০৬:৫৭ পি.এম
পাবনার সাঁথিয়ার একটি মসজিদে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতীতে জুম্মার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির এক ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুম্মার জামাতের ঠিক আগ মুহূর্তে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের অন্তরেই এই ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ, দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবারে এই মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়াতে চান। কিন্তু সেদিন বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের আপত্তির মুখে সেটি সম্ভব হয়নি। পরে আজ, শুক্রবার, তিনি নামাজ পড়াতে আসলে খুতবা পড়ার সময় আবার মসজিদে উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন। এই সময় জামায়াত কর্মীসমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ঝামেলার আশঙ্কায় পূর্ব থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতীতে জুম্মার নামাজ শেষ হয়।
আরও পড়ুন: বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম জানান, জামায়াত এমপি গত শুক্রবার নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেটি সম্ভব হয়নি। আজ আবারও তিনি নামাজ পড়াতে আসেন। উপস্থিত লোকজনের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। জামায়াত সদস্যরা হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে ১০ মিনিটের বক্তব্য দেন, তবে কেউ কিছু বলেনি। এরপর, তিনি খুতবা পাঠানোর ঘোষণা করলে স্থানীয়রা আপত্তি করেন। এ সময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপি কর্মীরা ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষি শুরু করে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, কিন্তু পুলিশ এসে সেটি থামাতে সক্ষম হয়।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুম্মাতেও তারা দাবি জানিয়েছিল কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা করার জন্য যাওয়া হয়নি। পরে আজ স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা শুরু করে। এটি খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা।’
তিনি অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ঝামেলাটি করা হয়েছে। গোপীনাথপুরের বিএনপি নেতা করিম, সচিব সিরাজসহ এলাকার বাসিন্দা নয় এমন অনেক নেতাকর্মী তারা নিয়ে এসেছে। আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মারধর করতে গিয়ে তারাই আমাদের কর্মীর দোকানে হামলা করে লুটপাট ও মারধর করেছে। এ ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, এমপি সাহেবের সেখানে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কামূলক সংবাদ পুলিশের কাছে ছিল। সে কারণে সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। তবে নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মারধর বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন: তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন