০৩:৩৪ পি.এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সরকারের উদ্যোগে সিগারেটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে প্রস্তাব ঘোষণা করবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। বর্তমানে এই সকল স্তরে ১০ শলাকার সিগারেটের দাম যথাক্রমে ৬০, ৮০, ১৪০ ও ১৮৫ টাকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: পাইকগাছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৬ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম প্যাকেট প্রতি ২ টাকা বাড়বে। একইভাবে, মধ্যম স্তরের সিগারেটের প্যাকেটে দাম বাড়বে ১০ টাকা। উচ্চস্তরের সিগারেটের প্যাকেটে দাম বৃদ্ধি পাবে ২০ টাকা।
এছাড়া, বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।
এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
আরও পড়ুন: সঞ্চয় বাড়াতে চান? বিনিয়োগের আগে বিবেচনায় রাখুন ৫ বিষয়
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট হতে যাচ্ছে। এছাড়া, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। নতুন এই অর্থবছর ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে থাকা হাসিনা রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন