রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১৭ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী জেলা শাখার উদ্যোগে সাংগঠনিক মাস ২০২৬ পালন উপলক্ষে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন শাখায় এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি সুনন্দ সমাদ্দার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী শামীমা, চায়না মজুমদার, রেক্সোনা খানম, শিমুলসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা নারী অধিকার রক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মী সভা শেষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি সুনন্দ সমাদ্দার বলেন, আমাদের
প্রধান লক্ষ্য হলো তৃণমূলের নারীদের সংঘবদ্ধ করা। গ্রামের নারীরা যেন তাদের আইনি অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে পারেন, সেজন্যই আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে এই সাংগঠনিক মাস উদযাপন করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও রিল ভিডিও তৈরি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী 'ঙঝঞ' (ঙঁৎ ঝঃৎববঃ ঞবধস) নামক কিশোর গ্যাংয়ের দলনেতাসহ তিন সদস্যকে আটক করেছে হাতিয়া থানা পুলিশ। আটককৃত তিনজন হলেন, ওসামা (২০), সাকিব উদ্দিন শরীফ (১৯), এবং আমজাদ হোসেন (১৯)।
আটককৃতদের বাড়ি হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের বেজুগালিয়া গ্রামে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাতিয়া থানার ওসি মোঃ কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও টিকটকের মাধ্যমে 'ঙঝঞ' (ঙঁৎ ঝঃৎববঃ ঞবধস) নামক একটি গ্রুপ থেকে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে রিল ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছিল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার ৭ নং তমরুদ্দি ইউনিয়নের উত্তর বেজুগলিয়া ৯ নং ওয়ার্ডের শেখ নুরুজ্জামান চুকু মেম্বারের ছেলে শেখ ওসামা আল জামান ওরফে ওসামা (২০)-র নেতৃত্বে যুবক ও কিশোরদের নিয়ে ১৯ সদস্যের এই দলটি গড়ে ওঠে। এই দলটি এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কবির হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং গ্রুপটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় পুলিশের অভিযানে আবারও ২৫৪ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ১৮ থানায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আটক করা হয়। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর -্কােয়াড’-এর সক্রিয় চার সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯), যিনি এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে একযোগে ১৮টি থানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কুমিল্লা মহানগরসহ প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে আটকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী এই অভিযানে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা জমে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটককৃতদের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আটক চারজনের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। তিনি রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগ্নে।
রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে রয়েছেন। বাকি তিনজনও এই গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান পরিচালনা করে এমদাদুল হক, যিনি মুন্না নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বয়স ২৬ বছর।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এমদাদুল হক মুন্না সেনবাগ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরুল ইসলাম কোম্পানীর বাড়ির বাবুপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের পুত্র।
ডিবি পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম সেনবাগ উপজেলার ৬ নম্বর কাবিলপুর ইউনিয়নের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় চৌমুহনী-ফেনী মহাসড়কের পাশে বিসমিল্লাহ অটো সেন্টারের সামনে অভিযান শুরু করে। এ সময় সন্দেহভাজন এমদাদুল হক মুন্নাকে আটক করা হয়।
পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সেনবাগ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরে গ্রেপ্তারকৃত মুন্নাকে নোয়াখালী বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তিতাস নদীর তীরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিতাস নদীর বুকে এই ঐতিহ্য ফিরে আসায় নদীর পাড়ে মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
হরিপুর জমিদার বাড়ি পয়েন্টে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, "গ্রাম বাংলার পুরনো ঐতিহ্য নৌকা বাইচ। হাজার হাজার মানুষ এই নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। এটি আমাদের বাংলার ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন পর আমাদের এলাকার সকলের সহযোগিতায় এই নৌকা বাইচ প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।" ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান।
উদ্বোধনের পর রঙিন পোশাক পরিহিত মাঝিমাল্লারা তাদের সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে বাইচে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। প্রতিযোগিতাটি হরিপুর জমিদার বাড়ি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের নরহা গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ছয়টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকা বাইচ তিতাসের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ এই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে হরিপুর তিতাস নদীর পাড়ে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। দুপুর থেকেই নদীর পাড়ে নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত নৌকা ও মাল্লার বাইচ শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। পুরো সময়জুড়ে নেচে-গেয়ে, হেইও হেইও ধ্বনিতে এক অনবদ্য আবহ সৃষ্টি হয়। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। নৌকা বাইচে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী এই নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির সভাপতি তিতন ফকিরের সভাপতিত্বে হরিপুর মানব কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজয়ী 'সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ক্ষমতাপুর শাপলা ভয়েজ ক্লাব' দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য এম এ হান্নান। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ এরফান উদ্দিন, সহকারী কমিশনার(ভূমি) চৌধুরী বিশ্বনাথন আনন্দ, থানার অফিসার ইনর্চাজ(ওসি) শাহিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আলী আজম চৌধুরী, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামাল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আর্টিন ফার্নিচারের চেয়ারম্যান ইয়াসিন হোসাইন রুমানসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ