ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগামী সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশা ট্রাম্পের


আগামী সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশা ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রথমে আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান, কিন্তু এখন আবার আলোচনায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। পরে, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর মার্চের শুরুর দিকে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ৮ এপ্রিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে, এর আগে কয়েকটি বিষয়ের ওপর ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। তিনি পূর্বে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

অন্যদিকে, সোমবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'লেবাননের যদি জায়নবাদী শাসকদের অপরাধ চলতে থাকে, তাহলে আমরা শুধু আলোচনা বন্ধ করবো না, পাশাপাশি আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। লেবানন ও ইরানের জনগণের ভ্রাতৃত্ববোধ দীর্ঘজীবী হোক।'

তবে পরে পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল হামলা কমাতে সম্মত হয়েছে—এমন খবরের পর ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানায়, তেহরান এখনও মার্কিন প্রস্তাব বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। অর্থাৎ, তারা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

মেহর নিউজের একটি সূত্রের দাবি, জবাব দিতে দেরি হওয়ার প্রধান কারণ হলো ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের অবিশ্বাস। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও করছে ইরান। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের জেনারেল সরদার মোহেবি জানিয়েছেন, তারা সামরিক ও অভিযান-সংক্রান্ত প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করেছেন।

এদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবারও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন নজর রাখা হচ্ছে ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ বছরের নিচেরদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা মালয়েশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ বছরের নিচেরদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা মালয়েশিয়ার

মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নতুন বিধি-নিষেধ কার্যকর হয়েছে।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই নতুন নিয়ম চলতি জুন মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের নিচে শিশু-কিশোররা কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

এর ফলে মালয়েশিয়া সেইসব দেশের তালিকায় যুক্ত হলো, যারা শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বয়সের সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে। সরকার জানিয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, জ্ঞানীয় বিকাশ এবং সামগ্রিক সুস্থতার কাছে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা এখন একটি উদ্বেগজনক বিষয়।

নতুন নিয়মে মালয়েশিয়ায় অন্তত ৮০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে এমন প্ল্যাটফর্ম—যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটক—এর ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য করা হয়েছে। ১৬ বছরের নিচে থাকা ব্যবহারকারীদের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের তথ্য ডাউনলোড করার সুযোগ দিয়েই অ্যাকাউন্ট সীমিত করা হবে।

নিয়ম অমান্য করলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। মালয়েশিয়া সরকার বলেছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখা নয়, বরং সাইবার বুলিং, ক্ষতিকর কনটেন্ট, অনলাইন শিকারি, আসক্তিমূলক ডিজিটাল নকশা এবং অন্যান্য অনলাইন ঝুঁকি থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়া।

বিশ্বজুড়ে নীতি কঠোর হচ্ছে। মালয়েশিয়ার এ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে। সেক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের জরিমানা রাখা হয়েছে।

ব্রাজিলে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার নিয়ম রয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও ২০২৬ সালের মার্চ থেকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাজ্য ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে জনমত সংগ্রহ করছে। ফ্রান্স ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, আর স্পেন ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের জন্য অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা চালুর পরিকল্পনা করছে।

দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ডেনমার্কও শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নীতিমালা বিবেচনা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কারণে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আত্মসম্মানবোধের হ্রাস, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা, ঘুমের সমস্যা, সাইবার বুলিং এবং শিক্ষাগত পারফরম্যান্সের অবনতি হতে পারে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেলের কার্যালয় সতর্ক করে বলেছিল যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য 'গভীর ক্ষতির ঝুঁকি' তৈরি করতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় জামা সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গবেষকরা বলেন, অসীম স্ক্রলিং, অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেন্ট সুপারিশ, নোটিফিকেশন এবং লাইক-ভিত্তিক ফিচারগুলো ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়।

ভারতের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পদক্ষেপের দাবি উঠছে। ভারতে বর্তমানে ৯০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যার একটি বড় অংশ শিশু ও কিশোর। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশাদের মধ্যে উদ্বেগ, মনোযোগের ঘাটতি, ঘুমের সমস্যা এবং ডিজিটাল আসক্তির প্রবণতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করছেন।

এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ ভারতের জন্যও বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই, অভিভাবকের সম্মতি, শিশুদের জন্য ডিফল্ট গোপনীয়তা সুরক্ষা, ব্যবহার সময়ের সীমা এবং অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা না হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আজকের দিনে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে নিহত বন্ধু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে নিহত বন্ধু

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর বন্ধুর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শামিমসহ তার মা ও বোনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এই ঘটনার তিরস্কার ঘটে।

নিহত হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের সন্তান, আর অভিযুক্ত শামিম (১৮) মোহাম্মদ সিদ্দিকের সন্তান।

স্থানীয় এবং পারিবারিক সূত্রে প্রকাশ পায়, হামিদ একজন মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করেন এবং শামিম একটি টমটম চালক। কিছুদিন আগে শামিম মোবাইলের মেরামত করিয়ে নির্ধারিত টাকা প্রদান করেননি। এরপর মঙ্গলবার সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে তর্কবিরোধ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে শামিমের মা এবং বোন এসে পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে আচমকা শামিম হামিদকে পেটে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা হামিদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার মৃত্যুর ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা শামিমকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে এবং তার মা ও বোনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি ঘটনাস্থলে এসে আটক তিনজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শামিমসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জটিল রোগে অনুদান বাড়ছে, আগামী বছর ৪০ লাখ পরিবারকে দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


জটিল রোগে অনুদান বাড়ছে, আগামী বছর ৪০ লাখ পরিবারকে দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। উক্ত মন্ত্রী বলেন, সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি ব্যাপক হলেও এতদিন প্রো-অ্যাক্টিভ বা স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকার অভাবে এই জনগোষ্ঠীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এমনকি সমাজসেবা কার্যক্রমও এতদিন ভালোভাবে পরিচালিত হয়নি।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের সভাকক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ক্রমবিকাশে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ৮টি বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় খাতে কাজের পরিধি আরো বিশালতা পাবে। ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, লিভার ডিজিজ, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক অনুদানের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এ খাতের মোট বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো এখন আর শুধুমাত্র কোনো দলের নয়, এটি জাতির ম্যানিফেস্টো। জনগণ দায়িত্ব দেওয়ায় এটি এখন সরকারের জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যে পরিণত হয়েছে, যা এক ধরনের ‘ম্যাগনা কার্টা’র মতো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছর প্রায় ৪০ লাখ ২০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে ৮০ হাজার পরিবারের মধ্যে এই কর্মসূচির পাইলটিংয়ের দ্বিতীয় ধাপ চলছে এবং জুন মাসের মধ্যে তৃতীয় ধাপ শেষ হবে। ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের শুধু আশ্রয় দেওয়া নয়, তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা ও ভাষাশিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যেমন সেলাই মেশিন বা কম্পিউটার, সরকারিভাবে দেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে ‘কেয়ারগিভিং’ প্রশিক্ষণের সঙ্গে ভাষাশিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো ব্যক্তির সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ধারণ করে না। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

বিদ্যমান সমাজসেবা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য আগামীতে একটি তিন দিনব্যাপী ‘ব্রেইনস্টর্মিং’ কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত নতুন মহাপরিকল্পনা আগামী ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী কার্যকর করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। নতুন কর্মপরিকল্পনায় এই সমন্বয়ের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে সেবার গুণগত মান বাড়ানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবার কংগ্রেসের সামনে জবাবদিহিতে রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


প্রথমবার কংগ্রেসের সামনে জবাবদিহিতে রুবিও

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ভঙ্গুর কূটনৈতিক পরিস্থিতি এবং থমকে যাওয়া বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে হাজির হতে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিতব্য এই শুনানিতে তাকে একগুচ্ছ প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা ১ দশমিক ৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত ‘নিষ্পত্তি তহবিল’ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ আলোচনা করতে বৈঠকে বসবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের ক্ষতিপূরণ দিতে তৈরি করা এই তহবিলটি আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়ে আছে। যদিও মূলত বিচার বিভাগের বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে, তবে আইন প্রণেতারা এই বিতর্কিত তহবিল নিয়ে বেশি প্রশ্ন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চও অংশগ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প একটি আকস্মিক ঘোষণায় বিল পুলটেকে ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। পুলটে বর্তমানে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক এবং বন্ধকী প্রতিষ্ঠান ফ্যানি মে ও ফ্রেডি ম্যাকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। পুলটে এর আগে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘উইলিয়ামের (বিল পুলটে) আমেরিকার অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো এবং ফ্যানি মে ও ফ্রেডি ম্যাকের ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনার গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

তিনি জানান, গত মাসে তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে পুলটে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি নতুন এই দায়িত্ব পালন করবেন। তবে স্থায়ী নিয়োগের জন্য তাকে পরবর্তীতে সিনেটের অনুমোদন নিতে হবে।

এদিকে অভিবাসন নীতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কঠোর অবস্থানের পথে হাঁটছে। ২৭টি দেশের এই জোট তাদের অভিবাসন নীতিতে আমূল পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করেছে, যার লক্ষ্য হলো ২৭ দেশের বাইরে ডিটেনশন সেন্টার বা আটক কেন্দ্র তৈরি করে দ্রুত নির্বাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করা। সাইপ্রাসের উপ-অভিবাসন মন্ত্রী নিকোলাস আয়োনিডেস বলেছেন, ‘নতুন এই নিয়ম ইইউতে বসবাসের আইনি অধিকার নেই এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।’

তবে সমালোচকেরা এই নতুন নিয়মকে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অভিবাসন নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%