ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জেন্ডায়ার জন্মদিনে ইনস্টাগ্রামে তৈরি হলো নতুন রহস্য


জেন্ডায়ার জন্মদিনে ইনস্টাগ্রামে তৈরি হলো নতুন রহস্য

হলিউডের অভিনেত্রী জেন্ডায়ার ৩০তম জন্মদিন উপলক্ষে একটি নতুন রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিনেত্রীর মা ক্লেয়ার স্টোয়ারমার জানিয়েছেন, তার মেয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রয়েছেন। তবে মায়ের এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরেই ইনস্টাগ্রামে উপস্থিত হন জেন্ডায়া নিজেই। জন্মদিনের উপলক্ষে তিনি নিজের ছোটবেলার একটি ছবি পোস্ট করে ভক্তদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার জবাব দেন।

জেন্ডায়া ১ সেপ্টেম্বর ৩০ বছরে পা দিয়েছেন। বিশেষ দিনটিতে ক্লেয়ার তার মেয়ের শৈশবের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া সেই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জেন্ডায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন না। ফলে, তার মেয়ের চোখে পোস্টটি পড়বে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

কিন্তু মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। ক্লেয়ার জানান, পোস্টটি দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি ফেসটাইমে জেন্ডায়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। মায়ের এমন মন্তব্য দ্রুতই ভক্তদের নজরে আসে। অনেকেই মনে করেন, কাজের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

কিন্তু সেই ধারণা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মায়ের পোস্টের পরেই জেন্ডায়া নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ছোটবেলার একটি ছবি শেয়ার করেন। জন্মদিনে ভক্তদের পাঠানো শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদও জানান।

এর আগে, গত ৮ জুলাই ইনস্টাগ্রামে সর্বশেষ পোস্ট করেছিলেন জেন্ডায়া। ‘ডুন: পার্ট থ্রি’-এর ট্রেলার প্রকাশের পর সেটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর জন্মদিন উপলক্ষে আবারও সামাজিক মাধ্যমে তার উপস্থিতি দেখা গেল।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনজীবন থেকে দূরে থাকার ইচ্ছার কথা জেন্ডায়া এর আগেও জানিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে ফানডাঙ্গোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টানা কাজ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর কিছুদিন জনজীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকতে চান। মজা করে তিনি তখন জানিয়েছিলেন, কিছুদিন তাকে হয়তো কম দেখা যাবে এবং তিনি অনেকটা আড়ালে থাকতে চান।

অবশ্য কাজ থেকে দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার বিষয়টি তার জন্য খুব একটা সহজ নয়। কয়েক মাস পর ‘এল’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেন্ডায়া জানান, দীর্ঘ সময় কাজ ছাড়া থাকলে তিনি অস্থির হয়ে পড়েন। বিরতি শেষ হওয়ার আগেই নতুন কাজ খুঁজতে শুরু করেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

তাহলে মায়ের কথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার ইঙ্গিত মিললেও জন্মদিনে জেন্ডায়ার নিজের পোস্ট যেন বলছে অন্য কথা। আপাতত নিয়মিত না হলেও বিশেষ মুহূর্তে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের দরজা যে পুরোপুরি বন্ধ করছেন না, তারই ইঙ্গিত মিলল ৩০তম জন্মদিনে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন স্বর্ণ সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৯ এম


যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন স্বর্ণ সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো?

নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সপ্তাহে নিশ্চিত করেছে যে তারা উত্তর আমেরিকা থেকে কয়েক টন স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, এই স্থানান্তরের ফলে তারা "গুরুতর সংকটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত" থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংরক্ষিত মোট প্রায় ৩১৩ টন স্বর্ণের মধ্যে ৮৬ টন 'ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে' লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকটি বলেছে, এর ফলে এই মূল্যবান ধাতুটি "সংকট পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য" থাকবে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, ডাচরা কেন এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে? তারা কি সামনে কোনো বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা করছে? মনে হচ্ছে তা নয়। তবে এই পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে এমন এক বিশ্বের প্রতিক্রিয়া, যা বর্তমানে অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। বাণিজ্য ও সামরিক সংঘাত দেশগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে এবং তাদের স্বর্ণ নিজ দেশের কাছাকাছি রাখতে উৎসাহিত করছে।

এ বছরের শুরুতে ফ্রান্স ঘোষণা করে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের স্বর্ণের রিজার্ভ দেশে ফিরিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, জার্মানির বুন্ডেসব্যাংক ২০১৬ সালের মধ্যে বিদেশি সংরক্ষণাগার থেকে ২১৬ টনের বেশি স্বর্ণ স্থানান্তর করে, এর মধ্যে ১১১ টন নিউ ইয়র্ক থেকে এবং ১০৫ টন প্যারিস থেকে আনা হয়। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার সময়ে এর আগেও এমন কৌশল দেখা গেছে। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর গবেষণা বিশ্লেষক লিনা থমাস ও ডান স্ট্রুইভেন বলেন, "শীতল যুদ্ধের সময় কিছু ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের স্বর্ণের একটি অংশ নিউ ইয়র্কে স্থানান্তর করেছিল।"

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ জোসেফ কাভাতোনি বিবিসিকে বলেছেন, যুদ্ধ এবং বাণিজ্যগত উত্তেজনা "এই সিদ্ধান্তগুলোর কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে", তবে তা প্রেরণার কারণগুলোর তালিকার "শীর্ষে নয়"। মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং দ্রুত লেনদেন করা যায় এমন স্থানে স্বর্ণ রাখা, এসব বিষয়ও ভূমিকা রেখেছে। কাভাতোনি বলেন, "আমি মনে করি না যে কোনো আসন্ন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমি মনে করি মানুষ এখন তাদের রিজার্ভ সম্পদ কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, কীভাবে তা বাড়াতে হবে এবং কীভাবে সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আরও ভালোভাবে অবগত হচ্ছে।"

নেদারল্যান্ডসের ব্যাংক জানিয়েছে, এ বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে সরিয়ে আনা স্বর্ণ এখন ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড-এর ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে। ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ওলাফ স্লেইপেন বলেন, "আমরা আশা করি কখনও এগুলো ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না, তবে আমাদের স্থিতিস্থাপকতা ও প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে হবে।" বিশ্বের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোর একটি হওয়ায় লন্ডনকে সেরা বিকল্প হিসেবে দেখা হয়েছে।

কোনো সংকটের সময় যদি দ্রুত স্বর্ণ কেনাবেচা করতে হয়, তাহলে লন্ডনই সবচেয়ে উপযোগী স্থান। এ কারণেই ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড স্বর্ণ সংরক্ষণের জন্য জনপ্রিয় একটি কেন্দ্র। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড বিশ্বে স্বর্ণ গচ্ছিত রাখা সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। মধ্য লন্ডনের এই ৩০০ বছর পুরোনো প্রতিষ্ঠানের নিচে চার লাখের মতো স্বর্ণের বার সংরক্ষিত রয়েছে, যার মূল্য ২০০ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের শিল্পখাতভিত্তিক জরিপ অনুযায়ী, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় ভল্টিং কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ক্রমেই মূল্যবান এই ধাতু কোথায় সংরক্ষণ করবে, সে ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনছে।

গোল্ডম্যান স্যাকস-এর থমাস ও স্ট্রুইভেনের মতে, কোনো দেশের স্বর্ণ কোথায় সংরক্ষণ করা হবে, তা এখন "রিজার্ভ ব্যবস্থাপকদের ভাবনার কেন্দ্রে ক্রমশ চলে আসছে"।

আধুনিক বিশ্বে সম্পদ স্থানান্তরের বহু উপায় রয়েছে। ডাচরা নিউ ইয়র্কে প্রায় ৫৯ টন স্বর্ণ বিক্রি করে লন্ডনে সমপরিমাণ নতুন মজুত কিনেছে। ফলে ওই পরিমাণ স্বর্ণ আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে পরিবহন করার প্রয়োজন পড়েনি।

তবে ২৭ টনের বেশি স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে নেদারল্যান্ডসের জাইস্ট শহরে 'বাহ্যিকভাবে স্থানান্তর' করা হয়েছে। একই পরিমাণ স্বর্ণ জাইস্ট থেকে লন্ডনেও পাঠানো হয়েছে।

এ ধরনের কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে অভিযান পরিচালনা করে, সে বিষয়ে সাধারণত মুখ খোলে না। তবে বাস্তব জীবনের ঝুঁকি এড়াতে নিরাপত্তা ও পরিকল্পনার মাত্রা যে ব্যাপক, তা বলাই যায়।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের কাভাতোনি বলেন, স্বর্ণ স্থানান্তরের একটি প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে এক জায়গায় বিক্রি করে অন্য জায়গায় কেনা।

তিনি বলেন, "ধরা যাক, আমি চাই আমার স্বর্ণ নিউ ইয়র্কে থাকুক, কিন্তু সেটি লন্ডনে রয়েছে। আমি লন্ডনে তা বিক্রি করতে পারি, একই দিনে একই সময়ে নিউ ইয়র্কে কিনতে পারি। কার্যত এটি একটি হিসাবভিত্তিক স্থানান্তর, যেখানে অন্য কোনো লজিস্টিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।"

সীমান্ত পেরিয়ে স্বর্ণ পরিবহনের কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান খুব বেশি নেই। এর মধ্যে একটি হলো ব্রিংক'স গ্লোবাস সার্ভিসেস। প্রতিষ্ঠানটি বিবিসিকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে 'চাহিদা বৃদ্ধি' লক্ষ্য করেছে।

ব্রিংক'স-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট নাদের আন্তার বলেন, "ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি, পাশাপাশি কৌশলগত রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, এই প্রবণতায় অবদান রাখছে বলে মনে হচ্ছে।"

বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্বর্ণ সংরক্ষণ নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার কারণ হলো তারা ক্রমেই বেশি স্বর্ণ কিনছে। তবে গোল্ডম্যান স্যাকস-এর থমাস ও স্ট্রুইভেন বলেন, দেশে স্বর্ণ সংরক্ষণ করতে খরচ হয়।

তারা বলেন, "দেশীয় সংরক্ষণের জন্য শারীরিক নিরাপত্তা, নিরীক্ষা অবকাঠামো এবং বীমায় বিনিয়োগ করতে হয়। ছোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য এসব খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।"

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বছরে গড়ে এক হাজার টন স্বর্ণ সংগ্রহ করেছে। এর আগের দশকে এই গড় ছিল ৫০০ টন।

এই প্রবণতার শিকড় বৈশ্বিক আর্থিক সংকট পর্যন্ত বিস্তৃত এবং আগামী বছর এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর দাম ধারাবাহিকভাবে নতুন রেকর্ড গড়েছে এবং জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ডলার অতিক্রম করেছে।

দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। তবে প্রধান কারণগুলোর একটি হলো আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, স্বর্ণকে একটি তথাকথিত নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়।

মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারও স্বর্ণের জনপ্রিয়তাকে প্রভাবিত করে। স্বর্ণের সীমিত প্রাপ্যতা এবং হাজার বছরের ইতিহাসজুড়ে এর ওপর আরোপিত মূল্যের কারণে এটি মূল্যস্ফীতির প্রভাবের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে প্রতিরোধী। তাই একে ভালো বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিনিয়োগ ব্যাংক চার্লস শোয়াব-এর মতে, "গত অর্ধশতকে স্বর্ণের দাম ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) থেকে অনেক দ্রুত বেড়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষণ করা সূচক।"

এ বছরের শুরুতে দেখা রেকর্ড উচ্চতা থেকে স্বর্ণের দাম কমলেও, তা এখনো ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাকস-এর গবেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম চার হাজার ৯০০ ডলারে (তিন হাজার ৬২৪ পাউন্ড) পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা আগস্টের দামের চেয়ে ৩০০ ডলার বেশি।

থমাস ও স্ট্রুইভেনের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি দামের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম প্রধান কারণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি : আইজিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০০ পি.এম


আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি : আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, "আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে।" তবে, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের আটক রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে, তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হলেও আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা যায় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

শনিবার সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে আইজিপি এসব কথা বলেন।

আইজিপি আরও বলেন, "দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম।" তিনি উল্লেখ করেন, "প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।" তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, "মাদক আমাদের নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।" ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক তরুণদের হাতে নানা নামে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে এনার্জি ট্যাবলেট বা অন্য কোনো আকর্ষণীয় নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আইজিপি বলেন, "আমাদের সন্তানদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।"

অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, "শুধু লোক দেখানো বা প্রচারের জন্য নয়, বাস্তবে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।" তিনি জানান, ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে।" নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, "আজ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা শহর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য একটি মাইলফলক।" এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং পুরো ঢাকা শহরে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "কমিউনিটি পুলিশ ও কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আজকের যে ক্যাম্পেইনটি শুরু হলো, আমি বিশ্বাস করি এই ক্যাম্পেইনটি ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে।"

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, "পরিবেশ ভালো রাখতে হলে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।" রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা কোনো বিষয়ে গুরুত্ব দিলে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একইভাবে নগরবাসীও যদি ঢাকাকে নিজের শহর মনে করে ভালোবাসে, তাহলে শহরের পরিবর্তনও সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি নিম গাছ রোপণ করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক। এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের এমডি পরিচালক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানির রাজনীতিতে নতুন মোড়:  ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ডানপন্থী এএফডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০১ পি.এম


জার্মানির রাজনীতিতে নতুন মোড়:  ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ডানপন্থী এএফডি

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড’ (এএফডি) রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশা প্রকাশ করেছে।

নির্বাচনে যদি তারা জয়ী হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থী দল এককভাবে রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় বসবে।

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড’ (এএফডি) রাজ্যে সরকার গঠনের লক্ষ্যে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

নির্বাচনে জয়ী হলে এটি হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মান ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেখানে কোনো কট্টর ডানপন্থী দল এককভাবে রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় বসবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এএফডির ৩৫ বছর বয়সী শীর্ষ প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ডের নেতৃত্বে দলটি তাদের নীতিমালায় মৌলিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে স্কুলগুলোতে এলজিবিটি পতাকা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব, নাৎসি অপরাধের তুলনায় জার্মান ইতিহাসের ইতিবাচক দিক শেখানোর আহ্বান এবং অনিয়মিত ও ভিন্ন সংস্কৃতির অভিবাসীদের দ্রুত আটক ও নির্বাসনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিগমুন্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্য কোনো দল জোট না করলে তারা এককভাবে সরকার পরিচালনা করবেন এবং প্রয়োজনে তাদের ওপর নজর রাখা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিলুপ্ত করবেন।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, যা মূলধারার দলগুলোর ওপর আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে জার্মানির সিডিইউ-র রক্ষণশীল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উলরিখ সিগমুন্ডের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে চ্যান্সেলর মের্জ রাজনৈতিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়েছেন। অন্যান্য দলগুলো এএফডি-কে ঠেকাতে ‘ফায়ারওয়াল’ বা জোটবদ্ধ প্রতিরোধের নীতি বজায় রাখলেও, এএফডি একক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সেই বাধা ভেঙে ফেলার স্বপ্ন দেখছে।

এএফডির শীর্ষ নেতৃত্বের রুশ-পন্থী অবস্থানের কারণে জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা চরম উদ্বিগ্ন। স্যাক্সনি-আনহাল্টে দলীয় কার্যালয়ে রুশ সামরিক স্মারক চিহ্ন রাখা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে বার্লিন-লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে মস্কোর যোগসাজশের অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জার্মান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে রাশিয়া-সমর্থিত অপতথ্য প্রচার অভিযান আরো বেড়েছে।

স্যাক্সনি-আনহাল্ট একটি ছোট রাজ্য হলেও শিক্ষা, পুলিশ এবং আঞ্চলিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যাপক সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে। এখানে এএফডির বিজয় কেবল একটি আঞ্চলিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি পুরো জার্মানি ও ইউরোপীয় রাজনীতির চিত্রকে বদলে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সূত্র:

বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির আগমনে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


রাষ্ট্রপতির আগমনে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ

ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলে কাটানো তাঁর শৈশব ও কৈশোর। শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ তাঁর বাড়ির পাশেই অবস্থিত। যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া এবং রাস্তাঘাট তাঁর চেনা, সেই শহর এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে তাঁকে ঘিরে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল রোববার প্রথমবারের মতো নিজ মাটি ঠাকুরগাঁও আসছেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

এদিকে, কোথাও তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। পৌরসভার কর্মীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন। সব মিলিয়ে এলাকার প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ শহরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও। শহরের পথে পথে এখন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনের প্রতীক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেন এর চেয়েও বেশি, এর চেয়েও বেশি আবেগের।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির সুপরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত, আবার অনেকের কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও সেই পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’-নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি একই সঙ্গে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা এবং গভীর আবেগের ক্ষণ।

রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। রাষ্ট্রপতি সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।

কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহরের কালীবাড়িতে তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাক।’

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%