ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান যুদ্ধের কারণে প্লাস্টিক সংকট, মিসরের ‘গারবেজ সিটি’র ব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা


ইরান যুদ্ধের কারণে প্লাস্টিক সংকট, মিসরের ‘গারবেজ সিটি’র ব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা

কায়রোর ‘গারবেজ সিটি’র সরু গোলকধাঁধার মতো গলিগুলোতে বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবসায়ী পিটার রোমানির।

ইরান যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার কারণে বিভিন্ন কারখানা এখন তাকে নিয়মিত ফোন করে প্লাস্টিকের খোঁজ করছে। ২৫ বছর বয়সী রোমানি মিসরের শতাধিক পুনর্ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের মধ্যে একজন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, তারা ব্যবসায় বড় ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন।

কায়রো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানাচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু পূর্ব কায়রোর বিস্তীর্ণ এলাকা মানশিয়েত নাসের। এই স্থানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আবর্জনা সংগ্রহকারীরা বিশ্বের অন্যতম উন্নত অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

চাপ দিয়ে বাঁধাই করা প্লাস্টিকের বিশাল স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে রোমানি এএফপিকে বলেন, ‘যুদ্ধের আগে আমাদেরই কারখানাগুলোকে ফোন করে আমাদের মাল বিক্রির চেষ্টা করতে হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কারখানাগুলোই আমাদের ফোন করছে। তারা জানতে চায়, কত মাল আছে? আজই সরবরাহ করা যাবে? আগে এমনটা কখনো হয়নি।'

-আবর্জনার ওপর গড়ে ওঠা জনপদ-

মানশিয়েত নাসেরে এক লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। মোকাত্তাম পাহাড়ের নিচে এবং কায়রোর ঐতিহাসিক সিটাডেলের বিপরীতে এই এলাকায় প্রধানত কনক্রেট ক্রিশ্চান জনগণের বসবাস। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কায়রোর মোট বর্জ্যের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এখানে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

এখানে একই ছাদের নিচে বসবাস ও কাজ করেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। অনেক সময় তাদের থাকার জায়গা ও আবর্জনার স্তূপের মধ্যে ব্যবধান বলতে থাকে শুধু একটি সিঁড়ি বা একটি পর্দা। ফলে, তাদের দুর্গন্ধ, প্লাস্টিকের ধোঁয়া এবং নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

নিচতলায় পুরুষেরা প্লাস্টিক, কার্ডবোর্ড, কাগজ, ধাতু ও কাচ আলাদা করে স্তূপে সাজান। পরে এগুলো কারখানায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ওপরতলায় শিশুরা পড়াশোনা করে। মায়েরা রান্না করেন। ছোট ছোট বসার ঘরে টেলিভিশন চলে। আর নিচতলায় প্লাস্টিক কুচি করার যন্ত্র ও বেলিং প্রেসের অবিরাম শব্দ শোনা যায়।

পুরো এলাকায় আবর্জনার গন্ধ ভাসতে থাকে। সরু গলিতে ধীরে ধীরে পিকআপ ভ্যান ও হাতগাড়ি চলে। দিনের সংগ্রহ করা আবর্জনা নামানো হয়। আর সেগুলোর ফাঁকেই শিশুদের ফুটবল খেলতে দেখা যায়।

-আগাম অর্থ পরিশোধ-

রোমানি মূলত পুনর্ব্যবহারযোগ্য পলিইথিলিন নিয়ে কাজ করেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্লাস্টিকগুলোর একটি এবং প্যাকেজিং শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ইন্ডিপেনডেন্ট কমোডিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস (আইসিআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য পলিথিলিনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সরবরাহকারী। এই অঞ্চলের প্রায় ৮৫ শতাংশ রপ্তানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে।

মিসরের কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ চেম্বারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি প্লাস্টিক শিল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করে। এর বেশির ভাগ আসে উপসাগরীয় দেশ, ইউরোপ, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে।

শিল্প খাতের তিনটি সূত্র এএফপিকে জানায়, কিছু পণ্যের প্যাকেজিং ও প্লাস্টিকের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ফলে উৎপাদকরা স্থানীয়ভাবে পুনর্ব্যবহার করা প্লাস্টিকের দিকে ঝুঁকছেন। মূলত পানীয় ও খাদ্যপণ্যের মোড়কে ব্যবহৃত পিইটি প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারকারী রিজক ইউসুফ বলেন, যেসব কারখানা আগে অর্থ পরিশোধ করতে দেরি করত, তারা এখন কাঁচামাল নিশ্চিত করতে আগাম টাকা দিচ্ছে। তিনি এএফপিকে বলেন, চাহিদা তিন গুণ বেড়েছে। আর কিছু পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

-সাময়িক উল্লম্ফন?-

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

এই সরবরাহ সংকট পুরো উৎপাদন শৃঙ্খলে স্থানীয় ব্যবসার জন্য ইতিবাচক হয়ে উঠেছে। সাদাত সিটি কেমিক্যাল ফাইবার ফ্যাক্টরির প্রধান নির্বাহী ফাইরুজ এল-সাইয়েদ বলেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ১৬ বছর ধরে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল থেকে পলিয়েস্টার ফাইবার তৈরি করছে। তিনি জানান, সর্বশেষ সংকটের পরেই তারা ব্রাজিলের মতো দূরবর্তী বাজারেও প্রবেশ করতে পেরেছেন।

প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে নতুন প্যাকেজিং উপকরণ তৈরি করার প্রতিষ্ঠান ইউফ্লেক্স ইজিপ্টের জ্যেষ্ঠ বিপণন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপক নেসমা এলআরিফ জানিয়েছেন, তাদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের চাহিদা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে এই ব্যবসায়িক উল্লম্ফন স্থায়ী নাও হতে পারে। ইউসুফ জানিয়েছেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দাম ও চাহিদা কমতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘মাত্র একটি পোস্টেই বাজার বদলে গেছে। যুদ্ধ শেষ হলে এই অবস্থা থাকবে কি না, আমি নিশ্চিত নই।’

তবে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করছে এবং হরমুজ প্রণালীর ‘নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে।’ দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষও শুরু হয়েছে। রোমানি ও ইউসুফ দুজনই বলেছেন, এরই মধ্যে আবার অর্ডার বাড়তে শুরু করেছে। ইউসুফ বলেন, ‘এখন আমরা এতে অভ্যস্ত। ওখানে যখনই কোনো সমস্যা হয়, ক্রেতারা আমাদের ফোন করতে শুরু করেন।’

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার বাসিন্দারা চায় ফাইনালে শেষ হাসি স্পেনই হাসুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


গাজার বাসিন্দারা চায় ফাইনালে শেষ হাসি স্পেনই হাসুক

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মহারণ ঘিরে গোটা বিশ্ব যখন কাঁপছে, তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাতেও ফুটবল উন্মাদনার এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতো নয়, গাজাবাসীর এই উন্মাদনার পেছনে রয়েছে অন্য এক আবেগ। তারা ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে চলা স্প্যানিশ দলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন উজাড় করছেন।

এই সমর্থনের মূল কারণ খেলার মাঠের বাইরে, স্পেনের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান। ইসরায়েলি হামলার ভয়াবহতার সময় স্পেনের সরকার ও দেশটির ক্রীড়াবিদদের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান গাজার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ আগ্রাসনে গাজার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সংকট আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যেখানে একটি ম্যাচ দেখা মুশকিল, সেখানে ফুটবলকে আঁকড়ে ধরে ক্ষণিকের জন্য দুঃখ ভুলতে চাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। গাজা সিটির একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব 'প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাব'-এ সম্প্রতি মূল ফাইনালের আদলে ফিলিস্তিন ও স্পেনের মধ্যে একটি প্রতীকী প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। এই ম্যাচগুলো সম্পূর্ণ পেশাদার আবহে এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা গাজাবাসীর স্পেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি অসাধারণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।

ফিলিস্তিনিদের স্পেনের প্রতি এই ভালোবাসার মূল কারণ গত মে মাসে স্প্যানিশ সরকারের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া। এছাড়া, বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার মতো ক্রীড়াব্যক্তিত্বদের ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ ফিলিস্তিনিদের অনেক ভালোভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। গাজার পুরুষাঙ্গহীন ফুটবল দলের প্রধান কোচ হাতেম আল-মাগরিবি জানান, যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও যারা তাদের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়েছেন, এই সমর্থন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

তবে, স্পেনের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনার প্রতি গাজাবাসীদের কোনো শত্রুতা নেই। আর্জেন্টিনার বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইসরাইলপন্থী অবস্থান নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মনে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে, কিন্তু ফুটবলীয় শক্তির বিচারে লিওনেল মেসির দলকে তারা সমীহ করেন। স্থানীয় ফুটবল ভক্তরা মনে করেন, আর্জেন্টিনা খুবই শক্তিশালী দল, তবুও শেষ পর্যন্ত স্পেনের জয় হবে। সব মিলিয়ে ধ্বংসস্তূপ ও মানবিক সংকটের মাঝেও গাজার বাতাসে এখন একটাই প্রার্থনা, বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা যেন শেষ পর্যন্ত স্পেনের হাতে ওঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খোলামেলা লুকে নেটদুনিয়ায় আলোচনায় অভিনেত্রী নেহা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


খোলামেলা লুকে নেটদুনিয়ায় আলোচনায় অভিনেত্রী নেহা

অভিনেত্রী এবং মডেল নিদ্রা দে নেহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক ফটোশুটের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। সোনালি রোদে আলো ও সাদা চাদরে মোড়ানো নান্দনিক আয়োজনের মধ্যে তোলা ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই ভক্ত-অনুরাগীদের নজর আকৃষ্ট করেছে।

original

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে দেখা যায়, নেহা বেডরুমের জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলোতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। ছবিগুলোতে তার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি, অভিব্যক্তি এবং আলো-ছায়ার ব্যবহার পুরো ফটোশুটের মধ্যে শৈল্পিক আবহ তৈরি করেছে। একটি ছবিতে তার পিঠে আঁকা লম্বা নান্দনিক ট্যাটুও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ছবিগুলোর ক্যাপশনে নেহা লিখেছেন, "যেখানে আলো থমকে দাঁড়ায়, আমি ভাষা হয়ে উঠি।"

original

ছবি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ার একটি প্রবাহ বয়ে যায়। অনেকেই তার সাহসী উপস্থাপনা, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং ফটোশুটের নান্দনিকতা নিয়ে প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ তার নতুন লুককে ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয় বলেও মন্তব্য করেছেন।

original

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে 'মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ' প্রতিযোগিতায় সেরা ১০-এ জায়গা করে নেওয়া নিদ্রা দে নেহা শুধু মডেলিংই নয় বরং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি 'আধুনিক বাংলা হোটেল' এবং 'শরতের জবা' ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে দর্শকদের আকৃষ্ট করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরের চাল কালোবাজারী লিংকনের সিন্ডিকেটে জিম্মি সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদাম হস্তক্ষেপ কামনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জামালপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


জামালপুরের চাল কালোবাজারী লিংকনের সিন্ডিকেটে জিম্মি সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদাম হস্তক্ষেপ কামনা

জামালপুরের সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদাম এখন জিম্মিদের মত হয়ে পড়েছে। উপজেলা খাদ্য বিভাগ, কিছু চাতাল ও রাইস মিল মালিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মিল সংশ্লিষ্টরা এই অভিযোগ তুলেছেন। তারা দ্রুত জেলা খাদ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মিল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জামালপুরের লিংকন মিয়া নামে এক চাল কালবাজারী ২/৩ জন মিলে সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামে যাতায়াত শুরু করেছে। যাতায়াতের পর থেকে তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা অবৈধভাবে সুবিধা আদায় করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এমনকি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের চাল কম দামে সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছেন। একদিকে সরকার বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে প্রকৃত সচল মিল ও সৎ মিলাররা ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর রাতে সদর উপজেলার ৫ নম্বর ইটাইল ইউনিয়নের দমদমা বকুলতলা বাজারে মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনের রাইস মিলের উপর অভিযানে ৩৯৮ বস্তা (প্রায় ২০ মেট্রিক টন) সরকারি চাল ও ৩৬০টি খালি বস্তা জব্দ করে মামলা দায়ের করেছিল র‍্যাব। লিংকন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের চাল সরকারি বস্তা থেকে সরিয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছেন। সম্প্রতি জামালপুর শহরে র‍্যাবের অভিযানের পর তারা উপজেলা গুলোতে টার্গেট করে চাল কালোবাজারী করে আসছেন। বর্তমানে তারা সরিষাবাড়ী উপজেলায় গুদামে বিভিন্ন কৌশলে একটি রাইস মিলের নামে ব্যবসা করে চলেছেন। তাদের প্রতি নজর রাখতে জামালপুর র‍্যাব ১৪ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকারবাসী।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার এসআরএফ অটো রাইচ মিলের স্বত্তাধিকারী লাঞ্জু মিয়ার সাথে জামালপুরের চাল কালোবাজারী লিংকন ও ২/৩ জন মিলে জেলা খাদ্য বিভাগ থেকে দুই কিস্তিতে বরাদ্দ নিয়ে ১২৮ টন ধান সংগ্রহ করে ধান ভাঙিয়ে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। তারা প্রথম কিস্তিতে ৬৪ টন ধান ভাঙিয়ে চাল দিয়েছেন গুদামে। পরবর্তীতে ২য় কিস্তিতে আরো ৬৪ টন বরাদ্ধ নেন। তারা চাল দিতে সময় কালক্ষেপণ করছেন। পাশাপাশি তারা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকেও সরকারি চাল ক্রয় করে আবার সেই চাল গুদামে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তথ্য রয়েছে। চালের গুণগত মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিকে স্বস্তিকা রাইচ মিলের মালিক তুষার বাবুর প্রতিষ্ঠানেও ৬৪ টন ধান বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই বরাদ্দের ধান তিনি নিজ খরচে জামালপুর সুজার মিল থেকে শুটার করে চাল গুদামে দিবেন বলেও জানা যায়।

উল্লেখ্য যে, যদি নিজস্ব তহবিল থেকে শুটার করে চাল গুদামে সরবরাহ করার নির্দেশনা আইনে রয়েছে। পাশাপাশি যদি কোন উপজেলার ধান সাটাই করতে রাজি না থাকে অথবা সাটাই এর ব্যবস্থা না থাকে তাহলে জেলার নিকটস্থ যে কোন স্থানে সাটাই এর নীতি মালা রয়েছে। তবে এ খরচও প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হবে। এতে পরিবহন সাশ্রয় হবে এবং পাশাপাশি সরকার লাভবান হবে।

এদিকে অভিযুক্ত চাল কালোবাজারী লিংকন মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে স্বস্তিকা রাইচ মিলের স্বত্তাধিকারী তুষার বাবু জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান শুটার করার জন্য সুজার মিলে পাঠানো হয়েছে। একটি কু চক্রি মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার জানিয়েছেন, আমরা ডিও পেয়ে ধান দিয়ে থাকি। আর সিন্ডিকেটের বিষয়ে নজর রাখা হবে।

এদিকে জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আসাদুজ্জামান জানান, সিন্ডিকেটের বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ধান সাটাই এর কিছু আইনী নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠান চাইলে তারা তাদের নিজস্ব খরচ ব্যয় করে ধান সাটাই করে গুদামে দিতে পারবে বলে আইনে বলা আছে। এতে সরকার লাভবান হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের মামলায় এস আলম ও পি কে হালদারদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


দুদকের মামলায় এস আলম ও পি কে হালদারদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, বা এস আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ১১ জনের।

রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেন ফাস্ট ইসলামী সিকিউরিটি ব্যাংক পিএলসির অ্যাসিস্টটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আসাদুল আজাদ।

তারপর, কারাগারে থাকা আসামি রাশেদুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ তাকে জেরা শেষ করেন।

অন্য আসামি নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে জেরা পেছানো জন্য সময়ের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল বেপারী। আদালত এই সময় আবেদন মঞ্জুর করে অবশিষ্ট জেরা ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৯ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছে।

এর আগে, সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফ হোসেন জানান, মামলার পূর্ববর্তী পর্যায়ে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছিল। আজ একজন নতুন সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য রাখলেন। সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেবেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে।

গত ১৯ জানুয়ারি এস আলম এবং পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান এবং শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না, মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এ মামলার অভিযুক্ত অভিযুক্তদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক বর্তমানে কারাগারে আছেন। অপর আসামিরা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। ওই দিন সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক। এরপর ২২ জুন ৫ জন এবং ৮ জুলাই আরো ৪ জন সাক্ষ্য দেন। এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্রের ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিতরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়।

এই ঘটনায় গত বছর ২ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে ১৬ অক্টোবর তিনি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%