০৪:৪৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ অথবা ব্যবসায়িক ভিসার সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ অপেক্ষা কমানোর জন্য একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। এই নতুন কার্যক্রমের আওতায় বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনকারীরা যদি অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করেন, তাহলে তারা দ্রুত সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই অর্থ পরিশোধ করার পরেও ভিসার অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হতে যাওয়া একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বিশ্বের কিছু নির্বাচিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালু করা হবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত ফি প্রদানকারী আবেদনকারীরা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পেতে পারবেন। তবে, এই সুবিধা শুধুমাত্র সাক্ষাৎকারের তারিখ দ্রুত পাওয়ার জন্য প্রযোজ্য হবে। সাক্ষাৎকারের পর ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ত্বরান্বিত হবে না এবং ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে না।
আরও পড়ুন: হাসনাত আব্দুল্লাহ: সরকারের এক বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে
অর্থাৎ, আবেদনকারীরা দ্রুত সাক্ষাৎকারের জন্য একটি সুযোগ কিনতে পারবেন, কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্ত বা নিশ্চিত ভিসা নয়। পররাষ্ট্র দফতর জানায়, দ্রুত সাক্ষাৎকারের এই সুবিধা সব মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু কনস্যুলেটে এটি শুরু করা হবে।
প্রতিটি লকেশন কতটি প্রিমিয়াম সাক্ষাৎকারের সময় থাকবে তা স্থানীয় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। ফলে বিভিন্ন দেশের জন্য এই সুবিধার ভিন্নতা থাকতে পারে এবং চাহিদা বেশি হলে সুযোগ সীমাবদ্ধ হতে পারে। নতুন ৭৫০ ডলারের ফি বিদ্যমান ভিসা আবেদন ফির বিকল্প হিসাবে গণ্য হবে না। আবেদনকারীদের প্রচলিত নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ফি পরিশোধের পাশাপাশি এই অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে।
অর্থাৎ, দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে আবেদনকারীদের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ জট এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসাবে এই কর্মসূচিটি চালু করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ দেখতে চায়, দ্রুত সাক্ষাৎকারের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে আগ্রহী হবে কিনা আবেদনকারী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা এবং এর মাধ্যমে সাক্ষাৎকার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর কতটা সম্ভব হয় কিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকবে।
আরও পড়ুন: গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়ালো সরকার
এই সময়ের মধ্যে কতজন আবেদনকারী সুবিধাটি ব্যবহার করেন, এর কার্যকারিতা এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় কী প্রভাব পড়ে, তা মূল্যায়ন করা হবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দ্বারা। পাশাপাশি জনমতও সংগ্রহ করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পরে অভিবাসন এবং ভিসা নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কঠোরতা আরোপ করছে। নতুন দ্রুত সাক্ষাৎকার কর্মসূচিটি সেই বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের সময়েই চালু করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, অতীত ইতিহাস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বিস্তারিতভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় বৃদ্ধি পেয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন