০৮:৫৬ পি.এম
ইরান যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান উত্তেজনাকে বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রথমে আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান, কিন্তু এখন আবার আলোচনায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। পরে, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর মার্চের শুরুর দিকে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ৮ এপ্রিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে, এর আগে কয়েকটি বিষয়ের ওপর ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। তিনি পূর্বে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
অন্যদিকে, সোমবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'লেবাননের যদি জায়নবাদী শাসকদের অপরাধ চলতে থাকে, তাহলে আমরা শুধু আলোচনা বন্ধ করবো না, পাশাপাশি আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। লেবানন ও ইরানের জনগণের ভ্রাতৃত্ববোধ দীর্ঘজীবী হোক।'
তবে পরে পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল হামলা কমাতে সম্মত হয়েছে—এমন খবরের পর ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ জানায়, তেহরান এখনও মার্কিন প্রস্তাব বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। অর্থাৎ, তারা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
মেহর নিউজের একটি সূত্রের দাবি, জবাব দিতে দেরি হওয়ার প্রধান কারণ হলো ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের অবিশ্বাস। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও করছে ইরান। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের জেনারেল সরদার মোহেবি জানিয়েছেন, তারা সামরিক ও অভিযান-সংক্রান্ত প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করেছেন।
এদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবারও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন নজর রাখা হচ্ছে ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন