মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৫:২৬ পি.এম
সরকারি ছুটির দিনগুলোতে যখন সাধারণ কর্মব্যস্ততা থমকে যায়, তখনই জনসেবা এবং সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য কর্মমুখর এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। তিনি রহনপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নাগরিকসেবার মান নিশ্চিতকরণ এবং পৌর এলাকার চলমান উন্নয়নকাজে গতি ফেরাতে জিল্লুর রহমান রহনপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় ইউএনও জিল্লুর রহমান রাস্তাঘাট নির্মাণ, ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সাধারণ নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুবিধা নিশ্চিতকরণের জন্য সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি কাজের গুণগত মান এবং শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া, পৌর এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।
ছুটির দিনেও আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে মাঠপর্যায়ে ইউএনও-র এমন সক্রিয় উপস্থিতি, কর্মনিষ্ঠা এবং উন্নয়নকাজের প্রতি নিবিড় তদারকি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ ও সন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ তাঁর এই মানবিক ও জনবান্ধব মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইইউজিআইপি প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়ার, উপ-সহকারী জুবায়ের আহমেদ, রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) আবু সায়েম, এবং কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান (টেক্কা)-সহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
কর্মকর্তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার ধারাবাহিক মনিটরিং এবং আন্তরিকতার ফলে রহনপুর পৌরসভার উন্নয়নকাজ আরও গতিশীল হবে এবং এটি একটি আদর্শ নাগরিকবান্ধব পৌরসভায় রূপ নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। এই আহ্বানটি দেশটির ‘সরকারি সপ্তাহ’ উপলক্ষে একটি বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
শনিবার, দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম
বাসিজ এক বিবৃতিতে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেছে, দেশের শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসনীয়। একইসাথে, সংগঠনটি সরকারের কাছে এই ‘পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ’ নীতি অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
বাসিজ আরও উল্লেখ করেছে, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে ইরানের সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা শোনা প্রয়োজন এবং তাদের ‘ন্যায্য দাবিগুলোর’ প্রতি গুরুত্বসহকারে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, ইরানের প্রতিপক্ষরা দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক সংহতি দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি শাখা এবং স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত বাসিজ আরও জানিয়েছে, তারা সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য সংগঠনটি আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ এসে লাগছে বাংলাদেশের মানুষের ঘরে। জ্বালানির দাম বাড়ছে, গ্যাসের সংকটে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সার উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন থেকে কৃষি, খাবারের দাম থেকে মানুষের আয়-রোজগারে।
সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে চলতি বছর দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল এমন মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে মূল্যায়নটি করা হয়।
বাংলাদেশ এমন এক সময়ে এ সংকটে পড়েছে, যখন অর্থনীতি আগে থেকেই চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে নতুন কর্মসংস্থানও প্রত্যাশিত হারে তৈরি হচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০২৫ সালেই দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে।
২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।
বিশ্বব্যাংকের মতে, এ বছর দেশে দারিদ্র্য বাড়ার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ভূমিকা থাকবে প্রায় ১০ শতাংশ।
জ্বালানির বাড়তি দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য সম্প্রতি বলেছেন, জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত বলেও তিনি মনে করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি খাতে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে অন্য খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঝুঁকি রয়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকরা।
বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন। এরই মধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।
জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ছে। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়।
দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বাড়লে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বাড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।
তার মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধু জ্বালানি সংকট নয়; কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্নআয়ের মানুষকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আরামবাগ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। এই সংবর্ধনা শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ খান মো. কামরুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি নাফিসা ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিঅ্যান্ডটি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ নয়ন উদ্দিন, আরামবাগ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এক্স স্টুডেন্ট ফোরামের আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ মাহবুব এবং সদস্যসচিব হোসাইন এম. আশার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আরামবাগ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিথীকা দাস, সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ছন্দা আক্তার, প্রভাষক মো. শফিকুল ইসলাম এবং বেগম রহিমা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সায়মুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, "শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি পরিবার ও সমাজের জন্যও আনন্দের।"
কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরো ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল আরামবাগ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এক্স স্টুডেন্ট ফোরাম। সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তারা বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম তাঁর নির্বাচনী এলাকা ভৈরব ও কুলিয়ারচরে সরকারি সফরে এসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কার্যক্রমে অংশ নেন। সফরের সময় তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার, দুস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও চারাগাছ, কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঢেউটিন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
সকাল ১০টায় ভৈরব বাজার ফাঁড়ি থানা চত্বরে ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে পুরো বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন সৈকতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে আল আমিন হত্যার বিচার দাবি করলে প্রতিমন্ত্রী স্বজনদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, "এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।"
বেলা ১১টায় ভৈরব উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন, স্কুল ব্যাগ, চারাগাছ ও স্প্রে মেশিন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে টিন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।
পরবর্তীতে দুপুরে ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এসময় ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক কে.এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভৈরব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি মুজিবুর রহমান, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতে ও ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ জাহিদুল হক জাবেদসহ জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কৃতি শিক্ষার্থী, উপকারভোগী ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া বিকেল ৪টার দিকে কুলিয়ারচর পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভা কার্যালয়ে কুলিয়ারচর বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুলিয়ারচর মৎস্যবাজার জামে মসজিদ এবং বেগম নুরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় বেগম নূরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরনের (জাতীয়করন) দাবী জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান।
বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের মাঝে হুইলচেয়ার ও শ্রবণ সহায়ক উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম. এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের একান্ত সচিব (PS) উপসচিব মো. শাহাদত হোসেন কবির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতার, উপজেলা কৃষি অফিসার মর্জিনা আক্তার, কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মুসাব্বির হোসেন, কুলিয়ারচর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. ফজলু হক, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম আলী, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মাহবুবা সিদ্দিকী ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা,
শিক্ষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এসময় স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন কুলিয়ারচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহজাহান সিরাজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ