ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলাপাড়ায় ভাঙ্গাচোরা, জরাজীর্ণ ভাসমান সেতু দিয়ে চলাচল করছে জনগন ও পাঁচ শতাধিক সবজি চাষি, দুই যৃগেও হয়নি কোন স্থায়ী সেতু


কলাপাড়ায় ভাঙ্গাচোরা, জরাজীর্ণ ভাসমান সেতু দিয়ে চলাচল করছে জনগন ও পাঁচ শতাধিক সবজি চাষি, দুই যৃগেও হয়নি কোন স্থায়ী সেতু

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকার কারণে পাঁচ শতাধিক সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী কৃষক চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের কৃষকদের প্রতিদিন কাদা, নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতু পার হয়ে পাখিমারার পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গ্রাম থেকে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এ অঞ্চলে কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা পূরণ হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সবজি প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়।

শনিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে চাকামইয়া এলাকার আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সেতু নির্মাণে ভালো মানের খুঁটি ও স্লিপার সরিয়ে নিম্নমানের বা অকেজো মালামাল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত স্থায়ী করা প্রয়োজন। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পক্ষ সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন হয় না বলেও অভিযোগ তাদের।

কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গ্রামগুলোর অভ্যন্তরীণ মাটির রাস্তাগুলো কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন দূরের কৃষকদের নৌকায় করে পাখিমারার বাজারে আসতে হয়। অথচ কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথে দীর্ঘ তিন দশকেও একটি স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, আর আশ্বাস নয়-দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন করে পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এতে কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং এলাকার কৃষি অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে তরুণকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

স্থানীয় কৃষক জলিল প্যাদা জানান, পাখিমারার প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত খাল পারাপারে বর্তমানে কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর নির্মিত ভাসমান কাঠের পাটাতনের সেতুর ওপর নির্ভরশীল। নিজেদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় কয়েক দফা এটি মেরামত করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হয়নি।

কুমিরমারার কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, ‘৪০-৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছি। কুমিরমারাসহ তিনটি গ্রামের অন্তত সাড়ে পাঁচশ কৃষক প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। এসব পণ্য পাখিমারার আড়তে নিতে হয়। বর্ষায় কাদা ও নৌকার কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এত বছরেও এখানে একটি পাকা ব্রিজ হয়নি।’

এবিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানান, পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এটি বাস্তবায়ন করবে। নীলগঞ্জের সবজি চাষিদের দুর্ভোগ কমানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কুমিরমারার সবজি চাষিসহ এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ডিজাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে। নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। এখন একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চাটখিলে সাংবাদিক এস কে সৌরভের ওপর হামলার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হওয়ার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


শিক্ষার্থীদের মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হওয়ার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা মেধাবীদের মধ্যে অন্যতম। তাদের মেধার উৎকর্ষ ও স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু হয়েছে, যা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "মানুষ স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্ন পূরণ হয় না।"

এ কারণে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিজেদের আলোকিত করার জন্য জ্ঞানের আলোয় আসছেন। অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে তাদের দেশ ও সমাজকে আলোকিত করতে হবে। তিনি বলেন, "জ্ঞান যত বেশি অর্জন করা যাবে, জীবন তত সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।"

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো রয়েছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে। সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে। জীবনে ব্যর্থতা বা হতাশা আসলে, নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে।

মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তিনির্ভর মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। তবে, নিজের মত প্রকাশের সময় অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে স্বাধীনতার চর্চা করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগতভাবে কাজ করা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে কার্যকর সংযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমাজ ও দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎপাদিত জ্ঞান ও গবেষণার ফল মানুষের কল্যাণ ও জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

রাবির উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়নে মনোযোগ দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ। বক্তব্য দেন ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশীদ আলম ও প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রাবির ১২টি অনুষদের ৫৯টি বিভাগ ও পাঁচটি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ভর্তির জন্য প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছুটি ভুলে উন্নয়নের মাঠে ইউএনও জিল্লুর রহমান: রহনপুর পৌরবাসীর সেবায় দৃষ্টান্তমূলক তদারকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


ছুটি ভুলে উন্নয়নের মাঠে ইউএনও জিল্লুর রহমান: রহনপুর পৌরবাসীর সেবায় দৃষ্টান্তমূলক তদারকি

সরকারি ছুটির দিনগুলোতে যখন সাধারণ কর্মব্যস্ততা থমকে যায়, তখনই জনসেবা এবং সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য কর্মমুখর এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। তিনি রহনপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নাগরিকসেবার মান নিশ্চিতকরণ এবং পৌর এলাকার চলমান উন্নয়নকাজে গতি ফেরাতে জিল্লুর রহমান রহনপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় ইউএনও জিল্লুর রহমান রাস্তাঘাট নির্মাণ, ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সাধারণ নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুবিধা নিশ্চিতকরণের জন্য সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি কাজের গুণগত মান এবং শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া, পৌর এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।

ছুটির দিনেও আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে মাঠপর্যায়ে ইউএনও-র এমন সক্রিয় উপস্থিতি, কর্মনিষ্ঠা এবং উন্নয়নকাজের প্রতি নিবিড় তদারকি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ ও সন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ তাঁর এই মানবিক ও জনবান্ধব মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইইউজিআইপি প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়ার, উপ-সহকারী জুবায়ের আহমেদ, রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) আবু সায়েম, এবং কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান (টেক্কা)-সহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

কর্মকর্তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার ধারাবাহিক মনিটরিং এবং আন্তরিকতার ফলে রহনপুর পৌরসভার উন্নয়নকাজ আরও গতিশীল হবে এবং এটি একটি আদর্শ নাগরিকবান্ধব পৌরসভায় রূপ নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাল বাসিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাল বাসিজ

 

ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। এই আহ্বানটি দেশটির ‘সরকারি সপ্তাহ’ উপলক্ষে একটি বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

 

শনিবার, দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম

 

বাসিজ এক বিবৃতিতে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেছে, দেশের শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসনীয়। একইসাথে, সংগঠনটি সরকারের কাছে এই ‘পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ’ নীতি অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

বাসিজ আরও উল্লেখ করেছে, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে ইরানের সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা শোনা প্রয়োজন এবং তাদের ‘ন্যায্য দাবিগুলোর’ প্রতি গুরুত্বসহকারে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

 

সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, ইরানের প্রতিপক্ষরা দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক সংহতি দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি শাখা এবং স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত বাসিজ আরও জানিয়েছে, তারা সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য সংগঠনটি আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা: বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা: বিশ্বব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ এসে লাগছে বাংলাদেশের মানুষের ঘরে। জ্বালানির দাম বাড়ছে, গ্যাসের সংকটে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সার উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন থেকে কৃষি, খাবারের দাম থেকে মানুষের আয়-রোজগারে।

সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে চলতি বছর দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল এমন মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে মূল্যায়নটি করা হয়।

বাংলাদেশ এমন এক সময়ে এ সংকটে পড়েছে, যখন অর্থনীতি আগে থেকেই চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে নতুন কর্মসংস্থানও প্রত্যাশিত হারে তৈরি হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালেই দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে।

২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এ বছর দেশে দারিদ্র্য বাড়ার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ভূমিকা থাকবে প্রায় ১০ শতাংশ।

জ্বালানির বাড়তি দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য সম্প্রতি বলেছেন, জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত বলেও তিনি মনে করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি খাতে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে অন্য খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঝুঁকি রয়েছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকরা।

বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন। এরই মধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।

জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ছে। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়।

দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বাড়লে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।

তার মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধু জ্বালানি সংকট নয়; কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্নআয়ের মানুষকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%