১০:১৮ এম
ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মারিন লে পেন আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য প্রস্তুত একটি আপিল আদালত। মঙ্গলবার প্যারিসের আপিল আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করবে।
এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
২০২৫ সালের মার্চে একটি আদালত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় লে পেনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, পার্লামেন্ট সদস্যদের সহকারীদের বেতন দেওয়ার জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অর্থ ন্যাশনাল র্যালি দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
আদালতের মতে, এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন লে পেন। এই মামলায় তাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে এক লাখ ইউরো জরিমানা এবং চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুই বছরের সাজা স্থগিত রাখা হয়। বাকি দুই বছর এই সময় তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারির মধ্যে নিজ বাড়িতে থাকতে হবে। তবে লে পেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। পরে তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
আপিল আদালত যদি আগের রায় বহাল রাখে, তাহলে ৫৭ বছর বয়স্ক লে পেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এটি হবে তার জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। কারণ তিনি এই নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী, তার দল ন্যাশনাল র্যালির সভাপতি এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী ৩০ বছর বয়সী জর্ডান বারদেলা প্রেসিডেন্ট পদে দলের প্রার্থী হতে পারেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে ন্যাশনাল র্যালি বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, বারদেলা প্রার্থী হলে প্রথম ধাপে এগিয়ে থাকতে পারেন এবং শেষ ধাপের লড়াইয়েও পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে মারিন লে পেন তার বাবা জ্যাঁ-মারি লে পেনের প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল র্যালিকে নতুনভাবে গড়েছেন। এককালীন ছোট জাতীয়তাবাদী দলটি এখন ফ্রান্সের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই দলটিকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সরকার হিসেবে দেখছেন। তাই আদালতের এই রায় শুধু লে পেনের জন্য নয়, পুরো দলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রায় ঘোষণা শুরু হওয়ার কথা। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আদালত রায় দেবেন। একই দিন রাতে ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১-এ একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেবেন লে পেন। সেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন। ন্যাশনাল র্যালি ইতোমধ্যে লে পেনকে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলের অনেক সংসদ সদস্য লে পেনের জনপ্রিয়তার কারণেই নির্বাচিত হয়েছেন। তাই নতুন নেতৃত্ব এলে তাদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। দলটির নেতারা জানান, বারদেলা প্রার্থী হলে লে পেন তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন এবং দলের নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তবে অর্থনীতি ও পেনশন সংস্কারের মতো কিছু বিষয়ে বারদেলার অবস্থান লে পেনের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। এতে দলটির কিছু সমর্থকের মধ্যে মতভেদ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপিল আদালত চাইলে আগের দোষী সাব্যস্ত করার রায় বহাল রেখে শাস্তি কমিয়ে দিতে পারেন। যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, অথবা তা দুই বছর বা তার কম সময়ের জন্য কমানো হয়, তাহলে লে পেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কারণ তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৫ সালের মার্চ থেকে গণনা করা হচ্ছে। তবে কারাদণ্ড বহাল থাকলে এবং তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারির মধ্যে বাড়িতে থাকতে হলে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো তার জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়বে। আবার আদালত চাইলে আগের দোষী সাব্যস্ত করার রায় পুরোপুরি বাতিলও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লে পেন সব ধরনের আইনি বাধা থেকে মুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন আদালতের রায় বিবেচনায় এরকম সম্ভাবনা খুবই কম। আপিল আদালত আগের রায় বহাল রাখলে লে পেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত কুর দ্য কাসাসিওঁতে আপিল করতে পারবেন। তবে তিনি আগেই বলেছেন, চূড়ান্ত রায় পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে, তাহলে তিনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না।
আরও পড়ুন: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা বনানী থেকে গ্রেফতার
উল্লেখ্য যে, এই মামলায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট থেকে ৪০ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা প্রায় ৪৬ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন