সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩৫ পি.এম
বিরোধ মেটাতে থানায় এসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পাঁচজনকে আটক করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, মো.আলা উদ্দিন ওরফে সহেল, ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো.আজগর আলী, জাহিদুল ইসলাম সাব্বির ও মাইন উদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছোটধলী গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আলাউদ্দিন ওরফে সোহেল প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লামছি প্রসাদ গ্রামের মাশরুপা আক্তারকে (১৯) বিয়ে করেন। প্রায় তিন মাস আগে সহেল প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থানায় আসেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দাস গুপ্ত বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ থানার বাইরে যাওয়ার সময় থানার গেটসংলগ্ন সড়কে দুই পক্ষের লোকজন বাকবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, একটি পারিবারিক বৈঠক শেষে চলে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাথে সাথে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যা চালুর বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
দলটির মতে, পুলিশের প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য কেবল আইনশাসন ও সংবিধানের পরিপন্থী নয়; বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার এক বিপজ্জনক পরিকল্পনা।
সম্প্রতি আইজিপি মন্তব্য করেছেন, “সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে”। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি স্পষ্টভাবে জানায়—সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় বলেছিল, “গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হবে”। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আইজিপির এ ধরনের বক্তব্য স্পষ্টতই তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সঙ্গে দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য লোক নিয়োগের একটি নজির।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে ভয়ংকর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান তার অবসানের জন্যই সংঘটিত হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর শত শত নেতাকর্মীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপরাধমূলক ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস এখনো দেশবাসীর চোখের সামনে স্পষ্ট। বিগত স্বৈরাচারের আমল থেকে শিক্ষা না নিয়ে, বর্তমান সময়ে এসে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়া চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয় দেখানো এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্ররোচনা দেবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি অবিলম্বে আইজিপিকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়, বাংলাদেশের পেনাল কোড ও পুলিশ আইনে পরিষ্কারভাবে তা উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে সব ধরনের বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করে একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে জুলাই সনদে বর্ণিত পথে অবিলম্বে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, যারা ক্ষমতায় না গিয়েই ভিন্নমতের মানুষের জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদান করছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হয়ে উঠবে। সুতরাং, দেশের সুরক্ষার জন্য জামায়াত-শিবিরের প্রভাব থেকে সবাইকে রক্ষা করা উচিত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত-এনসিপির আদর্শিক নেতা শহীদ ওসমান হাদী বলেছেন, "আমরা আমাদের শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই!" তবে, প্রশ্ন উঠছে, সেই ইনসাফ কি মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া?
তিনি আরও জানান, জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে জামায়াতে ইসলামী মানিক পশারীর জানাজা হতে দেয়নি। এমনকি দুই মেয়ে ও এক বোন মোবাইলের আলোতে কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করেছে। এই ঘটনাই জামায়াত-শিবিরের বর্বরতার উদাহরণ। যারা ভিন্নমতের মানুষের জানাজা ও দাফনে বাধা দিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হয়ে উঠবে। তাই, জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করার নৈতিক দায়িত্ব সবার।
রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, জামায়াতের প্রক্সি সংগঠন এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাকর্মী। ফলে, নতুন এই প্রক্সি দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবিরের মতো বর্বর। এই দলের সৃষ্টি জামায়াত-শিবিরের বিপদে পড়লে তাদের রক্ষা করার জন্য। তারা প্রতিনিয়ত সেটিই করে যাচ্ছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে আগামীতে জামায়াতের আসন ছাড় পাওয়ার জন্য এনসিপি নেতাদের মধ্যে জামায়াতি বর্বরতাকে তোষামোদি করার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নতুন বন্দোবস্তের নামে এনসিপি জামায়াতি বর্বরতাকে বৈধতা দেওয়ার রাজনীতি করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, "এটাই কি তরুণদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়েছিল?" তিনি আরও বলেন, ছাগল চোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিতদের থেকে এর বেশি কিছু কিভাবে প্রত্যাশা করা যায়!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে এক নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেছেন।
এই নৈশভোজটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের টোকিও শহরের মেইজি কিনেনকানের হানাগাসুমি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত হয়।
নৈশভোজের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি এ সময় বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সাসাকাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভ্যাকসিন উৎপাদনের একটি কারখানা স্থাপনে বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে নৈশভোজে আলোচনা হয়।
নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
এছাড়া নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়া এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরের সময় ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এশিয়ার জ্বালানি খাতে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। এই বিনিয়োগের ফলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। শিল্পায়ন, ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এই তথ্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিশ্বে নিট জ্বালানি চাহিদা যতটা বৃদ্ধি পাবে, তার প্রায় ৭০ শতাংশ এশিয়া থেকে আসবে। ২০৪০ সালে এ অঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূর্বাভাসের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি হতে পারে।
যদিও চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এশিয়ার জ্বালানি রূপান্তর সহজ হবে না। সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও শিল্পের চাহিদা পূরণের জন্য কয়লার ব্যবহার দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ম্যাককিনজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহারের ৪৭ শতাংশ কয়লা থেকে আসে। তেলের অংশ ২৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ১২ শতাংশ। চীনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের ফলে কয়লার চাহিদা কমার সম্ভাবনা থাকলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়তি চাহিদা আঞ্চলিকভাবে কয়লার ব্যবহারকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারে। ম্যাককিনজি আগামী এক দশকে এশিয়ায় কয়লার চাহিদা মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির উত্থান স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১২ মাসে এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৭২৭ টেরাওয়াট-ঘণ্টা হয়েছে। একই সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৭১১ টেরাওয়াট-ঘণ্টা। এর ফলে সৌরশক্তি এশিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠেছে। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি চীন; ভারত ও পাকিস্তানেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। ম্যাককিনজির হিসাব অনুযায়ী, এশিয়ায় সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তুলতে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই বিনিয়োগের বড় অংশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রযুক্তিও সস্তা হচ্ছে। ফলে সূর্যালোক বা বাতাস না থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ধরে রাখার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির গতি আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে কমতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছু দেশ কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে শিল্প খাতে তেল ও কয়লার বিকল্প হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ম্যাককিনজি।
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে জৈব জ্বালানির গুরুত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ম্যাককিনজির হিসাব অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে এশিয়ায় জৈব জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে বছরে ৯০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতে পারে। ভারত পেট্রলে ইথানল মেশানোর কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে। বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ডিজেলের সঙ্গে পাম তেলভিত্তিক জৈব জ্বালানি মেশানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি ৫০ শতাংশ জৈব ডিজেল মিশ্রণের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
তবে জৈব জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাঁচামালের জোগান, উৎপাদন ব্যয় এবং খাদ্য ও জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
এশিয়ার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজন শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমদানিনির্ভরতা কমানো, সরবরাহব্যবস্থাকে ঝুঁকিমুক্ত করা এবং বাড়তে থাকা চাহিদা মেটানোও এর লক্ষ্য। কয়লা, গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে এশিয়ার জ্বালানি রূপান্তরের গতি।
সূত্র: ম্যাককিনজি, রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ