বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ১১ মাস বয়সী শিশু নাফিজের অপহরণের ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৩৫ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১০টার সময় শিবগঞ্জ উপজেলার হাজারবিঘী এলাকার নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল ১১ মাসের শিশু নাফিজ। তার মা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে প্রতিবন্ধী ভাতিজি শিরিন খাতুন শিশুটিকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। পরে, হাজারবিঘী চাঁদপুর ওয়াকতিয়া মসজিদের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে, বোরখা পরা এক নারী শিরিনের কাছ থেকে শিশুটিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর শিশুটির বাবা রুবেল হোসেন শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে শিবগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সৌরভ কুমার দত্তের নেতৃত্বে ২২ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে সুজিআরা বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার শিবতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মানিকুজ্জামান (৩২) নামে অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যে ওই বাসা থেকেই অপহৃত শিশু নাফিজকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা একটি নিঃসন্তান দম্পতিকে লালন-পালনের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর রহস্য নিয়ে চলমান মামলায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের নিযুক্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ম্যারাডোনার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।
সান ইসিদ্রোর আদালতে চলমান মামলায় শেষ সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে ফেরারি বলেন, ২০২০ সালের নভেম্বরে ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের সময় তার শরীরে কোভিড-১৯-এর উপস্থিতি যাচাই করার জন্য কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। তাই মৃত্যুর সঙ্গে করোনাভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসে নিজ বাড়িতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে তিনি মস্তিষ্কে সাবডিউরাল হেমাটোমার অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন।
ম্যারাডোনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ইতোমধ্যে মামলায় ৭৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
আদালতে ফেরারি উল্লেখ করেন, মহামারির সময় ম্যারাডোনার ময়নাতদন্ত করা হলেও কোভিড পরীক্ষা না হওয়ার কারণে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করা করোনাভাইরাস দ্রুত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে, যা রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্য ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের আইনজীবীদের অবস্থানকে নতুন করে শক্তিশালী করেছে। ম্যারাডোনার প্রধান চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের পক্ষ থেকে এর আগে দাবি করা হয়েছিল, তার ফুসফুসে হঠাৎ তরল জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে তার হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত আটজনের বিচার যখন শেষ পর্যায়ে, তখন আদালতের নিযুক্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্য ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে বাংলাদেশি টাকার উল্লেখযোগ্য শক্তিশালী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য ১১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত এক বছরে এই বৃদ্ধি ৭.৬ শতাংশ হয়েছে।
বিনিময় হার সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকার মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭২ রুপি। ২০২৪ সালের একই দিনে, এক টাকার মূল্য ছিল ০.৭০ রুপি। এর ফলে, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫.৫ পয়সা। ফলে, ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা ৭.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
টাকার শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি বিপরীত হিসাবেও স্পষ্ট। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.২৮ টাকা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল ১.৩৮ টাকা। এর মানে, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় ৯.৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই হিসাবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.১ শতাংশ।
২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১.৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় গত দুই বছরে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ।
বিশেষ করে গত এক বছরের পরিবর্তনটি উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে এক টাকার বিনিময়ে ০.৭২ রুপি পাওয়া যেত, সেখানে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাচ্ছে ০.৭৮ রুপি। এর মানে, ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ টাকা থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, "ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।" বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।
তিনি আরও বলেন, "টাকার মূল্য বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় হবে।" এর ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। একই সঙ্গে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদেরও স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয়ের পরিমাণ কমতে পারে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, "বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের এ পরিবর্তন ভারত থেকে আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়েও প্রভাব ফেলবে।" ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও জানান, "ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পেতে পারেন।" কারণ, এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের মুদ্রা-সংক্রান্ত অংশ তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।
তবে এর প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, "আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।" তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে।
ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে তিনি জানান। তার মতে, "প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে রুপির মূল্য কম থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কমবে।"
তবে তিনি বলেন, "শুধু বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য কিংবা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না।" এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, "বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।" বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) একটি ভারতীয় গরু আটক করেছে। তবে বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে চোরাকারবারিরা গরু রেখে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
বিজিবির সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঝাড়সিংহেশ্বর বিওপির একটি টহলদল সুবেদার মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএসবি ও এসআইপি-এর তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৭৯৫/৫-এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।
এ সময় টহলদল সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালানোর সময় কয়েকজন ব্যক্তিকে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে গবাদিপশু নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখতে পায়। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তিরা গবাদিপশু ফেলে দ্রুত ভারতীয় সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া একটি ভারতীয় গরু উদ্ধার করে। আটক গরুটির আনুমানিক সিজার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক গবাদিপশুটির বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কাস্টমস কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে অবৈধভাবে গবাদিপশু পারাপারসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের টহল ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুরু না হওয়ায় বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সওজ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম তাদের তোপের মুখে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওই আন্দোলনের সময় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কে গর্ত তৈরি হলে তা বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হবে, ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার কথা ছিল।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর একবার গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর ওপর কয়েকটি বড় গর্ত দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনেও ড্রেনে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে প্রায় পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, "কথা ছিল ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করে রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি ১০ নভেম্বরের মধ্যে আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার কথা। কাজের তদারকির জন্য সওজ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রতিনিধি দলও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো কাজই হচ্ছে না। এখনো কোনো কাজের টেন্ডার করা হয়নি। তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে কাজ শুরু হবে—সেটি জানতেই আমরা এসেছি।"
আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, "সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছিলেন, রাস্তায় যতবার গর্ত হবে, ততবার বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হবে। কিন্তু নামমাত্র একবার সংস্কার করে সওজের লোকজন আর কোনো খোঁজ নেয়নি। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কের দুরবস্থার কারণে আমরা মাইশা ও ইয়াসিন আরাফাতকে হারিয়েছি। এখন আর কত মরদেহ হলে এই রাস্তার সংস্কার হবে?"
তিনি আরও বলেন, "লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েই আমরা এসেছি।"
এ বিষয়ে বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, "আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম— ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মাণ ও সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা— সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে অতিশিগগিরই নতুন দরপত্র আহ্বান করে কাজগুলো করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু করতে পারব, তা এখনই বলতে পারছি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ