বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:২২ পি.এম
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, অতীতে পরিকল্পিতভাবে মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হতো। কিন্তু গত দুই বছরে দেশে কখনো একটি মন্দিরেও হামলার ঘটনা ঘটেনি, এই দাবি তিনি করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়ায় শ্রী শ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম মনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আগে পূজার সময় বা বিভিন্ন সময়ে কোনো না কোনো মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হতো, প্রতিমার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হতো। এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করা হতো। কিন্তু গত দুই বছরে একটি মন্দিরেও হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমাদের সংখ্যালঘু ভাইদের বলি, কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি এবং অনেকে মন্দির পাহারাও দিয়েছেন।
তিনি নিজ জেলা বরগুনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে হিন্দু ও রাখাইনসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং সেখানেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনীতি করার প্রবণতা সফল হয়নি বলে তার মন্তব্য।
চিফ হুইপ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার পাবেন। হিন্দু যেমন সুবিধা পাবেন, মুসলমানও তেমন সুবিধা পাবেন। সবাই মিলে দেশ গঠন করতে হবে।
রথযাত্রা উপলক্ষে বিকেল ৫টার দিকে মাধব মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে শ্রী শ্রী যশোমাধবের বিগ্রহ রথে স্থাপন করা হয়। পরে রথখোলা মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ মন্দির কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস এবং সঞ্চালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক।
অনুষ্ঠানের শুভক্ষণ শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি পুরোহিতের হাতে প্রতীকী রশি তুলে দেন। এরপর ভক্তরা পাটের রশি ধরে রথ টেনে শ্রী শ্রী যশোমাধবকে যাত্রাবাড়ী মন্দিরে নিয়ে যান। সেখানে নয় দিন অবস্থানের পর আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে বিগ্রহটি পুনরায় মাধব মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। আয়োজনগুলোর মধ্যে ছিল, জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং জুলাই শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া।
বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জিমনেমিয়ামের সামনে স্থাপিত জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে julho শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মখলেসুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রাসুল রাখি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মুকশেদ আলী মঙ্গলিয়া, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দীন আল আজাদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী, এনসিপি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজ জামান, জেলা জাসাসের আহবায়ক আখতারুজ্জামান আখতার, শহিদ সুমন পাটোয়ারির বাবা, জুলাই শহিদ রুদ্রের বাবা সবীর চন্দ্র, ছাত্র প্রতিনিধি মেশকাত আরেফিন শাকিল এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ফরিজার রহমান তপু, "আমরা জুলাই যোদ্ধা" জেলা শাখার আহবায়ক মোঃ শাহিন প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন, যে কোন মূল্যে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জুলাই চেতনা যাতে কোন ভাবেই ব্যাহত না হয় সে দিকের সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, যারা বিগত ১৭ বছর কথা বলতে পারেনি, জুলাই বিপ্লবের কারণে তারা আজ কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। জাতি দেশের সার্বিক পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর দেশে কোন গুণগত পরিবর্তন হয়নি। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলায় তালিকাভুক্ত ২৮১ জন জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধর্মীয় রীতি ও ভাব গম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের বর্ণাঢ্য রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬জুলাই) বিকেলে মধুপুর পৌরসভার শ্রী শ্রী নিত্যানন্দ সেবা ও অনাথ আশ্রম থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আনারস চত্বর ঘুরে পুনরায় আশ্রমে গিয়ে শেষ হয়।
এতে প্রায় হাজার ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন। রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রাধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন বিএনপি সভাপতি জাকির হোসেন সরকার।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন সরকার বলেন, বিএনপি সকল ধর্মাবলম্বী মানুষদেরকে সময গুরুত্ব দেয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বদা সজাগ থাকে। আগেও বিএনপির সকল কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে। এখনো করছে। ভবিষ্যতেও করবে। মধুপুরের এমপি ও মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন নির্দেশনা দিয়েছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠান ধর্মীয় উৎসব সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য। সহযোগিতা করার জন্য। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপনাদের পাশে আছি থাকবো।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মধুপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল মোতালিব, পৌর বিএনপি সহসভাপতি লিলি সরকার, সনাতন ঐক্য পরিষদ মধুপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব সিং টনি, মধুপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন মধুপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান মঞ্জু, পৌর বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান রবিন, পৌর যুবদলের আব্বায়ক সাইফুল ইসলাম সাগর, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন ফকির, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মানিক চন্দ্রসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতের সময় আসামিটি গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন আকন (২৯) চরমোনাই ইউপির ইছাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল আকনের পুত্র।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল-মামুন উল ইসলাম বলেন, গত ১০ জুলাই আনুমানিক ১২/১৩ বছর বয়সী একটি কিশোরীকে তিনজন মিলে গণধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার পর বুধবার দুপুরে কিশোরীর মা থানায় এসে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করে। রাতের সময় মামলার এজাহারনামীয় তিন নম্বর আসামি রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরী তাকে চিহ্নিত করেছে।
মামলায় বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে ঘরে বাইরে বের হওয়া কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে ও চাকু দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রতিবেশি ইলিয়াসের ঘরে দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে ইলিয়াস, সাইদ ও রুহুল আমিন পালাক্রমে কিশোরীকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ধর্ষণ করে। এই ঘটনার সময় কিশোরীর কানে থাকা দুলও তারা ছিনিয়ে নিয়েছে। পরে কিশোরীকে ভোর রাতে বাড়ির পাশে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা উপলক্ষে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ১৬৯তম রথযাত্রা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিনব্যাপী আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকেই সাচার বাজার পরিণত হয় ভক্ত, দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লাখো সনাতন ধর্মাবলম্বীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকালে মন্দিরে পূজা-অর্চনা, প্রণাম ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ভক্তরা ভগবান শ্রীজগন্নাথের আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে প্রার্থনায় অংশ নেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেলে উৎসবের মূল আকর্ষণ রথযাত্রা শুরু হয়। বিকেল ৫টার দিকে পশ্চিম বাজার থেকে পূর্ব বাজার পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী রথটি লাখো ভক্তের সম্মিলিতভাবে রশি টানার মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রায় এগিয়ে যায়। এ সময় চারদিকে ধ্বনিত হতে থাকে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, শঙ্খধ্বনি ও হরিনাম-সংকীর্তন।
রথযাত্রাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সাচার জগন্নাথ ধাম পূজা সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি বটু কৃষ্ণ বসু ও সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সাহা জানান, সাচার বাজারে প্রতিবছরই শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রথযাত্রা উদযাপন করা হয়। এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার ভক্ত অংশ নেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসব সম্পন্ন করতে আয়োজকেরা সকাল থেকেই নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
রথযাত্রা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, কীর্তন, ভক্তিমূলক গান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভক্তরা নিজেদের ও পরিবারের সুখ, শান্তি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ