বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫০ এম
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজিত করে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই পরিবর্তনের ফলে, দেশের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস।
নতুন কংগ্রেস অধিবেশন আগামী ৩ জানুয়ারি শুরু হবে এবং ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা স্পিকার পদের জন্য প্রতিযোগিতা করবেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পর এটি দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ জয়ের কারণে, তার স্পিকার হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে দলের বিজয় উৎসবে তাকে ‘স্পিকার! স্পিকার!’ স্লোগানে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় হাকিম জেফ্রিস মন্তব্য করেন, "এটি কোনো দলীয় জয় নয়, বরং দেশের জয়ের মুহূর্ত।" সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণকারী আইনজীবী জেফ্রিস ২০১৩ সাল থেকে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমান স্পিকার মাইক জনসনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ দুই বছরের মেয়াদ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং প্রয়োজনে অভিশংসনের মতো কঠোর পদক্ষেপের অঙ্গীকার নিয়ে ১০০ দিনের শক্তিশালী এজেন্ডা ঘোষণা করেছেন তিনি। ১৮৭০ সালে প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আইনপ্রণেতা আসার পর, এবার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ আসনে বসতে চলেছেন হাকিম জেফ্রিস।
সূত্র: এনবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ হাজার ২২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা) ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর তার বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য তদন্তের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ডেমোক্র্যাটরা মাস্কের ব্যবসা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যাপক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাস্ক শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনেই নয়, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছিলেন। তিনি টেক্সাসে রিপাবলিকানদের অবস্থান ধরে রাখার জন্যও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। টেক্সাসে তার ব্যক্তিগত বাসস্থান এবং বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাস্ক তার অনুসারীদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয় ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ৩০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার কাছে পরাজিত হন রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবট।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর মাস্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তদন্তের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি প্রতিবেদনের জবাবে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
‘ক্যাপিটল এজেন্ডা: ডেমোক্র্যাটদের হাতুড়ি এবার ইলন মাস্কের দিকে’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনের জবাবে মাস্ক লেখেন, "তলোয়ার দিয়ে যে বাঁচে, তলোয়ারেই তার মৃত্যু হয়। যারা আমার সঙ্গে বিরোধে জড়াবে, তাদের বুঝতে হবে—আড়াল থেকে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা আমি খুঁজে বের করব এবং শুধু তাদের পুতুলদের নয়, মূল ব্যক্তিদেরও মোকাবিলা করব।"
এদিকে নির্বাচনের পর প্রাক্-বাজার লেনদেনে মাস্কের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেলে মাস্কের ব্যবসায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে স্পেসএক্সের পরিকল্পিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আগে বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা ২৮ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বাজারে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে ইউক্রেনের সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা আরোপ, সরকারি দক্ষতা বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই এবং তার প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি চুক্তি ও ভর্তুকি নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা মাস্কের সমালোচনা করেছেন।
নির্বাচনে জয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া ট্রাম্প, তার পরিবার ও প্রশাসনের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, "আইনজীবী নিয়োগ করুন।" সরকারি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা এই কমিটির সাক্ষীদের তলব, সরকারি নথি চাওয়া এবং সমন জারির মাধ্যমে সহযোগিতা আদায়ের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে মাস্কের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও নতুন করে কংগ্রেসের নজরদারিতে আসতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরব বর্তমানে একটানা প্রবল বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং মারাত্মক বন্যার আশঙ্কায় ভীতির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) দেশের বিভিন্ন স্থানে চরম আবহাওয়ার কঠোর সতর্কতা জারি করেছে, যা আগামী শনিবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টির সাথে সাথে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে তাণ্ডবী হাওয়া বইতে পারে। কিছু স্থানে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় (টর্নেডো) এবং সাগরে জলস্তম্ভ তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের প্রায় সব প্রান্তে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ঝোড়ো বাতাসের কারণে মরুভূমির ধূলাবালি উড়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ফলে রাস্তাঘাটে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার কারণে চলাচলে চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।
পবিত্র মক্কা নগরী, জাজান, আসির ও আল বাহা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মক্কার পাশাপাশি তায়েফ, আল জুমুম, বাহরাহ ও আদহামের মতো এলাকাগুলোতেও বৃষ্টির প্রভাব বেশি থাকবে।
অন্যদিকে, রাজধানী রিয়াদ, মদিনা, তাবুক, শিলা ও নাজরানের বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জেদ্দা ও রাবিগেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সমুদ্রের ঢেউ অস্বাভাবিক উঁচু হতে পারে, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়া আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এনসিএম সাধারণ জনগণ ও যানবাহন চালকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন এবং এনসিএমের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সর্বশেষ খবরের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার আমাকে ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত করেছিল। তরুণের সেই উল্লাস আমাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এটি কি জ্ঞান-পিপাসু হিসেবে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ, নাকি উন্নত জীবনের মোহনীয় হাতছানি এবং আজীবন সেখানে স্থায়ী হওয়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার আনন্দ?
প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে পা রাখে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা দেয় স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে। পর্যটন ভিসার তুলনায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কিছু দেশের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি!
শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা স্টুডেন্ট ভিসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে বটে; তবে এর পেছনে একটি গভীর সমীকরণ রয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার কারণে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কমতে থাকা জন্মের হার রীতিমতো জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও তারা জন্মহার বাড়াতে পারছে না।
তাদের প্রয়োজন আমাদের মতো গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের। যারা ছাত্র ভিসায় বিদেশে গিয়ে সেখানকার দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে। এজন্য তারা গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের ওয়েলকাম জানাতে মুখিয়ে থাকে। অফার করে নানা রকম সুযোগ-সুবিধার। অনেক দেশে পড়াশোনার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্টের পথ খুলে দেওয়া হয়।
জ্ঞান-গবেষণার জন্য দূর দেশে পাড়ি জমানো খারাপ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেশের আলো-হাওয়ায় বড় হয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার ভিত গড়ার পর নিছক একটু ভালো থাকার জন্য উন্নত ও অমুসলিম প্রধান দেশকে সার্ভ করা নিশ্চয়ই একজন মুসলিম তরুণের কাম্য বিষয় হতে পারে না। বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকেন, ততদিন দেশের সাথে এই শ্রেণির মানুষের নিভু নিভু সম্পর্কটা হারিকেনের সলতের মতো টিকে থাকে। বাবা-মার মৃত্যুর পর অনেকে দেশের সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা বৈদেশিক সুখে বিনিয়োগ করে। দেশে তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না।
শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন দেশত্যাগের মিছিল চলছে? এর জন্য কি শুধুই তরুণদের ভোগবাদী মানসিকতা দায়ী? শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় তুলবার আগে সবার প্রথমে নিজেদের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত, অপরাধহীন, স্থিতিশীল, বাসযোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার মতো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারিনি। যে দেশ নিয়ে একজন মেধাবী তরুণ স্বপ্নের বীজ বুনবে।
এখানে মেধার মূল্য নেই, ঘুস ও রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না, জীবন সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার ছড়াছড়ি, দুর্নীতিতে সয়লাব প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং তরুণদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারকে।
এতসব অনিশ্চয়তার মাঝে মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেখানে ওয়েলকাম করতে উন্নত দেশগুলো অ্যাম্বাসি খুলে বসে আছে, তার জন্য দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন ব্যাপারই। এরপরও তারুণ্যকে আমি এই কঠিনেরে ভালোবাসার আহ্বান জানাই। কেউ দেশটাকে প্রস্তুত করে দেয়নি বলে আমি কি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করব না? নিরুপদ্রব জীবনের জন্য সবাই যদি বিদেশকেই ঠিকানা বানায়, তবে চেইঞ্জ মেকার হবে কে?
প্রকৃতপক্ষে আমাদের তরুণদের সামনে কোনো ভিশন বা আদর্শ নেই, যার জন্য সে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে। অধিকাংশ পরিবার, এমনকি খোদ রাষ্ট্রও তরুণদের আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট নয়; বরং ধর্মবিযুক্তির মাধ্যমে তাদের নিছক ভোগবাদী এবং স্বার্থপর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
তাহলে, মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার মিছিল থামানোর জন্য মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেন আগামী প্রজন্ম আদর্শবাদী এবং শেকড়মুখী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
সর্বোপরি তরুণদের ভোগবাদী জীবনের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জের জীবন বেছে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ভোগে নয়, ত্যাগের মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখের ঠিকানা। একটি দেশ উন্নত হয় মূলত তরুণদের মেধার ওপর ভর করে। সেই মেধা যদি বাইরে চলে যায় এবং বাইরের উন্নয়নে তা ব্যয় হয়, তবে সেই দেশ কোনোভাবেই সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় উঠতে পারে না। তাই মেধা পাচার রোধে আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক (মেটা) থেকে নেওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য জয়ের পর মার্কিন ডলারের মূল্য কমেছে। এই পতনের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে একদিনের মধ্যে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের পর এটি স্বর্ণের জন্য সবচেয়ে বড় দৈনিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ২.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,০৪১ ডলার ৬০ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন বাজারে ডিসেম্বর মাসের জন্য গোল্ড ফিউচারের দাম ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,০৫১ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কারণে ডলারের মান কমে গেছে। যেহেতু বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ডলারে নির্ধারিত হয়, তাই ডলারের দুর্বলতা অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী করে তোলে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া নন-ফার্ম পে-রোলস বা কৃষি খাতের বাইরের কর্মসংস্থান রিপোর্টের দিকে নজর রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়াবে নাকি কমাবে—এটি এই কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ