বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:৫৬ এম
অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস্) খন্দকার মোঃ শামীম হোসেন মহোদয় নওগাঁ জেলা পুলিশ অফিসের হিসাব শাখার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২য় অর্ধ-বার্ষিক পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হিসাব শাখার বিভিন্ন নথিপত্র, রেজিস্টার, আর্থিক কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয়সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের রাখিবন্ধনের গয়নার বিজ্ঞাপনটি বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ার পর গয়না নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিভা তা সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে কৃতির পোশাক এবং একটি কুকুরকে রাখি পরানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হওয়ার পর। এতে কৃতিকে খোলামেলা পোশাক পরে রাখিবন্ধন উদযাপন করতে দেখা যায়। এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ আপত্তি জানায়। বিজেপির সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতও কৃতির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পোশাকে কেন রাখি বাঁধা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনটিকে তিনি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বস্তিকর’ বলেও মন্তব্য করেন।
কঙ্গনার মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কৃতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় সমালোচনার জবাব দেন। তিনি বলেন, "উৎসবের মূল বিষয় পোশাক নয়, বরং ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের অনুভূতি ও শ্রদ্ধা।" একজন নারীর পোশাক দিয়েই তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান বিচার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কৃতি আরও বলেন, নারীরা কী পরবেন—এ নিয়ে সমাজের অন্যদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। তার মতে, পোশাকের ধরন সময়ের সঙ্গে বদলেছে, কিন্তু এখনো নারীর সংস্কৃতির প্রতি সম্মানকে তার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয়।
বিজ্ঞাপনটিতে কৃতিকে একটি কুকুরকে রাখি বাঁধতে দেখা যায়। এ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। এর জবাবে কৃতি জানান, রাখিবন্ধন সুরক্ষার বন্ধনের প্রতীক। তিনি ও তার বোন একে অপরকে রাখি বাঁধেন এবং একে অপরের সুস্থতা, সুখ ও দীর্ঘায়ুর জন্য প্রার্থনা করেন। তাদের কাছে পরিবারের অংশ হওয়ায় এই ভালোবাসা ও প্রার্থনা তাদের পোষা কুকুরের প্রতিও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।
বিতর্কের মাঝে কৃতির বোন নূপুর শ্যাননও তার পাশে দাঁড়ান। কৃতির বক্তব্য নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি কঙ্গনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "অন্য একজন নারী কী পোশাক পরবেন, তা নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয়টি ভাবা উচিত।" তিনি কঙ্গনাকে ‘সম্মানের সঙ্গে সময়ের সঙ্গে বদলানোর’ আহ্বান জানান।
এদিকে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীও কৃতির সমর্থনে কথা বলেন। তিনি বলেন, "একজন নারী কী পরবেন, কী করবেন বা কোথায় যাবেন—সেটি তার নিজের সিদ্ধান্ত।" নারীরা নিজেদের স্বাধীনতা প্রয়োগ করলে তাদের কটূক্তি করা বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি।
কৃতির জোরালো জবাব ও বিভিন্ন মহলের সমর্থনের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক থামেনি। ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের পর গয়না প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপনটি সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেয়।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। বিজ্ঞাপনটি কোনো একটি অংশের মানুষের অনুভূতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে থাকলে সেটি তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞাপনটি সব মাধ্যম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমনের সহযোগী মো. মোবারক, যিনি গলাকাটা মোবারক নামেও পরিচিত, তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফটিকছড়ি উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোবারককে রায়হান ও ফরিদ নামে আরও দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালায়। পরবর্তীতে অভিযানের এক পর্যায়ে মোবারকসহ তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে দেশি-বিদেশি পিস্তল, রিভলভারসহ গুলি উদ্ধার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একদিকে মাঠে ফলানো আলুর জন্য ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, সার-বীজ ও কীটনাশকের ব্যয় মিটিয়েও কৃষক বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া তাদের লোকসানের বোঝা আরও ভারি করে তুলছে।
কৃষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আলু ফলানোর লাভের হিসাব এখন আর মুখ্য নয়, বরং তাদের চিন্তা হচ্ছে কতটা লোকসান কমানো যায়। এ পরিস্থিতিতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণে জেলা সুপারিশ কমিটির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর সর্বোচ্চ সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ কার্যকর করতে হবে। এ সুপারিশের বাইরে একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ও প্রয়োজনে আইনগত লড়াইয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি ও সংগঠনের সদস্য মিঠু হাজী বক্তব্য দেন। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতা এবং আলুচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর জন্য সর্বোচ্চ ৫ টাকা হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এ সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় তাঁরা মেনে নেবেন না।
সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের লক্ষ্যে পৃথক সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলার সুপারিশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে জমা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত এলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত লড়াই চালানো হবে। হিমাগার মালিকেরা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিলে কৃষকরাও তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় উচ্চ আদালতে যাবেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হলেও হিমাগার মালিকেরা যোগসাজশ করে সংরক্ষণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় এবং হিমাগার ভাড়া বাড়ায় কৃষকের লোকসান আরও বেড়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ঐক্যবদ্ধভাবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও হিমাগার মালিক পক্ষের অসহযোগিতার মধ্যেও জেলা সুপারিশ কমিটি একটি প্রায় নিরপেক্ষ সুপারিশমালা তৈরি করেছে। সুপারিশের কিছু বিষয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভিন্নমত থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা তা মেনে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনের ৮ নম্বর কলামে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি আলু বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন আলু উৎপাদনকারী জেলার প্রতিবেদনেও গড়ে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও হিমাগার মালিকদের অনড় অবস্থানের কারণে যৌক্তিক ভাড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
সমিতির সহ-সভাপতি আলু চাষি মিজানুর রহমান মিলন বলেন, স্টোর ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতে চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। আমরা চাই যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
সমিতির সদস্য আলুচাষি মিঠু হাজী বলেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ, বাজারদর ও ভোক্তার ওপর। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নেবেন না।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় প্রতিবছর বাড়ছে। এর সঙ্গে হিমাগারের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচ এবং ব্যবসায়ীদের সংরক্ষণ ব্যয় আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে আলুর বাজারদরেও। তাই কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা- তিন পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত হিমাগার ভাড়া চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, আলু শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়; উত্তরাঞ্চলের হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। তাই হিমাগার ভাড়া নির্ধারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে কৃষক তার উৎপাদন খরচ অন্তত তুলতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরাও ন্যায্যভাবে পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারেন। জেলা সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি বিশাল জলস্রোত, কাদা ও পাথরের প্রাচীর যখন গর্জন করে ধেয়ে আসছিল, তখন নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল একটি সদ্য নির্মিত বাড়ির বাইরে শৌচাগারের গর্ত খুঁড়ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ধ্বংসাত্মক ঢল তাঁকে এবং আশেপাশের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তবে অলৌকিকভাবে একটি আমগাছে আটকে গিয়ে ২৪ বছর বয়সী এই যুবক মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন।
বুধবার, চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রসিকোয়া জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভাটিতে কাজ করছিলেন কুমাল। হঠাৎ করেই তিনি একটি ফোঁস ফোঁস শব্দ শুনতে পান। প্রায় পাঁচ ফুট গভীর গর্তের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর চারজন সহকর্মী তাঁকে চিৎকার করে দ্রুত পালিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু যখন তিনি গর্ত থেকে উঠে আসার পথ খুঁজছিলেন, ততক্ষণে তাঁর সহকর্মীরা সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কুমাল জানান, তিনি দৌড়াতে শুরু করতেই যেন ভূমিকম্পের মতো শব্দে এক বিশাল পানির দেয়াল ধেয়ে আসে। সেই জলের তোড়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে তিনি ভাটির দিকে ভেসে যেতে থাকেন। তবে ভাগ্যের জোরে তিনি একটি আমগাছে আটকে যান। তিনি স্পষ্ট স্বীকার করেন যে, সেদিন যদি সেই আমগাছটি সেখানে না থাকত, তবে ভেসে গিয়ে নিশ্চিতভাবেই তাঁর মৃত্যু হতো। গাছে আটকে থাকার সময় তিনি নিজের চোখে দেখেন যে বাড়িতে তিনি কাজ করছিলেন সেটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। পানির আঘাত এবং একটি বড় পাথরের চোট লেগে তাঁর ডান পা জখম হলেও অন্য এলাকায় থাকা তাঁর নিজের বাড়িটি ভাগ্যক্রমে অক্ষত রয়েছে।
এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ইতিমধ্যেই অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু বিদেশি পর্যটকসহ আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের তিব্বত সীমান্তে ধস নেমে একটি নদীতে কাদা ও পাথর পতনের পর সৃষ্ট এই বন্যা ভাটির বহু জনপদ ও অবকাঠামো এক লহমায় ধ্বংস করে দেয়। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ফুটেজে দৃশ্যমান সময়সূচীর ঠিক সাত মিনিট আগে এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা এই ভূমিধসের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন কুমালের পাশে রয়েছেন তাঁর ভাই দিনেশ। কুমালের পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহতকে উদ্ধার করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১১৪ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং কাঠমান্ডু ও রসিকুয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
অত্যন্ত পাহাড়ি দেশ নেপালে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধস নিত্যদিনের ঘটনা। এর আগে কিশোর বয়সেও কুমাল ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছিলেন, যেখানে প্রায় ৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
আমগাছে বেঁচে যাওয়া কুমালের ঠিক সামনের বিছানায় চিকিৎসাধীন ১১ বছর বয়সী রীহানা লামিছানে। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হয় ছোট মেয়েটি। সে জানায়, পরিস্থিতির কারণে তাঁদের স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে সবাইকে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ করেই বন্যার পানি প্রচণ্ড বেগে ছুটে আসে। বুকে ও পায়ে আঘাত পেলেও মেয়েটি বেঁচে থাকার আনন্দে উৎফুল্ল, যদিও তার সাথে থাকা বন্ধুদের কী পরিণতি হয়েছে তা সে জানে না। রীহানার মা রীতা খবর পেয়ে দৌড়ে এসে মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে জানান, মেয়ের মারাত্মক কিছু না হওয়ায় তিনি অন্তরের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ