" লেখা পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় সম্ভাব্য শাস্তির আলোচনা নিয়ে স্কালোনি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, "এ বিষয়ে আগে থেকে তার কোনো ধারণা ছিল না এবং খেলোয়াড়রাও তাকে কিছু জানায়নি। বিষয়টি তিনি সবার মতো পরেই দেখেছেন।"

প্রসঙ্গত, স্কালোনির এসব মন্তব্য প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনার ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, ফ্রান্সে নতুন আইন পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০১ এম


শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, ফ্রান্সে নতুন আইন পাস

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার জন্য নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ফলে ইউরোপে এই ধরনের আইন পাস করার ক্ষেত্রে ফ্রান্স প্রথম দেশ হয়েছে।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ফ্রান্স এই সিদ্ধান্ত নিল। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কম বয়সীদের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে আইনটি অপরিহার্য। ফ্রান্সের পার্লামেন্টের দুই কক্ষ—সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি—এ সপ্তাহের মঙ্গলবার নতুন আইনটি অনুমোদন করেছে।

আইনটি কার্যকর হলে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না। এই আইন শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না, বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের যেসব অ্যাকাউন্ট আছে, সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। এই কাজের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে। নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত করা হবে যে, ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।

ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ সিনেটে মন্তব্য করেন, এই আইনের মাধ্যমে ফ্রান্স ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতা নির্ধারণে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এর আগে, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে, যেখানে গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চান, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে নতুন আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হোক। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলের প্রতি শিশু-কিশোরদের আসক্তি কমাতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরে ছিলেন। গত এপ্রিলের একজন অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলে শিশু-কিশোররা এমন একটি পরিবেশে বেড়ে উঠছে, যেখানে তাদের মনোযোগ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের দ্বারা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল পরিবেশ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। ম্যাখোঁ জানান, শিশু-কিশোরদের ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বই পড়া, শেখা এবং ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সেজন্যই ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের সবার জন্য একই নিয়মে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য বয়সসীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু যদি সরকার নতুন আইন কার্যকর করে, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনও শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, সে বিষয়েও কমিশন পর্যালোচনা করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজ শহর রোজারিওতে ফিরলেন লিওনেল মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৩ এম


নিজ শহর রোজারিওতে ফিরলেন লিওনেল মেসি

 

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার হৃদয় পুড়ে গেছে। অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচে তারা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে, যার ফলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে।

ম্যাচ হারের কারণে ভীষণ যন্ত্রণার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন লিওনেল মেসি একটি খোলা চিঠিতে। ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি বলেছেন, ‘কষ্টটা অনেক গভীর, ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে।’

আর্জেন্টাইন দলের সঙ্গে দেশে ফিরতে না পারার কারণ হয়তো অন্য সতীর্থদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারেননি মেসি। অভিমানকে বুকে পাথর চাপা দিয়ে গতকাল দেশে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

তবে, সতীর্থদের মতো বুয়েনস এয়ার্সে ফিরে যাননি, বরং নিজ শহর রোজারিওতে ফিরে এসেছেন। ফ্লোরিডা থেকে নিজের প্রাইভেট জেটের মাধ্যমে রোজারিওতে ফিরে আসেন তিনি।

ফেরার সময় মেসির সঙ্গে ছিল তার পরিবার। দেশে আসার খবরের জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন, তবে তিনি কোনো পাবলিক বক্তব্য দেননি।

প্রাইভেট জেট থেকে নেমে সাদা এসইউভি গাড়িতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মেসি। বাসায় তার ৬৮ বছর বয়সী বাবা জর্জ মেসি অপেক্ষা করছিলেন। বর্তমানে তিনি লক্ষণ স্পষ্ট না হওয়া এক রোগে ভুগন্ত।

মেসির জন্য অপেক্ষায় থাকা ভক্তরা তার জার্সি ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে একজনের হাতে ছিল এমন বার্তা, ‘মেসি, তুমি কিংবদন্তি। আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। পুরো দেশ তোমাকে ভালোবাসে।’

বাড়িতে মেসি কতদিন থাকবেন তা এখনো জানা যায়নি। তবে জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের শুরুতে ইন্টার মায়ামিতে ফিরে আসতে পারেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, যদিও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি, কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষের দিকে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। কিলিয়ান এমবাপ্পের (১০ গোল) পর সর্বাধিক ৮ গোল করেছে তিনি এবং ৮ ম্যাচে ৪ অ্যাসিস্টও প্রদান করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাবির নারী শিক্ষার্থীরা: ইতিহাসের আড়ালে সাহসী এক অধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাবির নারী শিক্ষার্থীরা: ইতিহাসের আড়ালে সাহসী এক অধ্যায়

২০২৪ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছিল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে শুরু থেকেই পুরুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শত শত নারী শিক্ষার্থীও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন মিছিলের সামনের সারিতে, আবার কেউ আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন। কেউ কেউ হলের বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসেন। যদিও ইন্টারনেট বন্ধ ছিল, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না এবং নিরাপত্তাহীনতার দুরবস্থায় অনেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরেও রাবির নারী শিক্ষার্থীদের সাহস, ত্যাগ ও নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সত্ত্বেও ঐ অভিজ্ঞতার অধিকাংশ তথ্য এখনও পর্যাপ্তভাবে নথিবদ্ধ হয়নি।

আন্দোলনের শুরুতে অনেক নারী শিক্ষার্থী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তবে সহিংসতার মাত্রা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা সংগঠিতভাবে আন্দোলনে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত রোকেয়া হল, জুলাই-৩৬ হল (তৎকালীন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল), মন্নুজান হল, বেগম খালেদা জিয়া হলসহ মোট ছয়টি ছাত্রী হল থেকে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন প্রকারের বাধা সত্ত্বেও তারা রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন।

একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলে এবং হল ছাড়ার বাধ্যবাধকতা আসলে নারী শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে বাধ্য হন। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি ফিরতে পারেননি। ট্রেন এবং বাসের চলাচল ঠিক নয়, ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অনেকেই রাজশাহীতে আটকে থাকতে হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন মেস, পরিচিতজন বা সহপাঠীদের বাসায় আশ্রয় নেন। তবে মেসে পুলিশের তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে অনিরাপত্তার সৃষ্টি হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হন। পরে তারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করেও ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

আন্দোলনের অংশগ্রহণের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীরা ব্যানার তৈরি করেছেন, কর্মসূচির সমন্বয় করেছেন, আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এবং সহপাঠীদের সহায়তায় বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘাতের মুহূর্তেও তারা পিছপাতে রাজি হননি; বরং সহপাঠীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে মানববর্ম তৈরি করে পেশাদারী আত্মত্যাগ করেছেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পরিষদের অন্যতম নারী সদস্য তাসিন খান উল্লেখ করেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর আমি সমন্বয়ক পরিষদে যুক্ত হই। তখন মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম—স্বাভাবিক জীবনে হয়তো আর ফেরা হবে না। মনে হয়েছিল, বেঁচে থাকলে হয়তো জেলে যেতে হবে অথবা পলাতক জীবন কাটাতে হবে। ৫ আগস্টের পরের জীবনকে আমি বোনাস জীবন মনে করি। জুলাই আমাকে বিবেকের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করিয়েছে। আন্দোলনের পর আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছি। বিভিন্ন সুযোগ এলেও আমি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হইনি। রাজনীতিসচেতন নাগরিক হিসেবে থাকতে চাই এবং দলান্ধতাকে সবসময় প্রত্যাখ্যান করি।"

তিনি আরও বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলোর একটি। ন্যায়বিচার ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সাহস, ঐক্য ও দায়িত্ববোধের কোনো বিকল্প নেই।"

অন্যদিকে, আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা আরেক নারী শিক্ষার্থী এবং রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাইয়েদা হাফসা বলেন, "কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল একটি যৌক্তিক আন্দোলন। তাই শুরু থেকেই আমরা এর সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা ৭ জুলাই থেকেই অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সব হল থেকেই নারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন।"

তিনি উল্লেখ করেন, "১৪ জুলাই রাতে বেগম খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা হলের তালা ভেঙে বেরিয়ে মিছিলে যোগ দেয়। অন্য হলের ছাত্রীরাও একইভাবে আন্দোলনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ লাঠি, কেউ মরিচের গুঁড়ে, আবার কেউ বেডের স্ট্যান্ড হাতে নিয়ে আন্দোলনে নেমে পড়েন।"

হাফসা আরও জানিয়েছেন, "১৬ জুলাই রাতের ক্যাম্পাসে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণের শব্দ এবং গ্যাসের প্রভাব মেয়েদের হল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একই সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়লেও কিছু সাহসী ছাত্রীরা শেষ পর্যন্ত হল না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। পরে প্রশাসনের নির্দেশের কারণে তাদেরও হল ছাড়তে হয়।"

মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বর্তমান হল সংসদের সহসভাপতি সুমাইয়া জাহান বলেন, "আন্দোলনের শুরু থেকেই নারী শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রথমদিকে ছোট ছোট দলে কর্মসূচিতে অংশ নিলেও আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন হল থেকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মন্নুজান হলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নয়, বরং ন্যায্য দাবির পক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।"

তিনি আরও জানিয়েছেন, "টিয়ারশেল, হামলা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের স্থান ত্যাগ করেননি। হল ছাড়ার দিনটি ছিল সবচেয়ে কঠিন। পরিবহন সংকট, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে অনেকেই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেননি। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সাহস, সংহতি ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন।"

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম তুহিনা বলেন, "নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বলব, জুলাইকে শুধু একটি স্মৃতি হিসেবে নয়, শিক্ষা হিসেবে ধারণ করতে হবে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছি। সেই চেতনা ধরে রেখে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস তখনই পূর্ণতা পায়, যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার অবদান সমান গুরুত্বের সঙ্গে নথিবদ্ধ করা হয়। শুধুমাত্র নেতৃত্বের গল্প নয়, সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই রাবির জুলাই আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে মৌখিক ইতিহাস, সাক্ষাৎকার ও তথ্যভিত্তিক গবেষণা আগামী প্রজন্মের জন্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে অংশ নেওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, "জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীরা সম্মুখসারির সংগঠক ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছেন। তারা শুধু সমর্থনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, স্লোগানে আন্দোলনকে বেগবান করেছেন, আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন এবং খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দিয়েছেন। এমনকি গ্রেপ্তার সহযোদ্ধাকে ছাড়িয়ে আনা এবং আহতদের সেবাতেও তারা এগিয়ে গেছেন।"

তিনি আরও বলেন, "তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি এখনো অপ্রতুল। আন্দোলনে তাদের অবদানও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।"

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস নয়; এটি সাহস, ত্যাগ, প্রতিরোধ এবং মানবিকতারও ইতিহাস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা সেই ইতিহাসে কেবল সহযাত্রী ছিলেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই ছিলেন সামনের সারির অংশগ্রহণকারী। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাদের অভিজ্ঞতা এবং অবদান যত বেশি নথিবদ্ধ হবে, ততই সমৃদ্ধ এবং পূর্ণতা পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%