ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ১৬ জন গ্রেপ্তার


নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ১৬ জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালীন ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে মাসদাইর অক্টু অফিস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— জয় দাস, মেহেদী হাসান (২১), রাজু (৩৯), হুমায়ূন আহমেদ (৪০), সিয়াম (২১), লিটন (৪২), রাসেল বাবু (৩০), মেহেদী হাসান মাহিন (১৮), জাহাঙ্গীর আলম (২৩), হাসান জামিল (২১), দ্বীন ইসলাম নয়ন, সুমন (২২), সিফাত (২০), আব্দুল্লাহ (১৫), ফেরদৌস (১৪) এবং অভি (১৪)।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোংলার পথে যাত্রা শুরু, স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, "বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন কিশোর রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে সার পাচার বন্ধ হচ্ছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


মিয়ানমারে সার পাচার বন্ধ হচ্ছে না

কক্সবাজারে সার সংকট যেন কাটছেই না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ইউরিয়া সারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের পাশাপাশি একটি সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকট এবং সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়েও অনেক এলাকায় সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সার কেনাকে কেন্দ্র করে কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে।

কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরি বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সার পাচার নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, "সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ সার সরবরাহ করছে। তবে বরাদ্দ ও বিতরণে কোথাও কিছুটা এদিক-সেদিক হয়ে থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে।" কৃষকের প্রাপ্য সার যাতে কোনোভাবেই পাচার বা অবৈধভাবে অন্যত্র চলে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কক্সবাজারের জন্য বরাদ্দ করা সার সীমান্তবর্তী কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে। উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্টে প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। উখিয়ার বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কিছু ক্ষমতাসীন দলের নেতা যদি সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে অন্যদের বিষয়ে বলার কী থাকে?"

সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে জেলার তিনজন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি কক্সবাজারের জন্য বরাদ্দকৃত সারের বস্তায় জেলার সিল ব্যবহারের দাবী জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে অন্য জেলার বরাদ্দের সার কক্সবাজারে এনে সীমান্তপথে পাচারের সুযোগ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

বৃহষ্পতিবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক সভায় সার সংকট ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল ইউনিয়নভিত্তিক নয়, কৃষকের সংখ্যা বিবেচনায় সার বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলার ১০ উপজেলায় প্রায় ২৩ হাজার কৃষক কার্ডের আওতায় সার বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে।

সভায় সার পাচার রোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। বলা হয়, সারের সার্বিক সংকট না থাকলেও বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপব্যবহার যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেলার বোরো মৌসুমে মোট ৪ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন সারের চাহিদার বিপরীতে সমপরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ২ হাজার ৩৪৩, টিএসপি ৪৭৫, ডিএপি ৮৮৯ এবং এমওপি ৩৬৮ মেট্রিক টন।

গতকাল পর্যন্ত জেলার গুদামগুলোতে চার ধরনের সারের মোট ১ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি। কৃষি বিভাগের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় সারের ঘাটতি থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে রামুর গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ায় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে ডিলারদের হাতাহাতি এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি সীমান্তপথে নিয়মিত ইউরিয়া সার পাচারের অভিযোগও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে সার আটকের পরও পাচার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ঝিলংজা ও পিএমখালীর কয়েকজন কৃষক জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকা এবং ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে তাদের ৩০ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে। ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিএপি ও এমওপি সারেও একই পরিস্থিতি। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না।

রামুর গর্জনিয়ার কৃষক আবুল কাশেম ও জসিম উদ্দিন বলেন, জমিতে নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ডিলাররা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য পরিমাণ সার দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, "৫ কেজি নাও" বলা হচ্ছে। প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে এবার ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সার সংকটের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কৃষক ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার প্রকৃত সারের চাহিদা নিরূপণের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত ফসলের পাশাপাশি কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় তামাক চাষ, মৎস্য ঘের, পানের বরজ, ছাদবাগান এবং বন বিভাগের ফলজ ও বনজ বনায়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার ব্যবহার হয়। কিন্তু এসব খাতের সার চাহিদা যথাযথভাবে হিসাবের আওতায় না আসায় প্রকৃত চাহিদা ও বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ব্যয়, বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, গুজব ছড়িয়ে অতিরিক্ত সার মজুদের প্রবণতা এবং সীমান্ত দিয়ে পাচারের অভিযোগ। সব মিলিয়ে মাঠপর্যায়ে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার পরিবহনে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ৬০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। বিসিআইসি বাফার গুদাম স্থাপন করা গেলে এ ব্যয় কমে ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে আসতে পারে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম সার কারখানা থেকে টেকনাফের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি। কুতুবদিয়ায় সার পরিবহনে ডিলারদের চারবার পর্যন্ত লোড-আনলোড করতে হয়। এর সঙ্গে গুদাম ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক সুদসহ অন্যান্য খরচ রয়েছে। অথচ ২০০৯ সালে নির্ধারিত কেজিপ্রতি দুই টাকা কমিশনেই ডিলারদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে অনেক ডিলার লোকসানের মুখে পড়ছেন।

তার মতে, কক্সবাজারে দ্রুত বিসিআইসি বাফার গুদাম স্থাপন এবং দূরত্ব বিবেচনায় ডিলারদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ডিলারদের সার বিক্রি তদারকির জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বেশি দামের প্রতিবাদ করলে কোনো কোনো কৃষককে সার না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এতে কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সারের সংকট ও পাচারের অভিযোগ সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, জেলায় সারের ঘাটতি নেই। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

মিয়ানমারে কৌশলে সার পাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে সার বিক্রির ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। প্রত্যেক ডিলারকে সার বিক্রির পর রেজিস্টারের পাশাপাশি অনলাইনে বিক্রির তথ্য আপডেট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী সার বিক্রি না করলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষকদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে বরাদ্দ দেখালে চলবে না; মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কৃষকের হাতে নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে সার পাচার, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করা না গেলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই কৃষির স্বার্থে সারের প্রকৃত চাহিদা পুনর্নিরূপণ, প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং ডিলার পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: বাকৃবি উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: বাকৃবি উপাচার্য

ময়মনসিংহ, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেছেন, কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে কাজে লাগানো উচিত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে। তিনি ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমকে আরও উন্নত ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় তিনি ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করেন এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেন।

ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি.এম. মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বাকৃবির ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষি অনুষদের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এতে স্বাগত বক্তব্য দেন, ইন্টার্নশিপ ম্যানেজমেন্ট সেল (আইএমসি)-এর কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদ। ইন্টার্নশিপ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন অধ্যাপক ড. শরীফ-আর-রাফি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. জোয়ার্দার ফারুক আহমেদ, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওয়াদুদ ও অধ্যাপক ড. সোনিয়া সেহেলি।

কৃষি অনুষদের ছাত্র সমিতির সভাপতি মো. সানাউল্লাহসহ ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণকারী তিন শিক্ষার্থী তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। এ সময় চারজন শ্রেণি প্রতিনিধির মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, পাঁচ ক্রেডিটের দুই মাস মেয়াদি এ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে মোট ২০টি গ্রুপে ১৯টি উপজেলায় এবং কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ২৯৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করবেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, কৃষি অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে অপরাধ দমনে নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সেভ রংপুর’ চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


রংপুরে অপরাধ দমনে নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সেভ রংপুর’ চালু

‘সেভ রংপুর’ নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু হয়েছে, যা নিরাপদ রংপুর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অপরাধী এবং অপরাধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওয়েবসাইটটি (অ্যাপস্) উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সেভ রংপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কো-অর্ডিনেটর আল মামুন মন্তব্য করেন, "রংপুরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলা এখন খুবই জরুরি।" তিনি বলেন, অপরাধ সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা পরিচয় প্রকাশের বিষয়টি সামনে আনতে চান না। এই কারণে ‘সেভ রংপুর’ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পরিচয় গোপন রেখে তথ্য জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। নাগরিকদের দেওয়া তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছাবে, যা অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা করবে। ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে মাদক, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তিনি আরও জানান, যারা সেভ রংপুরকে এগিয়ে নিতে চান, তারা সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। এই প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর ও এগিয়ে নিতে তথ্যভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি চাইলে নিজের পরিচয় গোপন রেখে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারবেন। অনেকেই বাড়ির আশপাশে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানলেও প্রশাসনের কাছে সরাসরি যেতে পারেন না। আবার অনেকের ধারণা, তথ্য দিলে সাক্ষী হতে হবে কিংবা পরবর্তীতে নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এসব কারণে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে আগ্রহী হন না। তাদের কথা বিবেচনা করেই এই ওয়েবসাইটটি (অ্যাপস্) চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জোবায়ের ইসলাম, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, রংপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক পার্থ বোস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম এলতাস উদ্দিন, রংপুর মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম বারী রাজ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনায় নারী-পুরুষের ভূমিকার প্রচলিত ধারণা বদলাতে নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


বরগুনায় নারী-পুরুষের ভূমিকার প্রচলিত ধারণা বদলাতে নতুন উদ্যোগ

বরগুনায় কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নারী-পুরুষের প্রচলিত ভূমিকা ও দায়িত্বের বিভাজন পরিবর্তন এবং পরিবারে সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সোনাতলা গ্রামে জাগোনারী কর্তৃক বাস্তবায়িত আলোকিত প্রকল্পের আয়োজনে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় নারী-পুরুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন, নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব, সন্তান লালন-পালন এবং পরিবারের বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, রান্না, ঘর সামলানো এবং সন্তানদের দেখাশোনা সহ নানা কাজকে দীর্ঘদিন ধরে নারীর দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, উপার্জন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ পুরুষদের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রচলিত ধারণাগুলো পরিবর্তন করে পরিবারে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

অংশগ্রহণকারীরা মন্তব্য করেন, পরিবারের দায়িত্ব কোনো এক পক্ষের নয়। ঘরের কাজ, সন্তানদের পরিচর্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। নারীর শ্রম ও মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আলোকিত প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় পুরুষদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। পারিবারিক কাজে দায়িত্ব ভাগাভাগি, নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারে সমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, কমিউনিটি পর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী-পুরুষের প্রচলিত ভূমিকা সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে পরিবারে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঅংশগ্রহণের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%