০৩:৩৫ পি.এম
কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ ছাত্রীরা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামতও।
পুলিশের দাবি, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে ‘নতুন জীবন শুরুর পরিকল্পনা করে’ বাড়ি ছেড়েছিল।
আজ বুধবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা কুমিল্লার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের বয়স ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।
আরও পড়ুন: হকারদের হামলার চেষ্টা, নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত আহত হননি
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, গত ১২ অক্টোবর সকালে চার শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি। বিকেলে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের সন্ধানে অভিযান শুরু করে। এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তাদের খোঁজে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয় এবং দেশের সব থানায় তাদের ছবি ও পরিচয় সংবলিত বেতার বার্তা পাঠানো হয় কুমিল্লা পুলিশের পক্ষ থেকে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা এলাকার একটি স্থান থেকে চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এবং বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পুলিশ সুপার বলেন, তবে এসব ব্যক্তির প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা অবগত ছিল না বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ফেনীর দাগনভূঞায় মেয়ের বটির কোপে মায়ের মৃত্যু
পুলিশ সুপার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু এবং স্বাধীনভাবে চলার পরিকল্পনা থেকে চার শিক্ষার্থী বাড়ি ছাড়ে। এ জন্য তারা বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লার বাহার মোবাইল মার্কেটে একটি ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। পরে সেই টাকা নিয়ে তারা প্রথমে ঢাকায় যায়। সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু করতে না পেরে পরে তাদের মধ্যে একজনের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা বাহার মোবাইল মার্কেট থেকে বিক্রি করা মোবাইল ফোন এবং তাদের কাছ থেকে অন্যান্য স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় অ্যাংলেটে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন