সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৬ পি.এম
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও ভূমির সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য একটি কার্যকর উপায়। সরকার আগামীতে এমন শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেবে, যা কম মূলধন বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম।
আজ সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটক) কর্তৃক পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ ও নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প একসঙ্গে ব্যাপক পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তাই, সরকার যে শিল্পখাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে, সেগুলোর মধ্যে এই খাত অন্যতম।
শিল্পমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের বিস্তার যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জন করে সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন—এটাই এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী দিনে এই প্রকল্পের আকার আরও বড় করা হবে এবং বিটাককে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে বিটাকের প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের সব পর্যায়ে এবং সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে যাতে বিশ্ব শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যায়। এ লক্ষ্যে, দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, "আপনারা প্রত্যেকেই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছেন। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার দায়িত্ব আপনাদের নিজেদের।"
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, "শুধু একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। প্রশিক্ষণের সঙ্গে অব্যাহত শিক্ষা ও নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখার মানসিকতা থাকতে হবে।"
বাংলাদেশের শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)-এর মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআইএম’র মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, আরএফএল’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ, ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচ এমন আল মামুন বক্তৃতা দেন।
পরে মন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ এবং নিয়োগপত্র প্রদান করেন। উল্লেখ্য, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭২২ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৪২ জনের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ১৭১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ১৬০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া চারজনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারায় এবং একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় ২২ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনজনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারায় ও তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সুধারাম মডেল থানা ও হাতিয়া থানায় ২৯ জন করে, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ২০ জন, সেনবাগ থানায় ২১ জন, চাটখিল থানায় আটজন, চরজব্বর থানায় ১০ জন এবং কবিরহাট থানায় ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে সীমানাপ্রাচীর ও ভবনের দেয়ালে কালো ও লাল রঙে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘ডিপিজি’, ‘ডিএনজি’, ‘রেড ৯৯৯’, ‘ডিবিকে’, ‘সিবিকে’, ‘ডিবিএক্স’ ও ‘কেজিএস’ ‘রতন গপ্ররুপ’, ‘কিং স্কোয়াড’ ক্রাইম সেটআপ, ফ্লাইং বার্ড, জেআর।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই নামগুলো জেলার বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের। স্থানীয়দের মতে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামপর্যায়ে অন্তত ৪০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শহর থেকে গ্রামগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় দেয়ালজুড়ে লেখা নাম ও সংকেত কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার চিহ্ন। এসব গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার, মারামারি, অস্ত্রের মহড়া, দলবদ্ধ মোটরসাইকেল মহড়া ও সংঘর্ষসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সী কিশোররা।
সম্প্রতি ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার হত্যাকাণ্ড কুমিল্লার কিশোর অপরাধের ভয়াবহ চিত্রকে নতুন করে সামনে এনেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের পর জেলার ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। অভিযানের তিন দফায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কুমিল্লা নগরীর অশোকতলায় নিহত হন সজীব হোসেন। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। একই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এবং ২০২৫ সালে অস্ত্রের মহড়ায় রতন গ্রুপ ও ঈগল গ্রুপের নাম উঠে আসে।
পরে গত ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার রানীর দীঘিরপাড়, তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়ায় মহড়া দেয় তারা। ২০২৩ সালের ২৮ মে কুমিল্লা জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদের হাত ও পায়ের রগ কেটে আহত করে ‘আরজিএস’ নামের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে দাউদকান্দি উপজেলার শাহপুর গ্রামের আশরাফুল আমিন নামের এক স্কুলছাত্রকে হত্যা করে কিশোর গ্যাং সদস্যরা।
ওই ঘটনায় ২৯ সেপ্টেম্বর কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের বাশরা গ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের রাহেজুল আমিন বাঁধনকে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
২ এপ্রিল ধর্মসাগর পাড়ে বেড়াতে এসে পুলিশের এক নারী কনস্টেবলকে তিন কিশোর গ্যাং সদস্য অশালীন মন্তব্য করে। তার স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ওই ঘটনায় রিফাত ও সিয়াম নামের দুই কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, গত শুক্রবার কুমিল্লা নগরীতে মহানগর ছাত্রদলের ব্যাপারে একটি মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের পেছনে দেখা যায় কিশোর গ্যাংয়ের ইমরান হোসেন রতনকে। ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নগরীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর অপরাধীরা মূলত অনলাইন বা টিকটক ও রিলসভিত্তিক অ্যাপসের মাধ্যমে একে অপরের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। দেয়ালে লেখা এসব নাম তাদের সাংকেতিক চিহ্ন, যা অপরাধ জগতে নিজেদের শক্তিশালী গ্রুপ হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, দেশে কিশোর অপরাধীদের জন্য লঘুশাস্তির বিধান রয়েছে। এ কারণে তারা সহজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৮টি থানার যেসব স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় অভিযানে ৬১৫ জন কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
২৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় চার সদস্যও রয়েছে। তাদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিক একটি গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। ২৭ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফা অভিযানে আরো ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। বর্তমানে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিন দফার সাঁড়াশি অভিযানে জেলায় মোট এক হাজার ২৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান কালের কণ্ঠকে বলেন, কিশোর অপরাধীরা এক-দুই দিনে অপরাধে জড়ায় না, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। এসব নেতার উচিত দল ভারি করার জন্য কিশোরদের ব্যবহার না করা। কিন্তু সম্প্রতি কুমিল্লাসহ সারা দেশে কিশোর অপরাধ ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কুমিল্লার বিভিন্ন দেয়ালে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ঙ্কর নাম। তারা অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ঙ্কর কথাবার্তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করছে।
কুমিল্লা জেলায় এমন অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং রয়েছে; প্রত্যেক এলাকায় রয়েছে চার-পাঁচটি করে, যার বলি হয়েছে ১৩ বছরের স্কুল শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার। এই ব্যাধি নির্মূল করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর হতে হবে, তেমনি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, নগরীর দেয়ালে বিভিন্ন কিশোর গ্যাং গ্রুপের মূলে যারা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রতন গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমাণ্ড আনিসুর রহমান ওরফে আনিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, এরই মধ্যে জেলা পুলিশের তিন দফার অভিযানে মোট এক হাজার ২৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। কিশোর অপরাধীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চলবে। কিশোর অপরাধ দমনে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অচেনা জান্নাত ইমান্তা বিকেএসিপতে সুযোগ পাওয়ার জন্য ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। এখন তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে পাকিস্তানে খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন।
মেম্বার আনিসুর রহমান ও আটগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুনের মেয়ে জান্নাত ইমান্তা বোচাগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর আটগাঁও ইউনিয়নের বুড়াশাহা গ্রামের বাসিন্দা।
জান্নাতের মায়েরও খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল। তবে সমর্থন না পাওয়ার কারণে আকলিমা খাতুন সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। কিন্তু তিনি মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। নিজের শৈশবের স্মৃতি হাতড়ে আকলিমা বলেন, ‘আমি এক সময় ভালো খেলতাম। কিন্তু সাপোর্ট পাইনি। তাই সামনে এগোতে পারিনি। আমার মেয়ের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ দেখে তাকে যখন সেতাবগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করাতে যাই, তখন সেখানে কোনো মেয়ে খেলোয়াড় ছিল না। তাই তারা ভর্তি নিতে চায়নি। আমি তাদেরকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করাই। পরে তারা ভর্তি করে নেয়। আমার মেয়েকে একাই ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করতে হয়েছে। সেতাবগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমির কোচ ও ছেলে শিক্ষার্থীরা তাকে সবাই সহযোগিতা করেন।’
সেতাবগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমিতে নিজেকে শাণিত করে ২০২১ সালে বিকেএসপিতে সুযোগ পান জান্নাত। এবার তিনি দেশের প্রতিনিধি হয়ে পাকিস্তানে যাচ্ছেন। দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়ে আকলিমা বলেন, ‘পরে ২০২১ সালে অচেনা জান্নাত ইমান্তা বিকেএসপিতে চান্স পায়। সেখান থেকে সে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। সেখান থেকেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পায়। আজ সে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে। আমি তার জন্য বোচাগঞ্জসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।’
জান্নাতের গুরু নূর আলম রনি জানাচ্ছেন, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাওয়ায় তিনি গর্ববোধ করছেন। সেতাবগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমির কোচ রনি বলেন, ‘আমার একাডেমিতে কোনো মেয়ে খেলোয়াড় ছিল না। এখনো নেই। প্রথমে তাকে ভর্তি করে নিতে চাইনি। পরে তার মায়ের পিড়াপিড়িতে ভর্তি করে নিই। সবার সহযোগিতায় তার নিজের প্রচেষ্টায় এত ছেলের মাঝে মাত্র একজন মেয়ে দুই বছর কোচিং করে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। আজ সে সাফল্য পেয়েছে, বাংলাদেশের হয়ে খেলবে। এ জন্য আমি আনন্দিত ও গর্বিত। আমি তার সফলতা কামনা করছি।’
বোচাগঞ্জের তরুণ-তরুণীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে মারুফ হাসান জানাচ্ছেন, জান্নাতের এই অর্জনে তারা গর্বিত। বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি বলেন, ‘অচেনা জান্নাত ইমান্তার এই অর্জনে আমরা গর্বিত। প্রতিকূলতা পেরিয়ে সে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা বোচাগঞ্জের অন্য তরুণ-তরুণীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। তার সাফল্য কামনা করছি এবং ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ছাড়াও ত্রিদেশীয় সিরিজের অন্য দল হচ্ছে শ্রীলংকা। আজ রাতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভাদ্র মাসের তীব্র খরতাপ এবং ভ্যাপসা গরমে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দারা হাঁসফাঁস অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। গত কয়েকদিনের টানা তাপদাহে মাঠ, ঘাট এবং পথপ্রান্তর তপ্ত হয়ে উঠেছে। একটু স্বস্তির বাতাসের খোঁজে মানুষ গাছের ছায়ায় ছুটছেন। দুপুরের তীব্র রোদে রাস্তাঘাট এবং হাটবাজার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। গরমের এই প্রভাব একদিকে দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিয়েছে, অন্যদিকে গরমজনিত ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গ্রাম থেকে বাজার— সর্বত্র গরমের একই প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যারা কাজের তাগিদে বাইরে বের হচ্ছেন, তারা রোদের তীব্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
রোদের তীব্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে উপজেলার স্থানীয় এক পথচারী মন্তব্য করেন, ‘যে রোদ আর গরম পড়েছে, বাইরে টিকে থাকা অসম্ভব। দুপুর হলেই রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ে। একটু বাতাসের আশায় গাছের ছায়ায় বসেও শান্তি মিলছে না।’
এদিকে, আবহাওয়ার এই বৈরী পরিবর্তনের ফলে ব্রাহ্মণপাড়ার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি এবং ডায়রিয়া। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও প্রবীণদের সংখ্যা বেশি। উপজেলার সরকারি এবং বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে দিন দিন এসব রোগীর ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে এ পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, ‘আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে সব বয়সের মানুষই কম-বেশি জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকের ভাইরাসজনিত তীব্র জ্বর হচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
তিনি আরও বলেন, এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের যতটা সম্ভব ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা উচিত। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া তীব্র গরমে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ এড়াতে ফোটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করার এবং যেকোনো অসুস্থতায় দ্রুত নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ