০৬:০২ পি.এম
পশ্চিবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মহাবিপর্যয়ের পর টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। বিধানসভা ও লোকসভায় ভাঙনে টিএমসি সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন।
‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লিতে অবস্থান করার সময় গুঞ্জন উঠেছে যে শর্ত সাপেক্ষে কংগ্রেসে যোগদান করতে যাচ্ছেন মমতা। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই উভয় দলের শীর্ষস্তরের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি সূত্র জানিয়েছে যে কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি চরম দুঃসময়ে মমতাকে গ্রহণ করে, তাহলে রাজ্যের নেতৃত্ব কি আদৌ সেই সিদ্ধান্তকে মানবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে: নেতানিয়াহুর আহ্বান
রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীরা এতদিন তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে আসছেন, তাহলে তারা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে স্বীকার করবেন? এ প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
প্রদেশের একটি অংশের মতে, মমতাকে দলে নেতার হিসেবে গ্রহণ করা বা এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ধরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এ পরিস্থিতিতে মমতাকে দলে নেওয়া মানে, তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অপশাসনের দায় নিজেদের গায়ে মাখা।
আধিকারিক নেতারা যেমন অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারাও এই দলেই আছেন। আবদুল মান্নান জানান, ‘আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপর আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ অধীরও একই সুরে বলেছেন, ‘যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙেন, সেই মমতাকেই এবার গান্ধী পরিবারের কাছে হাতে-পায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল ভোগ করতে হবেই।’
অপরদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সুর তুলনামূলক নরম। তিনি বলছেন, যদি কেউ দলে আসতে চান, তাহলে আগে তাকে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধীই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ। আরেক প্রবীণ নেতা শুভঙ্কর বলেছেন, ‘রাহুল গান্ধীকে ভাবী প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যাঁরা কংগ্রেসে আসবেন, তাঁদের প্রত্যেককে স্বাগত।’
আরও পড়ুন: মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা
বস্তুত, তৃণমূলে ভাঙন যত বাড়ছে, ততই যেন কংগ্রেসের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একদিন আগে ১০ জনপথে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (১০ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উভয় দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠক হয়েছে। পরপর দুই দিন দুই দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতাদের বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়াচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন