নীলফামারী:প্রতিনিধি রায়হান আলী
০৬:৪০ পি.এম
❝বাহান্ন সন ফুরফুরে মন আয়রে ছুটে আয়,
সম্ভাবনার জোছনা আনি আঁধার দুনিয়ায়।❞
—এই বর্ণিল শ্লোগান ও উদ্দীপনাময় আমেজের মধ্য দিয়ে নীলফামারীতে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন 'ফুলকুঁড়ি আসর'-এর ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে ফুলকুঁড়ি আসর নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে শিশু-কিশোর সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতিফ। প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিতুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় কিশোর থিয়েটার পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মুনতাসির এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী কিশলয় পরিচালক মাহবুব নাজিম।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা শাখার উপদেষ্টা সদস্য মুর্শেদ আলম, প্রাক্তন পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান, হোসেন আলী, কাওসার আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ফুলকুঁড়ি আসর নীলফামারী জেলা শাখার পরিচালক শাকিল আহমেদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসাইনের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সমাবেশে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত তিন শতাধিক শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০০ জন শিশু-কিশোরের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। পরবর্তীতে শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় এক আনন্দঘন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর 'একতা, শিক্ষা, চরিত্র, স্বাস্থ্য ও সেবা'—এই পাঁচটি মূলনীতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয় ফুলকুঁড়ি আসর। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি দেশব্যাপী শিশু-কিশোরদের মেধা, মননশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের বাগবাড়ী মোড় থেকে চাপড়িহাট পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। প্রায় এক বছর আগে সড়কটিতে ইটের খোয়া ফেলা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কারকাজ না হওয়ায় সড়কটি এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটিতে ইটের খোয়া ফেলে কাজ বন্ধ রাখায় যানবাহন চলাচলের সময় এবং বাতাসে চারদিকে লাল ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সড়কের দুই পাশের বাড়িঘরে ধুলাবালি প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র, খাবার ও কাপড়চোপড় পর্যন্ত লালচে হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত ধুলাবালির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট ও ধুলাবালিজনিত নানা স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের চালকদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে সড়কটির অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থার অবসান না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
তাই বাগবাড়ী মোড় থেকে চাপড়িহাট পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণ বা সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিয়মিত চলাচলকারী পথচারীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ৩৭ জনের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বের একটি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৩৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। থানাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা এলাকায় সাতজন, কোম্পানীগঞ্জে পাঁচজন, কবিরহাটে চারজন, বেগমগঞ্জে পাঁচজন, সেনবাগে দুজন, সোনাইমুড়ীতে সাতজন, চরজব্বরে তিনজন এবং হাতিয়ায় চারজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
--
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি ঐতিহাসিক ‘সার্বভৌমত্ব র্যালি’ আয়োজন করেছে। এই র্যালিতে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন হেঁটে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টার পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে র্যালির উদ্বোধন করেন। র্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট অতিক্রম করে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
দুপুর গড়াতেই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন এলাকায় সমবেত হন, যা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শুরুর আগে বিকেল পৌনে ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কার্যালয়ের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি এবার খোলা মাঠে নির্বিঘ্নে দিবসটি পালন করছে। বিগত সরকারের সময় দিবসটি নিয়ে অপপ্রচার ও ইতিহাস বিকৃতির কারণে নতুন প্রজন্ম এর সঠিক গুরুত্ব থেকে বঞ্চিত ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দিবসটির সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
র্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিশিষ্ট নেতা আমানুল্লাহ আমান ও ড. ফরহাদ হালিম ডোনার।
এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।
র্যালিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি ছাড়াও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ