মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:২৬ পি.এম
দিনাজপুর, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বর্তমান সরকার যুবসমাজকে শুধুমাত্র চাকুরির সন্ধানে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বরং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং আধুনিক উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি আজ জেলার বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি, এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এমপি এবং দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুবসমাজকে জাগিয়ে তোলা এবং তাদের মেধা ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে তারা সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে।
তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চাকুরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের উদ্যোগী হওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। যুবসমাজকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে চিন্তা ও বাস্তবমুখী কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের মনোজগতে উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিশালী আকাঙ্ক্ষা ও অনুপ্রেরণা তৈরি করা। এই জব ফেয়ার তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হওয়ার বাস্তব পথ দেখাবে।
দেশের ঐতিহ্যবাহী সমাজসেবী ও সফল উদ্যোক্তাদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা, জহুরুল ইসলাম এবং স্যামসন এইচ চৌধুরীর মতো সফল উদ্যোক্তা ও মানবিক গুণসম্পন্ন আলোকিত মানুষ হতে হবে।
দিনব্যাপী এই জব ফেয়ারকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মেলায় দেশি-বিদেশি শতাধিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের স্টলগুলোতে চাকুরিপ্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যেখানে ২৫ হাজার নিবন্ধিত প্রার্থীসহ ৪০ হাজারের বেশি চাকুরি প্রত্যাশী অংশ নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে শতাধিক চাকুরি প্রত্যাশী চাকুরি লাভ করেন।
এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানগুলোতে জমা পড়া লক্ষাধিক জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই তাদের আনুষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো তৃণমূল এবং প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সচ্ছলতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর কাছে সরকারি এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘ন্যাশনাল সামিট অন ইয়াং উইমেন’স এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শংকর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান এবং ‘আর্ন’ প্রকল্পের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীদের প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই তৃণমূল নারীদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য স্তরের নারীদেরও মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতার আলোয় সমৃদ্ধ করে আরও যোগ্য করে তুলতে হবে। তরুণ ও নারীদের মেধার যথাযথ বিকাশে সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিতভাবে প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
দেশের জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) এবং নারীদের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশই উদ্যমী তরুণ-তরুণী। আবার মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি নারী। তারুণ্যে উদ্দীপ্ত এই নারীদের উপস্থিতির মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে পুরো বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলেন- তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন মানুষ হলেন তাঁর মা, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর কন্যা। নারীদের প্রতি তাঁর সেই গভীর অনুভূতি ও শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি নীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে নারীদের সার্বিক উন্নয়নে পৃথক নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের মূল ক্ষেত্র গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। পরবর্তীতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে সাবেক প্রথানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন বই চালু করা হচ্ছে এবং এ বছর প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে ১১ লাখ ছাত্র এবং সমানসংখ্যক ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। প্রাথমিক স্তরে উপস্থিতির হার বাড়াতে মিড ডে মিল কর্মসূচি এবং বিনামূল্যে স্কুল পোশাক ও জুতা বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রচলিত সার্টিফিকেটসর্বস্ব ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে বাস্তব জীবনের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।
তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী ৩, ৬, ৯ মাস কিংবা ১ বছর মেয়াদি বিভিন্ন শর্ট কোর্স ও মাইক্রোক্রেডিটের আধুনিক কারিগরি কোর্স চালু করা হচ্ছে। এছাড়া প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জাপানি, আরবি, ফরাসি, ইতালীয় এবং কোরীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফিলিপাইনের মডেল অনুসরণ করে নার্সিং, কেয়ারগিভিং ও বিশেষায়িত খাতে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ চাকরির সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে জামানতবিহীন স্বল্প সুদের ঋণ এবং উদ্ভাবনী ধারণার জন্য সিড ফান্ডিং ও সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতায়নই রাষ্ট্রের শক্তির মূল ভিত্তি। সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফসহ সকল উন্নয়ন অংশীদারদের নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলে ভোট শুরুর পূর্ববর্তী জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জোট, যার মধ্যে রয়েছে তার নিজস্ব দল লিকুদ, কট্টর ডানপন্থি এবং অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলো, আজকের অর্থাৎ ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের পর তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। এর পেছনে একটি প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গাদি আইজেনকোট। সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট এমন একজনের (নেতানিয়াহু) বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন, যিনি গত তিন দশকের অধিক সময় ধরে ইসরাইলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
রাজনৈতিক দিক থেকে আইজেনকোট তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ। তিনি ২০২২ সালে ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টির মাধ্যমে নেসেটের (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে তিনি দলটি ত্যাগ করেন।
গত বছর বিরোধী দলের প্রধান নেতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের মধ্যপন্থি দল ‘ইয়াশার’ (যার অর্থ ‘সোজা’ বা ‘সৎ’) গঠন করার পর থেকে আইজেনকোট নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত হয়েছেন, যেটি তিনি অস্বীকার করেছেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা মোকাবিলায় তার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এছাড়াও বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজানোর বিতর্কিত সংস্কারের বিষয়টিও রয়েছে, যা ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
কিন্তু নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর বিষয়ে আইজেনকোটের নিজস্ব সংকল্পের পেছনে ব্যক্তিগত দুঃখজনক ঘটনা প্রেরণা যুগিয়েছে।
আইজেনকোটের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ, মাস্টার সার্জেন্ট গাল আইজেনকোট, ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে বন্দি হওয়া দুই ইসরাইলি জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের একটি অভিযান চলাকালে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উত্তর গাজায় এক বিস্ফোরণে নিহত হন। গাল গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
গাদি আইজেনকোট বলেছেন, ছেলের মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো কয়েকটি বাক্সে করে তাকে পাঠানো হয়েছে, যা তেল আবিবের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় শহর হার্জলিয়ায় তার বাড়িতে রাখা আছে, সেগুলো তিনি এখনও দেখেননি।
গালের মৃত্যু, সাথে গাজা অভিযানে নিজের দুই ভাগ্নের প্রাণহানি এবং নেতানিয়াহু সরকার হামাসের নজিরবিহীন হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে বলে তার যে ধারণা - এই সবকিছু আইজেনকোটের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে তিনি টাইমস অব ইসরাইল পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি সময়কে পেছনে ফেরাতে পারব না। গালকে যে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, তার যোগ্য হতে আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করব।’
নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা তার করণীয় তালিকার অন্যতম।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর, জাতীয় ঐক্যের নিদর্শন হিসেবে আইজেনকোট অন্যান্য বিরোধী নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। তিনি ২০২৪ সালের জুন মাসে পদত্যাগ করেন এবং নেতানিয়াহুকে অভিযুক্ত করেন যে, হামলার সময় হামাসের হাতে অপহৃত জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেননি। যদিও ওই দাবি নেতানিয়াহু বারবার নাকচ করে এসেছেন।
নেতানিয়াহু বলেন, আইজেনকোট যুদ্ধ মন্ত্রিসভার অংশ থাকাকালীন গাজায় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন। তার মতে, আইজেনকোটের এ পন্থা হামাসকে দুর্বল করতে পারত না।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমরা যখন গাজায় ছিলাম, তখন গাদি আইজেনকোট এবং অন্যরা কী বলেছিলেন… তারা বলেছিলেন, আমাদের কেবল একটি সমঝোতায় আসা উচিত, জিম্মিদের বের করে আনা উচিত এবং গাজা ছেড়ে দেওয়া উচিত, পুরো গাজা ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, সেই কৌশল অনুসরণ করার অর্থ হতো যে, যুদ্ধের সময় ইসরাইলের হাতে নিহত 'পুরো হামাস' এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা 'এখনও সেখানে থাকতো, এখনও জীবিত থাকতো, এবং তারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো'।
ওয়াইনেট নিউজকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আইজেনকোট নেতানিয়াহুর দাবি নাকচ করে দেন এবং তাকে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার আলোচনা ও ভোটের কার্যবিবরণী জনগণের কাছে প্রকাশ করার আহ্বান জানান। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে আইজেনকোট অঙ্গীকার করেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ১৮ মাসের মধ্যে হামাসের শাসনের অবসান ঘটাবেন।
আইজেনকোটের অগ্রাধিকার
ইসরাইলের অন্যতম বিশিষ্ট সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ নাদাভ ইয়াল, যিনি আইজেনকোটের রাজনৈতিক যাত্রাপথ শুরু থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন, বলেন যে তার ব্যক্তিগত ক্ষতি তাকে ‘এক নতুন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের অনুভূতিতে’ পূর্ণ করেছে।
ইয়াল বলেন, এ মিশনের উদ্দেশ্য শুধু এই নয় যে, তার ইয়াশার পার্টি যেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য জোট সরকার গঠনের মতো অবস্থানে আসতে পারে, সেজন্য নেসেটে যথেষ্ট আসন নিশ্চিত করা। নেতানিয়াহুর মতোই আইজেনকোটও নিশ্চিত যে, গাজা সম্পর্কিত যেকোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে হামাসকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে।
ইয়াল বিবিসিকে বলেন, ‘এটা বোঝা খুব জরুরি যে, তার ছেলেকে হামাসই হত্যা করেছে, এমন এক যুদ্ধে যা হামাসই শুরু করেছিল।’
অবসরপ্রাপ্ত এ জেনারেল দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের (ইসরাইলি রাষ্ট্রের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি) প্রতিও সমর্থন জানাননি। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শেষের দিকে তিনি বলেছিলেন, যারা এখনও এ সম্ভাবনায় বিশ্বাস করে তারা ‘বিভ্রান্ত’। তবে তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ককে তিনি ‘পুনর্নির্ধারণ’ করতে চান।
যদিও আইজেনকোট ইসরাইলি আইন ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ শর্তে প্রধান বসতি ব্লকগুলোর সম্প্রসারণকে সমর্থন করেন। তিনি পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের উপস্থিতি বাড়ানোর বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, বিশেষ করে জেরুজালেমের পূর্বে অবস্থিত ই-ওয়ান নামে পরিচিত একটি এলাকায় বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে তিনি জোরালোভাবে বিরোধিতা করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণেই তার এ দ্বিধা দেখা দিয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু অতি সম্প্রতি তিনি ‘জুডিয়া ও সামারিয়া থেকে ইহুদি সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করার’ (অধিকৃত পশ্চিম তীরের জন্য ইসরাইলের ব্যবহৃত নাম) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে একটি হলো ৭ অক্টোবরের হামলার তদন্ত শুরু করা, যেখানে ইসরাইলি সরকারের সম্ভাব্য ব্যর্থতাগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো এ অভিযোগ প্রকাশ করেছে যে, গাজা থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরীয় কর্তৃপক্ষ নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিল। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং যে ইসরাইলি সংবাদপত্রটি প্রথম এ দাবি করেছিল, তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
আইজেনকোট বলেন, ‘এই নির্বাচন হলো দায়িত্ব গ্রহণ এবং দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়ার মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নেয়ার নির্বাচন।’
তার ১০-দফা কর্মসূচিতে আইজেনকোট দেশ ছেড়ে যাওয়া উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ইসরাইলিদের সংখ্যা মোকাবিলা করতে এবং নতুন অভিবাসীদের আগমনকে উৎসাহিত করার জন্য একটি জরুরি কর্মসূচি চালু করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায় এবং আরব ইসরায়েলিদের জন্য সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতির নিয়মও বাতিল করতে চান।
নেতানিয়াহু প্রশাসনের একটি উদ্যোগসহ সামরিক পরিষেবা সম্প্রসারণের পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাগুলোর ফলে অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়গুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে।
আইজেনকোটের জন্ম ও বেড়ে ওঠা
আইজেনকোটের জন্ম তিবেরিয়াসে এবং তিনি বেড়ে উঠেছেন এইলাতে, যা ইসরাইলের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রধান কেন্দ্র জেরুজালেম ও তেল আবিব থেকে অনেক দূরে অবস্থিত দুটি শহর। তিনি ১৯৫০-এর দশকে ইসরাইলে বসতি স্থাপনকারী স্বল্পবিত্ত মরোক্কান অভিবাসী দম্পতির সন্তান।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর ইহুদি সম্প্রদায় মিজরাহি নামে পরিচিত। কোনো মিজরাহি কখনো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হননি, যদিও এ সম্প্রদায়ের রাজনীতিবিদরা অতীতে চেষ্টা করেছেন।
প্রচারণার সময় আইজেনকোটের সঙ্গে সময় কাটানো, দ্য নিউ ইয়র্কারের সম্পাদক ডেভিড রেমনিক বলেন, আইজেনকোট ইসরাইলি সমাজের বঞ্চিতদের, যেমন মিজরাহিমদের রক্ষক হিসেবে নেতানিয়াহুর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেন, যা এ সত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয় যে নেতানিয়াহু পূর্ব ইউরোপীয় ইহুদি অভিবাসীদের বংশধর এবং জেরুজালেমের একটি অভিজাত এলাকায় বেড়ে উঠেছেন।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মিজরাহিম সম্প্রদায়, যারা ঐতিহাসিকভাবে লিকুদকে সমর্থন করে আসছে, প্রায়শই আইজেনকোটকে বর্ণনা করার জন্য মরক্কীয় আরবি শব্দ 'ডায়ালিনা' ('আমাদের একজন') ব্যবহার করে থাকে।
সামরিক জীবন
আইজেনকোট ১৮ বছর বয়সে ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ৪০ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি পদোন্নতি পেয়ে চিফ অব স্টাফ পদে উন্নীত হন, যে পদে তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
২০০০-এর দশকে, দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় তিনি পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। এটি ছিল চার বছরব্যাপী একটি ফিলিস্তিনি অভ্যুত্থান, যাতে প্রায় ১,০০০ ইসরাইলি এবং ৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন।
আইজেনকোট পরবর্তীকালে 'দাহিয়ে মতবাদ'-এর সাথে যুক্ত হন, যা ইসরাইলের বিশ্বাস অনুযায়ী আক্রান্ত হওয়া এলাকাগুলোতে বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন করে। এটাও উল্লেখ করা জরুরি যে, নেতানিয়াহুর এত সমালোচনার মাঝেও আইজেনকোট ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবে ইসরাইলের সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে কখনো মুখ খোলেননি। হামাস পরিচালিত ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
এর জবাবে ইসরাইল গাজায় একটি সামরিক অভিযান শুরু করে, যাতে ৭৪,২০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন বলে হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় সাংবাদিক ও সম্প্রচারক মেহদি হাসান লিখেছেন, ‘আইজেনকোট নেতানিয়াহু নন’, কিন্তু তিনি ‘পশ্চিম তীর ও গাজা উভয় স্থানেই একই ধরনের সম্প্রসারণ ও ধ্বংসাত্মক নীতি’ অনুমোদন করবেন।
ইসরাইলে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকার সংবাদদাতা এবং নেতানিয়াহুর জীবনীর লেখক আনশেল ফেফারের মতে, ‘আইজেনকোট শান্তিবাদী নন। কিন্তু তিনি একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও পরিচিত। প্রচারণায় এখন পর্যন্ত তিনি কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না। এছাড়াও, তিনি কোনো অভিজাত পরিবার থেকে আসেননি, যার ফলে তাকে কলঙ্কিত করা খুব কঠিন।’
নেতানিয়াহুর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আইজেনকোটের উত্থান কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ছয় মাস আগেও সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নাফতালি বেনেট (সাবেক প্রধানমন্ত্রী)। কিন্তু মনে হচ্ছে, আইজেনকোট সঠিক সময়ে নির্বাচকমণ্ডলীর মন জয় করতে পেরেছেন।
আইজেনকোটকে প্রায়শই নেতানিয়াহুর বিপরীত হিসেবে বর্ণনা করা হয়: এমন একজন ব্যক্তি যিনি প্রচারের আলোয় স্বচ্ছন্দ নন এবং একজন দুর্দান্ত রাজনৈতিক বক্তাও নন। ইয়াল মনে করেন, আইজেনকোট রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করাটা উপভোগও করেন না।
রাজনৈতিক দরকষাকষির খেলা
জনমত জরিপে ভালো করলেও, আইজেনকোটের দল ১২০ আসনের নেসেটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন প্রয়োজন, যা ঐতিহাসিকভাবে দলগুলোকে জোট সরকার গঠন করতে বাধ্য করেছে।
কিন্তু বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচন-পরবর্তী হিসাবনিকাষে একজন ‘ওস্তাদ’ রাজনীতিবিদ। তিনি লিকুদ পার্টির নেতা হিসেবে ১০টি জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং ছয়বার জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৯ সালের নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত, যখন তার দল প্রকৃতপক্ষে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে কম আসন জিতেছিল।
গত কয়েক সপ্তাহে নেতানিয়াহুর প্রচার শিবির যুক্তি দিয়েছে, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোটকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন জোগাড় করতে হবে। ইসরাইলে বসবাসকারী ২০ লাখেরও বেশি আরব নাগরিক ও বাসিন্দাদের (যারা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ) মধ্যে আরব দলগুলো জনপ্রিয়, এবং জনমত জরিপ অনুযায়ী প্রধান চারটি আরব দল (হাদাশ, তা'আল, বালাদ এবং রা'আম) সম্মিলিতভাবে নেসেটের ১২ থেকে ১৫টি আসন জিততে পারে।
এক নির্বাচনী ভিডিওতে নেতানিয়াহু আইজেনকোটকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি একটি ইহুদি রাষ্ট্র চান, নাকি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র চান?’
আইজেনকোট প্রকাশ্যে তার সরকারে আরব দলগুলোর উপস্থিতি নাকচ করে দিয়েছেন, কিন্তু সম্ভাব্য সংখ্যালঘু সরকারে নেসেটে নেতানিয়াহু-বিরোধী জোটের দরজা পুরোপুরি নাকচ করেননি।
তেল আবিব-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডালিয়া শাইন্ডলিন বিবিসিকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু ক্ষমতায় টিকে আছেন, কারণ তিনি তার সমর্থকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে তাকে ভোট দেওয়া জীবন-মরণের প্রশ্ন।’
তবে এবার আইজেনকোটের অতীত কর্মকাণ্ড নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ইসরাইলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সামরিক নেতারা জনসমর্থন পেয়ে আসছেন, যার কারণ হলো ইসরাইলি জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর উচ্চপর্যায়ের আস্থা রাখে।
সম্পর্ক মেরামত
আইজেনকোটের বিজয় কি ইসরাইল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক মেরামতে সাহায্য করবে?
চ্যাথাম হাউসের ইসরাইলি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইয়োসি মেকেলবার্গ বিবিসিকে বলেছেন, তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তিনি ‘এক রাতের পরিবর্তনের’ আশার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন যে, নেতানিয়াহুকে প্রতিস্থাপন করা মানেই ইসরাইলের পক্ষ থেকে সদিচ্ছার কোনো নিশ্চয়তা নয়।
তিনি আরও বলেন, যদি আইজেনকোট জেতেন, তাহলে তাকে পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতির বিষয়ে সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং গাজার পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডে ‘রামায়ণ’ নিয়ে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার মাঝে নতুন রূপে হাজির হয়েছেন দক্ষিণী তারকা সাই পল্লবী। আসন্ন সিনেমা ‘ওএম : চ্যাপ্টার ১ : উদিরাম : দ্য ব্লাড উড’-এ তিনি একজন সিবিআই কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করবেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সিনেমাটিতে তার চরিত্রের প্রথম ঝলক প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী।
সিনেমায় সাই পল্লবীর চরিত্রের নাম নিত্যা রেড্ডি। প্রকাশিত ঝলকে দেখা যায়, তিনি লাল চন্দনকাঠ পাচারের একটি ঘটনার তদন্ত করছেন। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোর জেলার নাইদুপেটের বাসিন্দা নিত্যার বনাঞ্চলের সঙ্গে গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা ভারতীয় বন পরিষেবার কর্মকর্তা ছিলেন এবং বন রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান। বাবার স্মৃতি এবং বনাঞ্চলের প্রতি দায়বদ্ধতা নিত্যার চরিত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্মাতাদের মতে, নিত্যার মধ্যে সততা, বুদ্ধিমত্তা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় রয়েছে। চরিত্রটির প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই সাই পল্লবীর ভক্তরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। একজন লিখেছেন, ‘কুইন ইজ ব্যাক’। আরেকজনের মন্তব্য, ‘সাই এমন কিছু করছেন, যা দারুণ হতে যাচ্ছে।’ কেউ কেউ সাই পল্লবীর অভিনীত চরিত্রটিকে সবচেয়ে ‘কুল’ চরিত্রগুলোর মধ্যে একটি বলেও মন্তব্য করেছেন।
ধানুশের সঙ্গে সাই পল্লবীর পর্দার রসায়ন নিয়েও দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। এর আগে ‘রাউডি বেবি’ গানের মাধ্যমে এই জুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। নতুন সিনেমায় তাদের আবারও একসঙ্গে দেখার জন্য ভক্তরা অপেক্ষা করছেন। একজন লিখেছেন, ‘রাউডি বেবি জুটি আবার ফিরেছে।’
এদিকে সাই পল্লবীর বলিউড অভিষেকের সিনেমা ‘রামায়ণ’ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। এতে সীতার চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। রামের ভূমিকায় রয়েছেন রণবীর কাপুর এবং রাবণের চরিত্রে দেখা যাবে যশকে। সিনেমাটি আগামী ৫ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি ‘রামায়ণ’ সিনেমার ‘মঙ্গল রং’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশিত হয়েছে। গানটি রাম ও সীতার সম্পর্ক এবং তাদের একসঙ্গে পথচলাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে, যা সংগীতের বাইরেও নানা কারণে আলোচনায় এসেছে। গানে কাওয়ালির আদলের সুর ব্যবহার করায় সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ।
এছাড়া, রামের গায়ে হলুদ লাগানোর একটি দৃশ্যে সীতার উপস্থিতি নিয়েও দর্শকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কারো কারো ধারণা, দৃশ্যটি অভিষেক বা রাজ্যাভিষেকের কোনো আয়োজনের অংশ হতে পারে।
‘রামায়ণ’ নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মাঝে নতুন সিনেমায় সাই পল্লবীর ভিন্নধর্মী চরিত্র ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজকুমার পেরিয়াসামি পরিচালিত ‘ওএম : চ্যাপ্টার ১ : উদিরাম : দ্য ব্লাড উড’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ধানুশ ও মাম্মুটি। সিনেমাটির মুক্তির তারিখ আগামী ২০ নভেম্বর নির্ধারিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তিন বছর পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে আসবে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশের নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরের তালতলায় সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিলেটে জনসংখ্যা ও বসতির ঘনত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে আধুনিক নাগরিক সেবার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিলেট ও এ অঞ্চলের লাখো মানুষ দেশের বাইরে বসবাস করেন এবং তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক সুবিধা ও সেবার সঙ্গে পরিচিত। তাই, এমন একটি শহরে নাগরিক সেবা কাঙ্ক্ষিত মানে না থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আধুনিক ও নিরাপদ নগর গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ও প্রত্যাশিত মানের সেবা পান, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবাপ্রক্রিয়া আরো সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি সেবার মান উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে কাজ করছেন।
মন্ত্রী সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দিয়ে বলেন, প্রকল্পটি ১৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়সীমা কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না, কারণ এ প্রকল্পের সঙ্গে পুরো জনপদের নিরাপত্তা জড়িত।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের প্রাণও দিতে হয়। তাদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।
জাপানের সঙ্গে চুক্তিতে বাড়বে বিনিয়োগ
সন্ধ্যায় সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে জাপান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশটির আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিলেটকে আরো বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় জায়গা ছিল সিলেট। তার নামেই বর্তমান সরকারের মেয়াদে পুরনো কারাগারের জায়গায় আধুনিক ও বিশ্বমানের পার্ক গড়ে তোলা হবে।
কিনব্রিজের পাশে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। যাচাইয়ের ফলাফল পাওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাদাঘাট বাইপাস ও সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ চিত্র দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নগরের জালালাবাদ পার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে সিলেট সিটি করপোরেশন কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ