ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশে আবারও বাড়ছে ডলারের দাম


দেশে আবারও বাড়ছে ডলারের দাম

ডলারের দাম আবারও বাড়ছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে আমদানি খাতে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায়। আর খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে আমদানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। জুলাই মাসের শুরু থেকেই ডলারের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, মাসের শুরুতে প্রতি ডলারের দাম প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ পয়সা করে বাড়ছিল। তবে শেষ সপ্তাহে এক লাফে দাম বেড়ে যায় ৫০ পয়সা। এর সাথে তাল মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর বিক্রয়মূল্যও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে আমদানি খাতে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রফতানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও আমদানি কার্যক্রম বেড়েছে। ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এর দামও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার নির্ধারণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই বাজারে ডলারের দাম নির্ধারিত হয়। তবে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের দাম বাড়ার পেছনে শুধু আইএমএফের পরামর্শ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতাও বড় ভূমিকা রাখছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে ডলার কিনে আমদানি করতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি; সবই আমদানি করে। তাই ডলারের দাম বাড়লে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। ১৫, ২০ বা ৩০ পয়সা বৃদ্ধি হয়তো বড় সমস্যা নয়। কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে এই সামান্য বৃদ্ধি বড় প্রভাব ফেলে এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক সূচক। এখন নজর রয়েছে ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হয় এবং এর প্রভাব বাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা পড়ে সেদিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে তিতুমীর কলেজ উত্তাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে তিতুমীর কলেজ উত্তাল

ঢাকার তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা হল ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ করেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে তারা ক্যাম্পাসের হল গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি হলো, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে অন্যান্য কলেজে হল ফি ৬ হাজার টাকা অবস্থান করলেও তিতুমীর কলেজে সেটা ৮ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত এই ফি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়ছেন, এই অভিযোগ তারা করেছেন।

বিক্ষোভ মিছিলের শেষে মামুন হলের এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, "অধ্যক্ষের সাথে আমরা দফায় দফায় বসেছি। ঢাকার মধ্যে ৭টি কলেজের মধ্যে শুধু তিতুমীরের হলগুলোতেই হল ফি বেশি। অধ্যক্ষ আশ্বাস দিয়েছিলেন ১ হাজার টাকা কমানোর প্রজ্ঞাপনে মাত্র ২০০ টাকা কমানো হয়েছে। প্রশাসন যে নোটিশ দিয়েছে তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১২ এম


২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি

সরকার সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে জাতিসংঘ অনুমোদিত 'সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ' (নিরাপদ সড়ক কাঠামো) অনুসরণ করে একটি নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের কাজ করছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি জানিয়েছেন, ২০২১–২০৩০ সালের বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি বলেন, ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের শুভ উদ্বোধন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার, প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল আজিজ, এবং কুড়িগ্রাম পৌর বিএনপি'র আহবায়ক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বিপ্লব।

এ সময় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম সহ জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজনও উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এ ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি আধুনিক ও উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং জেলার বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালের মত ভারতেও কি গদি হারানোর পথে মোদি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালের মত ভারতেও কি গদি হারানোর পথে মোদি?

ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সংসদে থাকা প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির দ্রুত সংসদ থেকে ভিন্ন পথে গাড়ি বহর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া কি বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের জেন-জি তথা নতুন জেনারেশনের আন্দোলনের তীব্রতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে?

শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাসীন সরকারের নাটকীয় বিদায়, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এক নায়ক ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং নেপালে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারের পতন—দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। সেই বাস্তবতার কেন্দ্রে রয়েছে জেন-জি প্রজন্ম, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাংগঠনিক শক্তি এবং রাজপথের আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টি নামে জেন-জিদের ছাত্র আন্দোলন অনেকের মনেই অনুরূপ অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে ভারত সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দিল্লির যন্ত্র মন্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের উত্তাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনও তা উপেক্ষা করতে পারেনি। আন্দোলনকারীদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নয়াদিল্লি। আন্দোলন সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও কঠোর হয়, নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষের পর একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জেন-জি ও ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনের দিকে ঢুকে পড়তে চেষ্টা করে। এসব দৃশ্য অনেকের কাছেই দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

ককরোচ জনতা পার্টির আহবানের ছাত্র জনতার যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া এবং এই উত্তাল বিক্ষোভ মোদি সরকারের সংসদ অভিমুখে ঢুকে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ থেকে দৌড়ে পেছন দরজা দিয়ে গাড়িবহরে করে পালিয়ে গেলেও অবশ্য এই আন্দোলনের ফলে মোদি সরকারের এখনও পতন ঘটেনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠতেই পারে হয়তো সরকারের ভিতর ভয় ও আতঙ্ক ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে—যদি এই আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে, যদি তা দিল্লি ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একইভাবে বিস্তার লাভ করে, তবে রাজনৈতিক সমীকরণ কি অপরিবর্তিত থাকবে?

কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অসন্তোষ জমা হচ্ছে। মণিপুরসহ সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের অস্থিরতা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ, বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন দিয়ে রাষ্ট্রের বিশাল এক জন গোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ করা, ৩০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণ এবং কেন্দ্রের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের কেন্দ্রীভূত ক্ষোভ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি মোটেও মোদি সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। সমালোচকদের অভিযোগ, গণমাধ্যম, নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের অতিরিক্ত প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

এছাড়া নাগরিকত্ব আইন, ভোটাধিকার, সংখ্যালঘু মুসলিম ও দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার, কাশ্মীর প্রশ্ন, ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধ এবং বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ—এসব বিষয়ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব নীতির কারণে ভারতের একটি বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ জমেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।

একই সঙ্গে বিরোধীদের একটি অংশ অভিযোগ করে আসছে যে, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে মোদি সরকার সীমান্তে একটি নাটক সৃষ্টি করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে পাকিস্তানের সাথে কিংবা প্রতিবেশীর রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধভাব তৈরি করে নিজেকে দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদীদের একমাত্র ধারক বাহক হিসেবে উপস্থাপন করে জনগণের সামনে সেই আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে নির্বাচনে জেতার কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়। এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।
বিশেষ সাম্প্রতিক সময়ে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিটি নির্বাচনের পূর্বে যেমন উড়ি, পুলওয়ামা ও সর্বশেষ পহেলগাম নিয়ে পাকিস্তানের সাথে সর্বশেষ অপারেশন সিন্দুর নামে সীমান্ত যুদ্ধ মূলতো এগুলো জনগণকে বোঝানো যে মোদি সরকার দেশপ্রেমিক । এটি নাটক হিসেবে মোদি সরকারের সাজানো যুদ্ধ কিনা সেটি এখন সবচেয়ে বড় সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ লক্ষাধিক ভোটাধিকার হরণ করে ভোটার বিহীন একতরফা বিজেপি সমোচিত ভোটার দিয়ে নির্বাচন করে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে হারিয়ে দিয়ে যে ক্ষোভের উদগীরণ মমতার ভিতর জ্বালিয়ে দিয়েছে, তামিলনাড়ুতে নতুন কিংস্টার মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় কিংবা অন্যান্য রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ছাত্র-জনতার এই অসন্তোষকে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ দিতে সক্ষম হয়, তাহলে কি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন এক মোড় নেবে?

এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎই দেবে। তবে এটুকু বলা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে জেন-জি প্রজন্ম ইতোমধ্যেই নিজেদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেই বাস্তবতার ঢেউ যদি সত্যিই গোটা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সামনে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা অপেক্ষা করছে এবং মোদি সরকারের পতন হলেও অবাক হবার কিছুই থাকবে না। সেই পরিস্থিতির পরিণতি কী হবে—তা সময়ই নির্ধারণ করবে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করাকে একেবারে অমূলক বলাও কঠিন।

লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%