০২:৪৩ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর টাইগারদের ব্যাটিংয়ে দারুণ জবাব এসেছে। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, মমিনুলের হকের ৪৯ রান এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের পর, কিছুটা ব্যাটিং ধসের মাধ্যমে বাংলাদেশ চাপের মুখে পড়ে। তবে, শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ এবং হাসান মাহমুদের দৃঢ়তায়, তারা সেই চাপ সামলে দ্বিতীয় দিন সম্পন্ন করেছে।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের বিপরীতে বাংলাদেশের লিড হয়েছে ১৫৩ রানের। মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে থাকা হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রান করেছেন। দিনের শেষ বলে মিরাজের একটি ক্যাচ ফেলেছেন ক্যামেরন গ্রিন। এভাবে বাংলাদেশ স্বস্তি নিয়েই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে।
অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বোলারদের সামনে ধীরে ধীরে দারুণ সুযোগ এসেছিল। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। স্টিভ স্মিথ সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন। ট্রাভিস হেড ২২, জেক ওয়েদারাল্ড ২৩, অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ ও ক্যামেরন গ্রিন ১৩ রান করেন।
আরও পড়ুন: কের বাংলাদেশ ২ লাখ ৪৫ হাজার যুবকের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ শুরু
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১৭ ওভারে ৫৫ রান খরচায় তিনি ৬ উইকেট নেন। তাসকিন আহমেদ দুই উইকেট নেন এবং এবাদত হোসেনও দুটি উইকেট লাভ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে শুরুর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে শুরু করে। ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৫২ রানে দ্বিতীয়, ৬১ রানে তৃতীয় এবং ৭৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় তারা। স্টিভ স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে তাদের ইনিংস শেষ হয়।
তানজিদ হাসান ও মমিনুল হকের জুটিতে শক্ত ভিত গড়া হয়। ৩৬ রানে শাদমান ইসলাম ফিরে যাওয়ার পর তানজিদ এবং মমিনুল মিলে ইনিংসের ভিত শক্ত করে। দুজনের সহায়তায় আসে ১০২ রানের জুটি। মমিনুল ৯৫ বলে ৮ চারসহ ৪৯ রান করে ফিরে যান। এরপর, তানজিদ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান।
তানজিদ দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৯৭ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০১ রান করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য এই ব্যাটারদের ইনিংস দলটির বড় লিডের স্বপ্ন দেখায়। শান্তর ৮৪ রানের পর হঠাৎ ধস দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: ৩ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং
তানজিদ ২৩১ রানে ফিরে যাওয়ার পর শান্তর সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের জুটি বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। শান্ত সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ২৯৭ রানে এসে হঠাৎ ধাক্কা খায়। জশ হ্যাজেলউডের বল স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে শান্ত ফিরে যান। তিনি ১২৬ বল খেলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রান করেন।
শান্তর বিদায়ের পর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন দাস ১২ বল খেলে কোনও রান না করে মিচেল স্টার্কের বল স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন। তারপর প্যাট কামিন্সের বলে একই ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে দেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ৫৫ বল খেলে ৩৬ রান করেন।
অতঃপর, ২৯৭ থেকে ৩০৮ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ বড় ধাক্কায় পড়ে। ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে ৬ উইকেটে ৩০৮ রান হয়ে যায় দলের স্কোর। মাত্র ১১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ফেরার সুযোগ করে দেয়।
এরপরই মিরাজ এবং হাসানের চালাকির দ্বারস্থ হয় বাংলাদেশ। ব্যাটিং ধসের পর এই দুইজন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ সামলে দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন। মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ৩টি চার রয়েছে। অন্যদিকে হাসান মাহমুদ ৭৬ বল মোকাবিলা করে ১৩ রান করেন এবং তাঁর ইনিংসে ২টি চার রয়েছে।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
বহুত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা নতুন বল নিয়ে আক্রমণে থাকলেও, এই জুটি উইকেট ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একপাশে মিরাজ রান বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে হাসান মাহমুদ দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেছেন।
দিনের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়া মিরাজকে আউট করার সুযোগও পেয়েছিল। মার্নাস লাবুশেনের করা ওভারের শেষ বলে শর্ট এবং অফের বাইরে থাকা বল কাট করেন মিরাজ। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা ক্যামেরন গ্রিন নিচে নামার চেষ্টা করে ক্যাচটি ধরে রাখতে পারেননি। ফলে মিরাজ জীবন পান। এরপরই দ্বিতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মিরাজ এবং হাসানের এই জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর বাংলাদেশের হাতে ছিলেন মূলত নিচের সারির ব্যাটাররা। এ অবস্থায় দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট পড়লে লিড অনেকটাই কমে যেতে পারত।
কিন্তু মিরাজ এবং হাসান অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দীর্ঘ সময় টিকে থেকে দেশকে ৩৫১ রানে নিয়ে গেছেন। কেবল রান নয়, তাদের ব্যাটিং বাংলাদেশের লিডটিকে ১৫৩ রানে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের ব্যাটিং সংশ্লিষ্ট সকলের নজর কেড়েছে। প্রথম ইনিংসে বোলিং করে ৬ উইকেট নেওয়ার পরে তিনি ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ৭৬ বল খেলে ১৩ রান ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে বড় নয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাঁর ৭৬ বলের প্রতিরোধের মূল্য অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
মিরাজের ওপর এখন বড় দায়িত্ব। দিনের শেষে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে আরও চারটি উইকেট। ক্রিজে থাকা মিরাজের ওপর তাই তৃতীয় দিনের শুরুতে বড় দায়িত্ব থাকা জরুরি। তাঁর সঙ্গে তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ এবং এবাদত হোসেন আবার ব্যাট করতে নামবেন।
যদি মিরাজ দিনের শুরুতে আরও কিছু রান যোগ করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের লিড আরও বড় হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের তুলনায় ইতোমধ্যে ১৫৩ রানের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন যতটা সম্ভব বড় লিড অর্জন করা।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাযেলউড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। প্যাট কামিন্স এবং নাথান লায়ন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
বাংলাদেশের সামনে এখন বড় সুযোগ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ৩৫১ রান করা বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। বিশেষ করে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, শান্তর ৮৪ এবং মোমিনুলের ৪৯ রান পর যখন দ্রুত তিন উইকেট পড়ে যায়, তখন মিরাজ এবং হাসানের প্রতিরোধ দলের স্বাভাবিক অবস্থানে ফেরাতে সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুন: গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ১৫৩ রানে এগিয়ে। হাতে রয়েছে চার উইকেট। এই অবস্থান থেকে তৃতীয় দিনের শুরুতে আরও কিছু রান যোগ করতে পারলে লিড দুই শতাধিক হতে পারে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য তৃতীয় দিনের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। মিরাজ ও হাসানের জুটি যদি দ্রুত ভাঙতে পারে, তবে স্বাগতিকরা আবার ম্যাচে ফেরার সুযোগ পাবে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ যদি দিনের শুরুতে লিড বাড়িয়ে নিতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানে অপরাজিত, হাসান মাহমুদ অপরাজিত ১৩ রানে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ছিল ১৯৮ রানের। ফলে বাংলাদেশ ১৫৩ রানে এগিয়ে।
আরও পড়ুন: দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: মৎস্যমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন