শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩২ এম
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকালে দুটি টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ ১০৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের তথ্য পাওয়া যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ। এর আগে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সরবরাহ এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে স্থির ছিল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈরি আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী কার্গো থেকে খালাস প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ায় সামিটের টার্মিনাল বন্ধ করে দিতে হয়। তবে শুক্রবার সকালে এলএনজি খালাস শুরু হলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে থাকে। পেট্রোবাংলার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শনিবার ইনকিলাবকে জানান, এলএনজিবাহী কার্গো আসার শিডিউল ঠিক থাকায় গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন কোম্পানির এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে ৫০০ এবং দেশীয় সামিট পাওয়ার লিমিটেডের টার্মিনাল থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। দুটি টার্মিনালের সক্ষমতা ১০৫০ থেকে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
দুটি টার্মিনালকে পূর্ণ ক্ষমতায় সচল রাখতে মাসে দশটি এলএনজিবাহী কার্গো আমদানি করতে হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে পর্যাপ্ত এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হয়নি। হরমুজ প্রণালী নিয়ে জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ আসতে পারেনি। এর ফলস্বরূপ গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে চলতি মাসে নয়টি জাহাজ আসার শিডিউল দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে এসেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর আরো একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও ২৬৫০ থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। বুধবারও সরবরাহ করা হয়েছে ২৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। দেশে সরবরাহ করা গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে ভাসমান দুটি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের এবং অপরটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। দুইটি টার্মিনাল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম। এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। এদিকে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় শিল্প কারখানায় গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদনে গতি এসেছে। গ্যাসচালিত বিদ্যুতকেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে এবং লোডশেডিং কমেছে। আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে দুইটি কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে এড শিরানের। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার ফক্সবোরোর গিলেট স্টেডিয়ামে এই কনসার্ট দুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ব্রিটিশ গায়ক এড শিরান চলমান যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ হিসেবে সেখানে গান পরিবেশন করবেন বলে আশা করা হয়েছিল।
গিলেট স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায়, বোস্টন ও নিউ ইংল্যান্ডজুড়ে সপ্তাহান্তে গুরুতর আবহাওয়ার সতর্কতা জারি থাকায় স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কনসার্ট দুটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দর্শক, কর্মী এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এলাকায় প্রবল বাতাসের সতর্কতা রোববার ভোর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া গাড়িতে চলাচল কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
কনসার্ট বাতিল হওয়ায় টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আয়োজকদের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে টিকিট কেনা দর্শকরা সেখান থেকেই অর্থ ফেরত পাবেন। আর টিকিটমাস্টারের মাধ্যমে কেনা টিকিটের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।
এদিকে, আবহাওয়ার কারণে কনসার্ট বাতিল হওয়ার আগে এড শিরান অন্য একটি বিতর্কেও আলোচনায় ছিলেন। তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের সহশিল্পী ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ম্যাকলমোর মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় ‘গণহত্যা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার পরিবেশনার সময় গাজার বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করা হয়েছিল।
ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটও ভূমিকা পালন করেন। ইহুদি ব্যবসায়ী রবার্ট ক্রাফট ম্যাকলমোরের বক্তব্যকে বিদ্বেষমূলক আখ্যা দিয়ে জানান, তাকে গিলেট স্টেডিয়ামে পরিবেশনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ফলে এড শিরানের সফরটি আবহাওয়াজনিত সমস্যার পাশাপাশি ওই বিতর্কের কারণে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে শেষ হওয়া ম্যাচে ব্রাজিলের সার্বিক পারফরম্যান্সে কিছুটা হতাশা অনুভব করলেও, কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন। তাঁর মতে, ম্যাচে শিষ্যদের মনোভাব ও মাঠে নিবেদনের অভাব ছিল না।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই অভিজ্ঞ কোচ পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করেন। সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘এটাকে পরাজয় বলে মনে হচ্ছে না, কারণ শেষ পর্যন্ত আমরা ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছি। দল জিততেও পারত, আমাদের সামনে বেশ কিছু সুযোগ ছিল। এমন মাঠে খেলা কঠিন হলেও একটা গোল খাওয়ার পর ছেলেরা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে। ড্রটা আমাদের প্রাপ্যই ছিল।’
সমর্থকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, এটি তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ার অংশ। বিশেষ করে এনদ্রিক ও এস্তেভাওয়ের মতো উদীয়মান প্রতিভাদের বেশি সময় দেওয়ার দিকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আনচেলত্তি বলেন, ‘সমর্থকদের ধৈর্য ধরতেই হবে। যখন কোনো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট আসবে, তখন দল শতভাগ প্রস্তুত থাকবে। অ্যাটাকিং থার্ডে ফিনিশিংয়ের কিছু অভাব থাকলেও শেষ বাঁশি পর্যন্ত ছেলেরা লড়াই করেছে।’
ব্রিসবেনে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেলেসাওরা আবারও সকারুজদের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে পরিবর্তন প্রসঙ্গে ব্রাজিল কোচ জানান, একাদশের পাশাপাশি ছক বা ফরমেশনেও পরিবর্তন আসতে পারে। কখনো দুজন আবার কখনো তিনজন মিডফিল্ডার নিয়ে কৌশল সাজানোর ইঙ্গিত দেন তিনি, যা ভবিষ্যতের জন্য দলকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বামী ও স্ত্রী শুধুমাত্র পার্থিব জীবনের চাওয়া-পাওয়া পূরণের মাধ্যম নয়, বরং তারা উভয় জগতে একে অপরের সঙ্গী হিসেবে বিবেচিত। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে, স্ত্রী পরকালে তার স্বামীর সঙ্গী হিসেবে থাকবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, জান্নাতে আল্লাহ যে অনিন্দ্যসুন্দরী হুর দান করবেন, তারা কি স্বামীর কাছে বেশি প্রিয় হবেন, নাকি স্ত্রীরা? রূপ ও গুণের দিক থেকে কে এগিয়ে থাকবে, মুমিন স্ত্রী না হুর? নিম্নে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।
হুরদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
হুর হলো সেই নারীরা, যাদের আল্লাহ জান্নাতে মুমিন পুরুষদের সঙ্গী বানাবেন। তারা সৌন্দর্য ও গুণাবলিতে অনন্য হয়ে থাকবেন। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন। যেমন বলা হয়েছে, ‘তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমি বস্ত্র এবং মুখোমুখি হয়ে বসবে। অনুরূপ আমি তাদের সঙ্গিনী দান করব আয়তলোচনা হুর।’ (সুরা : দুখান, আয়াত : ৫৩-৫৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি জান্নাতি কোনো নারী দুনিয়াবাসীদের দিকে উঁকি দেয়, তাহলে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সব কিছু আলোকিত এবং সুরভিত হয়ে যাবে। আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও তার সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৯৬)
জান্নাতে মুমিন নারীর সৌন্দর্য
কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ জান্নাতে মুমিন নারীর সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করবেন। মানুষের মধ্যে যেসব অপূর্ণতা ছিল, আল্লাহ তা জান্নাতে দূর করে দেবেন। ফলে তাদের সৌন্দর্য বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে, তাদের করেছি কুমারী, সোহাগিনি ও সমবয়স্কা, ডান দিকের লোকদের জন্য।’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৩৫-৩৮)
আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেসব নারী পৃথিবীতে বৃদ্ধা, ছানিপড়া চোখ বা দুর্বল দৃষ্টিসম্পন্ন, তারা জান্নাতে বাড়ন্ত বয়সের তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩২৯৬)
কে বেশি সুন্দর ও মর্যাদাবান হবে?
ইমাম কুরতুবি (রহ.) উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে যে জান্নাতে হুর বেশি সুন্দর হবে, নাকি মানুষ? কিছু আলেম বলেছেন, হুর মানুষের চেয়ে বেশি সুন্দর ও মর্যাদাবান হবে। কারণ কোরআনে তাদের তুলনায় রহিত রূপ ও গুণের বর্ণনা এসেছে। অন্যরা বলেছেন, মানুষ হুরদের চেয়ে ৭০ হাজার গুণ বেশি সুন্দর হবে। হাইয়ান বিন আবি জাবালাহ (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই পৃথিবীর যে নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা হুরদের ওপর প্রাধান্য পাবে দুনিয়ায় তাদের করা নেক আমলের জন্য।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৫)
আল্লামা শামসুদ্দিন সাফিরি (রহ.) পৃথিবীর নারীদের অধিক মর্যাদাবান ও সুন্দর হওয়ার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন—উম্মে সালমা (রা.) বলেন, আমি বললাম : ‘হে আল্লাহর রাসুল! পৃথিবীর নারীরা উত্তম, নাকি হুর? তিনি বললেন, বরং পৃথিবীর নারীরা হুরদের থেকে উত্তম। যেমন—কাপড়ের বাইরের অংশের তুলনায় ভেতরের অংশ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সেটা কিসের বিনিময়ে? তিনি বলেন, দুনিয়াতে তাদের নামাজ, রোজা ও ইবাদতের বিনিময়ে।’ (তাবরানি, হাদিস : ৮৭০; আল মাজালিসুল ওয়াজিয়্যাহ : ২/৩৫)
হুর কি নবসৃষ্ট মানুষ
হাসান বসরি (রহ.)-সহ একদল আলেম বলেছেন, কোরআনে বর্ণিত ‘হুরুল ঈন’ তথা হুর দ্বারা নবী ও মুমিনদের মুমিন স্ত্রী উদ্দেশ্য। যাদেরকে জান্নাতে উত্তম অবয়বে নবরূপে সৃষ্টি করা হবে। (তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৬)
অর্থাৎ জান্নাতে মুমিন পুরুষরা হুর নামক যে অপরূপ সুন্দর নারীদের লাভ করবে, তারা মূলত পৃথিবীর মুমিন নারী। পৃথক কোনো সত্তা নয়। তবে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত হলো জান্নাতি হুররা আল্লাহর পৃথক সৃষ্টি। আল্লাহ মুমিন বান্দাদের জন্য তাদের সৃষ্টি করবেন। কারণ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ হুরদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে আছে বহু আনত নয়না, যাদের পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি।’ (সুরা : আর-রহমান, আয়াত : ৫৬; তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৬)
আয়াতে ‘যাদের পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি’ বাক্য থেকে বোঝা যায়, তারা পৃথিবীর নারী বা স্ত্রীদের বাইরে অন্য কেউ হবে।
আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের শোক কাটানোর আগেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে একের পর এক ফোন আসছে। এসব ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, বিভিন্ন হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অপ্রতিমের বাবা-মা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে অপ্রতিমের বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরো পড়ুন
কমল সোনার দাম, ভরি কত?
এদিকে, এসব ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে শুক্রবার থেকে মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, প্রথমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাত কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এতে তারা দুজনেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, "এ ঘটনায় শুক্রবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।"
আরো পড়ুন
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। অপ্রতিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে একটি নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে কল করা হয়। কল রিসিভ করার পর তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। পরে কলটি কেটে দেওয়ার পর অন্য আরো কয়েকটি নম্বর থেকে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নম্বরগুলো ব্লক করে দেওয়া হয়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ