০২:৩৮ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সীমান্তের উপযোগিতা নিয়ে গত ১৬ দিনের মধ্যে ৪ দফায় ৬৪ জন শিশু এবং নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে, বিএসএফের এসব চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর বাধায় প্রতিটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত, বিএসএফকে তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
দফায় দফায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর, বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক এবং শান্ত রয়েছে। যদিও, জেলার প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবি কঠোর নজরদারি, সতর্কতা, ও টহল বাড়িয়েছে। তিনটি ব্যাটালিয়নে জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি, নদী, বিল ও স্থলপথে ড্রোন, বাইনোকুলার এবং রাতের জন্য নাইট ভিশন ক্যামেরা নিয়েও নজরদারি চলছে।
বিজিবির পাশাপাশি, সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠি এবং টর্চলাইট নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। কাঁটাতারবিহীন সীমান্তগুলি দিয়ে পুশ-ইনের সম্ভাবনা এড়াতে এই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পুশইন ঠেকাতে এবং সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত লোক দেখলে দ্রুত খবর দেওয়ার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী গ্রামে গ্রামে মাইকিং এবং মসজিদের মুসল্লিদের সচেতন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুগে যুগে এমপি-মন্ত্রী আসবেন, একজন নজরুলের জন্ম হবে না: জহির উদ্দিন স্বপন
২০ জুন (চৌকা সীমান্ত): গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ২০ জন নারী-পুরুষকে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফের সুখদেবপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। বিজিবির বাধার কারণে প্রায় ৬ ঘণ্টা শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকার পর, অবশেষে তাদের ভারত অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দলে ১১ জন নারী, ৫ জন পুরুষ এবং ৪ জন শিশু ছিল।
১৫ জুন (রোকনপুর সীমান্ত): ওই রাত ১১টার দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়রা ওই নারীকে আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দেয়, এবং তাকে ভারত ফেরত পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ওই নারীকে বাংলাদেশে পুশইনে সহায়তা করার অভিযোগে সীমান্তবর্তী রোকনপুর গ্রামের ৭ জনকে আটক করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিজিবি।
১৩ জুন (রোকনপুর সীমান্ত): দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে, একই সীমান্ত দিয়ে নদীর মাধ্যমে ১৫ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে রাতে ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকায় দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। এই দলে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ৫ জন শিশু ছিল।
৪ জুন (বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত): ভোররাতের দিকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে, বিজিবি বাধা দিলে শূন্যরেখায় ৩ দিন অবস্থান করতে হয় তাদের। পরে বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়। এই দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশু ছিল।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় দেয়ালে ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখলেন নারী শিক্ষার্থীরা, ভিডিও ভাইরাল
বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষায় অন্যায়ভাবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনতাকে নিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা নস্যাৎ করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন