ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ


রাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে আতিকুর রহমান নামে এক সাংবাদিককে মারধর এবং তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি মিছিলটির সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন। তারা তার বিভাগ ও ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। পরে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তাকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। তাদের চাপের মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দেন। এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ফোনে থাকা অন্যান্য ভিডিওও মুছে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে আতিকুর আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা ও ভিডিও ধারণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

প্রক্টরের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। তদন্তে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

 

যুক্তরাজ্য নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৬৮ লাখ মার্কিন ডলারের ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম মন্তব্য করেছেন যে, বন্যার কারণে নেপালে বর্তমানে এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

জানাচ্ছে, এই সংকটের সময়ে নেপাল সরকারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য এই সহায়তা প্রদান করছে।

এছাড়া, বন্যা পরিস্থিতির মোকাবেলায় ইতোমধ্যে নেপালকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আরও কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে ভাতিজার হাতে হাঁসুয়া দিয়ে চাচাকে হত্যা করার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


রাজশাহীতে ভাতিজার হাতে হাঁসুয়া দিয়ে চাচাকে হত্যা করার অভিযোগ

রাজশাহীতে ভাতিজার হাতে হাঁসুয়া দিয়ে চাচাকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার দাধপুরের বাগিচাপাড়ায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে এই ঘটনার ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ইদ্রিস আলী, বয়স ৫০ বছর।

 

নিহত ইদ্রিস আলী সৈয়দ মন্ডলের ছেলে এবং একই এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় পুলিশ আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আট নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। নিহত ইদ্রিসের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

 

থানা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সকালে কৃষি কাজের সময় বাবার সামনে ছেলের বিড়ি খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রথমে ইদ্রিস আলীর ছেলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ইদ্রিসের ছেলের পক্ষ নেন ভাতিজা আফজাল হোসেন। এক পর্যায়ে আফজাল হাঁসুয়া দিয়ে ইদ্রিস আলীকে আঘাত করেন।

 

এতে ইদ্রিস আলীর একটি ঊরুতে মারাত্মক আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানান, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি আহত হয়েছে এবং সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে কসাই নুর মোহাম্মদ হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


চাঁদপুরে কসাই নুর মোহাম্মদ হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

চাঁদপুর, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কসাই নুর মোহাম্মদকে (৪২) শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে সুজন সরকারকে (৩৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।

হত্যার শিকার নুর মোহাম্মদ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন এবং বড় স্টেশন এলাকায় গরু জবাই ও গোশত বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন সরকার জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের সরকার বাড়ির সুদর্শন আইচ্চাইল্লা সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের বিলের বাড়ির পশ্চিম পাশে ইউনুছ তালুকদারের খালি জমিতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে গ্রাম পুলিশ নিমাই দাস স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেনকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পরদিন ৩ মার্চ ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সুজন সরকারকে গ্রেফতার করে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে সোপর্দ করে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, বড় স্টেশন এলাকায় ব্যবসা করার সুবাদে নুর মোহাম্মদ ও সুজন সরকারের মধ্যে পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করে সুজন নুর মোহাম্মদকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন চন্দ্র দাস তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ জানান, দীর্ঘ ১০ বছরে মামলায় ১৮ জন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত তার উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগে থাকা অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রাজেস মুখার্জী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ট্রাম্পের ‘ইকোনমিক ডি-ডে’র জবাবে তেহরানের হুঁশিয়ারি

আমেরিকা ও তার দোসরদের ‘ভূমিকম্পের মতো’ আঘাত হানবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


আমেরিকা ও তার দোসরদের ‘ভূমিকম্পের মতো’ আঘাত হানবে ইরান

ইরানের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধসিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মহাপরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক মারাত্মক ও রক্তক্ষয়ী পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিপরীতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ স্তব্ধ করা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং প্রয়োজনে নিজস্ব পারমাণবিক নীতি সংশোধন করে পরমাণু বোমা তৈরির মতো চরম পথ বেছে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে তেহরান।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন যে, ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে চাপিয়ে দেওয়া ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তেহরান যেসব জটিল ও গোপন কৌশলগত বাণিজ্য নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল, তা এবার ধসিয়ে দেবে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে ছয় মাস ধরে চালানো যুদ্ধের পর কূটনৈতিক সমাধান ছাড়াই যখন সংঘাত স্থবির অবস্থায় পৌঁছেছে, ঠিক তখনই এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা এলো। বেসেন্ট যে গৌণ বা ‘সেকেন্ডারি’ স্যাংশনের কথা জানিয়েছেন, তাতে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি ও শিপিংয়ের মতো যেসব খাতের ওপর ভিত্তি করে ইরানের অর্থনীতি টিকে আছে, সেসব খাতে ইরানি অংশীদারদের ওপর সরাসরি জরিমানা ও আইনি কঠোরতার কথা বলা হয়েছে। 

তবে ট্রাম্পের এই বহুল আলোচিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ কঠোরতম নতুন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে শেষ পর্যন্ত কিছুটা ধীরনীতি অবলম্বন করায় অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই কিছুটা হতাশ হয়েছেন। ওয়াশিংটন আপাতত নতুন কোনো বড় ধরনের বিধিনিষেধ না চাপিয়ে বরং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাসমূহকে আরও কড়াভাবে প্রয়োগের দিকেই জোর দিচ্ছে, তবে একই সঙ্গে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করবে না, তাদের ভবিষ্যতে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও চরম সতর্কবার্তা জারি রেখেছে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এমন প্রত্যক্ষ হুমকি সত্ত্বেও তেহরান দমে যাওয়া বা নতিস্বীকার করার পরিবর্তে ওয়াশিংটন ও তার সহযোগীদের সমপরিমাণ কিংবা তার চেয়ে বেশি আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি সাধনের হুংকার দিচ্ছে। তেহরানের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তারা আঞ্চলিক তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ আরও জোরদার করবে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুদ্ধের আওতাভুক্ত করবে এবং শেষ অস্ত্র হিসেবে নিজেদের বন্ধ হয়ে থাকা পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুনরায় অস্ত্রায়নের রূপ দেবে।

সোমবার রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কিছুটা ইঙ্গিতবহ ভাষায় বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবা খেলে অভ্যস্ত ছিলেন, কিন্তু এরই মাঝে তারা পোকার খেলাটাও শিখে গেছেন এবং ইদানীং তারা এই দুটি খেলার এক বিশেষ সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নিজেদের চাল চালছেন।

তেহরানের এই কৌশলগত অবস্থানের পর তেলবাজার স্তব্ধ হওয়ার এক বড় ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক মাস ধরে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে না ইরান, যার ফলে যুদ্ধের আগে পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট তেল ও গ্যাসের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ যে জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেল রফতানি ও মূল অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন এক যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলেছে। কিন্তু এখন ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তারা হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে বিকল্প পথগুলোতেও তেল সরবরাহের ওপর হামলা চালাবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা মহসিন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কড়া পোস্ট দিয়ে লিখেছেন যে, যদি এই মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তবে হরমুজ প্রণালি তো দূর, পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো অঞ্চল থেকেও আর একফোঁটা তেলও বিদেশে রফতানি হতে দেওয়া হবে না। পরবর্তীতে এক টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমেরিকা ও তার দোসরদের ওপর ইরান ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ উপায়ে পাল্টা আঘাত হানবে।

আমেরিকান নৌবাহিনীর সুরক্ষায় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানিগুলো অবশ্য ইরানি কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে তাদের তেলের ট্যাংকারগুলোর ট্র্যাকিং ও ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে সমুদ্রপথে কিছু পরিমাণ তেল সফলভাবে রফতানি করতে শুরু করেছে, তবে তা যুদ্ধপূর্ব পরিমাণের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। সৌদি আরব বর্তমানে তাদের নিজস্ব ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ঘুরিয়ে লোহিত সাগর দিয়ে রফতানি করছে, অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারীরা হরমুজ এড়িয়ে দিনে আরও ২০ লাখ ব্যারেল তেল অন্য পথে বিশ্ববাজারে পাঠাচ্ছে।

তবে তেহরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এসব বিকল্প রুটও তাদের রাডারের আওতায় রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ৪৫টি জাহাজের একটি নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালির জলসীমায় তাদের আরোপিত বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, যেসব জাহাজ তাদের প্রটোকল অমান্য করবে, সেগুলোকে ভবিষ্যতে প্রবেশের ক্ষেত্রে জরিমানা, আটক বা সরাসরি বাজেয়াপ্তের মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে তেহরান শুধু আঞ্চলিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না, নিজেদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যেই ন্যাটোর সদস্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশ বুলগেরিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে, কারণ মার্কিন রিফুয়েলিং ও সামরিক যুদ্ধবিমানগুলো বুলগেরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানান, যেকোনো আগ্রাসনের মূল উৎস এবং কেন্দ্রবিন্দুকে লক্ষ্যবস্তু করার পূর্ণ ও বৈধ অধিকার ইরানের রয়েছে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে সাপোর্ট বা সুবিধা প্রদান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সরাসরি আগ্রাসনের অংশীদারত্ব হিসেবেই গণ্য করা হবে। যুদ্ধের এই পুরো সময়ে ইরান এ পর্যন্ত মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১১টি দেশে সরাসরি আঘাত হেনেছে। তবে সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বাহিনীর ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিতেও আঘাত হানার পাশাপাশি তেহরান প্রমাণ করেছে যে, ভারতীয় মহাসাগরে শত শত মাইল দূরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর সুনির্দিষ্ট সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ফলে বলকান অঞ্চলের দেশ বুলগেরিয়ার মতো ইউ ও ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে এই সংঘাত নিমিষেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বৃহত্তম বৈশ্বিক রূপ নেবে। অন্যদিকে, সেনানেতা মহসিন রেজাইও একইভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে যে দেশই অংশ নেবে বা কোনো ধরনের সাহায্য করবে, তাকেই তারা সরাসরি যুদ্ধের প্রতিপক্ষ বলে ধরে নেবেন।

সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে ইরানের পারমাণবিক নীতি নিয়ে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের অব্যাহত অভিযোগ ও সামরিক হামলার পরেও এতদিন ধরে ইরান দাবি করে আসছিল যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সুর বদলাতে শুরু করেছে। খামেনি তার জীবদ্দশায় এক ধর্মীয় ফতোয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম ঘোষণা করেছিলেন। তবে এখন দেশটির নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে আসার পক্ষে সোচ্চার হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের ভূগর্ভস্থ গোপন বাংকারে অন্তত আধা টন অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে পারমাণবিক বোমায় রূপান্তর করা সম্ভব। ইরানি আইনপ্রণেতারা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির পার্লামেন্টে এনপিটি থেকে নিজেদের তুলে নেওয়ার ওপর জোর আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় টিভিতে এক বিরল সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় মহসিন রেজাই খোলাখুলিভাবেই ইরান কর্তৃক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারা বিশ্ব এখন প্রশ্ন তুলছে এনপিটির আদৌ কোনো কার্যকারিতা রয়েছে কি না। রেজাই আরও যুক্তি দেখান, আমেরিকা যখন আমাদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে এমন ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে নেমেছে, তখন দেশটির সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকরা তো প্রশ্ন তুলতেই পারেন যে কেন আমরা নিজেদের সুরক্ষায় পরমাণু বোমা তৈরি করব না?

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো সিনা তুসি পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানান, ওয়াশিংটন যে সর্বাত্মক অবরোধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক অভিযানের মিশ্রণ ঘটিয়েছে, তা দিয়ে তেহরানকে মূল দাবি থেকে বিচ্যুত করা অসম্ভব। তেহরান কখনো তাদের অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে পিছপা হবে না। বরং ইরানের কাছে নিজেদের ওপর চাপানো এই বিপুল আর্থিক ও সামরিক ক্ষতিকে আঞ্চলিক স্তরে অন্যান্য দেশের ওপর ছড়িয়ে দেওয়ার যথেষ্ট সক্ষমতা ও সামর্থ্য রয়েছে। ওয়াশিংটন যত বেশি সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অবরোধের চেষ্টা করবে, তাদের তত বেশি দেশের সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে, আর ঠিক একইভাবে তেহরানও তাদের ওপর পাল্টা চাপ প্রয়োগের জন্য নতুন নতুন পক্ষ ও নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তু খুঁজে নেবে। তার মতে, ইরানের বিদ্যমান কৌশল হবে মূলত একাধারে বিকল্প অর্থনৈতিক পথ খুঁজে টিকে থাকা এবং অন্যদিকে আমেরিকাকে থামানোর জন্য আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও ভয়াবহতার দিকে ঠেলে দেওয়া।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%