সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৩ এম
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুতেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। হামজা চৌধুরীর পর, ভুটানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে আরেক প্রবাসী ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। ক্লাব থেকে খেলোয়াড় ছাড়ানোর জটিলতার কারণে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে শুরুতেই পাচ্ছে না দল।
জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে হামজা ও ফারহান খেলতে পারবেন না। তবে, ৯ নভেম্বর তারা দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কোচ। যদি তা হয়, তাহলে ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিফার নিয়ম ও ক্লাবগুলোর সঙ্গে চুক্তির কারণে সময়মতো খেলোয়াড়দের না পাওয়া নিয়ে কোচ টমাস ডুলি মন্তব্য করেন, ‘যে খেলোয়াড় আপনার দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাকে আপনি ছাড়তে চাইবেন না। এমনকি ক্লাব তাকে ছাড়তে বাধ্যও নয়।’
সাফ প্রস্তুতির জন্য ঘোষিত ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলের মধ্যে মাত্র ২১ জন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। বাকি প্রবাসী ফুটবলারদের ৩ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে পূর্ণ দল না পাওয়ায় এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ইনজুরি শঙ্কা নিয়ে কোচকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে। এই ছয় দলের লড়াই ১৭ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
গ্রুপ ‘এ’তে বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা খেলবে। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’তে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ লড়বে। উভয় গ্রুপ থেকে সেরা দুটি করে দল সেমিফাইনালে (১৪ নভেম্বর) উন্নীত হবে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ ভুটানের মুখোমুখি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় কর্মরত পাঁচ বাংলাদেশি সাংবাদিক চীনের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘ক্যান্টন ফেয়ারে’ অংশ নিতে চীন সফরে যাচ্ছেন। এই সফরটি আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সফরের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম, প্রবাসীদের জীবনযাপন এবং চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা।
সফরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব মালয়েশিয়ার (বিসিপিসিএম) সাবেক সভাপতি ও ৭১ টিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মোস্তফা ইমরান রাজু, সংগঠনটির সহসভাপতি ও এনটিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট কায়সার হামিদ হান্নান, সহসভাপতি ও নিউজ২৪-এর মালয়েশিয়া প্রতিনিধি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ রয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিবিসি নিউজ ও দৈনিক কালের কণ্ঠের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী এবং বাংলা টিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি শেখ আরিফুজ্জামান।
সফরের সময় সাংবাদিকরা ক্যান্টন ফেয়ারের বিভিন্ন কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পণ্য ও সেবা, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ এবং নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, দেশটিতে ব্যবসা পরিচালনায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তাঁদের প্রতিবেদনে গুরুত্ব পাবে।
ক্যান্টন ফেয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে পরিচিত। এই মেলায় বিভিন্ন দেশের উৎপাদক, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক ও ক্রেতারা অংশগ্রহণ করে পণ্য প্রদর্শন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি করেন। ফলে, মেলার কার্যক্রমের পাশাপাশি সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ ও সম্ভাবনা তুলে ধরার বিষয়টিও সফরে গুরুত্ব পাবে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি চীনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রবাসজীবন, তাঁদের কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং দেশটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন সাংবাদিকেরা। চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে তাদের সামনে থাকা সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও প্রতিবেদন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া সফরকালে চীনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে চীনে বাংলাদেশিদের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রবাসজীবনের বাস্তব চিত্র পাঠক-দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চান সফররত সাংবাদিকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ অভিযান সংক্রান্ত একটি ঘটনার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে।
এই ঘটনা রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ও শায়েস্তা খান সড়কে ঘটে, যখন হকার উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়ে হকারদের উচ্ছেদ করতে আসেন। উচ্ছেদের এক পর্যায়ে হকাররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সাখাওয়াত হোসেন খানকে ঘিরে ধরেন। এরপর তারা উচ্ছেদ কর্মীদের ওপর হামলা করতে শুরু করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জীবন নামে একজন হকার জানান, "নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আমাদের কোনো রকমের নোটিশ না দিয়ে রাতে উচ্ছেদ অভিযান করতে আসে। সেই সঙ্গে আমাদের সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আমাদের ওপর হামলা করে সাখাওয়াতের লোকজন। আমিসহ অন্যান্য হকারদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।"
অন্যদিকে, সাইফুল ইসলাম বলেন, "প্রশাসক লোকজন নিয়ে আমাদের হকারদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এটা উনার কাছ থেকে আশা করি নাই। পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করে তারা এই ঘটনায় প্রদক্ষেপ নেবেন। আমরা এই ঘটনার বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলন করব।"
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান জানান, "উনি উচ্ছেদ অভিযানে আসছিলেন। তবে প্রশাসন কিংবা আমাদের কাউকে জানায়নি। উনি উচ্ছেদ অভিযানের কাজ সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীতে হকারদের সঙ্গে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর আমাদের সংবাদ দিলে আমিসহ আমার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাই। সেই সঙ্গে পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তিনি বর্তমানে বাসায় অবস্থান করছেন।"
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, "আমি উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছিলাম। এসময় হকাররা আমাদের উচ্ছেদ কর্মীদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। তারা আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। সেই সঙ্গে তারা তাদের মালামাল রাস্তায় ফেলে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিল। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। বর্তমানে আমি বাসায় অবস্থান করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজারবাইজানে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশ, পর্তুগালের বিরুদ্ধে লিড নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করেছে। শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারের সম্মুখীন হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এই ‘এইট-এ-সাইড’ ম্যাচটি ৪০ মিনিটের (২০ মিনিট করে দুই অর্ধে) ছিল এবং বাংলাদেশ শুরুতেই চমক দেখাতে সক্ষম হয়। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে বায়েজিদের অসাধারণ এক গোলে তরুণ লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা লিড গ্রহণ করে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশের বিরুদ্ধে এমন একটি শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার আশা জেগেছিল।
তবে, শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে পর্তুগাল দ্রুত নিজেদের শক্তি ও অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ দলের কিছু ভুল এবং প্রতিপক্ষের নান্দনিক পারফরম্যান্সের কারণে তরুণরা ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি পর্তুগাল জিতে নেয়।
ফিফা প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে বৈশ্বিক রূপ দিয়ে এই ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেছে। এই ফেস্টিভ্যালে বিশ্বজুড়ে ১৯১টি দেশ ৩২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করছে।
পর্তুগালের কাছে হারের আগে, বাংলাদেশ ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল ওয়েলসের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে নজর কেড়েছিল। ঘরোয়া অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট ও ওপেন ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রায় দু’মাসের বেশি সময় অনুশীলন করে এই দলটি গঠন করেছে বাফুফে। আজারবাইজানের এই টুর্নামেন্টে ওয়েলসের মতো দলের সঙ্গে ড্র এবং পর্তুগালের বিপক্ষে শুরুতেই লিড নেওয়া—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের প্রতিচ্ছবিকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না? মাঝ রাতে চট করে ঘুম ভেঙে গেল, এরপর আর চোখের পাতা এক হচ্ছে না? নিদ্রাহীনতা বা অনিদ্রা এমন একটি সমস্যা, যা অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় ভুগেছেন বা এখনো ভুগে চলেছেন। অনিদ্রা কারো কারো জন্য প্রবল সমস্যা হিসেবেও আবির্ভূত হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে।
মানুষ কেন অনিদ্রায় ভোগে––এর পেছনে বেশকিছু কারণ থাকে।
বার্ধক্যের প্রভাব, রাতে বার বার প্রস্রাব, মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি বা রাতের পালার কাজ––এরকম নানা বিষয় অনিদ্রা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব সমস্যার ক্ষেত্রে কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে সেটাও জানা থাকা জরুরি।
বিবিসি'র ইনসাইড হেল্থ টিম এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে বেশ কয়েকটি পরামর্শ খুঁজে পেয়েছে।
অনিদ্রায় বিশেষজ্ঞরা নিজেরা কী করেন?
‘আমি ঘুমাতে পারছি না, এর খুব স্বাভাবিক কারণ হতে পারে আমার মস্তিস্ক কোনো কারণে বিরক্ত হয়ে আছে অথবা আমি খুব দুশ্চিন্তা করছি। এরকম হলে আমি একটি বই নিয়ে পড়তে শুরু করি এবং একটু হালকা অনুভব করার আগ পর্যন্ত পড়তে থাকি।’ কথাগুলো বলছিলেন সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ড. ফেইথ অর্চার্ড।
লন্ডনের রয়াল ব্রম্পটন হাসপাতালের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ব্রিটিশ স্লিপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালি হায়ার বলেন, আমি যখনই অনিদ্রায় ভুগি এর প্রধান কারণ হয় আমার স্বামী বিছানায় বার বার পাশ ফিরছে বা জোরে জোরে নাক ডাকছে। তাই আমি 'স্লিপ ডিভোর্স' পদ্ধতি বেছে নেই এবং অন্য একটি ঘরে ঘুমাতে চলে যাই।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক কলিন ইসপি বলেন, ঘুম না এলে আমি বিছানা ছেড়ে উঠে যাই এবং আবার নতুন করে এসে শুই। এটা একটা রিবুট সিস্টেমের মতো কাজ করে। সাধারণত মাথায় কোনো চিন্তা ঘোরাফেরা করার কারণেই অনিদ্রা দেখা দেয় এবং এটা বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রেই সত্যি।
অনিদ্রার উপসর্গ কী?
ইসপির মতে, যদি ঘুম না আসার সমস্যা এক রাতের পর কয়েকদিন ধরে হতে থাকে এবং এরপর কয়েক সপ্তাহে গড়ায়, এভাবে তিন মাস বা তার বেশি সময় পার হয়ে যায়, তাহলে আমরা এই অবস্থাকে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া বলি।
অনিদ্রার সমস্যাটি কয়েক ধরনের হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করেছেন ড. অর্চার্ড। তিনি বলছেন, ঘুম না আসা প্রাথমিক উপসর্গ। কিন্তু বাস্তবে আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকা, এক বার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম না আসা, ভোর পর্যন্ত জেগে থাকার পর আর ঘুম না আসা এগুলোও অনেকের জন্য অনিদ্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ড. হেয়ারের মতে, অনিদ্রার লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ এবং ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য তা একইরকম। সপ্তাহে যদি তিন রাত ঘুমানোর ক্ষেত্রে কারো সমস্যা হয় এবং তিন মাসের বেশি সময় ধরে এটা চলে, আর রাতে ঘুম না আসার কারণে দিনের কাজে প্রভাব পড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
ড. অর্চার্ড বলেন, যে হরমোনের কারণে ঘুম সৃষ্টি হয় এবং সারা দিনের কর্মযজ্ঞের ফলে শরীরে যে চাপের তৈরি হয়– এই দুটি প্রক্রিয়ারই পাশাপাশি চলা উচিত। এর মধ্যে কোনো একটার ব্যতিক্রম ঘটলে সমস্যা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দিনের বেলায় বা বিকালে এক দফা ঘুমিয়ে নিলে রাতের বেলায় ঘুম আসা কঠিনও হতে পারে।
‘এর বাইরেও অনিদ্রার পেছনে বাহ্যিক যেসব কারণ কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো দুশ্চিন্তা।’
অধ্যাপক ইসপি বলেন, ঘুমের ওপর আমরা দারুণভাবে নির্ভরশীল। নানা কিছুর বিবর্তন ঘটলেও ঘুমের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তন হয়নি। বরং বলা চলে মানুষ হিসেবে আমাদের মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত বড় ও জটিল প্রকৃতির, এর বিশ্রামের জন্যই তুলনামূলক বেশি ঘুমের প্রয়োজন। বিপদ বা যে কোনো ধরনের হুমকির জন্য আমাদের মস্তিষ্কে যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়, যেটা আমাদের ঘুমকে তাড়ানোর কাজ করে, এই প্রবণতাও বিবর্তনের সঙ্গে পাল্টায়নি।
‘দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ আমাদের মস্তিষ্কে এমন একটা অনুভূতি তৈরি করে, যা আমাদের মনে করতে বাধ্য করায়– জেগে না থাকলেই বিপদ!’
ড. হেয়ার বলছেন, আমি এটা বলবো না যে নির্দিষ্ট প্রকৃতির লোকেরাই অনিদ্রায় ভোগেন, তবে এটাও ঠিক যে দুরারোগ্য ব্যাধি বা মারাত্মক ব্যাথা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঘুমের সমস্যা হয়। এছাড়া দুশ্চিন্তা, হতাশা, উদ্বেগসহ অন্যান্য মানসিক সমস্যার মিথস্ক্রিযার কারণেও অনিদ্রা সৃষ্টি হতে পারে।
ঘুমের পেছনে মানুষের বয়সও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানান অধ্যাপক ইসপি।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দেহঘড়িও পাল্টে যায়। কত সময় ধরে ঘুম হবে এবং তা কতটা গভীর হবে তা এই দেহঘড়ির ওপরও নির্ভর করে। বয়স বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমে ব্যঘাত ঘটতে থাকে। একজন কিশোরের জন্য দেরি করে ঘুমিয়ে দেরি করে ওঠায় যতটা না সমস্যা হয়, কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষের জন্য আগে আগে ঘুমিয়েও একবার তা ভেঙে গেলে হয়তো আবার ঘুমানোর জন্য বেগ পেতে হয়।
ঘুমের ওপর জিনগত প্রভাবও কাজ করে। অধ্যাপক ইসপি যেমন বলছেন, খুব সহজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা উত্তেজিত হয়ে পড়ার মতো বংশগত উপসর্গ থাকে। এর সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে।
এছাড়া আপনি সকাল সকাল উঠে কাজ শুরু করছেন এবং রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ছেন কিনা, বা বেলা করে উঠে কাজ শুরু করে শেষ রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন কিনা–– এরকম প্রত্যাহিত অভ্যাসও ঘুমের আলাদা প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে অনিদ্রার পেছনে একাধিক ও নানা রকম কারণ থাকতে পারে বলেই তার অভিমত।
ঘুমাতে না পারলে কী করা উচিত?
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমাদের কী করা উচিত? এ নিয়ে কিছু কুসংস্কার রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ইসপি।
তিনি বলেন, সকালের দিকে আমাদের ঘুমের প্রবণতা কমে আসতে থাকে। আবার ঘুম ভেঙে গেলে আমি আবার হয়তো ঘুমাতে পারবো না––এরকম একটা দুশ্চিন্তার আপনার ঘুম নষ্ট করতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, জোর করে কেউ ঘুমাতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবেই ঘুম এসে যায়, এর বাইরে যখনই আপনি ঘুমানোর জন্য জোর করে চেষ্টা করবেন- তখনই সমস্যার শুরু হয় বলে আমি সন্দেহ করি।
‘বিশ্বাস করুন আর না করুন, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো–ঘুম না আসলে জেগে থাকার সিদ্ধান্তই নেওয়া। ঘুমকে স্বাভাবিকভাবে আসতে দিতে পারেন আপনি, বলেন তিনি।
খুব সহজ কতগুলো নিয়ম অনুসরণ করে জীবনের একটি ভালো রুটিন করে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ড. অর্চার্ড।
একটি নির্দিষ্ট সময়েই শুতে যাওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট সময়েই উঠে পড়ার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমানোও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ককে একটা বার্তা দেওয়া যায় যে এখানেই ঘুমাতে হবে।
সোফায় বা চেয়ারে ঘুমিয়ে যাওয়া যেমন উচিত না, আবার বিছানায় বসে কাজ করাও ঠিক না, পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।
শোয়ার পর ঘুম না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়া উচিত এবং আধা ঘণ্টার মতো অন্য কোনো কাজ করার পর আবার বিছানায় ফেরত যাওয়া যেতে পারে বলে মন করেন ড. হেয়ার।
ঘুমের ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?
ড. হেয়ার বা অধ্যাপক ইসপি, এই দুইজনেরও কেউই ও ধরনের ওষুধ খাওয়ার পক্ষপাতি নন।
বরং তারা পরামর্শ দিচ্ছেন এক ধরনের মনোবৈজ্ঞানিক থেরাপির যা মানুষকে তার চিন্তাধারা ও আচরণ পাল্টাতে সাহায্য করবে। এর ফলে অনিদ্রার সমস্যারও উপশম হবে।
এ ধরনের থেরাপি (কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি) ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনে এবং ৫০ শতাংশ মানুষ অনিদ্রা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান বলে জানান ড. হেয়ার।
অধ্যাপক ইসপি বলছেন, এরকম থেরাপি যে ওষুধের চেয়ে বেশ কাজে দেয় সেটা অনেক রোগীই বিশ্বাস করতে চান না।
থেরাপির একটি অংশের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, স্লিপ রেস্ট্রিকশন থেরাপি নামে একটি পদ্ধতির পরামর্শ দেই আমরা। এর মাধ্যমে অনিদ্রার রোগীকে একটু দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটু আগে আগে ঘুম থেকে উঠতে বলা হয়।
কিছু মানুষ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, শোয়ার আগে ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ খেয়ে তারা ঘুমের ক্ষেত্রে সুফল পেয়েছেন। কিন্তু ড. অর্চার্ড বলছেন, এই বিষয়টি বড় কোনো গবেষণায় প্রমাণিত নয়, বরং ছোটো আকারের কিছু জরিপে এর কথা বলা হয়েছে।
মেলাটোনিনের বিষয়টা কী?
অনেক দেশে এ ধরনের হরমোনের ওষুধ ফার্মেসিতে গেলেই পাওয়া যায়, আবার কোথাও কোথাও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কেনা সম্ভব।
এ বিষয়ে ড. হেয়ার বলছেন, এই বিষয়টাও অনেকটা ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার ও তার প্রভাবের মতোই। অনেক সময় হয়তো রোগী মন রক্ষায় এসব ওষুধ লিখে দেন চিকিৎসকরা।
ঘুমের ওপর আরও যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে
ঘুমের আগে কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন? টেলিভিশন, কম্পিউটার নাকি মোবাইল ফোন––কোনটার দিকে তাকিয়ে আছেন সেই যন্ত্রটা নয়, বরং কী রকম আলো আপনার চোখে প্রবেশ করছে এটাই এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ড. অর্ডার্ড বলছেন, আপনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কী করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো আপনি ফোনের দিতে তাকিয়ে এমন কিছু দেখছেন যেটা আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করছে, এটায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু এমন কিছু যদি দেখেন যা আপনার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে, সেটা অবশ্যই ঘুম বিঘ্নিত করতে পারে।
অনিদ্রার ওপর মেনোপজ, নাইট শিফট বা এলকোহলের কোনো প্রভাব আছে? থাকলে এগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলে?
ড. হেয়ার বলছেন, মেনোপজ বা রজোবিরতি নারীদের জন্য কঠিন সময় নিয়ে আসে এবং এর কারণে ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে।
‘মেনোপজের কারণে হট ফ্ল্যাশ হয় এবং এটা ঘুম ব্যাহত করতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, বার বার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বা মুড চেঞ্জ এগুলো মেনোপজের সঙ্গেই আসে। তবে সংসার বা পরিবারিক চাপসহ অন্যান্য চাপও নারীর শরীরের ওপর এসময় প্রভাব ফেলে।
এলকোহলের বিষয়ে ড. অর্চার্ড বলেন, ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার গভীরতার যে প্যাটার্ন তৈরি হয়, এটা বদলে দিতে পারে এলকোহল।
‘এর আরও কয়েক ধরনের প্রভাব আছে। এলকোহল পান করার পর বারবার টয়লেটে যেতে হতে পারে; শরীরের পেশীগুলো শিথিল হয়ে নাক ডাকার প্রবণতা চলে আসছে পারে; হরমোনের ওপর এলকোহলের প্রভাব থাকায় আবার এটি ঘুম আসা না আসাকেও বদলে দিতে পারে,’ বলেন তিনি।
নাইট শিফটের ধকল কীভাবে সামলানো সম্ভব এ ব্যাপারে ড. হায়ার বলেন, এ ক্ষেত্রে যে দিন নাইট শিফট নেই সেসব দিনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে ঘুমের চেষ্টা করতে হবে, পাশাপাশি ছোটো ছোটো ঘুম দিয়ে অভাবটা পূরণ করে নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ