মোঃ শাহিন, (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:৪৯ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অতিরিক্ত গরমে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে গোমস্তাপুর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুতের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম ধস নেমেছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রাইস মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, ফটোকপি ও কম্পিউটার কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন, ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা।
তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে এই রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকাবাসী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু এবং বয়োবৃদ্ধরা হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে গরমজনিত রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এবং গরমে পড়ার টেবিলে বসা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, "দিনে-রাতে কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, তার হিসাব নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর বাচ্চাদের পড়ালেখার তো চরম ক্ষতি হচ্ছে।"
বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকেই সরবরাহ কম রয়েছে। তবে তাঁরা আশ্বস্ত করেন যে, এ সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনজীবনকে দুর্ভোগ মুক্ত করার জন্য গোমস্তাপুরের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পারস্পরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকের সময়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। উভয় পক্ষই তাদের সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং এই অংশীদারিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের সফর হয়েছে, যা বিভিন্ন খাতে সার্বিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য আরো উচ্চ পর্যায়ের সফরের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সম্পর্কগুলোর একটি। তিনি অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে সৌদি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়ছে এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা আরো সম্প্রসারণে আগ্রহী সৌদি আরব।
এ সময়, সৌদি আরবের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়েত ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে।
পাকিস্তান সফররত কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক সমন্বয় জোরদার, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রস্তুতি ও সক্ষমতার মাত্রা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সমন্বয় জোরদার, সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সক্ষমতার মাত্রা বাড়ানো।
এছাড়া প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান ও কুয়েত। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বাড়ছে পাকিস্তানের উপসাগরীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
কুয়েতের সঙ্গে নতুন এই চুক্তি পাকিস্তানের উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসেই পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল।
পাকিস্তানের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে।
নতুন চুক্তির ফলে এসব সহযোগিতা আরও কাঠামোবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক প্রস্তুতি ও সমন্বয়ে গুরুত্ব
চুক্তিতে বিশেষভাবে সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি, সমন্বয় ও পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দুই দেশের সামরিক বাহিনী নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ পাবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
পাকিস্তান ও কুয়েত উভয় পক্ষই জানিয়েছে, তারা দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণে আগ্রহী।
এর ফলে শুধু সামরিক পর্যায়েই নয়, দুই দেশের সামগ্রিক কৌশলগত সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি বিশাল আকৃতির পাতিলের মধ্যে রান্না করা হচ্ছে ১০১ মণ চালের তবারক।
মানিকগঞ্জের ঘিওরে হাজারো মানুষ ভিড় করেছেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে। প্রায় ৪০ হাজার ভক্ত-আশেকানের জন্য একসঙ্গে চাল, ডাল ও সবজি দিয়ে রান্না করা হয়েছে এই তবারক।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলার জাবরা ইমামবাড়ি দরবার শরিফের ১০৬তম ওরস মাহফিল উপলক্ষে এই আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। প্রধান বাবুর্চিসহ ৩০ জন মিলে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে তবারক রান্নার কাজ সম্পন্ন করেন।
দুপুরের পর থেকে আগত ভক্ত-আশেকান ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তবারক বিতরণ শুরু হয়।
দরবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত পীর সাহেব মাওলানা আবুল কালাম আল চিশতি জানান, প্রায় নয় বছর আগে নাটোরে এক ভক্তের বাড়িতে অবস্থানকালে রাতে স্বপ্নে এ ধরনের একটি পাতিলে তবারক রান্নার বিষয়টি তাঁর মনে আসে। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে দুই মিস্ত্রির মাধ্যমে প্রায় চার মাস ধরে পাতিলটি তৈরি করা হয়। এরপর ভারতের আজমীর শরিফের খাদেমের ফর্মুলা ও অনুমতি নিয়ে এতে তবারক রান্না শুরু করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পাতিলটি স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) দিয়ে তৈরি করতে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পরে ১২ হাজার ইট দিয়ে এর জন্য বিশেষ একটি বিশাল চুলা নির্মাণ করা হয়। চুলার এক পাশে সুড়ঙ্গ করে জ্বালানি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বছরে মূলত দুইবার এ পাতিলে তবারক রান্না করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ রোগমুক্তি ও মনের আশা পূরণের আশায় এ তবারক গ্রহণ করেন।
এ আয়োজনের খরচ মূলত ভক্তরাই বহন করেন।
প্রধান বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম বলেন, পীর সাহেবের নির্দেশনায় তিনি রান্নার কাজ করেন। এবারের পাতিলে ৩৬ মণ চাল, ২০ মণ সবজি, ছয় মণ ডাল, আট মণ ঘি, দুই বস্তা লবণ ও প্রয়োজনীয় মসলা দেওয়া হয়েছে। পাতিলের মাঝখানে মোটরের সাহায্যে চাল, ডালসহ উপকরণ মেশানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, একসঙ্গে এত পরিমাণ চাল ও ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্নার জন্য ব্যবহৃত এ পাতিলে দেশের সবচেয়ে বড় রান্নার ড্যাগ।
দরবারে আসা কয়েকজন নারী ভক্ত জানান, তাঁদের সন্তান হচ্ছিল না। পরে এ বিশাল পাতিলে রান্না করা তবারক খাওয়ার পর তাঁরা সন্তান লাভ করেছেন। তাঁদের মতো আরো অনেকে তবারক খেয়ে রোগমুক্তি ও মনের আশা পূরণের কথা জানিয়েছেন।
ভক্তরা জানান, সন্তান লাভ, মনের আশা পূরণ ও বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তির আশায় অনেকে এ তবারক গ্রহণ করতে আসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল থেকে ভারতকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশটির পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় হয়ে উঠেছে। নেপালে হিমালয়ের রুদ্ররোষের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এই ছোট্ট দেশটিতে, যা পাহাড়ের কোলে অবস্থিত।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ভারতকে সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ভারতও নেপালের মতো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। ভারত ও নেপালের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বরাবরই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে বাঁধা ছিল। তবে, এখন পরিবেশগত বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে শিশির বলেন, ‘ভারত ও নেপালের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্ককে আমরা বরাবরই আত্মিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দিয়ে ব্যাখ্যা করে এসেছি। আমাদের ধর্মীয় ও সভ্যতার মেলবন্ধন অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্ককে পরিবেশগত সুরক্ষার নিরিখে নতুনভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘হিমালয় গললে সমুদ্রে পানিস্তর বাড়বেই।
বুধবার ভয়াবহ এই ঘটনা আমাদের সামনে ঘটেছে। আচমকা পানিস্তর বেড়ে গিয়ে নেপালের একের পর এক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একাধিক শহর ভেসে গেছে।’
নেপালের এই পরিস্থিতি ভারতের জন্যও একটি অশনি সংকেত। পরিবেশগতভাবে চীন, নেপাল, ভারত এবং ভুটান একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।
শিশির খানাল যোগ করেন, আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আগামী দিনে হিমালয়ের পরিবেশ বাঁচিয়ে রাখার ওপরে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, হড়পা বান এবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেনি। তবে ভবিষ্যতে ভারতেও এমন বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখে শত্রুতা ভুলে সব দেশের সচেতন হওয়া উচিত।
এদিকে, নেপালে এই বিপর্যয়ে স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি ভারতীয়রাও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মানুষ নেপাল গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নেওয়া তথ্য ও নেপালে কর্মরতদের মধ্যে মোট ২৮৮ জন ভারতীয় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন ২০০ জন। জয়সওয়াল এটাও জানান, যেটুকু তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা প্রাথমিক। বাস্তবে সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ