শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৭ এম
বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে মোট আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমে গেছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই পরিস্থিতির পেছনে কঠোর অভিবাসন নীতি, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রভাব রয়েছে। তবুও, আশ্রয় আবেদনের সংখ্যায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলারের (ইইউএএ) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম এবং ২০২১ সালের পর বছরের প্রথমার্ধে এটি সর্বনিম্ন।
ইইউএএর তথ্যমতে, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে দেশটির নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশসহ উৎপত্তি ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইইউর সহযোগিতাও আবেদন হ্রাসের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিউনিসিয়া ও মৌরিতানিয়ার মতো দেশের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় অর্থনৈতিক সহায়তার বিনিময়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগানিস্তানের নাগরিকরা, যার সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা এবং তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩২৭। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২১ জনে, যা প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
তবে, বাংলাদেশিদের আবেদন অনুমোদনের হার অত্যন্ত কম। ইইউএএ জানিয়েছে, যেসব দেশের আবেদন মঞ্জুরের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেসব দেশের আবেদন দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের প্রথম ধাপের আবেদন অনুমোদনের হার ছিল ৫ শতাংশেরও নিচে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম অনুমোদন পেয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ, মিসর, ভেনেজুয়েলা ও তুরস্কের মতো দেশ থেকে আসা আবেদনগুলো বিশেষভাবে দ্রুত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।
ইইউ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, যেখানে ৬৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এরপর রয়েছে ইতালি ও স্পেন। জার্মানিও প্রায় ৫৫ হাজার আবেদন পেয়েছে। এই চার দেশেই মোট আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জমা হয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে গ্রিসে।
এদিকে, জুনের শেষে ইইউ অঞ্চলে প্রথম ধাপে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার আশ্রয় মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। তবে, প্রশাসনিক ও বিচারিক সব ধাপ মিলিয়ে মোট অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছেছে।
অপেক্ষমাণ মামলার তালিকাতেও বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ধাপেই প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশির আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া, কলম্বিয়া ও পেরুর পরেই অবস্থান বাংলাদেশিদের। নতুন আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়লেও পুরোনো মামলার জট কমেনি। ফলে ইইউজুড়ে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলার হার বেড়ে ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
ইইউএএর তথ্য বলছে, সামগ্রিকভাবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অনুমোদনের নিম্নহার ইউরোপে অভিবাসন প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।
সূত্র: এএফপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রাক্তন বিজয়ী লুসিয়া সিসিক মারা গেছেন। তিনি হৃদরোগের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে লড়াই করার পর মাত্র ২২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
লুসিয়া অল্প বয়সেই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেন। ‘মিস অস্ট্রিয়া’ খেতাব লাভের মাধ্যমে তিনি দেশের সৌন্দর্যজগতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
তবে, সাফল্যের পাশাপাশি জীবনের শেষ সময়ে তাকে গুরুতর হৃদরোগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। চিকিৎসা এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পরও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে তিনি হার মানতে বাধ্য হন।
লুসিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র ২২ বছর বয়সে তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিচিতজন ও অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলকে ‘ঘৃণার দল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি একই সঙ্গে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকানদের সমর্থনে জনমত গড়ে তোলার জন্য দলীয় সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বৃহস্পতিবার টেক্সাসে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ঘৃণার দল। তারা আমেরিকা ও এই দেশকে গড়ে তোলা মানুষদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। এমনকি ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলাকারীদের প্রতিও তারা সহানুভূতি দেখাতে পারে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলারোয়া উপজেলার গদখালী সরদারপাড়া জামে মসজিদে শিশুদের কোরআন শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মসজিদের ইমামের উদ্যোগে এবং গদখালীর প্রবাসীদের সহযোগিতায় কোরআন শিক্ষা গ্রহণকারী ৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপহার বিতরণ করা হয়েছে। একইসাথে, কোরআন শরীফ পড়া শেখা ২২ শিশুর হাতে পবিত্র কোরআন শরীফ তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে গদখালী সরদারপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে মসজিদের ইমামের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে এলাকার ৯৮ জন ছাত্রছাত্রী নিয়মিত কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে। এর মধ্যে যারা কোরআন শরীফ পড়া শেখার পর্যায় সম্পন্ন করেছে, তাদের মধ্যে ২২ শিশুকে পবিত্র কোরআন শরীফ প্রদান করা হয়।
এছাড়া, শিশুদের কোরআন শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে ৯৮ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে উপহার হিসেবে একটি করে প্লেট দেওয়া হয়।
পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে পেয়ে শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সচেতন মহল খুশি।
স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোরআন ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মসজিদের ইমামের প্রচেষ্টা এবং প্রবাসীদের সহযোগিতায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় আরও এগিয়ে যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
শিশুদের কোরআন শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে মলম পার্টির সদস্য, মাদক কারবারি, চোর-ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ফেনী মডেল থানার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে স্টারলাইন বাস কাউন্টার ও তার আশপাশ থেকে মলম পার্টির সদস্য লিটন মিয়াকে (৩৭) আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই চক্রটি বিদেশফেরত যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে মলম লাগিয়ে সর্বস্ব লুটে নিত।
এছাড়া, মহিপাল থেকে লেমুয়াগামী সিএনজি যাত্রীদের নকল সোনার বার দেখিয়ে ও চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে অলংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামাল ও অপরাধের ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ফেনীকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ