০৪:২১ পি.এম
ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে। তবে পিয়ংইয়ং এই অভিযোগকে তীব্রভাবে অস্বীকার করেছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এই অভিযোগকে ‘গুরুতর উসকানি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ’র মাধ্যমে তিনি জানান, এফবিআইয়ের এই অভিযোগটি হাস্যকর বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছুই নয়।
তিনি মন্তব্য করেন, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। কিম ইয়ো জং বলেন, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র গত বছর একটি বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল।
আরও পড়ুন: চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রীর নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন
বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সাইবার অপরাধের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে জড়িয়ে জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, এসব অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
এফবিআই আগে দাবি করেছে, ‘ট্রেডরেটর’ নামে পরিচিত উত্তর কোরিয়া সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গোষ্ঠী বাইন্যান্সে হামলার সঙ্গে জড়িত। গত এপ্রিলে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বাইট থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায়ও এই হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। বাইন্যান্সে হামলার আগে সেটিই ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা।
কিম ইয়ো জং বলেন, এসব অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তর কোরিয়ার ভাবমূর্তি, মর্যাদা ও জাতীয় সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এ অভিযোগকে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, সাইবার জগতে যেকোনো ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা উত্তর কোরিয়া সরকারের অবিচল নীতি। বাইন্যান্স বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ হিসেবে পরিচিত। এই হ্যাকিংয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার বিশ্বের অধিকাংশ প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
আরও পড়ুন: ব্যালটে আমার নাম থাকলে ভূমিধ্স বিজয় হতো: ট্রাম্প
শনিবার এফবিআইয়ের বিবৃতি প্রকাশের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন নই। আমরা বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। উত্তর কোরিয়া এই হামলা চালিয়েছে কি না, তা আমরা জানি না।’
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন ট্রাম্প। চলতি বছর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এসব উদ্যোগে পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি। কিম ইয়ো জং তার বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই অভিযোগগুলো আবারও প্রমাণ করেছে, উত্তর কোরিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী মনোভাব রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বৈরী মনোভাবের কারণে বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়গুলো নতুন করে বিবেচনা করতে হবে উত্তর কোরিয়াকে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক আদালত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন