বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:০০ পি.এম
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৮৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মর্মান্তিক এই বিপর্যয়ে বিদেশি নাগরিক ও তীর্থযাত্রীসহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলো থেকে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন শত শত মানুষ।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুর্ঘটনাকবলিত দুর্গম পার্বত্য এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন উদ্ধারকারীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ড্রোনে ধারণ করা চিত্রে দেখা যায়, জীবন বাঁচাতে মানুষের আকুল আত্মচিৎকার ও জীবনপণ দৌড়ঝাঁপ। চোখের পলকে কাদা ও পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে মানুষ, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে ঘরবাড়ি ও পাকা সেতু। নুয়াকোটের একাধিক ভবনের দোতলা পর্যন্ত কাদার পুরু আস্তরণে ঢেকে গেছে। গাছের ডালপালা ও বিদ্যুতের তারে ঝুলে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, আর বহুতল কাঠামোর নিচে কাদার গভীরে চাপা পড়ে আছে একের পর এক যানবাহন।
কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরঞ্জন পৌডিয়াল নিখোঁজ পিতা-মাতা ও স্বজনদের খোঁজে বৃহস্পতিবার ভোরে ছুটে যান নুয়াকোটের সোলি গ্রামে। প্রায় ২৫টি বসতবাড়ি নিয়ে গঠিত এই পুরো গ্রামটি প্রলয়ংকরী বন্যায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হাহাকার ভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, স্বজনদের কোনো হদিস পাচ্ছি না। আশঙ্কা হচ্ছে, তাদের আর কোনো দিন কোনো খবরই পাব না।
অঞ্চলের খাড়া উপত্যকাগুলো দেশটির অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও যোগাযোগের মূল পথ হলেও আকস্মিক এ রূপ পরিবর্তনের মুখে এগুলো এখন ভয়াবহ এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত পানি ও কাদার তীব্র স্রোত নেমে আসায় আত্মরক্ষার সামান্য সুযোগটুকুও পাননি স্থানীয়রা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দুর্গম এলাকাগুলোতে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক নিয়ে নিখোঁজদের খোঁজে দিশেহারা স্বজনেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে আতিকুর রহমান নামে এক সাংবাদিককে মারধর এবং তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি মিছিলটির সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন। তারা তার বিভাগ ও ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। পরে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তাকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। তাদের চাপের মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দেন। এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ফোনে থাকা অন্যান্য ভিডিওও মুছে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আতিকুর আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা ও ভিডিও ধারণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
প্রক্টরের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। তদন্তে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্য নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৬৮ লাখ মার্কিন ডলারের ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম মন্তব্য করেছেন যে, বন্যার কারণে নেপালে বর্তমানে এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জানাচ্ছে, এই সংকটের সময়ে নেপাল সরকারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য এই সহায়তা প্রদান করছে।
এছাড়া, বন্যা পরিস্থিতির মোকাবেলায় ইতোমধ্যে নেপালকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আরও কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে ভাতিজার হাতে হাঁসুয়া দিয়ে চাচাকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার দাধপুরের বাগিচাপাড়ায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে এই ঘটনার ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ইদ্রিস আলী, বয়স ৫০ বছর।
নিহত ইদ্রিস আলী সৈয়দ মন্ডলের ছেলে এবং একই এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় পুলিশ আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আট নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। নিহত ইদ্রিসের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
থানা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সকালে কৃষি কাজের সময় বাবার সামনে ছেলের বিড়ি খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রথমে ইদ্রিস আলীর ছেলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ইদ্রিসের ছেলের পক্ষ নেন ভাতিজা আফজাল হোসেন। এক পর্যায়ে আফজাল হাঁসুয়া দিয়ে ইদ্রিস আলীকে আঘাত করেন।
এতে ইদ্রিস আলীর একটি ঊরুতে মারাত্মক আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানান, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি আহত হয়েছে এবং সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কসাই নুর মোহাম্মদকে (৪২) শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে সুজন সরকারকে (৩৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
হত্যার শিকার নুর মোহাম্মদ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন এবং বড় স্টেশন এলাকায় গরু জবাই ও গোশত বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন সরকার জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের সরকার বাড়ির সুদর্শন আইচ্চাইল্লা সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের বিলের বাড়ির পশ্চিম পাশে ইউনুছ তালুকদারের খালি জমিতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে গ্রাম পুলিশ নিমাই দাস স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেনকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরদিন ৩ মার্চ ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সুজন সরকারকে গ্রেফতার করে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, বড় স্টেশন এলাকায় ব্যবসা করার সুবাদে নুর মোহাম্মদ ও সুজন সরকারের মধ্যে পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করে সুজন নুর মোহাম্মদকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন চন্দ্র দাস তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ জানান, দীর্ঘ ১০ বছরে মামলায় ১৮ জন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত তার উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগে থাকা অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রাজেস মুখার্জী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ