১২:৪৪ পি.এম
বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো মো গত রবিবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলোও উঠে আসে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উক্ত বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশের উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা।
আরও পড়ুন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না জানবেন কৃষকরা: প্রধানমন্ত্রী
তিনি আরও জানান, বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ এবং সীমান্ত যোগাযোগ লক্ষ্য বিষয়গুলো অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বাণিজ্য বৃদ্ধি সম্ভব। উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনা করে সমাধান করতে কাজ করবে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হলে ব্যবসায়ী ও জনগণের জন্য সুবিধা হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হলে সীমিত বা অস্থায়ীভাবে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে কৃষি এবং মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বি টু বি (বিজনেস টু বিজনেস) কার্যক্রম জোরদার করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: দেশের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। যদি নিরাপত্তা এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে আসে তবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ পক্ষের তরফে দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং কার্যকর অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উভয়পক্ষ একমত হন যে, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৪
বৈঠকে সরাসরি নৌ এবং শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকের সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মিসরে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত, ৩৪ জন আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন