ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাজিলের একাদশে পরিবর্তনের আভাস, সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান


ব্রাজিলের একাদশে পরিবর্তনের আভাস, সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে শেষ হওয়া ম্যাচে ব্রাজিলের সার্বিক পারফরম্যান্সে কিছুটা হতাশা অনুভব করলেও, কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন। তাঁর মতে, ম্যাচে শিষ্যদের মনোভাব ও মাঠে নিবেদনের অভাব ছিল না।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই অভিজ্ঞ কোচ পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করেন। সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘এটাকে পরাজয় বলে মনে হচ্ছে না, কারণ শেষ পর্যন্ত আমরা ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছি। দল জিততেও পারত, আমাদের সামনে বেশ কিছু সুযোগ ছিল। এমন মাঠে খেলা কঠিন হলেও একটা গোল খাওয়ার পর ছেলেরা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে। ড্রটা আমাদের প্রাপ্যই ছিল।’

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

সমর্থকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, এটি তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ার অংশ। বিশেষ করে এনদ্রিক ও এস্তেভাওয়ের মতো উদীয়মান প্রতিভাদের বেশি সময় দেওয়ার দিকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আনচেলত্তি বলেন, ‘সমর্থকদের ধৈর্য ধরতেই হবে। যখন কোনো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট আসবে, তখন দল শতভাগ প্রস্তুত থাকবে। অ্যাটাকিং থার্ডে ফিনিশিংয়ের কিছু অভাব থাকলেও শেষ বাঁশি পর্যন্ত ছেলেরা লড়াই করেছে।’

ব্রিসবেনে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেলেসাওরা আবারও সকারুজদের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে পরিবর্তন প্রসঙ্গে ব্রাজিল কোচ জানান, একাদশের পাশাপাশি ছক বা ফরমেশনেও পরিবর্তন আসতে পারে। কখনো দুজন আবার কখনো তিনজন মিডফিল্ডার নিয়ে কৌশল সাজানোর ইঙ্গিত দেন তিনি, যা ভবিষ্যতের জন্য দলকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে হুরদের চেয়ে স্ত্রীই হবেন জান্নাতে স্বামীর সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


যে কারণে হুরদের চেয়ে স্ত্রীই হবেন জান্নাতে স্বামীর সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বামী ও স্ত্রী শুধুমাত্র পার্থিব জীবনের চাওয়া-পাওয়া পূরণের মাধ্যম নয়, বরং তারা উভয় জগতে একে অপরের সঙ্গী হিসেবে বিবেচিত। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে, স্ত্রী পরকালে তার স্বামীর সঙ্গী হিসেবে থাকবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, জান্নাতে আল্লাহ যে অনিন্দ্যসুন্দরী হুর দান করবেন, তারা কি স্বামীর কাছে বেশি প্রিয় হবেন, নাকি স্ত্রীরা? রূপ ও গুণের দিক থেকে কে এগিয়ে থাকবে, মুমিন স্ত্রী না হুর? নিম্নে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।

হুরদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

হুর হলো সেই নারীরা, যাদের আল্লাহ জান্নাতে মুমিন পুরুষদের সঙ্গী বানাবেন। তারা সৌন্দর্য ও গুণাবলিতে অনন্য হয়ে থাকবেন। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন। যেমন বলা হয়েছে, ‘তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমি বস্ত্র এবং মুখোমুখি হয়ে বসবে। অনুরূপ আমি তাদের সঙ্গিনী দান করব আয়তলোচনা হুর।’ (সুরা : দুখান, আয়াত : ৫৩-৫৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি জান্নাতি কোনো নারী দুনিয়াবাসীদের দিকে উঁকি দেয়, তাহলে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সব কিছু আলোকিত এবং সুরভিত হয়ে যাবে। আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও তার সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৯৬)

জান্নাতে মুমিন নারীর সৌন্দর্য

কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ জান্নাতে মুমিন নারীর সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করবেন। মানুষের মধ্যে যেসব অপূর্ণতা ছিল, আল্লাহ তা জান্নাতে দূর করে দেবেন। ফলে তাদের সৌন্দর্য বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে, তাদের করেছি কুমারী, সোহাগিনি ও সমবয়স্কা, ডান দিকের লোকদের জন্য।’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৩৫-৩৮)

আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেসব নারী পৃথিবীতে বৃদ্ধা, ছানিপড়া চোখ বা দুর্বল দৃষ্টিসম্পন্ন, তারা জান্নাতে বাড়ন্ত বয়সের তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩২৯৬)

কে বেশি সুন্দর ও মর্যাদাবান হবে?

ইমাম কুরতুবি (রহ.) উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে যে জান্নাতে হুর বেশি সুন্দর হবে, নাকি মানুষ? কিছু আলেম বলেছেন, হুর মানুষের চেয়ে বেশি সুন্দর ও মর্যাদাবান হবে। কারণ কোরআনে তাদের তুলনায় রহিত রূপ ও গুণের বর্ণনা এসেছে। অন্যরা বলেছেন, মানুষ হুরদের চেয়ে ৭০ হাজার গুণ বেশি সুন্দর হবে। হাইয়ান বিন আবি জাবালাহ (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই পৃথিবীর যে নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা হুরদের ওপর প্রাধান্য পাবে দুনিয়ায় তাদের করা নেক আমলের জন্য।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৫)

আল্লামা শামসুদ্দিন সাফিরি (রহ.) পৃথিবীর নারীদের অধিক মর্যাদাবান ও সুন্দর হওয়ার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন—উম্মে সালমা (রা.) বলেন, আমি বললাম : ‘হে আল্লাহর রাসুল! পৃথিবীর নারীরা উত্তম, নাকি হুর? তিনি বললেন, বরং পৃথিবীর নারীরা হুরদের থেকে উত্তম। যেমন—কাপড়ের বাইরের অংশের তুলনায় ভেতরের অংশ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সেটা কিসের বিনিময়ে? তিনি বলেন, দুনিয়াতে তাদের নামাজ, রোজা ও ইবাদতের বিনিময়ে।’ (তাবরানি, হাদিস : ৮৭০; আল মাজালিসুল ওয়াজিয়্যাহ : ২/৩৫)

হুর কি নবসৃষ্ট মানুষ

হাসান বসরি (রহ.)-সহ একদল আলেম বলেছেন, কোরআনে বর্ণিত ‘হুরুল ঈন’ তথা হুর দ্বারা নবী ও মুমিনদের মুমিন স্ত্রী উদ্দেশ্য। যাদেরকে জান্নাতে উত্তম অবয়বে নবরূপে সৃষ্টি করা হবে। (তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৬)

অর্থাৎ জান্নাতে মুমিন পুরুষরা হুর নামক যে অপরূপ সুন্দর নারীদের লাভ করবে, তারা মূলত পৃথিবীর মুমিন নারী। পৃথক কোনো সত্তা নয়। তবে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত হলো জান্নাতি হুররা আল্লাহর পৃথক সৃষ্টি। আল্লাহ মুমিন বান্দাদের জন্য তাদের সৃষ্টি করবেন। কারণ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ হুরদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে আছে বহু আনত নয়না, যাদের পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি।’ (সুরা : আর-রহমান, আয়াত : ৫৬; তাফসিরে কুরতুবি : ২০/১৬৬)

আয়াতে ‘যাদের পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি’ বাক্য থেকে বোঝা যায়, তারা পৃথিবীর নারী বা স্ত্রীদের বাইরে অন্য কেউ হবে।

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অজ্ঞাত নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা-মাকে হুমকি, থানায় জিডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


অজ্ঞাত নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা-মাকে হুমকি, থানায় জিডি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের শোক কাটানোর আগেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে একের পর এক ফোন আসছে। এসব ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, বিভিন্ন হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অপ্রতিমের বাবা-মা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে অপ্রতিমের বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরো পড়ুন

কমল সোনার দাম, ভরি কত?

এদিকে, এসব ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে শুক্রবার থেকে মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, প্রথমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাত কয়েকটি নম্বর থেকে তাদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এতে তারা দুজনেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, "এ ঘটনায় শুক্রবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।"

আরো পড়ুন

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। অপ্রতিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে একটি নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে কল করা হয়। কল রিসিভ করার পর তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। পরে কলটি কেটে দেওয়ার পর অন্য আরো কয়েকটি নম্বর থেকে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নম্বরগুলো ব্লক করে দেওয়া হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার ১০ উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার ১০ উপায়

মানুষের জীবনে সবচেয়ে কঠিন নিয়ন্ত্রণটি অনেক সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, অন্য কাউকে নয়। বাইরের দৃষ্টিতে যতই শান্ত, ভদ্র ও সংযমী মনে হোক, ভেতরে চলতে থাকে নানা চাওয়া-পাওয়া, রাগ, লোভ, অহংকার, কামনা ও প্রবৃত্তির টানাপড়েন। মন চায় এক কথা, বিবেক বলে আরেক কথা; নফস চায় তৎক্ষণাৎ তৃপ্তি, আর ঈমান শেখায়—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছু ইচ্ছাকে থামিয়ে দিতে। ইসলাম নফসকে পরিশুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত করার শিক্ষা দেয়। কারণ লাগামহীন নফস মানুষকে প্রবৃত্তির দাসে পরিণত করে, আর নিয়ন্ত্রিত নফস মানুষকে আল্লাহর অনুগত বান্দায় পরিণত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তাকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা : শামস, আয়াত : ৯-১০)

নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা কেন জরুরি

আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দের প্রবণতা রেখেছেন। যখন নফস ঈমান, তাকওয়া ও বিবেকের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন মানুষ নিজের প্রবৃত্তিকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে পারে। কিন্তু নফস যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন মানুষ নিজের ইচ্ছাকেই সত্যের মানদণ্ড বানিয়ে ফেলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নফস তো মন্দ কাজের প্রতি প্রবলভাবে নির্দেশ দেয়, তবে আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫৩)

নিম্নে নফসকে কন্ট্রোল করার ১০ টি উপায় তুলে ধরা হলো :

১. আল্লাহর ভয় ও তাকওয়া অর্জন করা : নফস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হলো অন্তরে আল্লাহর ভয় ও তাঁর প্রতি গভীর সচেতনতা সৃষ্টি করা। যখন মানুষ মনে রাখে—আমি যা করছি আল্লাহ তা দেখছেন—তখন গোপন পাপ থেকেও নিজেকে বিরত রাখা সহজ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে এবং নিজেকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রাখে, নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার আশ্রয়।’ (সুরা : নাজিআত, আয়াত : ৪০-৪১)

২. ফরজ ইবাদত ঠিক করা : নফসকে নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ ফরজ ইবাদত থেকে শুরু হয়। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আল্লাহর স্মরণের মধ্যে রাখে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)

৩. রোজার মাধ্যমে প্রবৃত্তিকে প্রশিক্ষিত করা : রোজা নফস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর প্রশিক্ষণ। ক্ষুধা লাগলেও মানুষ খায় না, তৃষ্ণা পেলেও পানি পান করে না—কারণ আল্লাহর নির্দেশ তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) যুবকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে... আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা তার জন্য ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৬৬)

৪. নিজের কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে ‘না’ বলতে শেখা : নফসকে নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হলো—সব ইচ্ছা পূরণ না করা। মন চাইলেই সবকিছু করা যাবে—এ ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)

৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা : রাগ নফসের অন্যতম প্রবল প্রকাশ। রাগের মুহূর্তে মানুষ এমন কথা বলে বা কাজ করে বসে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘আমাকে উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, ‘রাগ করো না।’ লোকটি বারবার উপদেশ চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবারই বললেন, ‘রাগ করো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১১৬)

৬. চোখ ও কানের হেফাজত করা : নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে তার খাদ্য বন্ধ করতে হবে। হারাম দৃশ্য, অশ্লীলতা, পরনিন্দা, অশালীন কথা ও পাপের পরিবেশ নফসকে দুর্বল করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩০)

৭. বেশি বেশি জিকির করা : নফস যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকে, তখন প্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা প্রবল হতে পারে। তাই আল্লাহর জিকির অন্তরকে জীবিত রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

৮. নিজের হিসাব নিজে নেওয়া : প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—আজ আমি কী বলেছি? কী দেখেছি? কার হক নষ্ট করেছি? কোথায় রাগ করেছি? কোন গুনাহ করেছি? কোন নেক আমল করতে পারিনি? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন দেখে, সে আগামী দিনের জন্য কী পাঠিয়েছে।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১৮)

৯. সৎ মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা : মানুষ তার সঙ্গীদের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। তাই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আল্লাহভীরু, সৎ ও নেককার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত হলো সুগন্ধি বিক্রেতা ও কামারের হাপরের মতো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২১০১; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬২৮)

১০. দুনিয়ার মোহ কমিয়ে আখিরাতকে লক্ষ্য বানানো : নফস সাধারণত তাৎক্ষণিক আনন্দ চায়; কিন্তু মুমিন ভবিষ্যৎ—অর্থাৎ আখিরাতের স্থায়ী জীবনের কথা চিন্তা করে। আল্লাহ বলেন, ‘অথচ আখিরাতই উত্তম এবং অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : আলা, আয়াত : ১৭)

আল্লাহ তাআলা আমাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করুন, প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন, তাকওয়া ও আত্মসংযম দান করুন এবং আমাদের এমন বান্দা বানান, যারা নিজেদের ইচ্ছার ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী যাত্রী রাবেয়া খাতুনের দুই পা হারালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


ঝিনাইদহে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী যাত্রী রাবেয়া খাতুনের দুই পা হারালেন

ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারানোর ঘটনা ঘটেছে। রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামক এক যাত্রী এই দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে স্টেশন থেকে বিরতির পর যাত্রা শুরু করার সময় ওই নারী ট্রেনে উঠতে যান। এ সময় অসাবধানতার কারণে তার পা পিছলে পড়ে যায়। প্ল্যাটফর্ম থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার ফলে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া, তার একটি হাত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে।

 

আহত রাবেয়া খাতুন রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত জোয়ার সাহারা এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে।

মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার নয়ন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%