০৩:৫৭ এম
বিশ্বকাপে বিতর্ক ও পক্ষপাতের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি বলেছেন, গত চার বছরে আর্জেন্টিনার সাফল্য ছিল কঠোর পরিশ্রম, মানসিক দৃঢ়তা এবং দলের সামর্থ্যের ফল, যা এবারের ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। তাদের কিছুই উপহার হিসেবে দেওয়া হয়নি।
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর মেসি সমালোচকদের প্রতি এই মন্তব্য করেন। সেমির ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে আনন্দে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেস।
ফাইনালে ওঠার পথে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্ডে ও সুইজারল্যান্ডকে পরাজিত করে। তাছাড়া, নিয়মিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র ১১ মিনিট আগে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও তারা মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় পায়।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
তবে এসব ম্যাচের পর সুইজারল্যান্ড ও মিশরের কোচেরা রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন যে ফুটবল কর্তৃপক্ষ আর্জেন্টিনা এবং মেসিকে সুবিধা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন দাবি উড়ে এসেছে যে টুর্নামেন্টের সূচি ও রেফারিং আর্জেন্টিনার পক্ষে ছিল।
এসব অভিযোগ নাকচ করে মেসি বলেন, "গত চার বছরে আমরাই সেরা দল ছিলাম— কারও ভালো লাগুক বা না লাগুক। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছি। এটা পরিষ্কার যে, আমাদের অর্জন কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয় এবং আমাদের কিছুই উপহার হিসেবে দেওয়া হয়নি।"
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে সুইস খেলোয়াড় ব্রিল এম্বোলোর ওপর আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, সংস্পর্শের আগেই এম্বোলো পড়ে যান। এর আগে একটি হলুদ কার্ড থাকার কারণে এম্বোলো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন, ফলে সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হয়।
ম্যাচ শেষে সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, "একটি নিয়মের কারণে আমরা শাস্তি পেয়েছি, যা আমার মতে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে বিদায় নেওয়া খুবই কষ্টের। আমার বিশ্বাস, আজ আমার খেলোয়াড়রাই প্রকৃত নায়ক।"
আরও পড়ুন: সালাহকে ছুঁয়ে ইতোর রেকর্ডের কাছে পৌঁছালেন আশরাফ হাকিমি
অন্যদিকে, মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও একটি বিবৃতিতে অভিযোগ করে, তাদের বিপক্ষে ম্যাচের রেফারিং ছিল অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট।
এদিকে, সেমিফাইনালে সমতা ফেরানোর গোলের পর আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ নিজের উদযাপন নিয়ে ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, কান চেপে ধরা এবং হাতের ইশারায় সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। অনেক আলোচনা হচ্ছিল। গোলের পর সেটা ছিল আনন্দ এবং জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, "এ ধরনের কথা সবসময়ই থাকবে। এখন ভিএআর ব্যবস্থার যুগে কাউকে গোপনে সুবিধা দেওয়া খুবই কঠিন। আমরা জানতাম, আমাদের জন্য কোনো বিশেষ সহায়তা ছিল না।"
আগামী রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। তারা টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে, সঙ্গে থাকবে মেসির দল।
আরও পড়ুন: দেশের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন