ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সঞ্চয় বাড়াতে চান? বিনিয়োগের আগে বিবেচনায় রাখুন ৫ বিষয়


সঞ্চয় বাড়াতে চান? বিনিয়োগের আগে বিবেচনায় রাখুন ৫ বিষয়

হাতে কিছু টাকা জমানোর পর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মনে আসে—এই টাকা কোথায় বিনিয়োগ করলে লাভ বেশি হবে এবং নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা থাকবে না? জমি কেনা, ব্যাংকে এফডিআর করা, সঞ্চয়পত্র কেনা অথবা শেয়ারবাজারে ঝুঁকি নেওয়া—কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত, তা নিয়ে অনেকেই দোলাচলে ভোগেন।

বর্তমান বাজারে মূল্যস্ফীতির কারণে টাকা জমিয়ে রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় ব্যবসায়ীরা সহজেই কারখানা স্থাপন কিংবা ব্যবসা বড় করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অথবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জন্য এই হিসাবটা বেশ জটিল হয়ে যায়।

সুতরাং সীমিত সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রেখে তা থেকে নিয়মিত আয় এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানোই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের জন্য বেশ কিছু প্রচলিত মাধ্যম রয়েছে।

আরও পড়ুন: ন্যুনতম মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার তারিখ ৯ নভেম্বর নির্ধারণ

সঞ্চয়পত্র: নিশ্চিত রিটার্ন, তবে রয়েছে সীমার বেড়াজাল

যারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের কাছে সঞ্চয়পত্র সবসময়ই প্রথম পছন্দ হয়ে থাকে। এতে সরকারি নিশ্চয়তা থাকায় মুনাফা হারানোর ভয় থাকে না। পরিবার সঞ্চয়পত্র বা পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মতো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১১ শতাংশের বেশি হারে মুনাফা পাওয়া যায়।

তবে সমস্যা হলো, এতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। তাই বড় অঙ্কের টাকা পুরোটা এক জায়গায় খাটানো যায় না। এ ছাড়া মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে টাকা তুলতে গেলে মুনাফায় টান পড়তে পারে।

ব্যাংকের এফডিআর: সহজ ও পরিচিত পথ

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প: সংকট ও উত্তরণের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন

ব্যাংকের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর সাধারণ মানুষের সবচেয়ে চেনা মাধ্যম। নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা জমা রেখে নির্দিষ্ট হার (প্রায় সাড়ে আট শতাংশের কাছাকাছি) মুনাফা পাওয়া যায়। অনেক ব্যাংক আবার এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার সুবিধাও দিয়ে থাকে। তবে সব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা সমান নয়। তাই শুধু বেশি সুদের লোভ না করে ব্যাংকের সুশাসন ও তারল্য পরিস্থিতি যাচাই করে তবেই এফডিআর করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ডাকঘর সঞ্চয়: আস্থার পুরনো ঠিকানা

গ্রামাঞ্চল বা শহর—সবখানেই ডাকঘর সঞ্চয় বেশ জনপ্রিয়। এর মেয়াদি হিসাবে বিনিয়োগ করলে শেষের দিকে প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সাধারণ হিসাব ও মেয়াদি হিসাবের শর্তগুলো আলাদা হওয়ায় বিনিয়োগের আগে নিয়মকানুন ভালো করে জেনে নেওয়া জরুরি।

শেয়ারবাজার: উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা, তবে রয়েছে ঝুঁকিও

আরও পড়ুন: আজ তিন দফায় ১২ হাজার টাকার বেশি বেড়ে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে

যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে চান এবং বাজারের উত্থান-পতন মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখেন, তাদের জন্য শেয়ারবাজার ভালো হতে পারে। ভালো কোম্পানির শেয়ারে লভ্যাংশ ও দাম বাড়ার সুবাদে ভালো রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। তবে গুজবে কান দিয়ে বা কোনো রকম পড়াশোনা ছাড়া হুট করে শেয়ারবাজারে নামলে বড় লোকসানের ঝুঁকি থেকেই যায়।

জমি: দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ, কিন্তু টাকা আটকে যাওয়ার ভয়

অনেকেই জমানো টাকা দিয়ে জমি কিনতে পছন্দ করেন। সঠিকভাবে কেনা গেলে জমির দাম যেমন বহুগুণ বাড়তে পারে, তেমনই এটি বড় সম্পদও বটে। তবে এর প্রধান অসুবিধা হলো—এতে একসঙ্গে অনেক টাকার প্রয়োজন হয় এবং বিপদের মুহূর্তে জমি বিক্রি করে রাতারাতি নগদ টাকা পাওয়া কঠিন। পাশাপাশি দলিলপত্র যাচাই না করে জমি কিনলে আইনি ঝামেলায় পড়ার ঝুঁকিও থাকে।

সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড: নিরাপদ বিকল্প

আরও পড়ুন: আকুর দায় শোধের পর দেশের রিজার্ভ কমে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলারে

সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকের বাইরে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডেও এখন অনেকে বিনিয়োগ করছেন। প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি মুনাফা পাওয়া এই মাধ্যমগুলো তুলনামূলক নিরাপদ হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিক্রি করতে গেলে বাজারদর অনুযায়ী কিছুটা লাভ-লোকসান হতে পারে।

বিনিয়োগের আগে যে ৫ বিষয় মাথায় রাখবেন

জরুরি তহবিলের টাকা আলাদা রাখুন: চিকিৎসার বা দৈনন্দিন জরুরি প্রয়োজনের টাকা কখনোই দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখবেন না। এটি সহজে তোলা যায় এমন হিসাবে রাখুন।

লক্ষ্য স্থির করুন: আপনি কি নিয়মিত আয় চান, নাকি দীর্ঘ মেয়াদে বড় কোনো সম্পদ গড়তে চান—তা আগে ঠিক করুন।

আরও পড়ুন: ইউএস-বাংলায় ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে ১৪৬ নতুন সরঞ্জাম আসছে

সব টাকা এক জায়গায় নয়: আপনার সমস্ত সঞ্চয় এক খাতে বিনিয়োগ না করে ভাগ করে রাখুন। এতে একটি খাত থেকে ঝুঁকি তৈরি হলেও বাকিগুলো নিরাপদ থাকবে।

লোভে পা দেবেন না: অস্বাভাবিক বেশি মুনাফার আশ্বাসে কোনো অনিয়ম বা গুজবের ফাঁদে পা দেবেন না।

খরচ ও কর হিসাব করুন: শুধু ঘোষিত মুনাফা দেখে খুশি হবেন না; বরং কর, ফি এবং অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে আপনার পকেটে শেষ পর্যন্ত কত আসছে, সেটাই আসল হিসাব।

আরও পড়ুন: বাণিজ্য বাধা দূর করে বাংলাদেশ-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর নির্ধারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর নির্ধারণ

মুন্সীগঞ্জ, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : মুন্সীগঞ্জ জেলা দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে কৃষকদের জন্য প্রধান অর্থকরী ফসল হলো আলু। এই জেলার প্রান্তিক কৃষকরা লাভ-ক্ষতির হিসাব না কষে আলু চাষে নিযুক্ত থাকেন।

আলু চাষ তাদের কাছে একটি নেশার মতো হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন আলুবীজ এবং সার সরবরাহে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা গত মৌসুমের সমান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৯৫৮১ হেক্টর, টংগিবাড়ীতে ৯০৭০ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩১০৯ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৮৯৫৮ হেক্টর, গজারিয়ায় ১৯৯৮ হেক্টর এবং শ্রীনগরে ১৯৪৪ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা প্রধানত ডায়মন্ড আলু চাষ করেন। ডায়মন্ড আলু খাবারের জন্য ব্যবহৃত হলেও অন্য কোনো পণ্যে এর ব্যবহার নেই, ফলে বাজারে এর চাহিদা কম। প্রাকৃতিকভাবে এই আলু বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। বাড়িতে সংরক্ষণ করলে এটি পচে যায়, যার ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

কৃষকরা চলতি মৌসুমে আলুর পরিবর্তে সরিষা, কালিজিরা, গাজর এবং ধনিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। গত কয়েক বছরে কৃষকরা এসব ফসলে লাভবান হয়েছেন। সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের কৃষক আজমির হোসেন বাসসকে জানান, "আগামী ১৫/২০ দিন পর থেকে আলু আবাদের জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ শুরু হবে। প্রতি বছর আমি প্রায় ৫ একর জমিতে আলু চাষ করি। চলতি মৌসুমে উঁচু জমিতে আলুর পরিবর্তে সিম, টমেটো এবং সরিষা চাষ করবো।"

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসসকে জানান, "মুন্সীগঞ্জের কৃষক প্রধানত ডায়মন্ড আলু চাষ করে থাকেন। এ আলুর ফলন ভালো হলেও টেকসই কম।"

ডায়মন্ড আলুর পরিবর্তে বাজারে পর্যাপ্ত সানসাইন ও শান্তানা জাতের আলুর বীজ পাওয়া যাচ্ছে। দামেও সাশ্রয়ী। মানের দিক থেকেও এসব আলুবীজ উন্নত। খাবারের পাশাপাশি চিপসসহ অন্যান্য আলুর তৈরি খাদ্যপণ্যে তা ব্যবহার করা যায়।

মুন্সীগঞ্জ জেলার আলুবীজ ও সার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী সতর্ক করে বলেন, "সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার ও আলুবীজ বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে ডিলারশিপ বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" সভায় প্রতিবাক্স আলুবীজের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানিবদ্ধতায় ডুবছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানিবদ্ধতায় ডুবছে

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অপরিকল্পিত খাল ভরাট, দখল এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবের কারণে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলায় বছরের সাত-আট মাস প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এর ফলে কৃষকরা বছরে দুই থেকে তিনবার ফসল উৎপাদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের মতে, জলাবদ্ধতা দূর হলে আমন ও আউশ মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার টন ধানসহ অন্যান্য শস্য উৎপাদন সম্ভব হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

পদ্মা, গড়াই, কালীগঙ্গা ও ডাকুয়া নদীবেষ্টিত এই উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। কৃষকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এলাকায় সেচের জন্য ছোট-বড় অসংখ্য জিকে খাল থাকলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো পরিকল্পিত নালা নেই। বিদ্যমান খালগুলোও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও খাল ভরাট করে বসতি গড়ে তোলা হয়েছে, আবার কোথাও আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে অবাধে চলছে মাছ চাষ। বিলসংলগ্ন খালগুলোতেও পুকুর কাটা হয়েছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার তিন ফসলি জমি বছরের পর বছর এক ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে এবং খাদ্য উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলার বহলবাড়ীয়া, চাঁদপুর, বাঁশআড়া, বাঁখই, করাতকান্দি ও জগন্নাথপুর বিল পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। আবাদি জমিতে জন্মেছে কচুরিপানা, কলমি ও শাপলাসহ নানা ধরনের আগাছা। নিরুপায় হয়ে কেউ কেউ ডিঙি নৌকায় মাছ ধরছেন, আবার কেউ চলতি বোরো মৌসুমে আবাদের জন্য বাড়তি খরচ করে জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন। লাগাতার লোকসানের মুখে টিকতে না পেরে অনেক কৃষক আবাদি জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষে বাধ্য হচ্ছেন।

জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নন্দলালপুর ইউনিয়নের বহলবাড়ীয়া বিলের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তার ১৬ বিঘা জমি রয়েছে। এক দশক আগে খাল দিয়ে গড়াই নদীতে স্বাভাবিকভাবে পানি নেমে যেত এবং বছরে তিনবার ধান চাষ করা যেত। কিন্তু বর্তমানে পানি বের হতে না পারায় কোনোমতে কেবল বোরো ধানের আবাদ হয়। একই এলাকার কৃষক মাজেদ আলী ও গোবিন্দপুর বিলের আব্দুস সামাদ জানান, চারদিকে নদী থাকলেও নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে ব্যাপকভাবে আগাছা জন্মাচ্ছে। প্রতি বিঘা জমি পরিষ্কার করতে ছয়জন শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়। সদকী ইউনিয়নের করাতকান্দি বিলের কৃষক আজাহার বিশ্বাস জানান, একবার চাষে প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৪ মণ ধান পাওয়া যায়, যার আয় আগাছা পরিষ্কারের খরচেই শেষ হয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, পরিকল্পিত খাল খনন করা হলে এসব জমিতে অনায়াসেই বছরে তিনবার ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় আবাদি জমির মধ্যে নন্দলালপুর ইউনিয়নে ২৯০, সদকীতে ২৫০, জগন্নাথপুরে ২৪০, শিলাইদহে ২০৫, যদুবয়রাতে ৭৫, কয়াতে ১২০ এবং চাপড়া ইউনিয়নে ৭০ হেক্টরসহ মোট প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে মারাত্মক জলাবদ্ধতা রয়েছে। প্রতিবছর বৃষ্টিপাতের কারণে এই জলাবদ্ধ জমির পরিমাণ বাড়ছে। ২০২৪ সালে যেখানে জলাবদ্ধ জমির পরিমাণ ছিল ৫১০ হেক্টর, এ বছর তা দ্বিগুণেরও বেশি ছাড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, বর্তমানে জলাবদ্ধ এসব জমিতে শুধু বোরো মৌসুমে ৬ হাজার ২২৫ টন ধান উৎপাদন হয়। আমন ও আউশ মৌসুমে চাষাবাদ করা গেলে আরও ১০ হাজার টন শস্য উৎপাদন সম্ভব হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, সরকারের চলমান খাল খনন প্রকল্পে কুমারখালীর দুটি খালের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। খনন প্রকল্প শুরু হলে এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিরসন হবে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগ, কৃষক, বিএডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যানভা ১৩ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে, ২২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


ক্যানভা ১৩ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে, ২২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই

বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম ক্যানভা প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করার উচ্চ ব্যয় এবং ব্যবসায়িক গতি শ্লথ হয়ে পড়ার কারণে বড় ধরনের পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ক্যানভার মোট কর্মীর ২২ শতাংশ, যা ১ হাজার ২৭১ জন কর্মীকে চাকরি হারাতে হবে বা তাদের কর্মস্থল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। এই তথ্য বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

বুধবার, কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় ক্যানভার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেলানি পারকিন্স উল্লেখ করেন, “এটি ক্যানভার ১৩ বছরের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। আমাদের কিছু কর্মীর কাজের ধরণে পরিবর্তন আসবে এবং তাদের কেন্দ্রীয় হাবে স্থানান্তরিত হতে বলা হবে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের অনেক সহকর্মীকে বিদায় জানাতে হচ্ছে।”

এই বছরেই গত এক দশকে প্রথমবারের মতো ক্যানভার প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের ৩৭টি দেশে ক্যানভার কার্যক্রম ছড়িয়ে থাকলেও সিডনিকে প্রোডাক্ট টিমের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে দূর থেকে বা হাইব্রিড মডেলে কাজ করা কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন অফিসে এসে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন পণ্য চালুর জন্য এআই সংক্রান্ত অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্যানভার দুই প্রধান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান—‘ব্ল্যাকবার্ড ভেঞ্চার্স’ ও ‘এয়ারট্রি’ কোম্পানিটির বাজার মূল্যায়ন কমিয়ে দিয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন যেখানে প্রায় ৬ হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার ছিল, তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

মেলানি পারকিন্স ২০১৩ সালে ক্যানভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই সহজে পোস্টার, কার্ড বা প্রেজেন্টেশন ডিজাইন করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৬ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


পাইকগাছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৬ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা

খুলনার পাইকগাছায় অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৬ শতাধিক দুঃস্থ ও অসহায় রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স এবং গাইনিসহ বিভিন্ন রোগের জন্য এই সেবা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার গড়ইখালীর বগুলার চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জি এম আব্দুর রবের ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পটির পরিচালনা ও সহায়তায় ছিল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার পরিচালিত বিনোদিনী হাসপাতাল।

মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোঃ হারুনর রশীদ, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম আজম, স ম রেজাউল করিম, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুবদল নেতা ওবায়দুল্লাহ সরদার, নজরুল ইসলাম, বগুলার চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল, সাবেক শিক্ষক গাজী আব্দুস সাত্তার এবং শিক্ষক হাফিজুর রহমান।

এই দিনব্যাপী ক্যাম্পে এলাকার ৬ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, অধ্যাপক ডাঃ পরিতোষ কুমার চৌধুরী, ডাঃ রুবাইয়া ইয়াসমিন, ডাঃ ইতি রাণী ঘোষ, ডাঃ প্রমা সাহা এবং ডাঃ চুমকি মহান্ত।

উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জনগণ হাতের কাছে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেয়ে আয়োজকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%