ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতির কারণে ভুগছে চট্টগ্রাম: এরশাদ উল্লাহ, এমপি


১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতির কারণে ভুগছে চট্টগ্রাম: এরশাদ উল্লাহ, এমপি

চট্টগ্রাম, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস সংকট শিগগিরই  কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ইরান-মার্কিন যুদ্ধের কারণে আমদানিকৃত এলএনজির (লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস) অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি হয়ে আসতে পারছে না। এরই মধ্যে মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহে।’

তিনি আজ বিকেলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট ও উত্তরণের উপায়’ নিয়ে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় এরশাদ উল্লাহ, এমপি বলেন, বিগত ১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতির কারণে দেশের গ্যাস সরবরাহ আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতি ঘনফুট মাত্র ১৩ ডলারে কেনা যেত, এখন তার দর গিয়ে ঠেকেছে ২৭ ডলারে। টাকার হিসেবে সরকারের প্রতি ঘনফুট গ্যাস আমদানিতে ব্যয় হয় ১২১ টাকা অথচ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে প্রতি ঘনফুট ২৩ টাকায়। প্রতি ঘনফুটে প্রায় ১০০ টাকা ভর্তুকি দিয়েও সরকার জনগণকে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর ব্যয় চাপ বাড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জ্বালানি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, চট্টগ্রাম ঘিরে আরও এলএনজি টার্মিনাল গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে গেলে শিগগিরই  চলমান সংকট কেটে যেতে পারে। 

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

চট্টগ্রামবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংকট সাময়িক। সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।’

সভায় কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি আমদানির মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জাতীয় পর্যায়েই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে ৯ থেকে ১০টি এলএনজি কার্গো প্রয়োজন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে গত মাসে এসেছে ৬টি জাহাজ। চলতি মাসে পেট্রোবাংলা থেকে কেজিডিসিএলকে প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রায় ২৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ চট্টগ্রামে মোট চাহিদা প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রতিদিনই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

কেজিডিসিএল এমডি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি করা হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে এসব কার্গো সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩টি এলএনজি কার্গো বাতিল হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
আলোচনায় চট্টগ্রামে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের আগের পরিস্থিতিও উঠে আসে। 

কেজিডিসিএল এমডি জানান, আগে সিলেট, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমেছে। বিপরীতে শিল্প, আবাসিক ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। 

দেশীয় উৎপাদন চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় ঘাটতি পূরণে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ উল্লাহ, এমপি বলেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকটা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো। জাতীয় পর্যায়ে যত গ্যাস পাওয়া যায়, সেখান থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। গত ১৫ বছরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সমুদ্রসীমা বিজয়ের পরও বঙ্গোপসাগরে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও অফশোর ড্রিলিং হয়নি। ফলে দেশের নিজস্ব গ্যাসের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। বিগত সরকারের ভুল জ্বালানি নীতির ফলে আজ দেশের জনগণকে এমন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান কেজিডিসিএল এমডি। তিনি বলেন, দেশে মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি কূপ ইতোমধ্যে খনন করা হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও সাতটি কূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট  গ্যাস যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

নতুন গ্যাসের সন্ধানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এলাকায় টু-ডি সিসমিক সার্ভে এবং প্রায় ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভের কাজ চলছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নেগোশিয়েশনের কাজ চলছে।

টার্মিনালটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট  গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

গ্যাসের সুষ্ঠু বিতরণ, সিস্টেম লস কমানো এবং বকেয়া আদায়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কেজিডিসিএল এমডি প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন। 

তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত গ্যাস সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা, সিস্টেম লস সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং বকেয়া আদায় করা কেজিডিসিএলের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে ১৬টি ভিজিল্যান্স টিম ও পাঁচটি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও নজরদারি করছে। এর ফলে বর্তমানে কেজিডিসিএলের সিস্টেম লস ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এটি আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

মতবিনিময় সভায় কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) রইস উদ্দিন আহমেদ, উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং) অনুপম দত্ত, ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক কাউন্সিলর মো. নাজিম উদ্দিনসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে চিকিৎসক কতৃক আরেক চিকিৎসক হেনস্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ এম


বরিশালে চিকিৎসক কতৃক আরেক চিকিৎসক হেনস্তা

বরিশাল নগরীতে এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাওনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে মিডটাউন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে মিডটাউন হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঘটনার সময় ডা. শাওনকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পরে হাসপাতালের গার্ড ও স্টাফদের ডেকে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি জরায়ু অপারেশনের রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় ডা. আনোয়ার নিজেই এনেস্থেশিয়া প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অপারেশন সম্পন্ন না করেই সেলাই করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই রোগীকে মিডটাউন হাসপাতালেই ভর্তি রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ না হয়েও ডা. আনোয়ার কেন নিজে এনেস্থেশিয়া দিয়েছেন—এমন প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করেই ডা. শাওনের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত। একপর্যায়ে বিষয়টি বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয় এবং ডা. শাওনকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ।
ডা. শাওনের দাবি, ডা. আনোয়ার কোনো নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ না হয়েও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার করেন এবং নিজেই এনেস্থেশিয়া প্রয়োগ করেন। এতে রোগীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন আপত্তি জানানোতেই তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিডটাউন হাসপাতালের এমডি ডা. আনোয়ার হোসেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি এমবিবিএস পাস। দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই সব অপারেশনই আমি পারি। এনেস্থেশিয়া বিষয়েও আমি অভিজ্ঞ। ডা. শাওন ইর্ষান্বিত হয়ে আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। রাগের মাথায় দু-একটা বকাঝকা করেছি। তবে তাকে আমি কোনো প্রকার হেনস্তা করিনি।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ এম


চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

‘ভ্যানটা পাওয়া গেছে, ছেলের জুতা পাওয়া গেছে—কিন্তু আমার ছেলেডারে তো পাই নাই। প্রতিদিন মনে হয়, এই বুঝি দরজায় এসে দাঁড়াবে ইমরান। আবার ভয় হয়, কোনো অঘটন ঘটেনি তো!’—এমনই অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়া গ্রামের চুন্নু খান ও হাজেরা বেগম। ১৩ বছরের ছেলে ইমরান খান নিখোঁজ হওয়ার আড়াই মাস পার হয়ে গেলেও তার সন্ধান এখনো মেলেনি।

বাবা-মা সন্তান জীবিত থাকলে তাকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন। অন্যদিকে, যদি কোনো অঘটন ঘটে থাকে, তাহলে অন্তত ছেলের শেষ পরিণতি জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন ধান ভাঙানোর উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী শামীম মোল্যা (২১) চুন্নু খানের ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বের হন। এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় ইমরান। ওই দিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।

স্বজনদের অভিযোগ, শামীম মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ইমরানের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও বাড়তে থাকে। ঘটনার তিন দিন পর ১৭ জুন বিকেলে পাশের মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামের এলিনা বেগমের বাড়ি থেকে ইমরানের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একটি পাটখেত থেকে তার ব্যবহৃত জুতা ও একটি কোদালও উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এসব আলামত উদ্ধার হওয়ার পরও ইমরানের সন্ধান মেলেনি।

ইমরানের বাবা চুন্নু খান ওই দিনই সালথা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্ত এবং দুজন বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা এখনো পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইমরানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারটি জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে। সন্তান নিখোঁজ থাকার কারণে পরিবারের সদস্যদের চোখেমুখে উদ্বেগ ও হতাশার ছাপ স্পষ্ট। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমরানের বাবা-মা।

চুন্নু খান বলেন, ‘আড়াই মাস ধইরা আমার ছেলের কোনো খোঁজ নাই। সে বাঁচে আছে নাকি মারা গেছে, কিছুই জানি না। আমরা গরিব মানুষ। ছেলেডারে খুঁজতে কত জায়গায় ঘুরছি। আমার ছেলেডা যদি বাঁচে থাকে, তারে ফিরাইয়া দেন। আর যদি কোনো অঘটন হইয়া থাকে, হাড্ডি-গুড্ডি হইলেও খুঁইজ্যা দ্যান।’

ইমরানের মা হাজেরা বেগম বলেন, ‘ভ্যানটা পুলিশ উদ্ধার করছে, কিন্তু আমার ছেলেডারে পাই নাই। ছেলেকে খুঁজতে ফরিদপুর হাসপাতাল, মুকসুদপুর হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় গেছি। কোথাও তার সন্ধান পাইনি। প্রতিদিন মনে হয়, আজ বুঝি আমার ছেলে ফিরে আসবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলা হওয়ার দিনই মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রাম থেকে এনায়েত শেখের স্ত্রী এলিনা বেগমকে (৩২) আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকেই ইমরানের ব্যবহৃত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। একই দিন শামীম মোল্যা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাঁর বাবা টুকু মোল্যা (৬৫) ও স্ত্রী সাথী বেগমকে (২১) আটক করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রাম থেকে রাসেল মাতুব্বর (২১) নামের আরো এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, ইমরান নিখোঁজের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং দুজন কারাগারে আছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওসি আরো বলেন, শামীম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে ইমরান নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মো. ফজলে এলাহী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ এম


মাদারীপুরের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মো. ফজলে এলাহী

মাদারীপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মো. ফজলে এলাহী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মাদারীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের আগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নবাগত পুলিশ সুপারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তিনি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান নবাগত পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন।

মো. ফজলে এলাহী ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি রাজশাহী জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাদারীপুরে যোগদানের আগে তিনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন।

দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠানে মাদারীপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ এম


সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

সাতক্ষীরা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্যোগের আগেই সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। 

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস ভিত্তিক আগাম সাড়াদান কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে দুর্যোগ প্রতিক্রিয়াশীলকরণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি বীমা কর্মসূচি বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাতক্ষীরা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এ কর্মশালার আয়োজন করে। 

জেলা প্রশাসক এসময় বলেন, ঘূর্ণিঝড় বা কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই সাইক্লোন শেল্টারগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। 

দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতি শুরু হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদে সাইক্লোন শেল্টারে নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সাইক্লোন শেল্টারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব কমিটি, সদস্যদের দায়িত্ব ও করণীয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত হালনাগাদ করে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

কর্মশালায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এতে দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার পর আগাম সাড়াদান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে দুর্যোগ প্রতিক্রিয়াশীল করা এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীনসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। 

এছাড়া দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি খুলনার প্রতিনিধি, বাস্তবায়নকারী সংস্থা সুশীলন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%