ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালের মত ভারতেও কি গদি হারানোর পথে মোদি?


শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালের মত ভারতেও কি গদি হারানোর পথে মোদি?

ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সংসদে থাকা প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির দ্রুত সংসদ থেকে ভিন্ন পথে গাড়ি বহর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া কি বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের জেন-জি তথা নতুন জেনারেশনের আন্দোলনের তীব্রতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে?

শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাসীন সরকারের নাটকীয় বিদায়, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এক নায়ক ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং নেপালে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারের পতন—দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। সেই বাস্তবতার কেন্দ্রে রয়েছে জেন-জি প্রজন্ম, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাংগঠনিক শক্তি এবং রাজপথের আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সাম্প্রতিক ককরোচ জনতা পার্টি নামে জেন-জিদের ছাত্র আন্দোলন অনেকের মনেই অনুরূপ অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে ভারত সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দিল্লির যন্ত্র মন্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের উত্তাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনও তা উপেক্ষা করতে পারেনি। আন্দোলনকারীদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নয়াদিল্লি। আন্দোলন সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও কঠোর হয়, নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষের পর একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জেন-জি ও ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনের দিকে ঢুকে পড়তে চেষ্টা করে। এসব দৃশ্য অনেকের কাছেই দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

ককরোচ জনতা পার্টির আহবানের ছাত্র জনতার যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া এবং এই উত্তাল বিক্ষোভ মোদি সরকারের সংসদ অভিমুখে ঢুকে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ থেকে দৌড়ে পেছন দরজা দিয়ে গাড়িবহরে করে পালিয়ে গেলেও অবশ্য এই আন্দোলনের ফলে মোদি সরকারের এখনও পতন ঘটেনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠতেই পারে হয়তো সরকারের ভিতর ভয় ও আতঙ্ক ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে—যদি এই আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে, যদি তা দিল্লি ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একইভাবে বিস্তার লাভ করে, তবে রাজনৈতিক সমীকরণ কি অপরিবর্তিত থাকবে?

কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অসন্তোষ জমা হচ্ছে। মণিপুরসহ সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের অস্থিরতা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ, বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন দিয়ে রাষ্ট্রের বিশাল এক জন গোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার হরণ করা, ৩০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণ এবং কেন্দ্রের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের কেন্দ্রীভূত ক্ষোভ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি মোটেও মোদি সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। সমালোচকদের অভিযোগ, গণমাধ্যম, নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের অতিরিক্ত প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

এছাড়া নাগরিকত্ব আইন, ভোটাধিকার, সংখ্যালঘু মুসলিম ও দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার, কাশ্মীর প্রশ্ন, ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধ এবং বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ—এসব বিষয়ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব নীতির কারণে ভারতের একটি বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ জমেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে।

একই সঙ্গে বিরোধীদের একটি অংশ অভিযোগ করে আসছে যে, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে মোদি সরকার সীমান্তে একটি নাটক সৃষ্টি করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে পাকিস্তানের সাথে কিংবা প্রতিবেশীর রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধভাব তৈরি করে নিজেকে দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদীদের একমাত্র ধারক বাহক হিসেবে উপস্থাপন করে জনগণের সামনে সেই আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে নির্বাচনে জেতার কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়। এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।
বিশেষ সাম্প্রতিক সময়ে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিটি নির্বাচনের পূর্বে যেমন উড়ি, পুলওয়ামা ও সর্বশেষ পহেলগাম নিয়ে পাকিস্তানের সাথে সর্বশেষ অপারেশন সিন্দুর নামে সীমান্ত যুদ্ধ মূলতো এগুলো জনগণকে বোঝানো যে মোদি সরকার দেশপ্রেমিক । এটি নাটক হিসেবে মোদি সরকারের সাজানো যুদ্ধ কিনা সেটি এখন সবচেয়ে বড় সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ লক্ষাধিক ভোটাধিকার হরণ করে ভোটার বিহীন একতরফা বিজেপি সমোচিত ভোটার দিয়ে নির্বাচন করে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে হারিয়ে দিয়ে যে ক্ষোভের উদগীরণ মমতার ভিতর জ্বালিয়ে দিয়েছে, তামিলনাড়ুতে নতুন কিংস্টার মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় কিংবা অন্যান্য রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ছাত্র-জনতার এই অসন্তোষকে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ দিতে সক্ষম হয়, তাহলে কি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন এক মোড় নেবে?

এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎই দেবে। তবে এটুকু বলা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে জেন-জি প্রজন্ম ইতোমধ্যেই নিজেদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেই বাস্তবতার ঢেউ যদি সত্যিই গোটা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সামনে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা অপেক্ষা করছে এবং মোদি সরকারের পতন হলেও অবাক হবার কিছুই থাকবে না। সেই পরিস্থিতির পরিণতি কী হবে—তা সময়ই নির্ধারণ করবে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করাকে একেবারে অমূলক বলাও কঠিন।

লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-পুলিশ সংঘর্ষে ১১৮ পুলিশ আহত, ৭০ জন ‘ককরোচ’ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-পুলিশ সংঘর্ষে ১১৮ পুলিশ আহত, ৭০ জন ‘ককরোচ’ গ্রেপ্তার

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৭০ জন ককরোচ বিক্ষোভকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

এটি সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা জুড়ে ঘটে। আজ (২১ জুলাই) দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে এ বিষয়টি প্রকাশ করে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত এবং ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন থেকে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন করে আসছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২০ জুলাই) যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়।

পুলিশ জানায়, কর্মসূচি শুরুর কিছুক্ষণ পরই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। এই সময় পুলিশ কর্তৃক হালকা লাঠিচার্জও করা হয়, যা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এর কিছুক্ষণ পর আবারও যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ করেন, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন এবং সরকারি যানবাহন ও সম্পদের ক্ষতি করেন। এ ঘটনাটি রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুতর হুমকির মুখে ফেলেছিল বলেও পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যে আহত ১১৮ জনের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিশেষ পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

তবে পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে বিক্ষোভকারীদেরও আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে অন্যান্য আহতরা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যরাতে আগুনে বসতঘর পুড়ে ছাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


মধ্যরাতে আগুনে বসতঘর পুড়ে ছাই

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় বলার মতো একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে মধ্যরাতে, যা একটি বসতঘর এবং ঘরে থাকা সমস্ত আসবাব পুড়ে যায়। কিন্তু এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সোমবার (২০ জুলাই) রাত আড়াইটার দিকে, যখন ছেলে এবং পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন উপজেলার পূর্ব হাসাড়া মাদরাসা পাড়া এলাকায় দেলোয়ার হাওলাদারের বসতবাড়িতে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের সেন্ট্রি পোস্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনে পুড়ে যায় কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত বসতঘর, খাট, সুটকেসসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে আগুনটি একটি ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়। ফলে আশপাশের অন্যান্য বসতঘর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজও যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থান, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


আজও যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থান, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস

ভারতের জাতীয় রাজধানীতে ঘটে যাওয়া নাটকীয় ঘটনার একদিন পর, ব্যঙ্গাত্মক মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) জানিয়েছে যে, দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

এর আগে সোমবার দিনব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। এক সময় পুলিশ যন্তর মন্তর থেকে মঞ্চ ও তাঁবুগুলো সরিয়ে নিলেও, মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা স্থানটি পুনরুদ্ধার করে এবং অবস্থান নেয়।

সিজেপি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানের পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরে উপস্থিত হতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং আরএএফ সদস্য মোতায়েন ছিল তখন।

সোমবার সংসদ অভিমুখে যাত্রা করেন সিজেপির সদস্য ও সমর্থকরা। এই সময়ে রাজধানীতে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যখন হাজার হাজার প্রতিবাদী শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসে, ফলে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ এবং পুলিশি হস্তক্ষেপের সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায়ে সংসদের কয়েক মিটারের মধ্যে চলে আসা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য ও ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের মিছিল চলাকালে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় এবং সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা অবাধ্য, আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণ করেছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও, বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হতে অস্বীকার করে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা ‘সংসদ চলো’ মিছিল চলাকালে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে এবং তাদের দাবি, এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে।

এদিকে, জানা গেছে যে, বিশৃঙ্খলা, সংঘাত ও স্লোগানের মধ্যে সরকার সোমবার প্রতিবাদী নেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সোমবার বিকেলে তার বাসভবনে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের দাবিগুলি শোনেন এবং প্রতিবাদ শেষ করার জন্য তাদের কাছে আবেদন জানান।

সিজেপি দলটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি পেশ করে: সোনম ওয়াংচুকের চলাচলে কোনো বাধা ছাড়াই মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা সমস্ত নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ।

নাড্ডা তাদের দাবি স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এক্স-এ পোস্ট করেছেন যে, সিজেপি নেতারা বিকেল ৪টার দিকে তার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিজেপি সরকারের কাছে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করার পর এই আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৈঠকের পর সিজেপি-র সৌরভ দাস বলেন, মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি যথাযথ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীরা বিশ্রাম নেবে না।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিজেপির লিখিত আবেদন গ্রহণ, সরকার অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


সিজেপির লিখিত আবেদন গ্রহণ, সরকার অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বৈঠকের পর সরকার বিক্ষোভকারীদের তাদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নাড্ডা বলেন, এই বৈঠক বিক্ষোভকারীদের অনুরোধে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেটি একেবারেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।

তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদল একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে।

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) হাজারো সমর্থক দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন। তারা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ জানান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। তারা জন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার কারণে সিজেপি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে।

নাড্ডা উল্লেখ করেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে দিল্লি পুলিশও বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার এবং সংযম দেখানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছে, পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেছে। পুলিশ গুজব, ভুল তথ্য ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে এবং জে.পি. নাড্ডা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

সৌরভ দাস বলেছেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’

সিজেপি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিট-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং সাম্প্রতিক সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পোর্টাল সমস্যা ও পরীক্ষার বিলম্বের জন্য দায়ী করেছে। নাড্ডার কাছে সিজেপি দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করে, এসব সমস্যার সমাধানে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ।

এর আগে সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ মধ্য দিল্লির উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। আগেই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল, যা বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে।

তবে আন্দোলন এখনও চলমান রয়েছে। সূত্রের দাবি, জন্তর মন্তর থেকে কাউকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়নি এবং এ ধরনের কিছু খবর সঠিক নয়।

গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটিতে সোমবার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল করেন।

সংসদের ভেতরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল, তবে বাইরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ অনেক বেশি নজর কাড়ে। সন্ধ্যার মধ্যে যন্তর মন্তর এলাকা খালি করা হলেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এখনো কেরালা হাউসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে অনশনের ২৩তম দিনে পৌঁছানো সোনম ওয়াংচুক এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন, পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে তিনি তার অনশন চালিয়ে যাবেন। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরাও।

বিক্ষোভের সময় সরকার ওই এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। সকালে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে ব্যারিকেড বসানোর দৃশ্যও দেখা যায়। পরে যখন বিক্ষোভকারীরা সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। অনেক বিক্ষোভকারী পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেন। আরএমএল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সংঘর্ষ-সংশ্লিষ্ট ৬৫টি মেডিকো-লিগ্যাল মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

সিজেপি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পায়। এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে জনসংযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং আগে আম আদমি পার্টির (এএপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দলে কাজ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%