ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কম্বোডিয়াভিত্তিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সহযোগীদের ওপর


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কম্বোডিয়াভিত্তিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সহযোগীদের ওপর

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কম্বোডিয়াভিত্তিক একটি কথিত অনলাইন প্রতারণা চক্র ও আফ্রিকার মাদাগাস্কারে সক্রিয় অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর। এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালানোর।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) প্রিন্স গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তি ও ৪১টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে শত শত কোটি ডলারের অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালনার।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে হাম সংক্রমণ ৩৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল, আক্রান্ত ৫১৮২

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এসব চক্র ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণা করে। তাদের ফাঁদে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেককে মানব পাচারের মাধ্যমে বাধ্য করে এসব কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে কম্বোডিয়া সরকার জানিয়েছে, তারা এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা চার ব্যক্তির মধ্যে একজন কিউ ইয়ং। তিনি প্রিন্স গ্রুপের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। এসব প্রতিষ্ঠান ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

কম্বোডিয়া, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্কের পাসপোর্টধারী কিউ ইয়ং ঋণ প্রদানকারী বিভিন্ন সেবা এবং ওয়াইন ব্যবসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স গ্রুপের অর্থ পাচারে সহায়তা করেছেন বলে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে প্রভাব ফেলবে কিনা দেখছে ইরান

চীনে জন্ম নেওয়া প্রিন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেন ঝিকে গত জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া থেকে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়। এর কয়েক মাস আগে, প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রিন্স গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেন ঝিসহ প্রিন্স গ্রুপের অন্তত ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের ক্যাসিনো, ভবন ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে, আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারে একটি প্রতারণা চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে মালয়েশিয়ার নাগরিক চুই কক ওয়াকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।

গত সেপ্টেম্বরে প্রতারণাবিরোধী এক সম্মেলনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেছিলেন, তার দেশ কখনোই অনলাইন প্রতারণার অপরাধীদের ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হতে দেবে না।

আরও পড়ুন: এল-সায়েদ: মুসলিম পরিচয়ে নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব অপরাধী চক্রকে প্রভাবশালী মহলের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা এবং তাদের অপরাধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অবকাঠামোগত নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে বলেন, ‘সাইবার প্রতারণার অপরাধী চক্রগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে নজরদারি ও তদন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে নজরদারি ও তদন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে দলটি। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের বাকি দুই বছরে আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ নির্বাচনে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ২৫৩টি এবং রিপাবলিকানরা ১৫৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন। বাকি আসনগুলোর ফলাফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৪টি। দুটি আসনের ফলাফল তখনো বাকি ছিল। ফলে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ১০০টি এবং নিম্নকক্ষে প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫টি আসন রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে অন্তত ২১৮টি আসন প্রয়োজন। সিনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন।

নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন ছিল। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে বিরোধী শিবিরের আসন ছিল ৪৭টি। এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সাতটি আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে গেছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৫৪-৪৪ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত ৩০টি আসন বাড়িয়েছে দলটি। ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা অব্যাহত থাকায় আসনসংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের প্রভাবাধীন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। ফলে তালারিকোর জয়কে দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাউথ ক্যারোলাইনাতেও রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। এ ছাড়া আইওয়ায় জশ টুরেক, কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিলটন এবং মেইনে ট্রয় জ্যাকসন সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। কানসাসে প্রায় ৯৪ বছর পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে মেইনে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ট্রয় জ্যাকসন।

এ ছাড়া ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান প্রার্থী জন হাস্টেডকে পরাজিত করেছেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় জয় পেয়েছেন রয় কুপার। এসব ফলাফলে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য থাকা অঞ্চলগুলোতেও ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির প্রতি অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।

প্রায় দুই হাজার ১০০টি কাউন্টির মধ্যে ৯৯ শতাংশ এলাকায় রিপাবলিকানদের ভোটের অংশ কমেছে। এসব এলাকায় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পাওয়া ভোটের তুলনায় এবার রিপাবলিকানদের সমর্থন গড়ে ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

বিশেষ করে হিস্পানিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বেড়েছে। এ ধরনের ৬৪টি কাউন্টিতে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভোটের অংশ ২০২৪ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

ট্রাম্পের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন বাড়ানোর জন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা ভালো ফল করেছেন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব এখন বিরোধী দলের হাতে যাবে। ফলে প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ, সরকারি ব্যয়, বিভিন্ন চুক্তি এবং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত ও শুনানির উদ্যোগ নিতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা।

এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কংগ্রেসে তলব, সরকারি নথিপত্র চাওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতাও বাড়বে। ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেসিডেন্টের পরিবারের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

নতুন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস স্পিকার পদে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কঠোর নজরদারিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন কোনো আইন পাস করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে বাজেট, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি হয়ে পড়বে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। তিনি কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সব সিদ্ধান্ত সরাসরি বাতিল করতে পারবেন না। তবে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করার মতো রাজনৈতিক ক্ষমতা তাদের হাতে থাকবে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এটি তার জন্য ব্যক্তিগত পরাজয় নয়। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের মান এবং নির্বাচনী পরিস্থিতিকে দলের পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতারা ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি করেছে। হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আইনসভার দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনকে আগামী দুই বছর বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করেই এগোতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান ও ব্যালটপেডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে : নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা মনে করি এখনো বিএনপি যে সরকারে আছে, তা গায়ের জোরে আছে। অতীতেও আমরা দেখেছি গায়ের জোরে অনেকেই ক্ষমতায় ছিল তারা কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।"

শুক্রবার সকালে গাইবান্ধায় এনসিপির আঞ্চলিক সমন্বয় সভার আগে জেলা পরিষদ হলরুমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে আমরা কর্মসূচি পালন করছি। এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সে কারণে আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি। গায়ের জোরে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। ৫ বছর তাদের ক্ষমতায় থাকতে হলে অবশ্যই গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।"

তিনি বলেন, "অনৈক্য কারা সৃষ্টি করেছে এটা আপনাদের খতিয়ে দেখতে হবে। ৫ আগস্টের পর থেকে কারা শুধু নিজেদের চেয়ারের কথা বলেছে, নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়ার কথা বলেছে, কিন্তু দেশ পরিবর্তনের কথা ভাবেনি, দেশের সংস্কারের কথা যারা ভাবেনি, তারাই অনৈক্য তৈরি করেছে। তারা এখন দেশের ঐক্যের কথা বলছে, যখন তারা আওয়ামী লীগকে ট্যাকেল করতে পারছে না। এনসিপি ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতারিত করেছে। তাদের নিষিদ্ধ করেছে, বিচারের মুখোমুখি করেছে। সব পদক্ষেপ কিন্তু এই ছাত্র আন্দোলনের ফল। কিন্তু বিএনপি এ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।"

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, "আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের একটা পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপি। সেটা আমরা নির্বাচনের আগেও দেখেছি এখনো দেখছি— আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির একটা সমঝোতা আছে। আমরা বলব, এই জায়গা থেকে বিএনপির বের হয়ে আসা উচিত। জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে সুযোগ করে দেওয়া যে ভুল করেছে তার মাসুল কিন্তু বিএনপিকে দিতে হয়েছে, তারেক রহমানকে ১৬ বছর দেশের বাইরে কাটাতে হয়েছে। বেগম জিয়াকে বছরের পর বছর কারাগারে থেকে নিজের জীবন নিঃশেষ করতে হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "সেখান থেকে বিএনপি যদি শিক্ষা না নেয়, তাহলে এর পরিণতি কী হবে তা বলতে পারি না।" এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ, মো. মোশারফ হোসাইনসহ অন্যান্য নেতা। পরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নবিষয়ক আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় যোগ দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


দেশের ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস

আবহাওয়া অফিস দেশের পাঁচটি বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস প্রদান করেছে। সংস্থাটি জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর একটি বর্ধিত অংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, অন্যদিকে দেশের অন্যান্য স্থানে তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

সারা দেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ফ্লাইট বিপর্যয়ে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মুনাফা ১২% কমেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ফ্লাইট বিপর্যয়ে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মুনাফা ১২% কমেছে

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও আইবেরিয়ার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস গ্রুপ (আইএজি) জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা ১২ শতাংশের বেশি কমেছে, যা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটার ফলস্বরূপ।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর পরিশোধের পর তাদের মুনাফা ১২৩ কোটি ইউরো (প্রায় ১৩৭ কোটি ডলার) হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৪০ কোটি ইউরো।

এএফপি’র খবর অনুযায়ী, আইএজি জানায়, টিকিটের দাম ভালো থাকলেও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে, বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন এবং বিশেষ করে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে জেট ফুয়েলের পেছনে ব্যয় আগের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭৪ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।

আইএজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুইস গালেগো বলেন, ‘জেট ফুয়েলের অত্যন্ত উচ্চমূল্য ও কয়েকটি অপ্রত্যাশিত কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন সত্ত্বেও আমরা এ প্রান্তিকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধরে রাখতে পেরেছি।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজের ইঞ্জিনসংক্রান্ত সমস্যায় প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজের স্বল্পতা এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে তাদের সামগ্রিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরেও যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দেশটির বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%