১০:৪২ পি.এম
রাজশাহীতে কিছুক্ষণ ভারী বৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় রাজশাহী সাহেববাজার বানিজ্যিক এলাকা, মহানহরীর বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রামেক হাসপাতালের সামনের সড়ক। এর ফলে নগরবাসী, সাধারণ পথচারী, রামেকে আগত রোগী, তাঁদের স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক দফা এলাকাটি উঁচু করা হয়েছে, তবে নর্দমার (ড্রেনেজ) ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। একই অবস্থা সাহেববাজার বড়মসজিদ এলাকার।
মঙ্গলবার বিকেলে টানা বৃষ্টির পর সাহেববাজার এলাকা এবং মহাসpitalের জরুরি বিভাগের সামনে ও প্রধান ফটকসংলগ্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। নিচু এলাকা হওয়ার কারণে আশপাশের বৃষ্টির পানিও সেখানে জমা হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে পানি নামতে দেখা যায়নি এবং সন্ধ্যা সাতটার দিকে সেখানেও পানি ছিল।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে বাইরে আসা এবং হাসপাতালে প্রবেশ করা রোগী ও স্বজনদের কাপড় গুটিয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়াও হয়েছে পানি মাড়িয়ে। কিছু লোককে পানিতে পিছলে পড়তেও দেখা গেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসা মাসুম আলী জানান, এটি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের সামনে পানি জমে যায়।
রোগী দেখতে আসা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, পুরো সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় হাসপাতলে পৌঁছাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং বছরের পর বছর একই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
সাহেববাজার কাপড়পট্রির মোঃ সাহেব আলী উল্লেখ করেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বড়মসজিদের সামনে সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকায় পথচারী ও মসজিদে আসা মুসল্লিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তিনি আরও জানান, রাজশাহী শহরকে বলা হতো পুকুরের শহর। বর্তমানে এই শহরে পুকুর শূণের কোঠায়। এই সুখী, শান্তির নগরী থেকে পুকুর, মাইঠ্যাল ভরাট করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এবং এই ভরাট কাজগুলোর জন্য কিছু অসাধু নেতা, পাতি নেতা, ভূমি দস্যুরা গত ১৫/২০ বছরে সবচেয়ে বেশি দায়ী।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ জানান, হাসপাতালের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতার সমস্যা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে অন্তত দুই থেকে তিন দফা সড়ক উঁচু করা হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টির সময় এখনো পানি জমে। হাসপাতালের কিছু নিজস্ব নর্দমা থাকলেও সেগুলো সিটি করপোরেশনের নর্দমা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত। এজন্য স্থায়ী সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ড্রেনে ময়লা বা পলিথিন জমে থাকলে তা পরিষ্কারের জন্য সিটি করপোরেশনকে জানানো হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের সামনের অংশ আরও উঁচু করা যায় কি না সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে একই বৃষ্টিতে রাজশাহী নগরীর, লক্ষ্ণীপুর, বাকির মোড়, ডিঙ্গাডোবা ও বহরমপুরসহ কয়েকটি নিচু এলাকায়ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন জানিয়েছেন, হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠে। উচ্ছেদের পরও তারা আবার বসে এবং নর্দমায় ময়লা-আবর্জনা ফেলায় অনেক সময় পানিনিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাঁর দাবি, সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যায়। নগরীর পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল ও পরিষ্কার রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন