০১:৪৩ এম
মালদ্বীপ বাংলাদেশে টুনা মাছ আহরণ, মৎস্য শিল্পের বিস্তার ও নীল অর্থনীতির বিকাশে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দেবে।
দেশটির বিশ্বমানের টুনা শিল্পের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের উদীয়মান সামুদ্রিক মৎস্য খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
সোমবার মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিহতদের লাশ রেখে বিক্ষোভ
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ শিয়ামের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে মালদ্বীপের পক্ষ থেকে এই সহযোগিতার আশ্বাস ও আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ খাতের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, টেকসই টুনা মৎস্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মালদ্বীপ আন্তর্জাতিকভাবে একটি সফল মডেল। মালদ্বীপের এই বিশ্বখ্যাত টুনা শিল্পের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় টুনা মাছ আহরণ, বাণিজ্য, যৌথ বিনিয়োগ, আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাদ্য শিল্প দুই দেশের পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বের বড় ক্ষেত্র হতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা
সাক্ষাতে মালদ্বীপের মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রী বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি এবং মৎস্য শিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি জেলে ও মৎস্যকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ খাতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে বিশেষায়িত যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।
উভয় পক্ষ নীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ একসঙ্গে কাজ করবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: আমন্ত্রণ পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আসেননি, জুলাইকে ধারণ করেন না
বৈঠকে মৎস্য খাতের পাশাপাশি মালদ্বীপের কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটির সরকার।
এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে আরও কাঠামোগত করতে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও নীতিগত আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন, মৎস্য, বিশেষ করে টুনা শিল্প এবং সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক পরিপূরক সক্ষমতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু শব্দের ব্যবহার নেই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন