ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেতানিয়াহুর হেবরন ‘ধ্বংস’ করার হুমকি, নিহত ২ ইসরায়েলি সেনা


নেতানিয়াহুর হেবরন ‘ধ্বংস’ করার হুমকি, নিহত ২ ইসরায়েলি সেনা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের একটি সামরিক চেকপয়েন্টে গুলির ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংশ্লিষ্ট বন্দুকধারীদের পুরো মহল্লা বা এলাকা “ধ্বংস” করার ঘোষণা দিয়েছেন। নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে সাথে নিয়ে হেবরন পরিদর্শনকালে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে এলাকা থেকে ওই বন্দুকধারীরা এসেছে, সেটি পুরোপুরি বদলে ফেলা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “প্রথমত, আমরা এই স্থানটি ধ্বংস করতে এবং এটি পুরোপুরি আমূল বদলে দিতে পদক্ষেপ নেব।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যা এখন পর্যন্ত করা হয়নি। শরণার্থী শিবিরগুলোতে যে সফল ও আগ্রাসী মডেল ব্যবহার করে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো নির্মূল করা হয়েছে, ঠিক একই মডেল আমরা এখানেও প্রয়োগ করব।”

নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলি বাহিনী হেবরনের ওই মহল্লায় বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাবে, বাসিন্দাদের সরিয়ে দেবে (ইভাকুয়েট করবে) এবং অস্ত্র উদ্ধারসহ যাবতীয় তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ভেঙে গুড়িয়ে দেবে। এর পাশাপাশি, পশ্চিম তীরের সড়কগুলোর পাশে অনুমতি ছাড়া নির্মিত ঘরবাড়িগুলোকে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য “হুমকি” হিসেবে আখ্যায়িত করে সেগুলোও ভেঙে ফেলার ঘোষণা দেন তিনি।

আরও পড়ুন: রোববার রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তানে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তিনি বলেন, “আইডিএফ এই অভিযান চালাতে প্রস্তুত, এর সময় আমরাই নির্ধারণ করব।” আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এ মন্তব্য করে নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের প্রশংসা করে তাদেরকে “ইসরায়েলের জনগণের জন্য মডেল” বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, এই হামলাটি তাদের পূর্ববর্তী সতর্কবার্তারই অংশ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ইরানের শিয়া অক্ষ ও তাদের প্রক্সি সংগঠনসমূহ এবং মুসলিম ব্রাদারহুড অক্ষ ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত ও প্রভাবিত করতে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছে।”

এর আগে অধ্যুষিত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে একটি সামরিক চেকপয়েন্টে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও তিন সেনা। গতকাল সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইডিএফ (IDF) জানায়, হামলায় নিহত দুই সৈন্য হলেন— অ্যাসকেলনের বাসিন্দা স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান (২৩) এবং হোদ হাশারনের বাসিন্দা সার্জেন্ট ইয়ুভাল শাই সভিলেম (২০)। নিহত দুজনই হোম ফ্রন্ট কমান্ডের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ব্রিগেডের ৭৭৫তম "অরি" ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে রয়টম্যান ছিলেন একজন স্কোয়াড কমান্ডার।

আরও পড়ুন: সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, সকালে সামরিক অবস্থানের কাছে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী এসে পৌঁছালে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী এই বন্দুকযুদ্ধের পর দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীই সেনার গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। ঘটনায় আহত অন্য তিন সেনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বলে জানা গেছে। হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বলিউডে প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন হয় না: মনোজ বাজপেয়ী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


বলিউডে প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন হয় না: মনোজ বাজপেয়ী

বলিউডে প্রতিভাবান অভিনেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না, এমন মন্তব্য করেছেন অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। তিনি উল্লেখ করেছেন, একই ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার ফলে অনেক অভিনেতা নিজেদের অভিনয়দক্ষতা পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারেননি। এই কারণে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী যথাযথ স্বীকৃতি ছাড়াই হারিয়ে গেছেন।

নতুন নেটফ্লিক্স সিনেমা ‘গাজাব রাত’-এর প্রচারের সময় মনোজ এই বিষয়ে কথা বলেন। জুমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বলিউডে অভিনেতাদের নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে আটকে রাখার প্রবণতা বিদ্যমান। এর ফলে তাদের অভিনয়ের বিভিন্ন দিক প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

মনোজ বলেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রিতে একই ধরনের চরিত্রে আটকে রেখে আমরা অনেকের প্রতিভা নষ্ট করেছি। পর্দায় তাদের চরিত্র, কাজের পরিবেশ এবং তাদের সঙ্গে করা আচরণের মাধ্যমে অনেক প্রতিভাবান অভিনেতাকে কার্যত গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকে কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই হারিয়ে গেছেন।’

নিজের অভিনয়জীবন নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তার অভিনয়ক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ কাজে লাগানো হয়েছে। নিজের ভেতরে এখনো অনেক কিছু করার তাগিদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মনোজ বলেন, ‘আমি সব সময় বলে এসেছি, আমার অভিনয়ক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। আরো অনেক কিছু করার আছে। তবে এটাকে একজন অভিনেতার আকাঙ্ক্ষা বা কাজের ক্ষুধাও বলা যায়। আমার ভেতরে এখনো সেই আগুন জ্বলছে, আর আমি সব সময় পরবর্তী কাজের জন্য অপেক্ষা করি।’

তবে বলিউডে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা ইতিবাচক বলে মনে করেন মনোজ। তার মতে, আগে যেসব অভিনেতা নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ পেতেন না, তারা এখন ওটিটির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।

মনোজ বাজপেয়ীর নতুন সিনেমা ‘গাজাব রাত’ নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন নুশরাত ভারুচা, সাকিব সেলিম, অক্ষয় ওবেরয়, দিব্যা দত্ত, কিকু শারদা ও শ্রদ্ধা দাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-ভারত করমর্দনের অপেক্ষা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


বাংলাদেশ-ভারত করমর্দনের অপেক্ষা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি করমর্দনের অপেক্ষা চলছে। তবে, এখনো এর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো চূড়ান্ত তারিখ, সফরসূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি। সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে নভেম্বর মাসের কথা বলা হলেও, দুই পক্ষই আগে রাজনৈতিক পরিবেশের অনুকূলতা খুঁজে বের করতে চাইছে।

ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের করমর্দন শুধুমাত্র ছবি তোলার আনুষ্ঠানিকতা নয়। বরং, ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, বাণিজ্য এবং দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশীর মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের সময় পেরিয়ে কার্যকর সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নির্দেশ করবে এই সাক্ষাৎ।

বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমানের আবির্ভাব এই সুযোগ তৈরি করেছে। তবে, এই সফর সম্পর্কের মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে দুই সরকার কী নিয়ে আলোচনা, সমঝোতা এবং বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত, তার ওপর।

নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন

প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন তারেক রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বড় পরিবর্তন আসে, সেই প্রেক্ষাপটে তার প্রত্যাবর্তন ঘটে। তার দেশে ফেরা ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্য একটি আবেগঘন মুহূর্ত।

তারেক রহমান এমন সময়ে দেশে ফেরেন, যখন বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চাপের মুখে, অর্থনীতি সংকটে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই মারা যান তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার জানাজায় ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে এবং বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শক্তিশালী হলেও জটিলতামুক্ত নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে তার বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। এই উত্তরাধিকার বিএনপির ভেতরে তারেক রহমানের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে, বংশানুক্রমিক রাজনীতি, তার নিজস্ব রাজনৈতিক রেকর্ড এবং বিরোধী দলে থাকার সময়কার অভিযোগ নিয়ে তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

নির্বাসিত জীবনে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংস্টনে থাকতেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যস্ততা থেকে দূরে তার জীবনযাপন ছিল তুলনামূলক শান্ত। রিচমন্ড পার্কে হাঁটা এবং ইতিহাসের বই পড়া ছিল তার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে।

টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে স্বল্পভাষী ও চিন্তাশীল হিসেবে দেখা গেছে। সেখানে দেশের চ্যালেঞ্জ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। যুক্তরাজ্যে সাধারণ জীবনযাপনের স্বাধীনতা (যেমন জনসাধারণের ভিড় কিংবা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের চাপ ছাড়াই হাঁটতে পারা) নিয়েও তিনি কথা বলেছেন।

দেশে ফেরার পর আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তিনি। তবে, এখন তার জীবন নিরাপত্তা, দায়িত্ব ও জন-প্রত্যাশার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নির্বাসিত জীবনে অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শাসন পরিচালনায় কতটা কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়। তবে, এখন তার দায়িত্ব কেবল ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত বোধ করা একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়া নয়; বরং বিভক্ত একটি দেশকে পরিচালনা করা।

দিল্লির বার্তা

ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আসে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর। তার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত শোকবার্তা তার হাতে তুলে দেন।

ওই সময় জয়শঙ্কর আশা প্রকাশ করেন, খালেদা জিয়ার ‘দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ’ দুই প্রতিবেশীর অংশীদারত্বের বিকাশে পথ দেখাবে। কারণ শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ভারতে তার অবস্থান, দেশত্যাগের পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের কারণ হয়ে ওঠে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতি দিল্লির সঙ্গে আগের তুলনায় কম ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হয়। নিরাপত্তা, প্রকাশ্য বক্তব্য ও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাশা নিয়েও মতপার্থক্য তৈরি হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের বিভিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে স্পষ্ট করা জরুরি ছিল। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুটি ঘটনাই ভারতের আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশের অংশ হলেও এগুলো আলাদা ঘটনা।

নির্বাচনের পরও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে ভারত। বিএনপির বিজয়ে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে টেলিফোনে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে ভারত থাকবে।’ দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন মোদি।

এই বক্তব্য সহযোগিতার পথ খুলে দিয়েছে, তবে দুই দেশের কঠিন সমস্যাগুলো মিটে গেছে—এমন ইঙ্গিত দেয়নি। একই সঙ্গে নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বদলে গণতান্ত্রিক বৈধতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাগত

তারেক রহমানের বিজয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিএনপি ও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। চীনও নির্বাচনে বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানায়। এসব বার্তা থেকে বোঝা যায়, বড় শক্তি ও আঞ্চলিক অংশীদাররা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

তারেক রহমানের জন্য এই আন্তর্জাতিক মনোযোগ যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি চাপও বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়োজন বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। একই সঙ্গে কোনো একটি বহিরাগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব স্বার্থে নীতি গ্রহণের সুযোগও ধরে রাখতে হবে।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়ানোর কথা বলেছেন। দিল্লি, বেইজিং ও ওয়াশিংটন তার এই ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দেশটির নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে; শুধু ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারত রাজনৈতিক সমন্বয় ধরে রাখতে পারে না। একইভাবে, বাংলাদেশের পক্ষেও সবচেয়ে বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

ভারতের প্রতি তারেক রহমানের অবস্থান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বক্তব্যের পাশাপাশি তার সরকারের পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

অন্যদিকে, বিএনপির ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়ানোর প্রতিশ্রুতি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দেয়। সেই ভারসাম্যের পরীক্ষায় থাকবে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের মতো অমীমাংসিত বিষয়।

দূত নিয়োগ ও নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া দিল্লির পক্ষ থেকে সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়ার আরেকটি সংকেত। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ত্রিবেদীর মতো একজন রাজনীতিবিদের এ পদে নিয়োগ ব্যতিক্রমী, কারণ সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকেরাই এ দায়িত্ব পালন করেন। দুই দেশ যখন আগের সময়ের টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তখনই ঢাকায় আসেন তিনি।

বাংলাদেশও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে ভারতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। তিনি এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। হামিদুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

দায়িত্বরত পররাষ্ট্রসচিবকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো হলে ওই পদে কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়ে। এতে একজন জ্যেষ্ঠ পেশাদার কূটনীতিক দুই দেশের নিয়মিত যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অমীমাংসিত মতপার্থক্য সমাধানের প্রচেষ্টার কেন্দ্রে থাকবেন। গত ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়োগে অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তখনো নিশ্চিত হয়নি।

তবে, শুধু দূত নিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দুই সরকার ধারাবাহিকভাবে এবং প্রকাশ্য বিরোধ কমিয়ে কঠিন বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে পারলে এ নিয়োগের সুফল পাওয়া যাবে।

এদিকে সম্ভাব্য নভেম্বরের সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাইকমিশনার ত্রিবেদী সংযতভাবে বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে এবং তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, আলোচনা চলছে। তবে সফরের জন্য দুই পক্ষের অনুকূল পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারিখ নিয়ে জল্পনার চেয়ে এসব বক্তব্য বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, অর্থবহ ফল পেতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে দুই পক্ষই স্বীকার করছে। তাড়াহুড়ো করে আয়োজিত বৈঠক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম তৈরি করতে পারে; আর সতর্ক প্রস্তুতির মাধ্যমে আয়োজিত বৈঠক পরবর্তী কাজের জন্য কার্যকর কাঠামো তৈরি করতে পারে।

ছবির বাইরেও সম্পর্কের বাস্তবতা

আরও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে দুই দেশ নানা বাস্তব সুবিধা পেতে পারে। উন্নত পরিবহন যোগাযোগ ব্যবসার ব্যয় কমাতে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে পারে। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা শিল্প ও গৃহস্থালি—উভয় ক্ষেত্রেই সহায়ক হতে পারে। শিক্ষার্থী, রোগী, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করতে পারে পূর্বানুমানযোগ্য ভিসাব্যবস্থা। ভৌগোলিক নৈকট্যের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।

তবে অগ্রগতির জন্য পারস্পরিক ছাড় ও সহযোগিতা প্রয়োজন। পানিবণ্টন, বাণিজ্য এবং বিদ্যমান চুক্তিগুলো থেকে সুবিধা পাওয়ার ভারসাম্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ শুনতে হবে ভারতকে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য যেন বৈরিতার অজুহাত না হয়ে ওঠে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো দেশই অপর পক্ষের কাছে প্রতিটি দাবি মেনে নেওয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না; তবে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য ফল বয়ে আনে—এমন প্রক্রিয়া উভয়ের জন্যই লাভজনক হতে পারে।

যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানিবণ্টন, ভিসা ও যাতায়াত এবং দুই দেশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ—সবকিছু নিয়েই ধারাবাহিক মনোযোগ প্রয়োজন। তিস্তার পানিবণ্টন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল বিষয়। অন্যদিকে, আন্তসীমান্ত নিরাপত্তা ও বৃহত্তর আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে ভারতেরও উদ্বেগ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেফাজতের নেতৃত্বে ৭ দলের ঐক্য অযোগ্য: মনির হোসাইন কাসেমী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


হেফাজতের নেতৃত্বে ৭ দলের ঐক্য অযোগ্য: মনির হোসাইন কাসেমী

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী মন্তব্য করেছেন যে, কওমিভিত্তিক সাতটি রাজনৈতিক দলের ঐক্যের প্রচেষ্টা হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি এই উদ্যোগকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ এটি সংগঠনটির মূল আদর্শের পরিপন্থি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই এই ঐক্য সম্ভব বলে আমি মনে করি না। বাকি যদি কোনো মিরাকল বা অলৌকিক কিছু ঘটে যায়, তবে সেটার জন্য সাধুবাদ জানাব।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি—যাঁরা সরাসরি রাজনীতি করেন না—হয়তো সরলতা, উদারতা বা অনভিজ্ঞতার কারণে দলগুলোকে এক করার চেষ্টা করছেন। তবে, এই উদ্যোগ বর্তমান সময়ের বাস্তব চাহিদা নয় এবং হেফাজতে ইসলামের চরিত্রের সাথে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

হেফাজতের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে একটি অরাজনৈতিক ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই সংগঠনের ব্যানারে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে না এবং এটাই বাস্তব সত্য। যারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, তা অতীতেও ভুল ছিল, এখনও ভুল এবং ভবিষ্যতেও ভুল হিসেবেই গণ্য হবে। এই ভুল পদক্ষেপের খেসারত একসময় আমাদের দিতে হতে পারে।’

তিনি আরো জানান যে, রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার বা ঐক্য গড়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে যে কেউ আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নাম বা তত্ত্বাবধান যুক্ত করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করেন যে, দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের সাধারণ নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা সংগঠনটিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলাকে কখনোই ভালো চোখে দেখবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

যশোর, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ২৫০ শয্যার যশোর জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি থাকায় চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট সমাধানের জন্য ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ যশোর সার্কিট হাউসে সিভিল সার্জন এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে এসব চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর করেন।

হিউম্যান অ্যাপিল ইউএসএ’র সহযোগিতায় সরবরাহিত এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ব্যথানাশক ইনজেকশন, বয়স্ক রোগীদের জন্য প্যাম্পার্স, গ্লাভস, ক্যানোলা, চিকিৎসকদের পোশাক এবং অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যে, বিতরণ করা চিকিৎসা সামগ্রী যেন হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা যথাযথভাবে বিনামূল্যে গ্রহণ করতে পারেন। তিনি চিকিৎসা উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং রোগীদের কাছে সেবা পৌঁছানোর বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে থাকে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় সরবরাহ করা এসব উপকরণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে সহায়ক হবে।

চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত এবং সিভিল সার্জন মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%