০৯:৩৫ পি.এম
গত সপ্তাহে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে রদবদল শুরু করেছেন মাকিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রথম পরিবর্তনটি হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের উপর পড়েছে। শনিবার, ট্রাম্প ওয়াইলসকে অপসারণ করে তার ডেপুটি স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন। ওয়াইলস, যিনি হোয়াইট হাউজের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ ছিলেন, তাকে সরানোর সময় ট্রাম্প তার প্রশংসা করে বলেন যে, নির্বাচনের পরাজয়ের সঙ্গে এই পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ভিন্ন একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরে ওয়াইলসের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং অন্যান্য কর্মীদের সামনে তাকে তীব্রভাবে ভর্ৎসনা করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল যে, তার প্রশাসন যাদের 'তথ্য ফাঁসকারী' মনে করে, তাদের খুঁজে বের করতে ওয়াইলস যথাযথ পদক্ষেপ নেননি। এমনকি, তিনি ওয়াইলসের বিরুদ্ধে নিজে তথ্য ফাঁসের অভিযোগও তোলেন।
এই রদবদলের আগে, ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি পরিবর্তন আনতে চান। তিনি বলেন, 'ওয়াইলস একটি চমৎকার কাজ করেছেন, তবে জীবনে মাঝে মাঝে কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়।' মিলার কীভাবে ভিন্নভাবে কাজ করবেন জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, 'তিনি শুধু সবকিছু ভালোভাবে পরিচালনা করবেন।'
আরও পড়ুন: আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ইউরোপে যাওয়ার পথে নিহত ২১
তবে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য মন্তব্যের আড়ালে আরও গভীর আলোচনা চলছিল। তিনি নির্বাচনের ফলাফলের জন্য ওয়াইলস এবং অন্যান্য রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের দায়ী করেন এবং দাবি করেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাকে সঠিক পরামর্শ বা সেবা দেওয়া হয়নি।
গত মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত এক নির্বাচনি ওয়াচ পার্টিতে ট্রাম্প অনেকের সামনে ওয়াইলসের সমালোচনা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে, ট্রাম্প ওয়াইলসকে নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকেও দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন, যা প্রমাণিত হয় যখন তিনি সাবেক প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের জায়গায় কেটি জ্যাকারিয়া নামের একজন অনভিজ্ঞ টিভি পণ্ডিতকে নিয়োগ দেন।
পদত্যাগের আগে ওয়াইলস ট্রাম্পের অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে 'জীবনের অন্যতম সেরা সম্মান' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, 'আমার ভূমিকা পরিবর্তিত হলেও প্রেসিডেন্টের প্রতি এবং আমাদের লক্ষ্যের প্রতি আমার অঙ্গীকার কখনোই কমবে না।'
নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথম কয়েকদিন ট্রাম্পকে মার্জিত ও সমঝোতাবাদী মনে হয়েছিল। তিনি এমনকি বলেছিলেন যে, তিনি ডেমোক্র্যাটদের সাথে কাজ করতে চান এবং তাদের সাথে মিলেমিশে চলবেন। তবে সপ্তাহ শেষ হওয়ার সাথে সাথে তিনি আবার তার পুরনো রূপে ফিরে গেছেন এবং তার 'মাগা' আন্দোলনকে আরও তীব্র করার কাজে মনোনিবেশ করেছেন। চিফ অব স্টাফ হিসেবে কট্টরপন্থি স্টিফেন মিলারের নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি সামনের দিনগুলোতে তার নীতি বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করছেন না।
আরও পড়ুন: জার্মান পার্লামেন্টের সামনে জাতীয় পতাকা সরিয়ে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের সাথে আলোচনা বা সমঝোতা করার তার কোনো ইচ্ছা নেই। বরং, ক্যাপিটল হিল থেকে আসা সমন এবং তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন।
সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন যে, মিলারের মূল লক্ষ্য হলো বিভক্ত হয়ে পড়া 'মাগা' জোটকে পুনরায় একত্রিত করা এবং এমন উদ্যোগগুলি এগিয়ে নিয়ে আসা যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের পেছনে থাকা ভোটারদের আবার সক্রিয় করবে। সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন