জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৬:২৮ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৬৮ শিক্ষার্থী ও ছয় শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষা, গবেষণা, প্রকাশনা ও পেশাগত অবদানের জন্য শিক্ষকদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ফরিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩.৮৫ বা তার বেশি সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৬৮ জনকে এ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিবিএ পর্যায়ের ২৮ জন এবং এমবিএ পর্যায়ের ৪০ জন রয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে ক্রেস্ট, সনদ ও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
বিভাগভিত্তিক পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ১৩ জন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের ৯ জন, মার্কেটিংয়ের ২৭ জন, ফাইন্যান্সের দুজন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ছয়জন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের ১১ জন রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদানও গুরুত্বপূর্ণ। এ আয়োজন প্রতিবছর অব্যাহত রাখা উচিত। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তাঁদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। ভবিষ্যতেও ভালো কাজের মাধ্যমে এ অর্জনের মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোঃ হাসনাত কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ।
স্বাগত বক্তব্য দেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। এ সময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ মতিয়ার রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ১৫ মাস ধরে বিনা বেতনে কাজ করা দুই শতাধিক আউটসোর্সিং কর্মীর বকেয়া বেতন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে খুলনার সিভিল সার্জন তাদের সকলকে আকস্মিকভাবে অব্যাহতির আদেশ প্রদান করেছেন। এর ফলে হাসপাতালগুলোতে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি চরম অচল অবস্থায় পৌঁছেছে। ঘটনার ছয় দিন পর সিভিল সার্জন পূর্বের সেই চিঠি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। তবে, এখনও বকেয়া বেতন না পাওয়ায় নিম্ন আয়ের এসব প্রান্তিক কর্মী মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় খুলনার ১৭টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ২১৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর এক বছরের বেতনভাতা বাবদ ৫ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ছাড় করে। কিন্তু এর ঠিক চার দিন পর, অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর, খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান একটি অফিস আদেশে জেলার সকল আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অব্যাহতি প্রদানের নির্দেশ দেন।
জেলার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং সদর, খালিশপুর, টুটপাড়া আরবান ডিসপেনসারি ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ১৫ মাস ধরে আউটসোর্সিং জনবলের বেতনভাতা পরিশোধ করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত বেতন দেওয়ার চুক্তি থাকলেও তারা তা মানছে না। এই অবস্থায় রাজস্ব খাতের কর্মচারী দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
হতবাক কর্মীরা, ভেঙে পড়ে চিকিৎসাসেবা
এটি জানা গেছে যে, সিভিল সার্জন যেদিন অব্যাহতির চিঠি ইস্যু করেন, ঠিক সেদিন সকালে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ২২ জন কর্মচারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বকেয়া বেতনের টাকা জমা হয়। কিন্তু বিকেলে সিভিল সার্জনের অব্যাহতির চিঠি হাতে পেয়ে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী মো. রেজোয়ান রাজ বলেন, "দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর দিন কাটালেও তারা সেবা থামাননি। অবশেষে হাতে টাকা আসায় আমরা তা কর্মীদের মাঝে বিতরণ করি, ঠিক তখনই এই অদ্ভূত অব্যাহতির আদেশ আসে।"
এদিকে, অব্যাহতির চিঠি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ক্ষুব্ধ আউটসোর্সিং কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে জেলার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। টিকিট কাউন্টার, জরুরি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সেবা, ওয়ার্ড বয় ও আয়া সংকটে গোটা হাসপাতালজুড়ে হাহাকার শুরু হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনুপস্থিতিতে নোংরা আবর্জনায় পুতিগন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ছয় দিনের মাথায় সিদ্ধান্ত বদল
পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি বিবেচনা করে মাত্র ছয় দিনের মাথায় গত ১ নভেম্বর এক অফিস আদেশে পূর্বের সেই আদেশ প্রত্যাহার করে সিভিল সার্জন সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেন। তবে, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সংশোধিত ওই চিঠিতে বকেয়া বেতন দ্রুত ছাড় বা পরিশোধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সিভিল সার্জন অফিসে যোগাযোগ করা হলেও ডা. মো. মো. মনিরুজ্জামানকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, "আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ২১ অক্টোবর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। খুলনার সিভিল সার্জন সেই নির্দেশনা মেনেই চিঠি ইস্যু করেছিলেন। ঠিকাদারদের দেওয়া ওয়ার্ক অর্ডার এবং সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতেই কর্মীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে নিম্ন আয়ের এসব সেবাকর্মীর স্বার্থরক্ষায় আমরা আন্তরিক আছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী পাহাড়ের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসের পাশে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পাশের পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ আরেক ব্যক্তির মরদেহ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ডেংগ্যাকাটা এলাকার আবদুস সালামের ছেলে মোক্তার কামাল (৪০) এবং একই ইউনিয়নের আমতলীঘোনা এলাকার কালু ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ আকবর, যিনি আব্বুইয়া নামেও পরিচিত। তাঁদের সঙ্গে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার আবুল হোসনের ছেলে ইলিয়াস এবং একই এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসের পাশে কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকালে মোক্তার কামালকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইলিয়াস ও আলী আহমদকে। পরে নিখোঁজ মোহাম্মদ আকবরের মরদেহ পাশের পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান।
আহত ইলিয়াসের দাবি, একটি ইয়াবার চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের ডেংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে হস্তান্তরের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। পথে ডাকাত দলের সদস্যরা চালানটি ছিনিয়ে নেয়। যদিও ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে ডাকাত দলের বিরুদ্ধে।
ইলিয়াস জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান সোমবার রাতে তাঁদের চারজনকে বিচারের কথা বলে হ্নীলার একটি দলের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে মারধর করা হয়, যার ফলে মোক্তার কামালের মৃত্যু ঘটে। বাকি দুজন আহত হন এবং মোহাম্মদ আকবর নিখোঁজ ছিলেন, পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইয়াবার চালানটির মালিক হ্নীলার একজন মাদক কারবারি বলেও দাবি করেন ইলিয়াস।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটি ইয়াবা-সংক্রান্ত। ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে চালানের মালিকপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মারধর করে। অতিরিক্ত মারধরের কারণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্য ইউনিয়নের হলেও ইয়াবার চালানটির মালিক হ্নীলা ইউনিয়নের কেউ হতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পানখালী এলাকা থেকে প্রথমে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পাশের পাহাড় থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, কক্সবাজার অঞ্চলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে ইয়াবার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও ইয়াবাকেন্দ্রিক বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। টেকনাফের এ ঘটনাটিও তদন্তাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার মন্তব্য করেছেন যে, শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং তাদের দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সার্টিফিকেট অর্জন নয়; বরং শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কতটা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে সনদনির্ভরতা থেকে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষার্থীরা বেকার না থাকে।
আজ ঝালকাঠি সরকারি কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পরিধি বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা চলবে না; শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ার পাশাপাশি বিশ্ব ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে জানতে হবে। চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করতে হবে জ্ঞান অর্জনের জন্য। এ ক্ষেত্রে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।
মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদককে না বলতে হবে। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঘটছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিজেদের ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি পরিচ্ছন্ন ঝালকাঠি গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বড়দের শ্রদ্ধা ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। ভালো ফলাফল করাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না; শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা ও উন্নয়ন ভাবনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয় নিয়ে ভাবছেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
কলেজের শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, কলেজের জন্য একটি স্কুলবাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। ইনডোর গেমসের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, তোমরা আমাদের বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তোমাদের হাত ধরেই ঝালকাঠি আরও সাফল্য অর্জন করবে। তোমাদের মেধা, জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে।’
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. বশির গাজী, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইলিয়াস বেপারী এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) স্নেহলতা রায়।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ৪৫০ জন নবীন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ