ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে : বিমানমন্ত্রী


দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে : বিমানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায়, যেখানে জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করা হয়, প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। তিনি যদি এভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে আমরা কেন পারব না?” তিনি যোগ করেন, “যদি এই প্রশ্ন নিজের বিবেককে করি, তাহলে সবাই কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করতে পারব।”

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় রাস্তা বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যক্তির মৃত্যু

মন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ থেকে বিদায় নিয়েছেন, তা থেকে আমরা শিক্ষা না নিলে সবার পরিণতি খারাপ হবে।” তিনি আরও বলেন, “তাই বিগত সময়ে যা হয়েছে, আমরা কেউ কোনোভাবেই তা করতে চাই না।”

তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার মনোভাব নিয়ে কাজ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে যা হয়েছে, আমরা তা করতে চাই না। ফ্যাসিস্ট আমলে যেভাবে চাকরি করা হয়েছে তা আর করা যাবে না। মন থেকে ওইসব বাদ দিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করুন। কাজ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিমানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। বিগত সরকারের সময়ে দেশকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছে। এটি সংস্কার করতে হলে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশ উন্নতির শিখরে অবস্থান করছে। কিন্তু নেতৃত্বের অভাবে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। এখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন।”

প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সারাদেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

সভায় জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, গফরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাচ্চু, ফুলবাড়ীয়ার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী প্রমুখ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোহাম্মদ গোলাম মাসুম প্রধান এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা যৌথভাবে সভাটি সঞ্চালনা করেন।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের পরিচালক বায়েজিদ, র‌্যাব কর্মকর্তা শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামানসহ জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমর ফের গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


এবার হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমর ফের গ্রেপ্তার

 

হ*ত্যা মামলায় ঝালকাঠি–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে (বীর উত্তম) গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন।

আজ শাহজাহান ওমরকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে পুলিশ প্রহরায় তাঁকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আদাবর থানার উপপরিদর্শক মহেশ চন্দ্র সিং বলেন, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া আসামি শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২৪ আগস্ট শাহজাহান ওমরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠসংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন বরিশালের বামনা উপজেলার বেবাজিয়াখালী গ্রামের মো. ইসহাক জমাদ্দার। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ জুলাই আদাবর থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে রাজধানীর একাধিক থানায় করা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খাতভিত্তিক কর্মকৌশল চান উদ্যোক্তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ পি.এম


এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খাতভিত্তিক কর্মকৌশল চান উদ্যোক্তারা

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), কৃষি, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

তারা বলেছেন, শুধু কর্মকৌশল গ্রহণ করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত পরিবীক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার, সহজ অর্থায়ন, সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

আজ (সোমবার) মতিঝিলে এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘এলডিসি উত্তরণের জন্য সংস্কার কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

এতে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারে জিএসপি ও ইবিএর মতো শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিধিবিধানেও কঠোরতা আসতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মুক্ত আলোচনায় উদ্যোক্তারা বলেন, বাস্তবসম্মত কর্মকৌশল ছাড়া এলডিসি উত্তরণের সুফল পাওয়া কঠিন হবে। এজন্য মাঠপর্যায় থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার ও প্রয়োজন নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তারা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, দেশের প্লাস্টিক শিল্পের বড় একটি অংশ কপি পণ্য তৈরি করে। এলডিসি উত্তরণের পর এ খাতেও মেধাস্বত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ অবস্থায় প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত কর্মকৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

পটুয়াখালী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইসমাত জেরিন খান বলেন, এলডিসি উত্তরণের কর্মকৌশল যেন শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রান্তিক পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সরবরাহব্যবস্থায় সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব অধিকার বাংলাদেশের শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ওষুধ, কৃষি ও কৃষি-রাসায়নিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশে উৎপাদিত পেটেন্ট-সুরক্ষিত পণ্যগুলোর দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ রেজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১-এর জাতীয় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মো. মুনির চৌধুরী বলেন, বেসরকারি খাতকে নিজ নিজ খাতের চ্যালেঞ্জ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠন এবং ফলাফলভিত্তিক কর্মকৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক দেশের সব জেলা চেম্বার ও খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনকে নিজ নিজ খাতের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে এফবিসিসিআইকে দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য পাওয়া অতিরিক্ত তিন বছর সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য জেলা চেম্বার ও খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেছার আহমেদ, এফবিসিসিআই’র সহায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক পরিচালকবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাণিজ্য, শিল্প, বিএসটিআই ও আইসিটি বিভাগের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বরিশালে গভীর রাতে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিলন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ পি.এম


বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বরিশালে গভীর রাতে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিলন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে



বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিলন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এবার বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে নগরীতে গোপনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিলন ভূঁইয়া। তবে কিছুদিন পর তিনি আবার বরিশালে আসা-যাওয়া শুরু করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে মিলন ভূঁইয়া অর্থ সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে এবং ভারতে অবস্থানরত প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগ্রহ করা ওই অর্থের একটি অংশ বরিশালে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ ও অল্প বয়সী ছেলেদের সংগঠিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

তাদের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গভীর রাত অথবা ভোরের দিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী নন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং ওই অর্থ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক আশীর্বাদে মিলন ভূঁইয়া জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বরিশাল নগরীর আইন কলেজ ও হাসপাতাল রোড এলাকায় মিলন ভূঁইয়া ও তার ঘনিষ্ঠরা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, সে সময় রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মিলন ভূঁইয়ার ছোট ভাই সুজন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও এলাকার মানুষকে বিভিন্ন সময় অপমান-অপদস্থ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। নেশার টাকা না পেলে স্থানীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং অশালীন আচরণের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুজন ভূঁইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইন কলেজ ও হাসপাতাল রোড এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা।

তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি মিলন ভূঁইয়া বরিশালে আসা-যাওয়া শুরু করার পর তার ছোট ভাইয়ের আচরণ নিয়ে এলাকায় আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন কলেজ এলাকার এক জুতার দোকান ব্যবসায়ী তালাশ বিডিকে বলেন,

“৫ আগস্টের পর আমরা মোটামুটি ভালোই ছিলাম। কিন্তু এখন আবার মিলন ভূঁইয়ার ছোট ভাইয়ের আচরণে আমরা অতিষ্ঠ। আমাদের ধারণা, মিলন ভূঁইয়া বিভিন্ন উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে তার ভাইকে আমাদের ওপর প্রভাব খাটাতে উৎসাহিত করছেন।”

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতি এখনও স্থানীয়দের মনে রয়েছে। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগ করতে ভয় পান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে মিলন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই অনিচ্ছুক। তাদের আশঙ্কা, অভিযোগ করলে আবারও নানা ধরনের হয়রানি কিংবা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।

 হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগাযোগের অভিযোগ

মিলন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকা কিংবা বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

## স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রকাশ্যে চলাফেরা কীভাবে?

এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অনেক প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন, কেউ কেউ আত্মগোপনে আছেন এবং অনেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে মিলন ভূঁইয়ার মতো একজন সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে প্রকাশ্যে বরিশালে চলাফেরা করছেন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—সে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি, নির্যাতন কিংবা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন, মিলন ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরাও স্থানীয়ভাবে এমন অভিযোগের মধ্যে ছিলেন বলে দাবি করেছেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা।

## মায়ের অভিযোগ ও পারিবারিক বিরোধ

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল আইন কলেজ কম্পাউন্ড এলাকার ভূঁইয়া পরিবারের সদস্য মিলন ভূঁইয়া ও তার ভাই সুজন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধা মা এবং ছোট ভাই সজলকে নির্যাতন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

তাদের মা সে সময় গণমাধ্যমের কাছে তার দুই ছেলে মিলন ভূঁইয়া ও সুজন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন বলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক সম্পত্তি ও অন্যান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রী সাবেরা বেগম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সজল ও তাদের বৃদ্ধা মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একটি অডিও রেকর্ড সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই অডিও রেকর্ডের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

## বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা

এসব অভিযোগের বিষয়ে মিলন ভূঁইয়ার বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডির পক্ষ থেকে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বক্তব্য দিলে তা যথাযথভাবে এই প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

## পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কার্যালয়ের এসপি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তালাশ বিডি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন,

“আপনারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেন। আমরা বিষয়টি দেখব এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীর ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা, সাথে কথা বলে সংবাদ তৈরি করা হয়েছে। মিলন ভূঁইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয়েন্ট স্টকে ঘুষ ছাড়া নাই কোনো কাজ, একেএম নূরুন্নবীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রনি সিকদার, বিশেষ প্রতিনিধি

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ পি.এম


জয়েন্ট স্টকে ঘুষ ছাড়া নাই কোনো কাজ, একেএম নূরুন্নবীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ

 অভিযোগ সূত্রে পাওয়া গেছে,ভুক্তভোগীরা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারের উপাধি দিয়েছে একেএম নূরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি। বিভিন্ন সূত্র বলছে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী গত ২ বছরে দুর্নীতি করে কমপক্ষে ২ শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী নুরুন্নবীকে অপকর্মে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।

টাকা দিলে নতুন কোম্পানি বা সোসাইটি কিংবা সংগঠনের সরকারি নিবন্ধন পাওয়া যায় একদিনে। আবেদন দেয়ার একদিন পরেই ১ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিলে পাওয়া যায় সংস্থা বা কোম্পানির অনুমতি। তবে ঘুষ না দিলে যতই নিয়মতান্ত্রিক হোক কিংবা আবেদনকারী ক্ষমতাধর হোক কাউকে নিবন্ধন দেবে না রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী। এতেই ভুক্তভোগীরা যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেসির অফিস ভবন বা টিসিবি ভবনের দেয়ালে পোস্টারিং করেছে “রেজিস্টার একেএম নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি”। গতকাল সকালে পোস্টার দেখা গেলেও দুপুরে দেয়াল থেকে উধাও হয়েছে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ছড়ানো পোস্টার।

টিসিবি ভবন ১ নং কারওয়ান বাজারে বসেন দুর্নীতির এই মহাকবি। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তিনি দুর্নীতি করেও হয়েছেন নাম্বার ওয়ান (১ নং)। তার কার্যালয়ের প্রায় সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারি সেবা দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ টাকা ঘুষ লেনদেনের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে, জয়েন্ট স্টকের সৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকের সাথে সরাসরি টাকা লেনদেন না করে, দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকে। ১নং কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনে বহু সরকারি বেসরকারি অফিসের ব্যবহারের জন্য বৃহৎ ৪টি লিফট থাকলেও শত-শত দালাল লাইন দিয়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে চলাচল করে লিফটগুলো সর্বদা ব্যস্ত রাখে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে সিঁড়ি দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

টিসিবি ভবনের নিচ তলা ও তার আশেপাশে কাব্যকস ভবন, তাজ ম্যানশন, এসি ভবন ছাড়াও কম্পিউটার নিয়ে ছড়িয়ে থাকা শতশত দালাল বসে থাকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেয়ার জন্য। দোকানের সামনে ঝুলে থাকা ব্যানারে লেখা আছে; “জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন কনসালটেন্ট ফার্ম”। টিসিবি ভবনের পেছনে পেট্রোবাংলা গলি বা কাঠপট্টির গলিতে এসি ভবন ৩/বি ঠিকানায় বসে সোহাগ ভুঁইয়া। সোহাগ ভুঁইয়ার বসার স্থান একটি যতটুকু তাতে ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের চেয়ার বসবে কোনোরকমে। তার ছোট্ট একটি চেয়ার ও কম্পিউটার নিয়ে বসার স্থান সামনে পেছনে এক গজ জায়গায় হবে। তার ভিজিটিং কার্ডে লেখা রয়েছে তিনি সিএফ কনসালটেন্সির উপদেষ্টা।

ভবনের গলিতে মানুষ চলাচল করলে এই উপদেষ্টার বসার চেয়ারে ধাক্কা লাগে। উপদেষ্টা সোহাগ ভুঁইয়া সেই স্থানে বসতে মাসিক ভাড়া দেয় ৩৫ হাজার। এর পরে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের টাকা দেয়া ছাড়াও অন্যান্য খরচ করতে হয় তাকে। সোহাগ ভুঁইয়া বলেছেন তিনি ইউনুস সরকারের (ইন্টেরিম সরকার) শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কয়েকশো সোসাইটি ও কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নেয়ার আবেদন করিয়েছে। চোর, ডাকাত, মাদকাসক্ত, চোরাকারবারি, ছিনতাইকারী, পলাতক আসামি, খুনি, বখাটে, হিরোইনখোর, (নতুন ভোটার হয়েছে এমন) নানাপ্রকার কিশোর অপরাধীরা নামে-বেনামে কোম্পানি ও সংগঠন রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিয়েছে। সোহাগ ভুঁইয়ার বিকাশ নাম্বার চেক করলে বের হবে কত লাখ টাকা লেনদেন হয় মাসে।

সোহাগ ভুঁইয়ার মতো শতশত দালাল ওঁৎ পেতে বসে আছে কম্পিউটার নিয়ে, নানাবিধ কনসালটেন্সি ফার্মের নাম দিয়ে। তাদের বক্তব্য গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই যাচাই-বাছাই করে না এই সুযোগ গ্রহণ করছে জয়েন্ট স্টকের লোকসহ সকলে। সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে জয়েন্ট স্টকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আবেদন দেয়ার সাথে সাথেই রেজিস্ট্রেশন। শুধু দরকার হবে নগদ টাকা। সোহাগ ভুঁইয়ার মতো শতশত উপদেষ্টা, পরিচালক, এমডি, প্রোপ্রাইটর পরিচয় দিয়ে একটি গঠনতন্ত্র সকল মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। শুধু সোসাইটি বা কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে মালিকানা সংশোধন এবং উদ্যোক্তাদের নাম ছবি পরিচয় পরিবর্তন করেই নতুন সংস্থা বা কোম্পানির কাগজ তৈরি করে আবেদন জমা দেয়। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা করে দিতে এই কম্পিউটার অপারেটারদের ক্ষমতা লক্ষণীয়। তারা চাইলে এক দিনের মধ্যেই রেজিস্ট্রেশন হয়। বেশি দিন লাগলে সর্বোচ্চ দুই দিন। নামের ছাড়পত্রের জন্য ২৩ শত এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকারি ফি ১৮ হাজার, মোট ২০ হাজার পাঁচ শত খরচ। সোসাইটির গঠনতন্ত্র ও কমিটির নাম ছবি সাজিয়ে দিতে কম্পিউটার অপারেটরেরা গ্রাহকদের নিকট থেকে নেয় ১৫ হাজার। টোটাল খরচ ৩৫ হাজার। ১৫ হাজার টাকা নিয়ে এক ঘণ্টায় কাজ কমপ্লিট করে। ১৫ হাজার টাকার এই কাজ অন্য কোথাও করলে খরচ হওয়ার কথা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।

কম্পিউটার অপারেটর সোহাগ ভুঁইয়ার জবানবন্দিতে জানা যায় তিনি “বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি” নামের একটি সংস্থার অনুমতি এনে দিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের সাথে যুক্ত হয়। সোহাগ ভুঁইয়া নিজে ওই সংস্থার সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জয়েন্ট স্টকে রেজিস্টেশনের জন্য আবেদন জমা দেয়। ২০২৬৩৯৭৩২৭ আবেদনটির সাবমিট নাম্বার। রেজিস্ট্রারের নিকট থেকে সংস্থাটির রেজিস্ট্রেশন এনে দিতে পারবে এমন একজন সাংবাদিকের সাথে সোহাগ ভুঁইয়া কন্টাক্ট করে ৪০ হাজার টাকায়। বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি নামের ওই সংস্থা অনুমতি নেয়ার ব্যাপারে করা কন্টাক্ট ২দিন পরেই প্রত্যাহার করে সোহাগ ভুঁইয়া ওই সাংবাদিককে জানায় লাইসেন্স হয়ে গেছে। জুলাই এর ২ তারিখ বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি জয়েন্ট স্টকের কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজ উদ্দিনের টেবিলে পরীক্ষাধীন ছিল। রিয়াজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় তার টেবিল থেকে ফরোয়ার্ড করে যথাযথ কর্মকর্তার কাছে দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির অনুমতিতে কোন ঘুষ লেনদেন হওয়ার ব্যাপারে এই কম্পিউটার অপারেটার কোন মন্তব্য করতে চায়নি।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য ; সজল নামের নারায়ণগঞ্জের একজন বাসিন্দার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বলেন তার জন্মস্থান এলাকা বরিশালের একটি গ্রামীণ উন্নয়ন সোসাইটির রেজিস্ট্রেশনের জন্য তিনি এসে বহুরকম হয়রানির শিকার হয়েছেন। এক পর্যায়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধকের সহকারী খায়েরকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তার সোসাইটি অনুমোদন পেয়েছে। ঘুষ নেয়ার অভিযোগের সত্যতা জানতে জয়েন্ট স্টেকের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ আবুল খায়ের (পিএ টু রেজিস্ট্রার) কোন মন্তব্য করেনি। তার হটসঅ্যাপে টেক্সট দিয়ে উত্তর জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে। একই দিনে মোঃ শামসুদ্দিন শামস নামের আরো একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এরা এক হাতে টাকা নেয় অন্য হাতে রেজিস্ট্রেশন দেয়। নিবন্ধক একেএম নূরুন্নবী কবির, রণজিৎ কুমার রায় উপ নিবন্ধক, যাদব কুমার পোদ্দার সহকারী নিবন্ধক, আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার ছাড়াও কয়েকজন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন শামসের কাছে সরাসরি টাকা চেয়ে বলেন, টাকা ছাড়া আসলে কোন সোসাইটি বা সংস্থার অনুমতি হয় না। রেজিস্ট্রার স্যারের নির্ধারিত খাম রাখতে হয়, এর পরেই রেজিস্ট্রেশন। লেনদেন কম বা চাহিদা মাফিক না হওয়ায় এক পর্যায়ে শামসুদ্দিন শামসের সাথে আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। এই ভুক্তভোগী বলেছেন, তার সোসাইটির অনুমতির জন্য তিনি হাইকোর্ট যাবেন এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত ও বিচার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অবহিত করবেন।

খুঁটির জোর: মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম বলেন মন্ত্রণালয়ের অনেকেই জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষের অংশ গ্রহণ করে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে টাকা দিলেই কোম্পানি বা সংস্থা অনুমতির জন্য ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের শুরু থেকে তার সংগঠনের অনুমোদন পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করে অনুমতির জন্য। মন্ত্রী ও সচিব এবং টিও শাখার মহাপরিচালক সকলের কাছে যেতে যেতে বহু হয়রানি হওয়ার এক পর্যায়ে টিও শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি পত্র পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম। চার মাস হয়রানির পরে পাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে- জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে। জয়েন্ট স্টক রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী তার সহকারী আবুল খায়েরকে দেখিয়ে ফয়সাল আলমকে বলেন তার সাথে যোগাযোগ রাখতে। পরের দিন আবুল খায়ের ১৪ লাখ টাকা চেয়ে ফয়সাল আলমকে জানিয়েছে আগামীকাল আপনার ফাউন্ডেশন রেজিস্ট্রেশন হবে। এতে বিস্মিত হয়ে ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি নিয়ে গেলাম, রেজিস্ট্রার মন্ত্রণালয়ের চিঠি গুরুত্ব দিলো না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সভায় উপস্থাপন করলে পরে খারিজ হয়ে যায়। টাকা দিয়ে সংস্থা অনুমতি নিতে আগ্রহী নয় তার কমিটির সদস্যরা।

১৪ লাখে সোসাইটির নিবন্ধন দেয়ার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করেন ফয়সাল আলম। আবেদনের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যাওয়া অনুরোধ করলে ফয়সাল আলম ওই রেজিস্ট্রারের সহযোগিতা চায়। একদিন পরে ফয়সাল আলমকে ফোন করে রেজিস্ট্রার বলে, আপনার নামে অন্য এক সাংবাদিক অভিযোগ দিয়েছে তাই আপনার সংগঠন অনুমতি পেতে বিলম্ব হবে। এর পরের দিন আবু তালেব নামের একজন লোক এই সংস্থার অনুমতি দিতে পারবে বলে ১৪ লাখ টাকা দাবি করে। জয়েন্ট স্টকের পাশে “কাব্যকস” নামের একটি ভবনে আবু তালেবের অফিস রয়েছে। জয়েন্ট স্টক থেকে কোম্পানির অনুমতি পাইয়ে দিতে ক্লায়েন্টকে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন এই আবু তালেব। ফয়সাল আলম বলছেন জয়েন্ট স্টকের চারপাশে এরকম শতাধিক আবু তালেব আছে, যারা রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর ঘুষ লেনদেনের সহযোগিতা করার জন্য অফিস খুলে বসছে। ফয়সাল আলম নিশ্চয়তা দিয়ে অভিযোগ পুনঃব্যক্ত করেছেন; রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী ইশারা ইঙ্গিতে টাকা চেয়েছে।

ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখার ডিজি যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দারকে নজরদারি করেছি তিন মাসের বেশি সময়। পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সচিব দুর্নীতি করবেই এটা স্বাভাবিক। তবে তাকে নানাভাবে দুর্নীতির পথ দেখায় আশেপাশের কর্মচারীরা। সচিবের দুর্নীতির বড় সহায়তাকারী হচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। বাণিজ্য সংগঠনের অনুমতি নিতে আসা লোকজনের নিকট থেকে এই মহাপরিচালক নানারূপের সুবিধা ও সহায়তা গ্রহণ করে। ফয়সাল আলম বলেন, তিনি সরকারের অসৎ কর্মচারী। তার দুর্নীতির পাল্লা খুবই ভার। তিনি রাষ্ট্রের সামান্য কর্মচারী হয়েও সর্বক্ষণ তার অফিস কক্ষ ভেতর থেকে লক করে রাখে। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এরিয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রয়েছে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। সেখানে একজন সামান্য যুগ্মসচিব নিজের কক্ষে ভেতর থেকে তালা দিয়ে রাখে। নাজমুল নামের একজন অফিস সহকারী মহাপরিচালকের কক্ষের দরজায় দাঁড়ানো থাকে সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মীর স্টাইলে। এমন স্টাইলে দেখা যায় না কোন সচিবের নিরাপত্তা কর্মীকেও। মন্ত্রণালয়ে আরো শতাধিক যুগ্মসচিব আছে। সকলের কক্ষ সর্বসাধারণের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই খোলা দেখা যায়। সেখানে প্রবেশ করা যায়, সেবা নেয়া যায়। কিন্তু এই মহাপরিচালক নিশ্চয়ই মহাদুর্নীতি করে আত্মরক্ষার জন্য এভাবে অফিস রুদ্ধ করে রাখে। কিছুদিন আগে তিনি এক মাসের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন। কি কারণে এই দীর্ঘ ছুটিতে ছিলো সেই সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না।

এ ব্যাপারটা তার মন্তব্য নিতে মহাপরিচালক মোস্তফা জামাল হায়দারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তার কক্ষে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ থাকায় তার সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইলে কল করলেও তিনি পরে কল ব্যাক করবেন বলে সক্রিয় টেক্সট দেন। কিন্তু পরে আর কথা বলেন না।

রেজিস্ট্রারের বক্তব্য : টাকা নিয়ে সনদ কোম্পানি বা সোসাইটির অনুমতি দেয়ার অভিযোগ নিয়ে ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন; “আজ আমার চাকুরি জীবনের শেষ বৃহস্পতি। আপনি আরো কয়েকদিন ফোন করেছিলেন, ধরতে পারিনি অফিসে খুব বিজি থাকি। এই মুহুর্তে আমার সামনে ১০ লোক, ২টি হাত দিয়ে কাজ করি আরো ২টি হাত বেশি থাকলে আরেকটু বেশি কাজ করতে পারতাম। আমি আগামী রবিবার অফিস করবো না। সোমবার আসবো, সেদিন আপনি আসেন”। পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী সরকারি চাকুরি থেকে অবসরে যাবেন। সূত্র বলছে, অবসরের সাথে সাথেই তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিছুদিন আগে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল কাগজ হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এ, কে, এম, নূরুন্নবী কবির (৫৮), পিতা: মোঃ জয়েন উদ্দিন, মাতা: মোসাঃ নুরজাহান বেগম, ঠিকানা (বর্তমান)-কাওরান বাজার টিসিবি ভবন, গ্রাম-কাওরান বাজার, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড-ওয়ার্ড নং-নতুন-২৬ (পুরাতন-৩৯), থানা-তেজগাঁও, জেলা-ঢাকা। এস.এস.সি, সাল ১৯৮২, রোল নং – ৫৯৯০৯, রেজি: নং – ৪১২৫৯, এইচ.এস.সি সাল ১৯৮৪, রোল নং-১২৯২৬, রেজি: নং- ২৪১৪ উভয় ঢাকা বোর্ড এবং বি.এস.সি. (সম্মান), রসায়ন বিভাগ, সাল-১৯৮৭ এবং এম.এস.সি. সাল-১৯৮৮, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তেজগাঁও থানা জিডি নং: ১৮৬৯ তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬। তার সরকারি সার্ভিস আইডি নং ৫৯১৪ ভোটার আইডি 19675611076707257

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরের এক কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলছেন, জয়েন্ট স্টকের এ.সি.আর অত্যন্ত অসন্তোষজনক। কোন পক্ষ যদি মন্ত্রী পরিষদের কাছে অভিযোগ দেয় তা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হতে পারে। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এ.সি.আর) হচ্ছে কোনো সরকারি কর্মচারীর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করে তার অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রদত্ত প্রতিবেদন। শুধু কর্মদক্ষতা মূল্যায়নই নয়, এতে তার আচরণ, চরিত্র এবং সততা সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হয়।

জয়েন্ট স্টকে কর্মরত আইনজীবী ও স্টেক হোল্ডাররা উক্ত দুর্নীতিবাজ রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরসহ আরজেএসসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%