রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩০ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাজশাহীর এক ব্যবসায়ীর কোটি টাকা মূল্যের ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির প্রধান আসামি পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ২০ ভরি স্বর্ণ।
শনিবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম মামলাটি দায়ের করেন। কনস্টেবল জাকিরকে মামলার এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর ভগিনীপতি মোহাম্মদ আলী এবং তার ছেলে নয়নও মামলায় আসামি হয়েছেন। এছাড়া, আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরস্পরের সহযোগিতায় কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দায়ের হওয়ার পর শনিবার রাতেই কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং বাদীর ভগিনীপতি মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলার পুলিশ মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের রিমান্ডের আবেদনও আদালতে জমা দিয়েছেন।
গ্রেফতারের পর কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর শ্যামপুর গ্রামে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরাপাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহীর ব্যবসায়ী নিঝুম ৮ আগস্ট ৪০ ভরি স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরের জন্য মোহাম্মদ আলীকে পাঠান। ঘটনার দিন বিকালে কনস্টেবল জাকির সাদা পোশাকে স্বর্ণ ছিনতাই করেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে কনস্টেবল জাকিরকে শনাক্ত করা হয়।
জাকিরের সঙ্গে মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়নের ফোনালাপের কলরেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণ ছিনতাই করেন। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার মোহাম্মদ আলী পুলিশকে ২০ ভরি স্বর্ণ দেওয়ার সময় জানিয়েছেন যে, বাকি ২০ ভরি স্বর্ণ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে রয়েছে। তিনি স্বর্ণের চালানটি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জাকিরকে আগে থেকেই জানিয়েছিলেন। কিভাবে ছিনতাই করতে হবে তাও বলেছিলেন। এই ছিনতাই পরিকল্পনায় তার ছেলে নয়নও জড়িত ছিল। স্বর্ণ হস্তান্তরের সময় জাকির অভিযানের নামে ওই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেন। ঘটনার রাতেই তারা ৪০ ভরি স্বর্ণ ২০ ভরি করে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলী।
এদিকে ঘটনার দিন সিসি ক্যামেরার ফুটেজে জাকির হোসেনসহ দুজনকে তার অ্যাপাচি মোটরসাইকেল নিয়ে কালিনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায়। ঘটনার দিন, আগের দিন ও পরদিন মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়ন সঙ্গে অসংখ্যবার মোবাইলে কথা হয়েছে জাকিরের। এর মধ্যে ঘটনার দুই দিন আগে ৬ আগস্ট জাকির নয়নের মোবাইল নম্বরে ১০ বার কথা বলেছেন। আগের দিন ৭ আগস্ট একই নম্বরে জাকির ২৫ বার কথা বলেছেন। ঘটনার দিন মোহাম্মদ আলীর নম্বরেও জাকির কথা বলেছেন ৭ বার। ঘটনার দিন ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মোবাইলে কথা হয়েছে ১০ বার। একই দিন নয়নের বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের কথা হয়েছে ১১ বার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ রোববার দুপুরে জানিয়েছেন, জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাহক মোহাম্মদ আলী স্বর্ণ বের করে দিলেও কনস্টেবল জাকির এখনো দেননি। পুলিশ এই স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ‘কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই করে লম্বা ছুটিতে কনস্টেবল জাকির’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে তল্লাশি শেষে ৪৭২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬৪ জন বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় পরিচালিত মেগা অভিযানে এই চিত্র উঠে এসেছে। আটক বিদেশিদের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ বাংলাদেশি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সি ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী।
আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশিদের সংখ্যা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।
অভিবাসন বিভাগের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক পরিচালক দাতুক হামশা ইঞ্জাউ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান চলাকালীন লেবুহ পুডুতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আইন প্রয়োগকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকজনের ধস্তাধস্তিও ঘটে। কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের আবাসিক স্থাপনা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সেগুলোর তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে ভবনের ওপরের তলায় সন্দেহজনক কয়েকটি স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, এগুলো পতিতাবৃত্তির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এছাড়া বিদেশিদের কাছে অবৈধ ওষুধ বিক্রি করা হয় এমন একটি দোকানও শনাক্ত করা হয়েছে।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই লেবুহ পুডু ও কোতারায়ার কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। কয়েকজন বিদেশি নিজেদের আড়াল করতে মুদ্রা বিনিময়কেন্দ্রে সাধারণ গ্রাহক সেজে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।
অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ বলেন, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। তাদের অনেকের বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি রয়েছে। তবে এবারের অভিযানে তল্লাশি করা ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
এক অভিযানে ৪৭২ বিদেশির মধ্যে ৩৬৪ বাংলাদেশি এই পরিসংখ্যানই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কাগজপত্রের ঘাটতি, অতিরিক্ত অবস্থান কিংবা অন্যান্য অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কেন একই এলাকায় পাওয়া গেল তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের বৈধতা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ছে। তার মধ্যেই লেবুহ পুডুর এই অভিযান বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হাসান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "এই যে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মেরেছেন, এ দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছেন এবং মেগা প্রকল্পের নামে ডাকাতি করেছেন- সেগুলোর হিসাব অবশ্যই বাংলার মাটিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "যদি সাহস থাকে আপনারা আইন আদালতের মাধ্যমে সেগুলোর মুখোমুখি হন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "তাহলে তো পালিয়ে থাকার দরকার নাই, অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়ার তো দরকার পড়ে না।"
রোববার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. জাহিদ হাসান বলেন, "উনারা বুঝতে পারেন- দেশের অবস্থান আজ কোথায়।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "সেজন্য উনারা এআইয়ের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াতে বা বিভিন্নভাবে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে।" তিনি বলেন, "কোনো সময় সারের নামে, কোনো সময় বিদ্যুতের নামে এবং কোনো সময় অন্য ইস্যুতে একটি মব কালচার সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্টের অপচেষ্টা করছে; কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এসব মেনে নেবে না।" তিনি যোগ করেন, "দলীয়ভাবে শুধু প্রতিহত নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "১৭ বছর এ দেশের মানুষ অনির্বাচিত সরকার দেখেছে। রাতের সরকার দেখেছে, বিনা ভোটের সরকার দেখেছে এবং ডামি নির্বাচনের সরকার দেখেছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন, "তাদের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না।" তিনি বলেন, "তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষের ওপর এমন নির্যাতন করেছে যে, তাদের দেশে থাকার মতো কোনো সাহস ছিল না।"
তিনি আরও বলেন, "ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে যত স্বৈরাচার শাসনই উনারা করুন না কেন, বিএনপি কিন্তু এ দেশে থেকে এই দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সব সময় মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের শত শত নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে; তারপরও বিএনপির কোনো নেতাকর্মী দলের প্রতি আনুগত্যের কমতি দেখানি।"
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় যোগ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিন বিচারকের আদালত বর্জনের পর জেলা আইনজীবী সমিতি তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সমিতির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি না মানলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বিচারকদের প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সহকারী সিভিল জজ শম্পা ইসলামের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ফলস্বরূপ গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রায় সাড়ে ৪শ আইনজীবীর উপস্থিতিতে বারের জরুরি সাধারণ সভায় তাদের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এরপর বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে বিষয়গুলো সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি।
শামছুল ইসলাম মন্টু অভিযোগ করেন, ওই তিন বিচারক আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন এবং ভয় দেখিয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আইনজীবীরা এসব হুমকিতে ভয় পান না।
তিনি বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে আন্দোলন করে আইনজীবীরা বর্তমান পর্যায়ে এসেছেন। আইনজীবীরা বিচারপ্রার্থীদের পক্ষে বিচারকদের সঙ্গে কথা বলেন; এতে তাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।
বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আইনজীবীরা এক ও অভিন্ন। কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে পাল্টা কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম মেহেদীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সাল, সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সেলিম আকবর, সিনিয়র আইনজীবী মো. ইব্রাহীম, এটিএম মোস্তফা কামাল, হুমায়ুন কবির, এমরান হোসেন, জিপি এজেডএম রফিকুল হাসান রিপন, হারুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট নুরুল আলম খান আকাশ, কাদের খান, শামীম হোসেন, হেদায়েত উল্যাহ, নাজিম উল্লাহ বাপ্পি, আজহার ও আলম খান মঞ্জু।
সভায় বক্তারা বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আলোচনা করে সমাধানের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
প্রতিবাদ সভা শেষে আইনজীবীরা ব্যানার নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আদালত প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার অনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ের যাচাইয়ের পর, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধ করা হবে।
এছাড়া, আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দেওয়া হয়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলোর অবস্থা যাচাইয়ের জন্য রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ২২ জুলাই রাজ্যের সব জেলায় মাদ্রাসাগুলো নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এই সমীক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি অনুমোদন, পরিকাঠামো, পাঠদানের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়।
সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু মাদ্রাসা খারিজি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলছে এবং শিক্ষার্থীদের কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রথম পর্যায়ের সমীক্ষার ভিত্তিতে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ১০০টি মাদ্রাসার পরিকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় নথি ও অনুমোদনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধেও বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদিত এবং অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের ২২টি জেলা থেকে মাদ্রাসাগুলোর প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন রয়েছে এবং নিয়ম মেনে চলছে, সেগুলো চালু থাকবে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে সরকারের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, পরিকাঠামো এবং নিয়ম মেনে পরিচালনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সমীক্ষার পরবর্তী পর্যায়ে আরও কোনো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ